somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাকি রাজাকার, ভারতীয় দালাল আর হাতুড়ী প্রেমিকদের যোগসাজস

২৪ শে জানুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৪:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশই মনে হয় পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেই দেশে তাদের নিজের স্বার্থের বিরুদ্ধে কিছু ঘটলেও একদল লোক থাকে যারা নির্লজ্জ্বভাবে তা সমর্থনদিয়ে আসছে। আমাদের দেশে একদল লোক দেশের স্বাধীনতার সময় সরব এবং সক্রিয়ভাবেই হানাদার বাহিনীর সাথে যোগ দেয়। আবার অন্য আরেকটি দল লোক আছে যারা অত্যন্ত সরবে কাগজে কলমে নির্লজ্বভাবে প্রতিবেশী দেশের যে কোন কাজকে সমর্থন করে, তা সে ফেলানীর লাশ দেখেই হোক কি অর্থনীতির চাপও হোক। এ নিয়ে বিস্তারিত খুব বেশী বর্ণনা না করলেও চলে, কারণ এদের এক পক্ষ অন্য পক্ষের নামে যে প্রমাণ/যুক্তি তুলে ধরে সেগুলো পড়লেই বিষয়গুলো জানা যায়।

২০১৫ সালে এই দেশের ক্রিকেট উৎসবে এই দুই পক্ষের লজ্জ্বাজনক সমর্থনেও বিষয় গুলো ঝালাই হয়ে গেছলো। মে মাসের পাকি প্রেমিকদের লুকানো মুখগুলি আর জুন মাসে দালালদের নিভে যাওয়া হাসিতে এই দেশের মানুষের উল্লাসের আনন্দে ভাটা পড়েনি একটুকু।

যে কোন ক্রাইসিসে শত্রু চেনা যায়। ২০১৬ এর জিম্বাবুয়ে বিপর্যয়ের মূল হোতা হাতুড়ের ক্রিকেট দল ধ্বংস করবার চক্রান্তে এই দুই দলের উল্লাস আবার চোখে পড়ছে। এবার তারা হয়ে গেছে এক জোট। যেই দেশের ক্রিকেটের জয়ে আমাদের মুখ হয় উজ্জ্বল, সেই দেশের ক্রিকেটের পরাজয়ে তাদের মুখে ফুটে উঠেছে হাসি। ২০১৫ এর মে আর জুনের পরাজয়ের প্রতিশোধ তারা পেয়েছে ২০১৬ তে এক হাতুড়ের অপতৎপরতার কারণে। আর সেই জন্যেই হাসি মাখা মুখ আড়ালে রেখে কেউ বিড়বিড় করে বলছে, এই পরাজয় আসলে দরকার ছিলো, আবার কেউ কেউ বলছে, দুটি মাত্র ম্যাচ জেনেশুনে হারাটা ভালোই ছিলো।
প্রসঙ্গটা এলো এভাবে। কোচ হয়ে আসার পর থেকে হাতুড়ে প্রথমেই সিনিয়র ক্রিকেটারদের বিদেয় করে দেবার জন্যে উঠে পড়ে লাগলো। যে হাতুড়ে নিজে নিজের খেলোয়াড়ি জীবনে একাধিকবার শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্য দল থেকে বহিস্কৃত হয়েছিলো, সেই হাতুড়ে শৃঙ্খলা রক্ষার নামে সাকিবকে বিভিন্ন অছিলায় বহিস্কারের জন্যে বিসিবি কে উস্কে দেয়। বিশ্বকাপে আরেকজন সাবেক অধিনায়কের যোগসাজসে ফর্মে থাকা আলআমিনকে তুচ্ছ অভিযোগে দেশে ফেরৎ পাঠানো হয়, দলের সব খেলোয়াড়ের করজোর অনুরোধ স্বত্বেও। ২০১৫ এর শ্রীলংকার ট্যুর থেকে এশিয়া কাপ পর্যন্ত এই হাতুড়ের অধীনে একের পর এক ম্যাচ হারতে হারতে যখন হাতুড়ের বিদায় আসন্ন, তখন মাশরাফির একক পরিচর্যা এবং সমম্বয়ের জন্যে দলটি ঘুরে দাড়ায়। আধুনিক ক্রিকেটে দলে কিছু বিশ্বমানের খেলোয়াড় থাকলে একজন কোচের মূল কাজ হলো তাদের কাছ থেকে বেস্ট পারফরমেন্স আদায় করবার জন্যে সুষ্ঠু সমম্বয় ঘটানো। এখানে ব্যাটিং বা বোলিং শেখানোর কাজটাও করে দেয় ব্যাটিং কোচ বা বোলিং কোচ। মাইকেল ক্লার্ক তো বলেই দিয়েছেন- অস্ট্রেলিয়া দলে তার কুকুরটা কোচ থাকলেও সে সময় দলটি বিশ্বকাপ জয় করতো। মজার বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশ বলেই কিনা, মাশরাফির অসাধারণ নেতৃত্ব ও সমম্বয়ের বেশ কিছুটা ক্রেডিট চলে যায় স্বাভাবিকভাবে হেড কোচের কাছেই। সেটা পুজি করেই এবার সে নতুন চাল চালে যার পরিপ্রেক্ষিত এখানেই পাবেন।

