ছোটবেলায় একটা স্বপ্ন প্রায়ই দেখতাম। সেটা ছিল, একটা ট্রেন প্রবল বেগে ছুটে চলেছে আর আমি একা সেই ট্রেনে বসে আছি।
আহা, তখন প্রতিবার ঘুম ভেঙ্গে এত আফসোস হত, ইস যদি কোন দিন সত্যি একা ট্রেনে করে কোথাও যেতে পারতাম! কিন্তু আমাদের পারিবারিক প্রেক্ষাপটে এটা ছিল অবাস্তব কল্পনা মাত্র।
সুযোগটা হঠাৎ করেই এল। আমার আপুর পোষ্টিং হবিগন্জ। গত পরশুদিন কথায় কথায় বলল, "ছুটি যখন আছে কয়েকটা দিন আমার কাছে থেকে যাও।" আমি খুব একটা ইন্টারেস্ট পেলাম না। ওখানকার সব দেখা হয়ে গেছে। গিয়ে আর কি হবে? তাও বললাম, "এখন সাথে কে যাবে? ভাইয়ার তো অফিস খোলা।"
আপু বলল, "তুমি একা ট্রেনে চলে এস।"
এই কথা শোনার সাথে সাথে লাফিয়ে উঠলাম। একা যাব??
এই দিনটার অপেক্ষায় তো ছিলাম এতদিন!
আপুর কথামত পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই স্টেশনের উদ্দেশ্যে দৌড়। টিকেট কাটা কষ্টকর সেটা জানতাম কিন্তু এত যে খারাপ অবস্থা তা জানতাম না। বহু কষ্টে টিকেট কেটে যখন স্টেশন থেকে বের হলাম তখন আমার হাত পা কাপাঁকাপি শুরু হয়ে গেছে।
বাসায় এতক্ষণ কিছু বলি নি, এবার টিকেট হাতে নিয়ে বললাম, "কাল আপুর কাছে যাচ্ছি, টিকেট কেটে নিয়ে এসেছি।" যা ভেবেছিলাম তাই হল। শোনেই সবার প্রতিবাদ। না, একা যাওয়া যাবে না। পরে যেও......আরও কত কি!
আমিও কম না। বাসায় রীতিমত বিদ্রোহ শুরু করলাম। কোনমতে রাত পার করে যখন সকালে তাড়াহুড়া করে রেডী হচ্ছি তখন নানু ডেকে নিয়ে পাশে বসাল। করুণ মুখ করে বললেন, " না গেলে হয় না?
- আমি তো টিকেট কেটে ফেলেছি!
-তোর টিকেটের টাকা আমি দিয়ে দিচ্ছি তাও তুই যাস না.............।
আমি পড়লাম বিপদে। নানুর মুখ পুরো কাঁদোকাঁদো হয়ে গেছে। আমার নানা বাড়ির মানুষগুলো আবার টেনশন করতে খুব ভাল পারে। আমি প্রমাদ গুনলাম।
নানুকে জড়িয়ে ধরেটরে কোন রকমে হাত করে মামার সাথে স্টেশনের উদ্দেশ্যে দিলাম ছুট!!!!
স্টেশনে পৌছানোর কিছুক্ষণ বাদেই ট্রেনও চলে এল।
আমার কপাল একটা দিকে আজীবন খুব কুফা থাকে, তা হল সহযাত্রী কখনোই ভাল পড়ে না। এবারও তাই হল। আমার পাশের সিটগুলোতে কতগুলো ফালতু ছেলে উঠল। আমি কথা না বলে থাকতে পারি না এবং মানুষ পছন্দ হলে যে কারো সাথে যে কোন জায়গায় জমিয়ে আড্ডাও দিতে পারি। আশে পাশে তাকিয়ে বুঝলাম এখানে সেই সুযোগ নাই। পুরো রাস্তা মুখ বন্ধ করে রাখতে হবে।
অতএব, বিরস বদনে কানে হেডফোন লাগিয়ে জানালার বাইরে চোখ মেলে দিলাম।
আর ট্রেনটাও এই ব্যস্ত শহরকে পেছনে ফেলে ছুটতে লাগল আমার আশৈশবের স্বপ্ন পূরণের পথে।
আলোচিত ব্লগ
Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ
![]()
প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?
আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন
যে যায় লঙ্কায় সে হয় রাবণ

ব্যাংকের সিএসআর বা কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটি (Corporate Social Responsibility) তহবিল জিনিসটা খাতায় কলমে বড়ই পুণ্যের কাজ। ব্যাংক ব্যবসা করে লাভ করবে, সেই লাভের একটা অংশ সমাজের জন্য আলাদা রাখবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন
বাকি রইলো; কাঁচা কলা

স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন
স্মৃতির নৌকা
কোন কোনদিন আলোর শৈশবে চোখ মেলে
মাধবীলতার হাসিমুখ সম্ভাষণের ওপাশে স্বচ্ছ আকাশে
এক ঝাঁক কবুতরের ওড়াউড়ি দেখতে দেখতে-
নিজেকে বড় ভাগ্যবান বলে মনে হয়,
চকিতে অপার্থিব আলো যেন ঢুকে পড়ে আত্মায়।
কোন কোন সন্ধ্যেয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।