
গত মার্চ মাস থেকে স্কুল,কলেজ বন্ধ রয়েছে।শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে অনলাইনে যে ক্লাস করছে তা শ্রেণী কক্ষে সরাসরি শিক্ষা লাভের মতো কার্যকারী নয়।পড়ালেখার অভ্যাসটিই অনেকের নষ্ট হয়ে গিয়েছে।এটি অভ্যাসের বিষয়-অনভ্যাসে বিদ্যা হ্রাস।উচ্চ মাধ্যমিকের একটি ব্যাচ পরীক্ষা ছাড়াই পাস করে ফেলেছে।পরবর্তী সেশনের পরীক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ফিরিয়ে আনাটা একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ।এদের হটাৎ করে বা স্বল্প সময়ের নোটিসে পরীক্ষা হলে ঢুকিয়ে দেওয়া একরকম জুলুম হবে।তাদের পড়ালেখার অভ্যাস ধীরে ধীরে আবার গড়ে তুলতে হবে।এজন্য আমার কিছু প্রস্তাব আছে। তবে তার আগে আমার একটি অভিজ্ঞতার কথা বলে নিতে চাই।

সরকারি স্কুলে ৬ষ্ট,৭ম শ্রেণী পর্যন্ত বিষয় ভিত্তিক কোন শিক্ষক ছিল না।যিনি বাংলা পড়াচ্ছেন, তিনিই বিজ্ঞান পরাচ্ছেন।যিনি ইংরেজী পড়াচ্ছেন,তিনি পরিবেশ পরিচিতি পড়াচ্ছেন।ড্রয়িং শিক্ষকের কোন বালাই ছিল না।ড্রয়িং ক্লাস ভাল লাগতো;আকার হাত ভাল ছিল।এখনো আশা করি ভালো আছে।বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়ে ব্ল্যাক বোর্ডে মেগা আকৃতীর সেন্ট্রিফিউগাল পাম্প এর ছবি একে ছাত্র-শিক্ষক সবাইকে বিস্মিত করেছিলাম।আমার আগে একজন আকার চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়েছিল।মূল নকশাটি জটিল ক্যাড ড্রয়িং ছিল।স্কুলের কথায় ফিরে যাই আবার।ফাইভ বা সিক্স এ পড়ি তখন।ড্রয়িং প্রিয়ড চলছে। ম্যাডাম বললেন, তোমরা সবাই দোয়েল পাখির ছবি আকো।যারা দোয়েল আকতে পারতো তারা আকা শুরু করলো।বাকিরা বললো-ম্যাডাম, আমরা দোয়েল পাখি আকতে পারি না।তিনি বললেন,তাহলে কোকিলের ছবি আকো।কিছু ছেলে কোকিল আকা শুরু করলো।বাকিরা ম্যাডামকে জানালো তারা কোকিল আকতে পারে না।ম্যাডাম বললেন,তাহলে তোমরা ফুলের ছবি আকো।বেশির ভাগ ছেলেই এবার সন্তুষ্ট হল।দু’চার জন ছেলে দাঁড়িয়ে গেল-তারা ফুলও আকতে পারে না।ম্যাডাম খুব ভাল ছিলেন,তিনি হাসতে হাসতে বললেন,-তোমরা যে যা আকতে পারো তাই আকো।
আমার মনে হয় এখন এ পদ্ধতী অবলম্বন করার সময় হয়েছে।অটো পাসের চেয়ে ইহা উত্তম।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে জানুয়ারি, ২০২১ বিকাল ৪:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



