somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাজনীতি বিদায় দিন, গণনীতির সালাম নিন

০৩ রা মার্চ, ২০১৫ সকাল ১০:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

‘রাজনীতি’ ‘রাজনীতি’ করে “জনমানুষের নীতি”র উন্নতি ঘটানো যাবে না। তাই এ শব্দটিই সমূলে উৎপাটন যোগ্য। এ শব্দটি দূষিত, এটি সমাজে দুর্গন্ধ ছড়ায়। আসুন, আমরা ‘গণনীতি’ চর্চা করি। এখান থেকেই, এই ছোট্ট একটি পয়েন্ট থেকেই আমরা পরিবর্তন শুরু করি। কোথা থেকে কে এসে কোটি মানুষের ‘রাজা’ বনে যাবে- এই একুশ শতকে, গণপথ রাজপথ হয়ে যাবে, তারা ইচ্ছেমতো পরিবারতন্ত্র ও রাজতন্ত্র কায়েম করবে, আর আমরা তাদের প্রজা ও গোলাম হব, এটা অসম্ভব! টকশোবাজদের বলে দিন, গণনীতির সালাম নিন, রাজনীতি বিদায় দিন।

বিচার মানি তবে তালগাছ আমার! পরিবর্তন পরিবর্তন করি কিন্তু গতানুগতিক পথেই, নিজের স্বার্থ, দূষিত ধ্যান-ধারণা, ব্রিটিশ-কল্পিত শিক্ষা ও কুবুদ্ধি একটুও ছাড়তে রাজি নয়, আবার পরিবর্তনও চাই, এটা কীভাবে সম্ভব? তারা শিক্ষার নামে আমাদের যা বুঝিয়েছে, ধর্ম বলতে দুই প্রান্তিক বলয়ের যে মগজধোলাই করেছে, তাই দিনের পর দিন আমরা আকড়ে থাকব? কঠিন বলে নিজের সম্পর্কে, নিজের মনুষ্যত্ব ও স্বাতন্ত্র সম্পর্কে কোনো প্রশ্ন তুলব না

বলেছিলাম শীঘ্র দেশব্যাপী “সামাজিক সভা” নিয়ে কাজ করব। এতে ক’জনকে পাই জানি না। তবে আমি আশাবাদী, অল্পকজন হলেও চলবে। আমি নিজে সবদিক থেকে খুবই দুর্বল। তবু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ‘সামাজিক সভা’য় আমার আহ্বানে অনেকেই সাড়া দিয়েছিলেন। সামাজিক সভা আসলে কী? তা আগে আমরা আলোচনা করব। এর উপর আমার একটা লেখা আছে। পরে দেব। সংক্ষেপে এর ওপর প্রথম আলোর চিঠিটা দেখে নিতে পারেন। আমাদের দেশে অনেক ‘সামাজিক সংগঠন’ ও ‘সামাজিক কার্যক্রম’ আছে। কিন্তু ‘সমাজ’ বিষয়টা কী তা না বুঝলে এসব ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ও বিচ্ছিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ড ব্যর্থ হতে বাধ্য। হচ্ছেও তাই।

ইসলাম ও গণতন্ত্রে “রাজনীতি”, ‘রাজ’ বা ‘রাজা’র কোনো অস্তিত্ব নেই, থাকার প্রশ্নই আসে না। ইসলাম ও গণতন্ত্রে যা তা হচ্ছে “গণনীতি”। আমরা আমাদের চলাচলের যেসব পথকে ‘রাজপথ’ বলি তা আসলে রাজপথ নয়, ‘গণপথ’। রাজনীতি শব্দের অর্থ ‘নীতির রাজা’ বা ‘রাজার নীতি’ যাই হোক, এসব “রাজা-প্রজা’ সম্পর্কে আমাদের কোটি কোটি জনগণ বিশ্বাসী নন। ভাল নীতিকে ইসলাম নীতির রাজা বলে না, বলে উত্তম বা শ্রেষ্ঠ নীতি। সুতরাং এটা নিশ্চিত যে, ইসলাম বা ধর্মের সঙ্গে রাজনীতির বিন্দুমাত্র সম্পর্ক নেই।

সম্প্রতি একজন মার্কিন লেখিকা এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, “ধর্ম ও রাজনীতি ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত”। আমি কথাটির তীব্র প্রতিবাদ করছি। যদিও তিনি ধর্মবিশ্বাসী না হয়েও ইসলাম তথা ধর্মের পক্ষেই বলতে চেষ্টা করেছেন। আমি এটাকে ‘পক্ষে’ বুঝি না।

