somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ধূমপান করা কি হারাম?

১৪ ই জুন, ২০০৭ রাত ৮:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

'আল্লামা শায়খ মুহাম্মদ বিন জামীল যাইনু' রচিত 'ইসলামী জীবন পদ্ধতি' নামক বই থেকে সংগৃহিত
=========

ধূমপান করার প্রচলন যদিও নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর যুগে ছিলনা, তবে ইসলাম একটি সাধারণ বিধান প্রণয়ন করেছে যে, যেসব বস্তু স্বাস্থের পক্ষে ক্ষতিকর বা পাশের লোকের জন্য কষ্টদায়ক কিংবা যার দ্বারা ধন-সম্পদের ক্ষতি সাধিত হয় তা হারাম।

ধূমপান হারাম হওয়ার দলিলসমূহ নিম্নরূপঃ
মহান আল্লাহ বলেন, "...তিনি তাদের জন্য পাক জিনিস সমূহ হালাল করেন, আর অপবিত্র জিনিস সমূহ হারাম করেন।..." (সূরা আ'রাফঃ আয়াত ১৫৭)
মহান আল্লাহর ইরশাদ হচ্ছে, "এবং তোমরা নিজ হাতে নিজেকে ধ্বংসে পতিত করো না।" (সূরা বাকারাঃ আয়াত ১৯৫) ধূমপান ক্যান্সার, যক্ষা প্রভৃতির মত ধ্বংসাত্মক রোগের কারণ।
আরো ইরশাদ হচ্ছে, "তোমরা নিজে নিজেকে হত্যা করো না।" (সূরা নিসাঃ আয়াত ২৯) ধূমপান নিজে নিজেকে ধ্বংস করে দেয়।
মদ্যপানের ক্ষতি সম্পর্কে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, "এর গুনাহ, লাভের (উপকারের) চেয়ে অনেক বড়।" (সূরা আল-বাকারাঃ আয়াত ২১৯) তেমনি ধূমপানের মধ্যেও উপকার পাওয়া তো দূরের কথা বরং এর পুরোটাই ক্ষতিকারক।
আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, "তোমরা অপব্যয় অপচয় করো না, নিশ্চয়ই অপব্যয়কারী লোকেরা শয়তানের ভাই।" (সূরা বনী ইসরাইলঃ আয়াত ২৬-২৭) আর ধূমপান করার অর্থই হচ্ছে অপচয় (খরচ), যা শয়তানী কাজের অন্তর্গত।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, 'তোমরা নিজেদের ক্ষতি সাধন করো না এবং অপরের ক্ষতি সাধন করো না।' (মুসনাদ আহমদ - সহীহ্‌ হাদীস) আর ধূমপান এমনই একটা বস্তু যা নিজের ক্ষতির সাথে সাথে পার্শ্ববর্তী লোকের কষ্টের কারণ হয়ে দাড়ায় এবং ধন-সম্পদেরও অপচয় হয়।
তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেনঃ 'আল্লাহ তোমাদের জন্য সম্পদ বিনষ্ট করা হারাম করেছেন।' - (বুখারী ও মুসলিম) আর ধূমপান সম্পদ ধ্বংসকারী যা আল্লাহ তা'য়ালা পছন্দ করেন না।
তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেনঃ 'ভাল ও মন্দ সাথীর উদাহরণ এরূপ যেমন আতর বিক্রয়কারী এবং কামারশালার হাপরে ফুঁকদানকারী ব্যক্তি।' - (বুখারী ও মুসলিম) আর ধূমপানকারীও মন্দসাথী যে আগুনে ফুঁক দিয়ে থাকে।
তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেনঃ আমার উম্মতের সবাইকে মাফ করা হবে কিন্তু পাপকার্য প্রচারকারীকে মাফ করা হবে না। আর ধূমপানকারী হচ্ছে গুনাহকে প্রকাশকারী অতএব তার ক্ষমা নেই।
তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরো বলেনঃ 'যে ব্যক্তি কাঁচা রসুন অথবা পিয়াজ খাবে, সে যেন আমাদের থেকে এবং মসজিদ থেকে আলাদা হয়ে নিজ ঘরেই বসে থাকে।' - (বুখারী ও মুসলিম) অথচ সিগারেট বা ধূমপানের গন্ধ রসুন ও পিয়াজের থেকে অধিকতর দুর্গন্ধময়।

