somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

৭১-এর আলোকছটা

২১ শে জুলাই, ২০১৭ সকাল ১০:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

টুশ, ঠাশ, ঠাশ,ঠাশ, বো-------মমমমম, আ: আ: আ:।
হ্যাঁ, সেই অগ্নিজ্বরা ১৯৭১ সালের কথা বলছিলাম, দীর্ঘ ৯ মাসের সেই অগ্নিতে শহীদ হয়েছে ৩০,০০০০০ নিবেদিত প্রান। পাক হানাদার বাহিনী যেদিন ঘোষনা দিয়েছিল যে রাষ্ট্রভাষা উর্দুÑই হবে, ঠিক সেদিন থেকে বাঙ্গালি প্রতিটি মানুষের মনে জন্ম হয় খোভের । এই খোভের পেছনে রয়েছে আরও বহুবিধ কারনও। নিরীহ গ্রাম, নিরীহ পথÑঘাট, নিরীহ মানুষের উপর অগ্নিধারী হয়েনা বাহিনীরা হামলা দিয়ে পুড়িয়ে দেয় তাদের সহায় সম্বল, পুড়িয়ে দেয় তাদের নবজাতক শিশু, পুরুষদের ধরে নিয়ে যায় নদ নদীর পাড়ে। পিছমুড়া ভাবে বেঁধে শুরু হয়ে যায় অকথ্য নির্যাতন, বেয়নেটের খোঁচা, কাউকে বুটের লাথি আবার কাউকে চড় - থাপ্পর এবং এই সব পুরুষের শেষ সমাধান হয় তাদের সেই অগ্নির ঠুশ,ঠাশ শব্দে। এরপর শুধু চোখ যায় নদÑনদি দিয়ে লাশ ভেশে যাওয়ার দৃশ্য। আর ওদিকে মা এবং মেয়েদের নিয়ে যাওয়া হয় তাদের সেই সু-সজ্জিত সেল ঘরে যেখানে চলে অকথ্য শারীরিক নির্যাতন (না বললেই চলে)। আবার, ওই সব সেল ঘরে নারিদের দুই ভাগে ভাগ করা হয়। এক হল ২৫ বছরের উপরে, আর দিত্বীয় হল ২৫ বছরের নিচে।২৫ বছরের উপরের গুলোকে অগ্নি দিয়ে হত্যা করে লাশ নদিতে বা পুঁতে ফেলত। আর ২৫ বছরের নিচের গুলোকে তাদের ব্যবঋত দাশী হিসেবে রাখত। আর চলত নির্যাতন আর নির্যাতন, ওই সব সেল ঘরে যে সব পুরুষদের নিয়ে যাওয়া হত, তাদের ওপর চলত নির্যাতন, তাদের জিঞ্জেশ করা হত,“মুক্তি ক্যাহা হে” যদি বলত জানি না, তাহলে শুরু হয়ে যেত আবারও নির্যাতন। এভাবে যে কত লোকই না শহিদ হয়েছেন, তার হিসাব নেই। আর ওদিকে চলত মুক্তিবাহীনিদের খোঁজা খোঁজি, যদি পেত তাহলে সরাসরি গুলি আর না পেলে তাদের সব বাড়ি ঘর পুড়িয়ে হাহাকার করে দিত। আমার ঘনিষ্ট এক মুক্তিযোদ্ধা বন্ধু এবং তার বাবা, তার বাবা ছিলেন তৎকালিন শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান, কিন্তু তার ছেলে একজন মুক্তিযোদ্ধা। সে এবং তার কিছু সাহসী যোদ্ধা বন্ধু পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর উপর আক্্রমন করে তাদের কিছু অস্ত্র,গোলা, বারুদ এবং কিছু যোদ্বের সরঞ্জামাদি লুট করে লুকিয়ে রেখেছিল। কিন্তু ক্রমে ক্রমে তার দুই বন্ধুও মারা পড়ল ওই সব পাকিস্তানি হায়েনার হাতে। কালক্রমে সেও ধরা পড়ে পাকিস্তানি হায়েনার হাতে সঙ্গে তার বাবা ও তার দশ বছরের একটি বোনও। ওই সব পাকিস্তানি হায়েনা ও রাজাকার দল তাদের বলল যে আমাদের লুট করা অস্ত্র কোথায় রেখেছিস বললে তোদের ছেড়ে দেব। এই বলে তারাও জানের ভয়ে দেখিয়ে দিতে গেল, দেখিয়ে দিল এবং মাটি খুরতে খুরতে তাদের সব অস্ত্র পেল এবং সাথে পেল সে তার বেনকে দেবে বলে রাখা একটি পুতুলও। তখন পাকিস্তানি ক্যাপ্টেন জিঞ্জেশ করল পুতুলটা কিসের জন্য এখানে রেখেছিস, আর সেই মুক্তিযোদ্ধা বলল আমার ছোট্ট ওই বোনটার জন্য, এবং ওই পুতুলটি দেওয়া হল তার ছোট বোনকে। এবার আমরা যায়? আর ক্যাপ্টেন বলল তোদের ছেড়ে দিলে তোরা আবার গর্জে ওঠবি। এবার মরার জন্য প্রস্তুত হও। এই কথা বলতেই ওই মুক্তিযোদ্ধা বলল আমার এই ছোট বোনটার কী হবে আমরা মরে গেলে, তখন ক্যপ্টেন বলল সে আমার ব্যাপার আমিই তাকে দেখাশোনা করব। সে আমাদের সাথে বড় হবে, আর থাকবে। হাহ............হাহ............হা। আর বড় ভাই মুক্তিযোদ্ধা দীর্ঘশ্বাস ফেলে তার ছোট বোনকে বলল যা বোন তাদের কাছে যা, আর তার বাবা বলল এ আমার পাপের ফল মা। আর মুক্তিযোদ্ধা যোদ্ধা কন্ঠে সে তার ছোট বোনের প্রিয় একটি গান ধরলঃ
ঘু ঘু এল পাড়া বেড়াল
বর্গি এল দেশে,
বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা
দিবে কিসে?
এই বলতে বলতে তার ছোট বোন পুতুল টিকে জড়িয়ে ধরে হায়েনা দলের কাছে যেতেই বো...........মমমমম শব্দে বিকট এক আলোকছটা। দিনটি ছিল ১৬-ই ডিসেম্বার ১৯৭১ সাল।
হ্যাঁ সুনছিলাম, এক মুক্তিযোদ্ধা চাচার কাছ থেকে।