http://www.somewhereinblog.net/blog/zuma/30103264

মজার ব্যাপার হলো- হাতুড়ে এর মধ্যেও কিছু বাংলাদেশী ভক্ত পেয়ে যায়। তাদের ভাবটা দেখে বোঝাই যায়- তারা লালসবুজের পতাকার বাহক মাশরাফি, সাকিবদের খেলা দেখতে যায় না, যায় শ্রীলংকার হাতুড়ের কোচিং দেখতে। মাশরাফির আত্নত্যাগ তাদের চোখে পড়ে না হাতুড়ে অস্ট্রেলিয়ায় বাড়ি ছেড়ে এই পোড়া দেশে আছে, তাই যেন এদেশের কপাল!

বাংলাদেশ বীরের জাতি। খেলে হারতে তাদের কোন আপত্তি নাই। লড়াই করে বা দুর্বল দল নিয়ে অসংখ্যবার আমরা অনেকের কাছেই হেরেছি। সেটা ভারতের সাথে হোক, পাকিদের সাথে হোক, এমনকি জিম্বাবুয়েও অনেকবারই আমাদের ভালো খেলেই হারিয়েছে। কিন্তু ২০১৫ এর ফেব্রুয়ারীতে যে চক্রান্ত করে অস্ট্রেলিয়ায় আমাদের হারানো হয়েছে, সেই হার আমরা মেনে নিতে পারিনি। মুলতানে জিততে থাকা টেস্টে অশোকা ডি সিলভার চক্রান্তে হেরে যাওয়াও মেনে নিতে পারিনি। আর ২০ জানুয়ারী থেকে হাতুড়ের চক্রান্তে দলকে ভিতর থেকে দুর্বল করে দিয়ে হেরে যাওয়া মেনে নিতে পারছিনা।

এই দেশে পাকি রাজাকার, ভারতীয় দালাল আর হাতুড়ী প্রেমিকদের মতো বেইমানদের অভাব নাই। আমরা দেশপ্রেমিক বাঙালীরা মাশরাফি সাকিব তামিমদের হাতে পতাকা তুলে দিয়েছি । ওদের খেলাই দেখতে চাই। হাতুড়ীর শয়তানী কিংবা হাতুড়ী প্রেমিকদের দরকারী পরাজয় দেখতে চাই না।

যাদের হাতুড়ের "প্রয়োজনীয়/দরকারী" পরাজয় দেখবার ইচ্ছা থাকে, তাদের তো মানা করিনি, আপনারা দেখুন না, হাতুড়ের নিজের দল শ্রীলংকার খেলা। যে হাতুড়ীর নিজের খেলোয়াড়ী জীবন জঘন্য ক্যারিয়ার গ্রাফ্ আর বারংবার বহিস্কারের ইতিহাসে পূর্ণ, সেই হাতুড়ের ভক্ত হবার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা আমাদের নেই। সে একজন বেতনভুক্ত কর্মচারী মাত্র। বরং ওর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ যে কিসের বিনিময়ে দলের ভেতরে থেকে পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে সে শুধু একটি সিরিজের জয়ই বিনষ্ট করেনি, বরং উচুতে থাকা বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের কনফিডেন্স ও ধ্বংস করবার কাজে সে নিয়োজিত থেকেছে।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে জানুয়ারি, ২০১৬ বিকাল ৫:৪৮
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×