somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

হাতুড়ের নতুন খেলা

২০ শে জানুয়ারি, ২০১৬ সকাল ১১:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শঙ্কাটা জাগছে সর্বশেষ বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অতি পরীক্ষা নিরিক্ষার আতিশায্য দেখে। মাত্র দুইমাস আগে বাংলাদেশ ফুটবল দলেও এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিলো । হঠাৎ করে বাফুফে একজন ইতালীয় কোচ উড়িয়ে আনে। ভদ্রলোক এসেই স্ট্রাইকারদের পাঠিয়ে দেন সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার হিসেবে খেলতে, মিডফিল্ডার মামুনুল কে পাঠিয়ে দেন স্ট্রাইকিং এ আর লেফট ব্যাক কে খেলানো শুরু করেন রাইট আউট এ। সামনে দুই/তিনটি বড় টুর্ণামেন্ট থাকার অছিলায় তিনি নাম দেন পরীক্ষা নিরীক্ষা। খুব স্বাভাবিকভাবেই দীর্ঘদিন থেকে খেলে আসা সিনিয়র প্লেয়ার রা যখন এ নিয়ে আপত্তি জানালেন, অভিভাবকেরা খুব বিরক্ত হলেন । বাফুফে সভাপতি সাহেব তো বলেই উঠলেন - "কোচ যেটা ভালো মনে করবেন সেটাই করবেন" । ফলাফল, মাত্র একমাসের মধ্যে পুরো দলকে এতোটাই এলোমেলো করে দিলো যে, সাফ টুর্ণামেন্ট তো পরের কথা, বঙ্গবন্ধু কাপে আসা বিভিন্ন দেশের ছোটদের সাথেই হিমশিম খেয়ে তল খুজে বেড়াচ্ছে দলটি। যে কোন চলমান কিছুর রিদম নষ্ট করে দিলে, তা থেকে বের হয়ে আসা খুব কঠিন। আর এই রিদম নষ্ট করবার কাজটিই সফলভাবে করে বিদায় হন ইতালীয় লোপেজ।

কেন জানিনা, হঠাৎ করে ক্রিকেটে আবার সেই একই কাজ শুরু করছেন হাতুড়ে সাহেব। আবারও ওলট পালটের খেলা। সিনিয়র প্লেয়ারদের আপত্তির মুখে কোড অব কন্ডাক্টের বাধা পেরিয়ে যা বের হয়ে আসছে তা সেই ফুটবল দলের প্রতিচ্ছবিই। মজার ব্যপার হলো এর মধ্যেই দেশব্যাপি হাতুড়ে সাহেবের কিছু ভক্ত জুটে গেলো। আত্নবিস্মৃতির জন্যে বিখ্যাত বাঙালী জাতি ভুলে গেলো এই হাতুড়ের অধীনে ২০১৪ তে হিমশিম খাওয়া বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে উদ্ধার করেছিলো সৌম্য-মুস্তাফিজের মতো নতুন খেলোয়াড় (যাদের নির্বাচকরা খুজে এনেছিলেন) সাথে মূল অবদান ছিলো সংসপ্তক মাশরাফির অনুপ্রেরণাময়ী ক্যাপ্টেনসি। সর্বদাই আত্নপরিচয়ের সংকটে থাকা এই জাতির অনেকেই দেশের ছেলেদের অবদান ভুলে গেলেও বিদেশী পাসপোর্টধারী হাতুড়ের হাতেই সব কৃতিত্ব চোখ বন্ধ করে দিয়ে দলের বারোটা বাজানোর লাইসেন্স দিয়ে রাখতে রাজী হয়ে গেলো। ঘটনাটা হয়ে যাচ্ছে বাড়ির ছোট ছেলেকে গণিত প্রাইভেট পড়তে দেয়ার মতো। বাড়ির ছেলে যখন বলে টীচার তাকে অযথা মারধর করছে- তখন বাসা থেকে উল্টো তাকে ধমক দেয়া হয় এই বলে যে, টিচার ভালোর জন্যেই তাকে পেটাচ্ছে। কিন্তু কদিন পর যখন নিজের ছেলের অঙ্গহানি হয়, তখন টিচারের সর্বোচ্চ শাস্তি হয় পড়ানো বন্ধ করা, কিন্তু ততক্ষনে বাড়ির ছেলের যা ক্ষতি হওয়ার হয়ে গেছে। নিজেদের ছেলেদের অনুভুতি এভাবে উড়িয়ে ফেলা ঠিক হচ্ছে না।

অনেকের কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ হলো- " বাংলাদেশ টিমের উন্নতি কিন্তু হাথুরুসিংয়ের পরীক্ষা নিরীক্ষার ফল" এটা হাতুড়ের প্রতি অতি মূল্যায়ন । আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছি এই হাতুড়ের হাতেই কিন্তু ম্যাচের পর ম্যাচ হেরে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গিয়েছিলো এই দলটিই।নির্বাচকদের খুজে আনা নতুন কিছু পারফরমার এবং মাশরাফির অধিনায়কত্বে আবারও বলছি মাশরাফির অধিনায়কত্বে দলটি বদল হয়েছে। হাতুড়ের জায়গায় এই সময় বাড়ির নেড়ি কুত্তা (মাইকেল ক্লার্ক অন্য এক প্রসঙ্গে কিন্তু এভাবেই বলেছিলেন) থাকলেও দল একই রকম পারফরম্যান্স করতো বলে আমার ধারণা।

দুই–তিন বছর ধরে গড়া ক্রুইফের অধীনে অসাধারণ খেলতে থাকা বাংলাদেশ ফুটবল দলকে ধ্বংস করতে মাত্র একমাস সময় লেগেছে- শুধুমাত্র সিনিয়র কয়েকজন খেলোয়াড়ের পজিশন বদলে সব কিছু ওলট পালট করে দিয়েছিলেন তিনি। আমাদের জাতিগত সমস্যা হলো, আমরা নিজেদের ছেলেদের চেয়ে বিদেশীদের উপর বিশ্বাস করি খুব বেশী।

বিদেশীদের দিয়ে কাজ করালেও নিজের কাজ বুঝে নিতে হয়। বিসিবি বাফুফের চেয়ে অনেক দক্ষ একটি সংগঠন। তারা বাফুফের মতো ভুল করবেনা বলে আমার বিশ্বাস । আশা করি প্রয়োজন এবং সময় মতো লাগাম ধরে দলকে বাচাতে এগিয়ে আসবে বিসিবি।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে জানুয়ারি, ২০১৬ সকাল ১১:৫০
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×