১লা বৈশাখ ১৪১৫
মেঘলা ঘরে চুপটি করে বসে আছে। কারো সাথে খুব একটা কথা বলছেনা। গতকাল রাফির সাথে ঝগড়া হইছে কোথায় ঘুরতে যাবে না যাবে তাই নিয়ে। আবার রাফি এসে প্রথমে রং না দিলে ঘর থেকে বেরই হবেনা জেদ ধরেছে। বাচ্চা মেয়ে, সবেমাত্র ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে পড়ে। অথচ এই কোমল হূদয়ে জমেছে চাচাতো ভাই রাফির জন্য অসীম ভালোবাসা।
এদিকে রাফি সকাল থেকেই খুব ব্যাস্ত। মেলায় বন্ধুদের সাথে দোকান দিবে বলে এদিক সেদিক ঘুরাঘুরি করছে। তখন হয়ত এগারোটার মত বাজে। হঠাৎ করে মেঘলার কথা মনে হল। রাফি বন্ধুদের থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে খানিকটা রং কিনে নিল।তারপর কোনমতে সকালের নাস্তা শেষ করে বেরিয়ে পরল মেঘলার খোজে। ওরা যেসব জায়গায় বসে আড্ডা দিত সেসব জায়গাতে খুজতে থাকল কিন্তু কোথাও না পেয়ে শেষে মেঘলাদের বাড়িতে আসল। এসে দেখল মেঘলা ঘুমাচ্ছে। রাফি মেঘলাকে আস্তে করে ডাক দিল। মেঘলা চমকে উঠল। তারপর মান অভিমানের পালা শেষে শুরু হল রং মাখামখি। দুজন দুজনকে সাজিয়ে দিল এক অপরূপ সাজে। যেন বছরের প্রথম দিনটা আজ ওদের জন্যেই।
এখন বিকাল। মেঘলা মেলায় যাচ্ছে পরনে লাল পারের সাদা শাড়ি, কপালে লাল টিপ , দুহাত ভরা মাটির চুড়ি। সাথে শয়তান বান্ধবীগুলা। ওরা ফন্দি আটছে, আজকে রাফির দোকানের সব খাবার শেষ করবে। যেমন ভাবনা তেমন কাজ। মেলায় গিয়েই ওরা রাফির দোকানে ঢুকল। রাফিতো এতগুলা শয়তান একসাথে দেখে পুরাই থ....। আজকে কপালে শনি আছে। গার্লফ্রেন্ডের থেকেতো আর টাকা নিতে পারবেনা। বান্ধবীদের সামনে মানসন্মানের ব্যাপার বলে কথা।
রাফির বন্ধুরা খাবার এগিয়ে দিচ্ছে আর ওরা খাচ্ছে। খাচ্ছেতো খাচ্ছেই। রাফি মেঘলার দিকে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। যাই হোক, খাবার পর্ব শেষ হলে বিল না দিয়ে যখন চোরের মত সবাই পালাচ্ছিল, তখন রাফি এক হেচকা টানে মেঘলাকে নিজের বাহুডোরে আবদ্ধ করল। মেঘলা রাফির দিকে তাকাতেই রাফি মেঘলার কপালে ছোট্ট একটা চুমু একে দিল। মেঘলার সারা শরীরে এক মুহূর্তের জন্য কালবৈশাখীর ঝড় শুরু হল। মেঘলা লজ্জায় জড়োসড় হয়ে গেল......
এভাবেই এগোতে থাকল দুটি অবুঝ হৃদয়ের ভালোবাসা♥♥♥♥♥♥♥♥

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




