somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তাল গাছের ভূমিকা কে পালন করবে ??? আমরা তো শুধু শান্তি চাই !! :(

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৫ সকাল ১১:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক ছোট থাকতে একটা গল্প শুনেছিলাম। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এর সাথে অনেক মিলে যায় গল্পটা ।

অনেক দিন আগের কথা। ঝড় এবং তাল গাছ দুই বন্ধু। ঝড় তালগাছকে বলল, ‘‘পৃথিবীতে আমি সবচাইতে শক্তিশালী, আমার শক্তির কাছে পৃথিবীর সমস্ত প্রাণি, গাছপালা, পাহাড়-পর্বত পরাজিত হতে বাধ্য।’’

কথাটা তালগাছ মানতে পারল না; সে বলল, ‘‘তোমার কারণেই পৃথিবীর সমস্ত প্রাণি বেঁচে আছে কথাটা সত্য, তাই বলে তোমার শক্তির কাছে সবাই পরাজিত হবে, এই কথাটা মানতে পারছি না।’’

তালগাছের কথা শুনে ঝড়ের খুব রাগ হল। সে বলল, ‘‘তুমি কি আমাকে এই বিষয়ে চ্যালেঞ্জ করছ?’’

তালগাছ বলল, ‘‘না, আমি তোমাকে চ্যালেঞ্জ করছি না, এইটুকু বলছি, যে কোনো বিষয় নিয়ে এত অহংকার করা ভালো নয়।’’

ঝড় এই কথা শুনে আরও বেশি রেগে গেল, শুরু হল দুই বন্ধুতে বাকযুদ্ধ। তালগাছ এবার রেগে বলল, ‘‘ঠিক আছে, শুরু কর তোমার শক্তি। আমি একটা সোজা তালগাছ, তোমার শক্তির জোরে আমাকে একটু বাঁকাতে পার, তাহলে আমি তোমার কাছে পরাজিত হব এবং তুমি পৃথিবীর সবচাইতে শক্তিশালী এই কথাটি আমি মেনে নেব।’’

ঝড় হেসে বলল, ‘‘তোমাকে বাঁকাতে আমার সামান্য সময় ব্যয় হবে না।’’

শুরু করল ঝড়ের তাণ্ডব। পাশাপাশি তালগাছ নিজেকে রক্ষা করার জন্য সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করে নিজের অবস্থানে টিকে থাকার চেষ্টা করল। কেউ ছাড় দেওয়ার পাত্র নয়। ঝড় যতই শক্তি প্রয়োগ করছে, তালগাছ ততই শক্তিতে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করছে। তাদের এই জেদাজেদিতে পৃথিবীর অবস্থা করুণ। মানবকুল, প্রাণিকুল, নদী-নালা, সাগর-মহাসাগর, পাহাড়–পর্বত ধ্বংস হওয়ার উপক্রম। কেউ তাদের জিদ ছাড়তে রাজি নয়।

এমতাবস্থায় যিনি এই পৃথিবী তৈরি করেছেন, অর্থাৎ সৃষ্টিকর্তা দেখলেন যে, এই দুজনের অনাকাঙ্ক্ষিত জিদের কাছে তার এই সুন্দর সৃষ্টি ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই তিনি ত্রাণকর্তা রূপে আবির্ভূত হলেন, দুজনের সমস্যার মীমাংসা করার জন্য। তিনি উভয়কে বোঝানোর চেষ্টা করলেন যে, ‘‘তোমাদের এই জেদাজেদির কারণে পৃথিবী আজ ধ্বংস হওয়ার পথে, পৃথিবীতে যদি কেউ বেঁচে না থাকে, তাহলে তোমাদের এই বিজয়গাথা, গর্বের কাহিনি কাকে শোনাবে?’’

কিন্তু কে শোনে কার কথা! জেদাজেদি এমন এক পর্যায়ে গেছে যে, কেউ কারও কথা শুনতে রাজি নয়। এদিকে প্রলয়কাণ্ড বেড়েই চলেছে। তখন সৃষ্টিকর্তা তালগাছকে বোঝালেন যে, ঝড়ের সৃষ্টি অদৃশ্য মান আর তোমার সৃষ্টি দৃশ্যমান, যেমন তোমার ফল এবং রস খেয়ে কত মানুষ পশু-পাখি তৃপ্তি লাভ করে, এই প্রাণিকূলে কেউ যদি বেঁচে না থাকে, তাহলে সৃষ্টি করে কী লাভ? কে খাবে তোমার এই সৃষ্টি?

তখন তালগাছ বুঝতে পারল। তাই সে একটু নত হয়ে হার স্বীকার করল এবং পৃথিবীতে শান্তি ফিরে এল।

মোরালঃ এখন দেখার বিষয় কে তালগাছের ভূমিকা রাখে। আসলে নির্বাচনে বা বৈঠকে বসলেই যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঠান্ডা হবে তা কিন্তু না। পুরো পরিবেষটা নির্ভর করে সাবেগ প্রধনা মন্ত্রি খালেদা জিয়া ও প্রধান মন্ত্রি শেখ হাসিনার উপর। উল্লেখ বিষয় কে আসলে তাল গাছের ভূমিকা পালোন করবেন ?
অনেকে দাবি করেন এই দুই নেত্রি না থকলে দেশে অনেক শান্তি বিরাজ করত। আসলে প্রকৃত পক্ষে একেবারেই ভুল ধারনা। হাজারো সমালোচনার পরেও বলতে হবে তাদের অবর্তমানে যে নেতৃত্ব শূন্যতা সৃষ্টি হবে, তা নিঃসন্দেহে দেশকে নতুন সংকটে নিমজ্জিত করবে। শূন্যতা পুরন করবে কে তখন ?

আবার অন্য দিকে র্সাবিক পরিস্থিতি স্বীকার করে প্রধান মন্ত্রি আলোচনায় বসতে পারেন। কিন্তু বিএনপি ও জামাতকে শর্তমুক্ত হতে হবে। উভয় পক্ষই শর্তমুক্ত হতে হবে।প্রধানমন্ত্রীর ডাকে বিএনপি-জামায়াত শর্তহীনভাবে সাড়া না দিলে এর দায়ভার তাদের ঘাড়েই পড়বে। এর পরেও যদি দেশের চলমান সহিংসতা বন্ধ না হয় তখন সরকার আইনে আরো অধিক কঠোর হতে পারেন , তখন নৃহমানুষগুলো একটু শান্তির জন্য সরকার পক্ষ বা আওমিলিগের পাশে দাঁড়াবে ।
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×