ইমানের পরে আল্লাহ্ তায়ালার পক্ষ থেকে দেয়া হুকুম সমুহের মধ্যে সব চেয়ে বড় হুকুম হল সালাত । আর সালাতের মাসায়েল শিক্ষা করা প্রত্যেক মানুষের জন্য ফরজ । তাই আমরা তকবীরে তাহরিমা থেকে সালাম ফিরানো পর্জন্ত সব মাসায়েল ধারাবাহিক ভাবে আলোচনা করা হবে ইন-শা-আল্লাহ -
দাঁড়ানোতে ৭ কাজ
১. পায়ের আঙ্গুলসমূহ কিবলার দিকে সোজাভাবে রাখা।
২. উভয় পায়ের মাঝখানে চার আঙ্গুল (উর্ধ্বে এক বিঘৎ) পরিমাণ ফাঁক রাখা।
৩. উভয় পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলিদ্বয় ও গোঁড়ালিদ্বয়ের মাঝে সমান দূরত্ব রাখা।
৪. তাকবীরে তাহরীমা শুরু করা পর্যন্ত হাত ছেড়ে রাখা। (হাত বেঁধে না রাখা)।
৫. সম্পূর্ণ সোজা হওয়া (এক পায়ে ভর দিয়ে বাঁকা হয়ে না দাঁড়ানো)।
৬. ঘাড় সোজা রাখা। চেহারা জমিনের দিকে না করা।
৭. সিজদার জায়গার দিকে নজর রাখা।
[বি.দ্র. ফরয নামাযের কিয়াম (দাঁড়িয়ে নামায পড়া) ফরয]
হাত উঠানোতে ৮ কাজ
১. তাকবীরে তাহরীমার সময় হাত চাদরের ভিতরে থাকলে, বাইরে বের করা।
২. হাত উঠানোর সময় মাথা না ঝুঁকানো।
৩. হাত কান পর্যন্ত উঠানো (উভয় হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা কানের লতি স্পর্শ করা)।
৪. হাতের আঙ্গুলগুলো স্বাভাবিক ফাঁক রাখা।
৫. হাতের তালু সম্পূর্ণ কিবলামুখী করে রাখা, আঙ্গুলের মাথা বাঁকা না করা। বরং আকাশমুখী করে রাখা।
৬. তাকবীরে তাহরীমা বলার প্রাক্কালে উক্ত নামাযের খেয়াল (নিয়ত) মনে হাজির করা। [ফরয]
৭। তারপর তাকবীরে তাহরীমা শুরু করা। তাকবীরে তাহরীমা এক আলিফ থেকে বেশি না টানা।
৮. তাকবীরে তাহরীমা বলার পর সরাসরি হাত বাঁধা। (হাত বাঁধার আগে হাত ঝুলিয়ে না দেয়া)।
হাত বাঁধার ৪ কাজ
১. ডান হাতের তালু বাম হাতের পিঠের উপর রাখা।
২. ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও কনিষ্ঠাঙ্গুলি দ্বারা বাম হাতের কব্জি ধরা।
৩. বাকি আঙ্গুলগুলো বাম হাতের উপর স্বাভাবিক ভাবে অবস্থায় রাখা।
৪. নাভির নীচে হাত বাঁধা।
উল্লেখ্য-তাকবীর বলা শেষ ও হাত বাঁধা একই সময় হবে।
হাত বাঁধার পর ৮ কাজ
১. ছানা পড়া
২. আ‘উজুবিল্লাহ পড়া।
৩. বিসমিল্লাহ পড়া।
(উল্লেখ্য যে, পরবর্তী রাক‘আতে ছানা ও আ‘উজুবিল্লাহ পড়তে হয় না)
৪. সূরা ফাতিহা পড়া [ওয়াজিব]।
৫. সূরা ফাতিহা পড়ার পর নীরবে আমীন বলা।
৬. সূরা মিলানো (ফযরের প্রথম দু‘রাক‘আতে এবং ওয়াজিব, সুন্নাত ও নফলের সব কয়টি রাক‘আতে) [ওয়াজিব]।
৭. সূরা মিলানোর পূর্বে বিসমিল্লাহ পড়া।
৮. মাসনূন কিরা’আত পড়া।
[বি.দ্র. ফরযের প্রথম দু‘রাক‘আতে এবং ওয়াজিব, সুন্নাত ও নফলের সবকয়টি রাক‘আতে কমপক্ষে বড় এক আয়াত অথবা ছোট তিন আয়াত পরিমাণ কিরআত (কুরআন শরীফ) পড়া [ফরয]।
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই মে, ২০১৪ দুপুর ১২:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।






