---------
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যখন বান্দাকে কবরে দাফন করা হয় এবং তাঁর সঙ্গী সাথীরা ফিরে যায় আর সে জুতোর শব্দ শুনতেছে, এমতাবস্থায় দু'জন ফেরেশতা এসে বসে যায় এবং তাকে বলে, এই ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কি বল? রাসূল বলেন, সে যদি মুমিন হয় বলবে, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তিনি আল্লাহর বান্দা ও রাসূল। রাসূল (দঃ) বলেন, তখন তাঁকে বলা হবে, দেখ! দোযখে তোমার স্থান, আল্লাহ তার পরিবর্তে বেহেশতের একটি আসন দান করেছেন। রাসূল বলেন, সে উভয় আসন অবলোকন করবে। কাফের বা মুনাফেককে বলা হবে, এ ব্যক্তি সম্পর্কে তুমি কি বল? সে বলবে, আমি জানি না, মানুষ যাই বলত আমি তাই বলতাম। অতঃপর তাকে বলা হবে, না তোমার জ্ঞান ছিল; না তাদের জ্ঞান ছিল যাদের অনুসরণ করেছিলে। এরপর তার ওপর লোহার হাতুড়ি দ্বারা এমন এক প্রচন্ড আঘাত করা হবে যার ফলে সে এমন চিত্কার করবে যা মানুষ ও জ্বীন ছাড়া কবরের পার্শ্বস্থ সবকিছু শুনতে পাবে।
কবরে মানুষের দেহে প্রাণ ফিরে আসার বিষয়টি আখেরাত সংশ্লিষ্ট বিষয় হেতু মানুষের বিবেক-বুদ্ধি এ পৃথিবীতে তা অনুধাবন করতে পারে না। মুসলমানের ঐক্যমত বিশ্বাস যে, মানুষ প্রকৃত মুমিন ও অফুরান-সুখের যোগ্য হলে সে কবরে আরাম উপভোগ করবে অথবা শাস্তির যোগ্য হলে সে শাস্তি পাবে। আল্লাহ তা'য়ালা ইরশাদ করেন, "(জাহান্নামের) আগুন, যার সামনে তাদের সকাল সন্ধ্যায় হাযির করা হবে, আর যেদিন কেয়ামত ঘটবে (সেদিন ফেরেশতাদের বলা হবে) ফেরাউনের দলবলকে কঠিন আযাবে নিক্ষেপ করো।" (সূরা আল্ মু'মিনঃ আয়াত ৪৬)।
আল্লাহর রাসূল বলেছেন, কবরের আযাব থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাও। কোনো সুষ্টবিবেক তা অস্বীকার করে না। কারণ, মানুষ এ পার্থিব জীবনে তার সাদৃশ্য বা কাছাকাছি বস্তু দেখে। ঘুমন্ত ব্যক্তি যখন স্বপ্নে অনুভব করে যে, তাকে কঠিনতর শাস্তি দেয়া হচ্ছে আর সে চিত্কার করে এবং অন্যের সহযোগিতা কামনা করে, কিন্তু তার পাশের ব্যক্তি কিছুই অনুভব করে না। তেমনি জীবন ও মৃত্যুর মধ্যে বিরাট তফাত রয়েছে।
কবরে শাস্তি দেহ ও প্রাণ (আত্মা) উভয়ের উপর হবে। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, কবর হচ্ছে আখেরাতের প্রথম মাঞ্জিল, যে তা থেকে মুক্তি পাবে পরবর্তীতে আরো সহজে মুক্তি পাবে আর যে কবর থেকে মুক্তি পায়নি পরবর্তীতে আরো কঠিন অবস্থার সম্মুখীন হবে। মুসলমানের উচিত যে, সে যেন কবরের আযাবের হাত থেকে বিশেষ করে নামাজের সালাম ফেরার পূর্বে আশ্রয় চায়, অনুরূপভাবে পাপ থেকে দূরে থাকে যা কবরের আযাব ও দোযখের আগুন ভোগ করার প্রধান কারণ।
"কবরের আযাব" বলা হয়, কারণ অধিকাংশ মানুষকে কবরে দাফন করা হয়। পানিতে ডুবে গেলে বা আগুনে জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে গেলে কিংবা হিংস্র পশু খেয়ে ফেললেও আযাব বা আরাম ভোগ করবে। কবরের আযাব বিভিন্ন প্রকার হয়ে থাকে যেমন লোহা বা অন্য কিছুর হাতুড়ি দ্বারা আঘাত করা, অন্ধকার দিয়ে কবর পূর্ণ করে দেয়া, আগুনের বিছানা বিছিয়ে দেয়া, দোযখের দিকে দরজা খুলে দেয়া, তার খারাপ ও পাপ কাজসমূহ একজন কুশ্রী দুর্গন্ধময় কাপড় পরিহিত ব্যক্তির রূপ ধারণ করা ইত্যাদি। মুনাফিক বা কাফের হলে আযাব অব্যাহত থাকবে। পাপীমুমিনের পাপ অনুসারে আযাব বিভিন্ন প্রকার হবে আর সে আযাব নির্দিষ্ট সময়ের পর বন্ধ হয়ে যেতে পারে। পক্ষান্তরে মুমিন কবরে আরাম ও পরম সুখ উপভোগ করবে। কবর তাঁর জন্য প্রশস্ত করে দেয়া হবে, আলো দ্বারা তাঁর কবর সমুজ্জ্বল করা হবে, বেহেশতের দিকে দরজা খুলে দেয়া হবে যা দিয়ে আসবে বেহেশতের সুঘ্রান, বেহেশতের বিছানা বিছিয়ে দেয়া হবে এবং তাঁর সত্কাজসমূহ এমন সুদর্শন ব্যক্তির রূপ ধারণ করবে যার সংস্পর্শে সে পাবে স্বস্তি ও সন্তষ্টি।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