এখানে,
অগ্নি মানে, অস্ত্র বুঝানো হয়েছে, আর হয়েনা হল, পাকিস্তানি বাহীনি এবং আমাদের দেশের স্থানীয় রাজাকার

লেখক:- ইয়াছিন বিন আলম


সর্বশেষ এডিট : ২১ শে জুলাই, ২০১৭ সকাল ১০:০৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জলরেখার নীচে

লিখেছেন তাহমিদ রহমান, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১১:৫১

পৃথিবী প্রতিদিন একটি নতুন উচ্চতা আবিষ্কার করে।
কোনো জানালায় আলো জ্বলে,
কোথাও কাচের গায়ে সাঁটা হয় আরেকটি সাফল্যের বিকেল।
সিঁড়িগুলো মানুষের পদচিহ্নে মসৃণ হতে থাকে।

আমি দূর থেকে দেখি—
যেন আমার চোখই কেবল যাত্রা করে,
শরীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সময়

লিখেছেন শাহেদ শাহরিয়ার জয়, ১২ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:৩৩

আহ সময়,
তুমি শেখাও,আমি শিখি না।
তুমি পড়াও,আমি পড়ি না,
তুমি দেখাও, আমি দেখি না।
বলেছিলে- একদিন বুঝবো,
সবকিছু হারিয়ে খুঁজবো!


তুমি ভুল!

চেয়ে দেখো-
আমি আজো বুঝি না,
আজো হা-হুতাশ নিয়ে কিছু খুঁজি না!

বি:দ্র: অনেকদিন পর!কেউ আছে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রসায়ন পরীক্ষায় রসটাই আসল :D

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১২ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৩:০৩

রসায়ন পরীক্ষায় রসটাই আসল। না দেখলে মিস!! =p~


সালোকসংশ্লেষণ B-)

...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে ফেরার ঘোষণা আলোচনায় থাকারই কৌশল মাত্র

লিখেছেন ওয়াসিম ফারুক হ্যাভেন, ১২ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:০৮

চব্বিশের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছেড়ে প্রতিবেশী ভারতে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া সাবেক স্বৈরশাসক ও বর্তমানে বাংলাদেশে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার আগামী... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মান্তরের ক্ষুধা

লিখেছেন ইসিয়াক, ১২ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:০৮




ঝিরিঝিরি বৃষ্টি, সেই সাথে গুমোট আকাশ। মেঘাচ্ছন্ন  আবহ । একটানা টুপটাপ আওয়াজ ছাড়া চারদিক সুনসান।বৃষ্টি তার ক্লান্তি কাটাতে  যেই একটু থমকে দাঁড়িয়েছে অমনি বুনো শালিকেরা নেমে এলো খাবারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×