somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের বোধ জাগবে কবে!!

১১ ই এপ্রিল, ২০১৩ রাত ৯:৩৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জামায়াতে ইসলামী একটা রাজনৈতিক দল। তবে ধর্মীয় দল হিসেবে দাবী করে ধর্মকে তারা যেভাবে ব্যবহার করে তা ঠিক নয়। যদিও তাদের দুর্বল ধর্মীয় ব্যাখ্যাগুলো যুবসমাজকে প্রভাবিত করে। এর কতক বাস্তব কারণ আছে। যেমন (ক), আলেম-উলামাদের দুর্বলতার সুযোগ গ্রহণ, (খ), দেশি-বিদেশি শক্তির সঙ্গে আঁতাত ও অঢেল অর্থ খরচ, (গ), বিশেষ করে আজকের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর আদর্শিক ও দার্শনিক দুর্বলতা। কথায় বলে, বাঘ নাই দেশে বিড়ালই বাঘ। আজকের আওয়ামীলীগ-বিএনপিকে টেক্কা দেয়ার ক্ষমতা জামায়াতের খুব ভালভাবেই আছে, এটা বাস্তব। এর অর্থ এই নয় যে জামায়াত তুলনামূলকভাবে সঠিক পথে আছে বা এ দেশের জন্য উপকারী। আমি আওয়ামীলীগ, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট- এসবকে এক নজরেই দেখি এবং কোনটাকেই সমর্থন করি না। কারণ আমার রাজনৈতিক দর্শন ও আদর্শ ভিন্ন। এরা যে কারণে ব্যর্থ, সেই একই কারণ ড. ইউনুস এবং ফখরুদ্দীনের মধ্যেও রয়েছে। রয়েছে তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও। এছাড়া তাদের মধ্যে আরও কিছু বাড়তি কারণ ইতোমধ্যেই মিডিয়ায় জোরে-শোরে প্রকাশ।

আমাদের উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হলে চলবে না, এই সমাজ ভেতর থেকে নষ্ট হয়ে গেছে এবং সুকৌশলে ব্রিটিশরাই কিছু মৌলিক বিতর্ক সৃষ্টি করে গেছে। এর সাথে স্বাধীনতার পূর্বে ও পরে আরও কিছু যোগ হয়েছে। সুতরাং সাধারণ কোনও উপায়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করার বা উন্নয়ন করার পথ নেই। তবে পথ অবশ্যই আছে, কিন্তু সেটা এখনও প্রকাশ না। আমরা এমন একটি দর্শন, এমন একটি আদর্শ, এমন কিছু নীতিমালা এবং এমন একজন নেতা আশা করছি, সূর্য উঠলে যেমন সবাই দেখে এবং স্বীকার করে, এক্ষত্রেও সবাই দেখবে ও স্বীকার করবে। কোনও বিতর্কিত ব্যক্তি নন। প্রাথমিকভাবে রাজনীতির বাইরে থেকেই তাকে আলো ছড়াতে হবে।

বিতর্ক কখনও শেষ হবার নয়। ফলাফল যেই লাউ সেই কদু। তাহলে কি করতে হবে? প্রথম কথা, যারা নির্দিষ্ট কোনও লক্ষ্য-উদ্দেশ্যে কিছু করতে যাবেন তারা পরস্পর পরস্পরকে কতটুকু ছাড় দিতে রাজি? নিজের মতের উপর অটল থাকলে কখনও কিছু হবার নয়। হলেও ভঙ্গুর। এখন প্রশ্ন, কখন প্রতিটি সদস্য পরস্পরকে সর্বোচ্চ ছাড় দিতে প্রস্তুত হয় এবং নির্দিষ্ট কারও নেতৃত্ব প্রায় বিনা প্রশ্নে মেনে নেয়? দ্বিতীয় কথা, ইস্যুর অভাব নেই। তাই মৌলিক ইস্যুগুলো কি তা খুঁজে বের করে ধীরে-সুস্থে আলোচনা করতে হবে। দাওয়াতে আপনাকে ২০টা আইটেম দেয়া হল। অথচ আপনি খেতে পারবেন বড়জোর ৩টি। তখন কি করবেন? নিশ্চয় ২০টির মধ্যে ৩টি বাছাই করবেন। সুতরাং সব বিষয় আলোচনায় আসতে পারে না, আসার দরকার নেই। আসলে শেষ হবে না। রাজনৈতিক মতবাদগুলোকে আমরা বুঝার সুবিধার্থে ডানপন্থী, বামপন্থী ও মধ্যপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করি। আবার জনগণের আর্থ-সামাজিক অবস্থান মাপার জন্য উচ্চবিত্ত, নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত হিসেবে চিহ্নিত করি। জীবনদর্শনগুলো ধর্ম, দর্শন ও বিজ্ঞানের আলোকে পর্যালোচনা করতে পারি। আবার প্রতিটিতেই চরমপন্থি, উদারপন্থি ও মধ্যপন্থি বের করতে পারি। মোটকথা এভাবে প্রসঙ্গের পর প্রসঙ্গ বাড়বেই।

