somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাশরাফিদের পেছন থেকে ছুরি মারে কারা?

২৩ শে মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৩:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

উৎপল শুভ্রের বাংলাদেশ বিরোধী লেখার প্রমাণ প্রথম পাই যখন গত এশিয়া কাপের ভারতের কাছে বাংলাদেশ হেরে যাওয়ায় ওনার উল্লাসপূর্ব রিপোর্ট ছাপা হয়। বাংলাদেশের সব বাংলা পত্রিকায় যখন মুশফিকের সেঞ্চুরীর পরও বাংলাদেশ ম্যাচ হেরে যাওয়ায় হাহাকার আর কষ্টের রিপোর্ট ছাপা হচ্ছিলো, তখন শুভ্রের রিপোর্টের হেডিং ছিলো- "মুশফিক ভালো , তবে কোহলী আরও ভালো" সেই সাথে রিপোর্টের পুরো অংশ জুড়ে ছিলো কোহলীর বায়োগ্রাফি, ওর ছোটবেলার কোচ কি বলেছিলো, অমুকে কি বলেছিলো ইত্যাদি। বাংলাদেশের পত্রিকায় বাংলাদেশের ম্যাচ হেরে যাওয়ায় যে ন্যুনতম দুঃখের ছিটেফোটা পাওয়া উচিত সেই ভ্দ্রতায়ও সে যায় নি।
এবারের অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপের খবর নিয়ে রিপোর্ট। ১৯ শে মার্চের ঐতিহাসিক চুরি এবং কালো দাগের ম্যাচে যখন বাংলাদেশের আনাচে কানাচে প্রতিবাদ আর অন্যায়ের রিরুদ্ধচারণ করা হয়েছে তার কোনকিছুই এই বাংলাদেশ বিরোধী রিপোর্টারের মনে দাগ কাটেনি। বরং সেই ম্যাচের বাংলাদেশে প্রকাশিত সবগুলো বাংলা খবরের কাগজের মধ্যে একমাত্র ওর ম্যাচ রিপোর্টেই সেই রোহিত শর্মার আউটে রুবেলের বলের অন্যায় নো কলের কথা আসে নাই, মাহমুদুল্লাহর ছয়কে ক্যাচ বানিয়ে দেওয়ার অন্যায়ের কথা আসে নাই, রায়নার এলবিডব্লিও চুরির কথা তো দূরে থাক। গ্যালারীর বাঙালী দর্শকদের প্ল্যাকার্ড, চোখের জল কোন কিছুই এই পাষন্ড বাংলাদেশ বিরোধীর লেখায় আসে নাই, বরং কলকাতার পত্রিকার মতো ঐ ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ব্যার্থতার কথা (!) মোটা দাগে দেখিয়ে দিয়েছে (ঠিক একই ভাবে আজকাল মাশরাফির ভুলগুলা দেখায় চলছে!)। শোনা যায়, বাংলাদেশ ইন্ডিয়ার চুরির ম্যাচে যখন অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশী সাংবাদিকরা টাইগারদের দলের সাথে ছিলো, তখন এই রিপোর্টার ফুরফুরে মেজাজে সেমিফাইনাল কাভার করতে চলে গিয়েছিলো।
ঠিক একই প্রক্রিয়া অনুসরন করে এবারের টি২০ বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালন করছে। রিপোর্ট লেখার নামে বিভিন্ন ইন্ডিয়ান প্লেয়ারদের জন্মস্থান, অমুক ইন্ডিয়ান খাবার, অমুক ইন্ডিয়ান রেকর্ডধারী খেলোয়াড়, অমুক স্টেডিয়ামের স্মৃতিচারণে সে যতগুলো শব্দ ব্যবহার করেছে, তার দশভাগের একভাগও টাইগারদের খবরে ব্যয় করে নাই। আবার টাইগারদের খবরের মধ্যেও বিভিন্ন জনের সাক্ষাৎকারের নামে বিতর্কিত মন্তব্য বের করে আনবার চেষ্টা করে চলেছে। আইসিসি আর ইন্ডিয়ার যৌথ প্রযোজনার অন্যায় সিদ্ধান্ত- তাসকিন আর সানিকে নিষিদ্ধ করবার ঘটনায় বাংলাদেশ সহ সারা বিশ্ব যখন উচ্চকিত, তখন এই উৎপল শুভ্রের লেখায় সেটা কমগুরুত্বের " তাসকিন-সানি বিতর্ক " হিসেবেই থমকে থাকে। তাসকিন নিষিদ্ধ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে যখন মাশরাফির অশ্রু ঝরে, যে চোখের জলে বাংলাদেশ তো বটেই কলকাতার সিনিয়র বাঙালী সাংবাদিকেরও চোখের জল আসে, সেই মাশরাফির অন্যায় বিরোধী চোখ হয় উৎপল শুভ্রের পরবর্তী টার্গেট। মাশরাফির বাধভাঙা কান্নাকে শুধুমাত্র এই একটি পত্রিকার রিপোর্টেই খুব বাজেভাবে তুলে ধরা হয়েছে। শুধুমাত্র পত্রিকা পড়বার অভিজ্ঞতা থেকেই সেদিন বুঝেছিলাম, এইবার মাশরাফিকে টার্গেট করা হবে। বাস্তবে অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচের পর হলোও তাই। যে দলটার মনোবল ভেঙেচুড়ে দেবার জন্য আইসিসি-ইন্ডিয়া তাসকিন সানির নিষিদ্ধের নাটক করলো, সেই বিদ্ধস্ত অবস্থা থেকে যে দলটি লড়াই করতে পারবে, তা মনে হয়, আইসিসি, ইন্ডিয়া, উৎপল শুভ্র কেউই ভাবতে পারে নাই। আর সবাই জানে, এই লড়াই করতে পারলো, তার জন্যে একমাত্র কৃতিত্ব অধিনায়ক মাশরাফি। এইবার ষড়যন্ত্রের নতুন মোড়ক খোলা হলো, মঞ্চে আসলো বিশেষজ্ঞরা, অযাচিত ভাবে মাশরাফিকে শতভাগ দায়ী করে ভিলেন বানানোর প্রক্রিয়া শুরু হলো, আর তাতে ঘি ঢাললো কে? সেই উৎপল শুভ্র। যেই লোকের বেতন হয় বাংলাদেশের মানুষের গাটের পয়সা থেকে কেনা পত্রিকায়, সেই লোক এই দেশের ক্রিকেটকে শেষ করে দেয়ায় মহাউৎসাহে ঝাপিয়ে পড়লো। এই এশিয়া কাপে "সাকিবের ক্যাচে ম্যাচ হারলো বাংলাদেশ" শীর্ষক অপমানজনক রিপোর্টর পর আনিসুল হক এই রিপোর্টারটির সম্বন্ধে একটি কমেন্ট করেছিলেন ফেসবুকে (সম্ভবত তার করা সবচেয়ে কুৎসিত মন্তব্য- যা তিনি করতে বাধ্য হয়েছিলেন)।

