কয়েক বছর আগের এক শীতার্ত নভেম্বর। হুইল চেয়ারে চেপে মহাযুদ্ধের স্মারক টুকটুকে লাল কাগজের পপি বিক্রি করছিলেন ইংরেজ বৃদ্ধ টেড স্টকওয়েল। নিজেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ফেরতা আহত সেনা তিনি। তাঁর কাছেই শুনেছিলাম প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের পর প্রাণহীন বিশুষ্ক ভূমিতে প্রথম ফোটা ফুলের নাম ছিল পপি। তাই থেকেই হাতে তৈরি পপি বিক্রি করে এক কানাডিয়ান নারী তার বিক্রয়লব্ধ অর্থে মৃত সৈনিকদের সন্তানদের জন্য কিনেছিলেন প্রথম বড়দিনের উপহার। সেই তো তো শুরু। এখন প্রতিবছর হাটে, বাজারে, অফিসে, টিউব স্টেশনে, খেলার মাঠে সব জায়গায় বিক্রি হয় প্যাটেন্ট করা এই একই ধরনের ফুল। সারা ইংল্যান্ড নভেম্বরের ১১ তারিখ পর্যন্ত এ ফুল পরে। আর ফুল বিক্রির অর্থে সব যৃদ্ধাহত সৈনিক বা তাদের পরিবার পায় মোটা অঙ্কের সাহায্য।
আহা আমাদের দেশেও তো ভাষা আন্দোলনের সময় গাছে গাছে ফুটে ছিল পাগল-করা লাল লাল পলাশ আর কৃষ্ণচূড়া। আর গুলিবিদ্ধ শহীদদের রক্তে লাল হয়েছিল রাজপথ। ডিসেম্বরের সেই বিস্ময়কর সময়ে গাছে গাছে অথবা কাননে ছিল না কি অনুরূপ কোনো লাল ফুল? না হলেও ক্ষতি কি? ডিসেম্বরেই তো ফুটেছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর ফুল। পতাকার ঘন সবুজে যে রক্তিম সূর্য উঠেছিল তার রূপকল্পেই তো হতে পারে আমাদের ‘বিজয় ফুল’।
বছরের পর বছর আমরা ফুলে ফুলে সয়লাব করি দেশের শত-সহস্র মিনার ও সৌধ। কথা হলো এত দিনে এ নিয়ে আমাদের দেশে একটি রুচিসম্মত ফলদায়ী অথচ প্রতীকী একটি সাধারণ রীতি হয়ে যাওয়া উচিত ছিল। ভেবে দেখা দরকার আমরা যেভাবে স্মরণ করি বা করছি তাতে তার পরিবার এবং তার পরিবারবর্গ কি কোনো রকমের বাস্তব সমস্যার সুরাহা করতে পারছে? এ জন্য সরকার অনুগ্রহ করে যে কাজ করতে পারে, তা হলো বিজয় দিবসে জাতীয়ভাবে স্মরণের জন্য কর্মমুখর দিনের বেলা একটা সময় বেঁধে দিয়ে সমগ্র প্রচারমাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে সমস্ত জাতিকে একসঙ্গে এক কাতারে এনে দুই মিনিটের জন্য দাঁড় করানোর ব্যবস্থা। জাতির নেতৃত্বে দুই মিনিট নীরবে শ্রদ্ধা নিবেদন করা। গাড়ি থেমে যাবে পথে। কথা থেমে যাবে অফিসে। পড়া থেমে যাবে স্কুলে, নির্মাণ থেমে যাবে ইমারতের, লাঙল থামবে কৃষকের... আর তারপর সারা দিন দেশের সমস্ত কাজ স্বাভাবিকভাবে চলবে। তার আগে সরকারের সমর্থনে ১৬ ডিসেম্বরের দিন থেকে বিজয় ফুল কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে জাতীয় শহীদ ও গাজিদের এবং তাদের পরিবার পরিজনদের করা হবে সংস্থান।
এর জন্য বিশাল বিনিয়োগ লাগবে না। লাগবে কেবল সবুজ ও লালে কিছু ‘বিজয় ফুল’ তৈরির উপকরণ। উদ্যোগটি শুরু করতে পারে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, প্রজন্ম একাত্তর, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা সংস্থা বা যেকোনো যুবদল এমনকি সব শিশু-কিশোর সংগঠন একত্র হয়ে। আগের বানানো সে বিজয় ফুল নিয়ে ডিসেম্বরের ১৬ তারিখ থেকে ছোট ছোট ছেলেমেয়ে নামমাত্র মূল্যে তা বিক্রি করবে। ‘বিজয় ফুল’ যেদিন যিনি কিনবেন তার পর থেকে প্রতিদিন পরে বেরুবেন। এভাবে ক্রমশ স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত মানুষ দৃশ্যমান হযে উঠবে গ্রামে-গঞ্জে, শহরে শহরে ।
সে কথা মনে রেখেই ১৯৯৮ সালে প্রথম দৈনিক জনকণ্ঠে লিখি, ‘পলাশ নয়তো কৃষ্ণচূড়ার নামে’ (বিলেতের কথা: মাওলা ব্রাদার্স ২০০৩)। তার পর থেকে প্রতিবছরই কিছু না কিছু হচ্ছে। ‘বিজয় ফুল’ নামেই। আর এখন যেহেতু বিলেতই আমার আবাস তাই আরও বেশি করে বুঝি বৃন্তচ্যৃত বাঙালি সন্তানদের আত্মপরিচিতি হীনতার হাহাকার। সে কারণেই প্রতিবছর একটু একটু করে আমরা এগিয়েছি। এখন তরুণেরাই দেশে, ইংল্যান্ড ও আমেরিকায় নিচ্ছে এর উদ্যোগ। বাংলা পত্রিকা ও স্থানীয় টিভি থেকে আমরা পাচ্ছি দারুণ উত্সাহ। এস চ্যানেলে গতবার যখন প্রতিদিন নতুন প্রজন্মের সঙ্গে ‘মুক্তিযুদ্ধের গল্প’ করেছি, আমাদের পরা ফুল দেখে অনেক ফোন এসেছে। কার্ডিফ, ম্যানচেস্টারে নতুন প্রজন্ম ও নবীন ব্রিটিশ বাংলাদেশিরা মজা পেয়ে জুটেছে একসঙ্গে। আগামী বছর হয়তো সম্পৃক্ত করা যাবে বাংলা স্কুলগুলোকে। আর আজ এ লেখা পড়ে আপনারা এখনই যে কেউ যুক্ত হতে পারেন। সবুজ পাপড়িতে লাল রেণু কুঞ্জ বসিয়ে দিলেই হবে। আর ফুলের নমুনা চাইলে নেটে
এম ডি ইয়াছিন মিয়া
[email protected]...
আলোচিত ব্লগ
অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!
সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন
এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে
একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।
গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন
আগে নিজেকে বদলে দিন

"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমাদের গ্রামের গল্প

একসময় আমাদের গ্রামটা খাটি গ্রাম ছিলো।
একদম আসল গ্রাম। খাল-বিল ছিলো, প্রায় সব বাড়িতেই পুকুর ছিলো, গোয়াল ঘর ছিলো, পুরো বাড়ির চারপাশ জুড়ে অনেক গাছপালা ছিলো। বারো মাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।