কিন্তু মানুষ হিসেবে সমস্ত মানবজাতির এমন কতগুলো মৌলিক মিল এবং ঐক্য রয়েছে যাতে সবাই এক প্লাটফরমে আসতে পারে। জ্ঞানের সর্বোচ্চ স্কেলে সমস্ত মানবজাতি একমত হতে বাধ্য। একমাত্র অসুস্থ ও পাগল ব্যতীত। এটাই জ্ঞানের বৈশিষ্ট্য। বিরোধ মীমাংসা করা, ঐক্য সৃষ্টি করা, মনুষ্যত্ব ও মানবতাবোধ জাগিয়ে তোলাই জ্ঞানের কাজ। স্বাভাবিকভাবে কে কোন ধর্মের, কোন দলের সেটা বিবেচ্য নয়। এমনকি জাতি হিসেবে বিভিন্ন দল, ধর্ম ও গোষ্ঠীর অতীতের ভুলগুলোও নমনীয়তার দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করতে হবে এবং জাতির সামগ্রিক মঙ্গল অনুসন্ধান করতে হবে। মোটকথা, যেসব ইস্যু ও দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রায় সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করা যায় সেগুলো নিয়েই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ধর্মীয় গোষ্ঠী ও বিশাল অংশের তরুণ সমাজকে এগুতে হবে। আজ বিশেষ কোন দল বা গোষ্ঠীর প্রতি অন্ধ আক্রোশ ও প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার কুফল পুরো জাতি ভোগ করছে। সবাই নিজ নিজ মতবাদ ও দর্শন প্রচার করছে এবং নিজেদেরটাকেই সত্য বলে দাবি করছে। তাই ভুল-শুদ্ধ পার্থক্য করার জ্ঞান যুব সমাজেকে রপ্ত করতে হবে। অযথা বুঝে-না-বুঝে চিৎকার-চেঁচামেচি ও বিতর্কে কোনও লাভ নেই।

একজন রাজনীতিকের সরল স্বীকারোক্তি- ‘রাজনীতিকদের কখনো বিশ্বাস করতে নেই’। সত্য ও বাস্তব কথাটি তিনি আমাদের বললেন। নিশ্চয় তার নিজের মধ্যেও এই বাস্তবতা পরিবর্তনের একটা আকাঙ্খা প্রায়ই কাজ করে, কারণ সময়ে সময়ে তারা নিজেরাও এর নির্মম শিকার হন। কিন্তু ‘পরিবর্তন সম্ভব’- এই বিশ্বাসটা মনে হয় কাজ করে না। তাই রাজনীতির গতানুগতিক নীতিমালাই তারা অনুসরণ করেন। রাজনীতিকরা দোষ চাপান জনগণের ওপর, আর জনগণ রাজনীতিকদের ওপর। একদল রাজনীতিক মনে করেন, যে ধারায় উন্নতি ঘটছে, দীর্ঘ একটা সময় পর আমাদের আশা-আকাঙ্খা পূরণ হবে। এখন শুধুই অপেক্ষা। কিন্তু আমি মনে করি অপেক্ষার সর্বোত্তম ব্যবহার হওয়া উচিত। যে হারে পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে, সে হারে কিন্তু উন্নতি ঘটছে না। আর মূলকথা, ‘বিশ্বাস’ ছাড়া মানবজীবন অচল, স্থবির। তাই পারস্পরিক বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করতে হবে। এই বিশ্বাসের উন্নতি ঘটায় জ্ঞান।

অর্থনৈতিক মুক্তিই জীবনের সবকিছু নয়। তাই উন্নত বিশ্বের অর্থনৈতিক মুক্তি সত্ত্বেও তাদের অর্থনৈতিক চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। তাই তাদের নজর এখন উন্নয়নশীল ও অনুন্নত বিশ্বের প্রতি। তাই বাংলাদেশকে বিশেষত যে কোন মুসলিম দেশকে ইরাক-আফগানিস্তানের পরিণতি বরণ বা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেয়া যায় না। সুতরাং জ্ঞানগত বিপ্লব, একটি জ্ঞান- সমৃদ্ধ সমাজ গঠন, সকলের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন এবং সমস্ত মানবজাতির মুক্তিই আমাদের মূলকথা। মানুষ কি চায়, তার মৌলিক (আধ্যাত্মিক) চাহিদা কি, সমস্যা ও সম্ভাবনা কি, সার্বিক মুক্তি অর্জনের পথ কি এসব আমাদের ভাবতে হবে। তর্ক-বিতর্ক, দলাদলি, হিংসা-বিদ্বেষ এসবে সময় নষ্ট আর নয়। আসুন নিজেদের সম্পর্কে সজাগ হই, পরিচয় অর্জন করি।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চা এর আড্ডা।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১৬



শনিবার
৭ নভেম্বর ২০২৬
২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
২৬ জমাদিউল আ. ১৪৪৮ হিজরি

কিছু মুহূর্ত কখনো হারিয়ে যায় না, সময়ের স্রোতে শুধু স্মৃতি হয়ে মনের গভীরে জমা থাকে।

২০১১ সাল। তখন আমি ইন্টারে পড়ি। নানীর... ...বাকিটুকু পড়ুন

২৪'র ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশে ডানপন্থা ও মৌলবাদী চেতনা-রাজনীতির চরম উত্থান

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:২৩



২৪-এর ৫ আগস্টের পর দেশ দীর্ঘদিনের স্বৈ/রাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছিল ঠিকই; কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশ চলে গিয়েছিল বিপুল সংখ্যক ডা*নপন্থী বা মৌ*লবাদী চেতনা বা রাজনীতির ধারক-বাহক-সমর্থকদের কবলে।
হ্যাঁ, হাসিনার পতনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×