somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ত্যাগের আনন্দ থেকেই হোক ভালো কিছু!

০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ত্যাগের আনন্দে ব্যস্ত থাকবে হয়তো সবাই............ সীমিত আয়ের বাবারা কষ্টে-সৃষ্টে বাচ্চাদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য তাঁদের কায়িক শ্রমকে বিকিয়ে দিয়ে ত্যাগের আনন্দে মাতবেন, কেউ শো-আপ করতে ২-৩ টা গরু কিনে মাংস স্টক করে ত্যাগের আনন্দে মাতবেন, বেশী টাকা দিয়ে গরু-ছাগল কিনে বেশী মাংস পাওয়ার ত্যাগের আনন্দে মাতবেন, দুই নম্বরি পয়সায় বিরাট গরু-ছাগল কিনে ত্যাগের আনন্দে মাতবেন, বোনাসের টাকা দিয়ে বা লোক দেখানোর উদ্যেশ্যে ত্যাগের আনন্দে মাতবেন অর্থাৎ ত্যাগের আনন্দে ভাসতে যাচ্ছে পুরো দেশ............ কিন্তু কিছু বিষয় আছে যেগুলো ত্যাগের আনন্দ থেকে শিক্ষণীয় তা কি আমরা কখনো গ্রহণ করি???

কোরবানির পশু জবাইয়ের পর রক্ত জমাট বেঁধে কালো কালো ছোপ পড়ে যায় এবং তা থেকে কাউ ফ্লেভারের যে পারফিউমের সুবাস আসে তা কি আমরা প্রপারলি পরিস্কার করি? বরাবরই পানি বেশী খরচ হবে বা আমার ভাগের অংশীদাররা করবে ভেবে রেখে দেই অথবা বৃষ্টির পানিতে আপনাআপনি ধুয়ে যাবে বলে রেখে দিয়ে এক দুর্গন্ধময় পরিবেশ তৈরি করি.........

যত্রতত্র গরু-ছাগল বেঁধে রেখে, ৩-৪দিন প্রচণ্ড যত্নআত্তি করে ঘাস- লতা-পাতা খাওয়ানোর পর যেসব জায়গাগুলোতে বেঁধে রেখেছেন সেগুলো কি কখনো পরিষ্কার করেছেন?

বটবৃক্ষ প্রেমী ভাইবোনেরা, নাড়িভুঁড়ি গুলো পরিষ্কার করে গোবরগুলো ওপেন রাস্তায়, ডোবায়, মাঠে, গলিতে ফেলে রেখে পরিবেশ ভারী করতে প্রতিবছর অশেষ অবদান রেখে চলেন.........এই অবদান এতোটাই ভারী পড়ে যে মাসের পর মাস এই রাস্তা, ডোবা, মাঠ, গলি গুলো থেকে নির্দয়ভাবে বটফ্লেভার আসতে থাকে। খালি বট খাবেন আর বটের "গু" ধরবেন সে কি হয়?

মাংস কাটার পর ব্যবহৃত চাটাই, দড়ি, হাড়, মাথার বা দাঁতের হাড়গুলো এখানে সেখানে ফেলে না রেখে কখনো কি কোন নির্দিষ্ট জায়গাতে ফেলেছেন?

কোরবানির আসল উদ্যেশ্য হচ্ছে ত্যাগের মহিমা শেখানো, কিন্তু আমরা কি আদৌ আনাদের সেই শিক্ষা কি গ্রহণ করছি? পারছি আমাদের মনের রাগ,হিংসা, বিদ্বেষ, ঘৃণা, লোভ মানসিকতাকে ত্যাগ করতে? আমরা কি পারছি প্রতিবেশী, বন্ধু, বা আত্মীয়স্বজনদের সাথে রাগ, হিংসা, বিদ্বেষ, ঘৃণা, লোভ ত্যাগ করে তাদের সাথে মিলে থাকতে?

সবার কাছে একটাই আপাতত অনুরোধ থাকবে ত্যাগের থেকে আপাতত কোন মহিমা শিখতে না পারলেও কোরবানির পরবর্তীতে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে একটু সতর্ক থাকবেন কারণ যে পরিবেশ আপনি নোংরা করছেন সেখানে আপনি বা আপনার পরিবার, প্রতিবেশী, বন্ধু, বা আত্মীয়স্বজনরাই থাকবে......... তাদেরকে একটু ভালো পরিবেশে থাকার, একটু শান্তিতে থাকার সুযোগ দিন। আপনার ত্যাগের আনন্দ থেকে অন্তত তারা যেন বিরূপ কোন শিক্ষা না পায়!

***ত্যাগের আনন্দ থেকেই হোক ভালো কিছু***
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:১২
০টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলে তে কি দেখতে চাই না

লিখেছেন অপলক , ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



ওপার বাংলা আর এপার বাংলা মানে কোন দেশের কোন অঞ্চল বোঝায়, সেটা কমবেশি সবাই জানি। কিন্তু দু'বাংলার সংস্কৃতি বেশির ভাগটাই আলাদা। শব্দ উচ্চারন থেকে শুরু করে মন মানসিকতা, পোশাক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো অনুরাধা, ভেঙে দিয়ে সব বাঁধা....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:১৩

ফিরে এসো অনুরাধা, ভেঙে দিয়ে সব বাঁধা....

শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন- ফিরতেই পারেন। তবে প্রশ্ন হলো, কীভাবে এবং কোন উদ্দেশ্যে?

বাংলাদেশে ফিরে আসা তাঁর জন্য অসম্ভব নয়। চাইলে তিনি দেশে ফিরতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা বাস করছি প্রচণ্ড রাজনৈতিক ভণ্ডামোর মধ্যে – হুমায়ুন আজাদ। কিছু কথা।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৮



ইংরেজিতে একটা শব্দ আছে সেটা হল plausible. যার একটা অর্থ হল “আপাতদৃষ্টিতে যুক্তিসঙ্গত”। হুমায়ুন আজাদের অনেক লেখার মধ্যে এ জিনিসটা পাওয়া যায়। এমনিতে হুমায়ুন আজাদ খুবই ভালো... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ ১৭ই মার্চ ১৯২০

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪১




একটা সোনার ছোট্ট ছেলে জন্ম নিলো এই  দিনে,
স্বভাবগুনে স্থান পায় সে কোটি জনতার মনে।

সেই ছেলেটি জন্মেছিল টুঙ্গিপাড়া গ্রামে।
মুক্তিরই এক বার্তা নিয়ে এলো ধরাধামে।

অন্তরটি তাঁর বিশাল বড়ো,বুক ভর্তি  মায়া,
সব মায়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

হুলো বেড়াল

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২৮


গ্রামের কাঁচা রাস্তা দিয়ে হাঁটছি। কোথাও মানুষের কোনো সাড়া-শব্দ নেই। মাঝেমধ্যে অবশ্য ঝিঁঝিঁ পোকা ডেকে যাচ্ছে। শব্দে কান ঝালাপালা। এত ঝিঁঝিঁ পোকা কোথা থেকে এলো?

দুটো জঙ্গল পেরিয়ে মূল সড়কে ওঠলাম।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×