খেলার রিপোর্টেও যে দেশপ্রেম থাকে তা দেখিয়েছেন রাজীব হাসান, পবিত্র কুন্ডু, দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ের মতো সাংবাদিকরা- যখন তারা যুক্তি দিয়ে দেশের জন্যে লেখেন, আর অন্যায়কারীদের চোখে চোখ রেখে কথা বলেন। আর দালালী দেখিয়েছে উৎপল শুভ্রের মতো ....... দিকে তাকিয়ে খেলার রিপোর্ট করা সাংবাদিকরা- যখন তারা ধন্য হয়ে যান "ওদের" ছোয়া পেলে, মাশরাফি সাকিবদের ভিলেন বানিয়ে " ওদের " সাহায্য করেন আর "মা কি চ্যুত" বলে কোহলীরা গালি দিলেও আজলা ভরে নেয়।

তাইতো দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ের বই ছাপান মাশরাফি কে নিয়ে আর উৎপল শুভ্র বই ছাপায় ইন্ডিয়ার প্লেয়ারদের নিয়ে।

খেলার রিপোর্টে নিরপেক্ষতা রাখতে পারাটাও প্রশংসার কাজ, কিন্তু শুভ্রের মতো রিপোর্টার দের নিরপেক্ষতার নামে দেশবিরোধী রিপোর্টেরও জবাব দিহিতা থাকা উচিত নয় কি?
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৩:৩৯
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

যাদের স্বপ্নের দেশ আমেরিকা: তাদের জন্যে আজকের পোস্ট

লিখেছেন অপলক , ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:১৮



এমন এক সময় ছিল, ছেলে বা মেয়ে ডিভি লটারীতে স্বপ্নের দেশে গেছে, বাপ মায়ের পাড়া প্রতিবেশী গর্বে কথা বলাই মুশকিল। সেখানে গিয়ে OC(Office Cleaner) নাকি DC(Dish Cleaner) হবে তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মেধা নয়, রাজনৈতিক পরিচয়ই কি আমাদের রাষ্ট্রে যোগ্যতার মাপকাঠি?

লিখেছেন raselabe, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:২৯

বিসিএসসহ বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক পরিচয় বা ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থীদের বাদ পড়ার অভিযোগ আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিতে নতুন কোনো ঘটনা নয়। রাজনৈতিক দলগুলো ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে নিজেদের ছাত্রসংগঠনের কার্যক্রম চালু... ...বাকিটুকু পড়ুন

×