somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প : গিরগিটি (পর্ব ৪)

১১ ই জুন, ২০০৭ রাত ৯:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


গাড়িতে বসে সীট বেল্ট লাগাতে লাগাতে আসাদ সোজাসুজি বলে ফেলে, আমার শ’পাঁচেক টাকার দরকার, রশিদ ভাই।

শেষ পর্যন্ত বলতে পেরেছে, আসাদের নিজেরই বিশ্বাস হয় না। এরকম হুট করে না বললে কিছুতেই বলা যেতো না। ইনিয়ে বিনিয়ে ভূমিকা করে বলতে গেলে এ-কথা ও-কথার পর টাকার কথাটাই হয়তো মুখে আসতো না। চোখ-নাক-মুখের সমস্ত ক্রিয়া বন্ধ করে বলা তো হয়ে গেছে, এখন যা হয় হোক। একটু বেশি করেই চেয়েছে। পুরো পাঁচশো পেলে খারাপ হয় না। টাকা কখনো বাড়তি হয় না, কোনো না কোনো কাজে লেগেই যায়। চাই কি, ক্যারলকে নিয়ে আজ রাতে রেস্টুরেন্টে খেয়ে আসা যায়। এ দেশী বউ পুষতে গেলে সপ্তাহে অন্তত একদিন বাইরে খেতে হয়, শুক্র-শনিবার রাতে ক্লাবে বা বারে যাওয়াও নিয়মের মধ্যে পড়ে।

রশিদের মুখ দেখে তার রাগ, বিরক্তি, কৌতুক কিছুই বোঝার উপায় নেই। জিজ্ঞেস করে, ক্যান, কী হইলো আবার?

আসাদের হঠাৎ মনে হয়, আচ্ছা, এই নিয়ে রশিদ ভাইয়ের এই প্রশ্ন ঠিক কতোবার শুনেছে সে? টাকা ধার চাইলে হুবহু এই জিজ্ঞাসাটাই প্রথম শুনতে হয়। খুবই বিরক্ত লাগে। সবাই শুধু তার কাছে কৈফিয়ত চায়। কর্মস্থলে প্রতিমাসের ইনভেন্টরির পর জিনিসপত্র বা টাকাপয়সার ঘাটতি হলে ম্যানেজারকে বাদ দিয়ে তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, কেন হলো। ঘরের বউ ক্যারল জিজ্ঞেস করবে, গত সপ্তাহের পে চেক পুরোটা তোমাকে দিয়েছি, সে টাকা গেলো কোথায়?

ঠিক কথা, কিন্তু টাকা জমা হওয়ার পরপরই বার্থ ডে পার্টিতে যাওয়ার জন্যে ক্যারলের জন্যে নতুন এক প্রস্থ পোশাক কেনা হলো, তা কারো মনে থাকবে না। পাওনা টাকার তাগাদা দিয়ে সরোজ মুখ কালো করে বলবে, সময়মতো টাকা ফেরত দিস না কেন, টাকা কী করিস তুই? আসাদকে চুপ করে থাকতে হবে, মুখ ফুটে সে বলতে পারবে না, আমিনকে দেড়শো ডলার ধার দিতে হয়েছে, তার জরুরি দরকার। পকেটে টাকা রেখে বন্ধুর প্রয়োজনে দেবে না, তা তো হয় না। বাসা ভাড়া দিতে দেরি হয়ে যাচ্ছে? সে দেখা যাবে, ব্যবস্থা একটা হবেই। এসব কেউ বোঝে না।

রশিদের প্রথামাফিক জেরায় বিরক্ত হলেও কিছুক্ষণ চুপ করে থাকে আসাদ। লম্বা শ্বাস টেনে সামনের দিকে চোখ রেখে বলে, দরকার আছে। পারলে দিবেন, না পারলে আর কী করা!

পারা না পারার কথা না। লাগলে ধার নিবি, তাতে তো মানা করি নাই।

আসাদের আশংকা হতে থাকে, হয়তো পুরনো ধারের কথা তুলে ফেলবে রশিদ ভাই। তাহলেই সব গেলো। রশিদ আরো কিছু একটা বলতে গিয়েও চুপ করে যায়।

ব্যাংক দশ মিনিটের পথ, আর কোনো কথা ছাড়াই যাওয়া হয়। আসাদকে গাড়িতে বসিয়ে রশিদ ভেতরে যায়। ফিরে এসে ব্যাংকের ছাপ মারা একটা খাম তুলে দেয় আসাদের হাতে। বলে, ফিরত দিতে পারবি কবে?