সমসাময়িক কথিত ‘গরম’ ইস্যু নিয়ে সাধারণত আমি কথা বলি না। কারণ এসবের আড়ালে সাধারণ মানুষের মৌলিক স্বার্থ এবং ‘সর্বজনীন মৌলিক আলোচ্য বিষয়’ চাপা পড়ে যায়। আমার লেখা কেউ পড়ে না, কথা কারও কাছে পৌঁছে না। কারণ কঠিন। সবাই সহজ খুঁজে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের ওসব কথিত ‘সহজ বিষয়’ সমাজের কঠিন থাবা থেকে রক্ষা করতে পারে না। আসলে আগে-পরে যেকোনো একটা কঠিনকে বেছে নিতেই হবে।

ফেসবুক-ব্লগে লিখছি চার বছর ধরে। কোনো সাড়া-শব্দ নেই। এমনকি ফেসবুকে আমার পুরনো বন্ধুরাও আমার সাথে নেই। অন্যদিকে বহু নাবালক ছেলে-মেয়ে অল্পসময়ে সেলিব্রেটি হয়ে গেছে, গরম গরম কথা বলে। খালি কলসি নাকি বাজে বেশি। যাহোক, এসবের পরোয়া করি না। আমি আগেও বলেছি, সমাজ একদিনে নষ্ট হয়নি, তাই একদিনে ভাল হবে না। ধীরে ধীরে পরিবর্তনের চিন্তা করতে হবে। আর সেজন্য দরকার জ্ঞানগত বিপ্লব। সেদিক থেকে আমি ঠিকমতোই কাজ করছি। শীঘ্র দেশব্যাপী “সামাজিক সভা” কর্মসূচী হাতে নিতে পারি। কেউ সাথে থাকার ইচ্ছে হলে জানাবেন। তবে সবচেয়ে বড় কথা, আগে আমাদের প্রত্যেকের নিজের পরিবর্তনটা দরকার।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ডায়োজেনিস সিন্ড্রম

লিখেছেন করুণাধারা, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১২:০১



ডায়োজেনিস সিন্ড্রমে আক্রান্ত মানুষের ঘর

আমার একজন ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের কিছু অদ্ভুত আচরণ দেখে বুঝতে চাচ্ছিলাম যে তার এমন আচরণ কোনো মানসিক সমস্যা কিনা। তার আচরণের বর্ণনা দেই ইন্টারনেটে, আর তখন জানতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-৩০)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১:০৩



সূরাঃ ৩০ রূম, ৩২ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩২। যারা নিজেদের দীনে মতভেদ সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে।প্রত্যেক দল নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে উৎফুল্ল।

সূরাঃ ৩০ রূম, ২৯ নং... ...বাকিটুকু পড়ুন

হামে শিশুদের মৃত্যুর দায় ডঃ ইউনুস গভার্নমেন্টের

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১:০৪

ইউনিসেফ হামের টিকা কেনার জন্যে গত তত্তবধায়ক সরকার প্রধান ড' ইউনুসকে বারবার অনুরোধ করেছিলো। আমরা এখনো ইউনুস স্যারের উত্তর পাই নাই। কিন্তু, প্রশ্ন হচ্ছে, ইউনিসেফকে প্রধান উপদেষ্টা পর্যন্ত যেতে হলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

মহাশূন্যের অন্তহীন দিগন্তে: আগামীর মহাকাশ গবেষণা, মানবসভ্যতা এবং আল কুরআনের বিস্ময়কর দিকনির্দেশনা

লিখেছেন নতুন নকিব, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ সকাল ৯:৫৫

মহাশূন্যের অন্তহীন দিগন্তে: আগামীর মহাকাশ গবেষণা, মানবসভ্যতা এবং আল কুরআনের বিস্ময়কর দিকনির্দেশনা

ছবি অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

ভূমিকা:

মানুষ যখন প্রথম আকাশের দিকে চোখ তুলে তাকিয়েছিল তখন সেই বিশাল নীলিমা তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুগে যুগে সারদা দেবী

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৯



নদীর নাম রুপসা।
জীবনানন্দ দাশ তার কবিতায়ও রূপসা নদীর কথা বলেছেন। এই নদীতে স্নান করেছেন- রবীন্দ্রনাথের মা এবং স্ত্রী। বর্ষাকালে রুপসা নদী যেন যৌবনে ফিরে যায়। কি তেজ! কি জলের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×