কিছু দিন আগের কথা। অফিস শেষ করে বাসাই ফিরছিলাম। বাসা অফিসের কাছে হওয়াই আমি পায়ে হেঁটেই প্রতিদিন যাতায়াত করি। সেদিন সন্ধ্যার পরে চারিদিক অন্ধকার হয়ে আসছিল, লাইট পোস্ট এর বাতি গুলো মিটমিট করে জলতে শুরু করেছিলো। ফুটপাত দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি এক মহিলা ডাস্টবিন এর ময়লা থেকে একটি মরা মুরগীর পশম ছারাচ্ছে। কোন ময়লা বহনকারি কর্মী হয়তো কোন বাসা থেকে মরা মুরগীটি এনে ডাস্টবিন এ ফেলেছে। কিন্তু সেই মানসিক প্রতিবন্ধী মহিলা পেটের ক্ষুধার তারোনাই ডাস্টবিন এর ময়লা থেকে মরা মুরগীটি নিয়ে সেই ময়লার মধ্যেই বসে পশম ছাড়াচ্ছে। আমরা যখন সেই ডাস্টবিন এর পাশ দিয়ে যাই তখন নিশ্বাস চেপে ধরে যতোদূর সম্ভব দ্রুত হেঁটে যাই। ডাস্টবিন এর দূরগন্ধ এতটাই বিকট যেন মনে হয় অল্প কিছুক্ষণ থাকলেই নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যাবো। কিন্তু সেই মহিলা কি জানে যে, সে কি করছে। তার শুধু একটাই চিন্তা কিছু খেতে হবে। কারণ তার ক্ষুধা পেয়েছে আর তাই ক্ষুধা নিবারনের জন্য সে এটা করছে। মহিলাকে দেখে আমার অনেক খারাপ লাগছিলো। কিন্তু আমার কিছুই করার ছিলো না। তাকে যে কিছু টাকা দিয়ে সাহায্য করবো সেটা সম্ভব ছিলো না। কারণ সেই মহিলার যদি টাকা পয়সা সম্বন্ধে ধারনা থাকত তাহলে সে তো এভাবে ডাস্টবিনের ময়লা খেতো না। তাকে যে খাবার এনে দিবো সেটাও সম্ভব ছিলো না।
আমরা অনেক সময় অনেক খাবার নষ্ট করি। কখনও প্রয়োজন অতিরিক্ত খাবার নিয়ে ইচ্ছাকৃত ভাবে নষ্ট করি। কখনও প্রিয় মানুষের সাথে খাওয়ার সময় দু-এক চামচ খাবার মুখে দিয়ে বলি ই----হু ভাল লাগছে না, আর খাবো না। আবার অনেকে আছে যারা খাবার শেষে কিছু ভাত প্লেটে রেখেই হাত ধৌত করে, এটা নাকি তাদের ফ্যাশন। আরো কত কারনে আমরা খাবার নষ্ট করি। এটা মোটেও ঠিক না। আমরা সকলে যদি বিনা কারণে খাবার নষ্ট না করে খাবারের যথাযথ ব্যবহার করি তাহলে কিছুটা হলেও আমাদের দেশের খাবারের ঘাতটি লাঘব পাবে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