চেষ্টা করুম এই মাসেই এইটা আর আগেরটা মিলাইয়া দিয়া দিতে।

রশিদ মৃদু হেসে বলে, এই মাসে পারবি না, মাসের আর বাকি আছে পাঁচদিন।

আসাদ খেয়াল করেনি। ভেবে উত্তর দেওয়াও নয়। বলতে হবে তাই বলা। প্রতিশ্রুতি রাখা যাবে কি না, সময় হলে দেখা যাবে। সামলে নিয়ে বলে, আমি এখন থিকা এক মাস মীন করছিলাম।

তা-ও পারবি না, খামাখা কইয়া লাভ কি? তার থিকা মাসে মাসে দুইশো কইরা দিস। তাইলে গায়ে লাগবো না, আমারও অসুবিধা কিছু নাই।

আসাদের জন্যে অতি উত্তম ও সুবিধাজনক প্রস্তাব, কৃতজ্ঞতায় প্রায় গলে পড়ে সে। ভাই না হলে আর কে করবে এরকম! বলে, তাইলে খুবই ভালো হয়।

আরেকখান কথা। এইটা শোধ না হইলে আর টাকা চাইস না।

আসাদ এক কথায় রাজি। না হওয়ার সুযোগ কি আছে!

ভাইটির জন্যে রশিদের দুর্বলতা অনেক। ঢাকায় ওদের বাসায় থেকে সে ইউনিভার্সিটির পড়া শেষ করেছে। চাচা-চাচী তাকে নিজেদের ছেলেমেয়েদের থেকে আলাদা করে দেখেনি। পাশ-টাশ করে ওই বাড়ি থেকেই সে উড়াল দিয়েছিলো ক্যালিফোর্নিয়ায়। আসাদ এসেছিলো তারও আগে। এমবিএ শেষ করে ক্যালিফোর্নিয়ায় রশিদের চাকরি-বাকরির সুবিধা হয় না। আসাদ ফোন করে বলে, ডালাসে আইসা পড়েন, একটা ব্যবস্থা হইবোই। আমি তো আছি, দুই ভাইয়ে এক লগে থাকতে পারুম।

আসাদ তখনো বিয়ে করেনি। ছোটোবেলা থেকে কিঞ্চিৎ দুরন্ত ও খেলাধুলা নিয়ে মেতে থাকা আসাদ খুবই প্রিয় রশিদের। আসাদের মুখে আমি তো আছি শুনে ভালো লাগে, ভরসা হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার পাট তুলে দিয়ে রশিদ চলে আসে দু’মাস পরে। আসাদ যে এতো রকমের ঝামেলার মধ্যে ডুবে আছে, প্রথম প্রথম বোঝা যায়নি। যখন টের পেলো, তখন আর বিশেষ কিছু করার নেই। যতোদূর পারে সাহায্য করার চেষ্টা করেছে, পরামর্শ দিয়েছে। কাজের কাজ কিছু হয়নি।
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনফিং - দরিদ্রদের একজন ত্রানকর্তা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:২৭

.



শি জিনফিংয়ের নেতৃত্বে চীন ২০২০ সালের শেষ নাগাদ তাদের দেশ থেকে চরম দারিদ্র্য সম্পূর্ণ নির্মূল করার ঐতিহাসিক লক্ষ্য অর্জন করে, যা বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এই মহাপরিকল্পনার আওতায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা ব্লগিং-এ দুই দশক - ধন্যবাদ সামহোয়্যার ইন ব্লগ

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ২৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৫৮


দেখতে দেখতে শেষ পর্যন্ত সামুতে ২০ বছর পেরিয়ে গেল, ব্যক্তিগত একটি মাইলস্টোনও পার করা হলো। এই অনুভূতি মূলত মিশ্র। একদিকে আমি যেমন সামহোয়্যার ইন কর্তৃপক্ষের নিকট কৃতজ্ঞ যে দু'দশক... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুসা নবী এবং ফেরাউন

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



মুসার নবীর নির্দেশ অমান্য করে এবং আল্লাহর অবাধ্য হওয়ার কারণে-
লোহিত সাগরে ডুবে ফেরাউনের করুণ মৃত্যু হয়। হজরত মুসা আলাইহিস সালাম এমন এক ফেরাউনের আমলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন- যিনি রামেসিস... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭২০১৪

লিখেছেন ডি এইচ তুহিন, ৩০ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৫৮

"ভাই, এইখানেই নামবেন?"

হেল্পার ছেলেটা দরজার হাতল ধরে আমার দিকে ঠিক এমনভাবে তাকালো, যেন আমি জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলটা করতে যাচ্ছি। বাসের ভেতরের হলদে আলোয় ওর মুখটা কেমন বিবর্ণ দেখাচ্ছিল। চোখের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৯২

লিখেছেন রাজীব নুর, ৩০ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৪:১৯



বিএনপি সরকার দেশে ক্ষমতায় আসতে না আসতেই দেশে প্রতারকের সংখ্যা বেড়ে গেছে।
প্রতারক সব আমলেই ছিলো। কিন্তু বিএনপির আমলে যেন প্রতারকের উৎসব শুরু হচ্ছে। দেশে বেড়ে গেছে মারামারি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×