অনেক আলেম ও বিদ্যানগণ ধূমপান হারাম বলেছেন আর যারা হারাম বলেননি তারা আসলে ধূমপানের নতুন ধ্বংসাত্মক প্রক্রিয়া, ক্যান্সার ইত্যাদি সম্বন্ধে অনবহিত।

একটু ভেবে দেখুন, যদি কেউ একটি টাকা জ্বালিয়ে দেয় তবে আমরা তাকে বলবো এই লোকটি পাগল হয়ে গেছে। তাহলে শত শত টাকাকে ধূমপানের জন্য জ্বালিয়ে দেয়াকে কি বলতে পারি? অথচ এর দ্বারা আর্থিক ও শারিরীক ক্ষতির সাথে পার্শ্ববর্তী ব্যক্তিরও কষ্ট হয়ে থাকে। অতএব হুক্কা এবং সিগারেট বিড়ি দ্বারা লোকদের কষ্ট দেয়া এবং পবিত্র ও মুক্ত বায়ুকে দূষিত করা সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে কিভাবে ঠিক হতে পারে। আর মনে রাখবেন যে, বায়ুকে দূষিত করা পানিকে দূষিত করারই নামান্তর। আমরা যদি কোন ধূমপানকারীকে জিজ্ঞেস করি যে, কিয়ামতের দিন সিগারেট, হুক্কা ও তামাক বিড়ি নেকীর পাল্লায় রাখা হবে না গুনাহের পাল্লায়? তখন নিশ্চয় সে জবাব দিবে যে, গুনাহের পাল্লায়।

ধূমপান বর্জন করার জন্য আল্লাহর নিকট সাহায্য চান, যে ব্যক্তি কোন খারাপ কাজ আল্লাহর সন্তষ্টির জন্য ত্যাগ করার প্রতিজ্ঞা করে, আল্লাহ তার সাহায্য করেন। আর ধৈর্য্য ধারণ করুন কেননা আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে থাকেন। রাতের অন্ধকারে এবং আযান ও নামাযের পরে এই বলে দু'আ করুনঃ হে আল্লাহ ! আমাদের অন্তরে ধূমপানের প্রতি ঘৃনা (বিতৃঞ্চা) সৃষ্টি করে দিন এবং এটা খারাপ মনে করে আমাদেরকে এ থেকে বেঁচে থাকার তাওফীক প্রদান করুন।

(আমীন)
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ রাত ১১:৪৮
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমি টুপ করে চলে আসবো

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:১৯


আমি হাসিনা। আমি আমার স্বামী ওয়াজেদ মিয়াকে কোনদিন স্বামীর মর্যাদা দেইনি। সে জ্ঞানী হলেও আমি সবসময় তাকে বাসার কাজের লোকের চেয়ে বেশি কিছু মনে করিনি। আমি সবসময় মৃণাল কান্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

রুবা

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:২৮




রুবার সাথে আমার বিয়েটা ওঠ ছেড়ি তোর বিয়ের মতোই হয়েছে । একদম সাধারন কোনরকম অনুষ্ঠান নাই । সেইদিন অফিসে অনেক কাজ ছিলো । চোখে তারা ফারা দেখছিলাম । বসের... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রথম .........।

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আন্ডারগ্রাউন্ড শোতে এটাই আমার প্রথম ড্রামস বাজানোর একটা মুহূর্ত।

কিছু গল্প আসলে পরিকল্পনা করে শুরু হয় না।কিছু গল্প হঠাৎ করে একটা মুহূর্ত থেকে জন্ম নেয় আর তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

সমুদ্রের নীল খাম

লিখেছেন ডি এইচ তুহিন, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৪২


এই শহরে থাকি প্রায় সাতাশ-আটাশ বছর ধরে। তিন প্রেমিকার মায়া ছেড়ে যাওয়া যায় না এমন এক অদ্ভুত সুন্দর এই শহর। যার এক হাতে নদী, অন্য হাতে সমুদ্র, আর কপালে জায়গা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী দুঃশাসনের পতন অনিবার্য ছিল, জুলাই তো স্রেফ উছিলা মাত্র!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০১ লা জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮



জুলাই নিয়ে অনেক বিতর্ক, সমালোচনা আছে। কিন্তু, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে জুলাই গণঅভ্যূত্থান না হলে আমরা দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেতাম না। জুলাই ঘিরে যত বিতর্ক, সমালোচনাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×