somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এক বছর এক সপ্তাহ পরে...

১৪ ই নভেম্বর, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কিছুদিন ধরে প্রায়ই আমার অদ্ভুত একটা অনুভূতি হয়। যেন হারিয়ে গেছি আমি। কখনো হঠাৎ রাতে ঘুম ভেঙে গেলে অবাক চোখে চেয়ে থাকি সিলিংয়ের দিকে......'এ মা, আমি কোথায়!' অচেনা একটা ঘর, অচেনা তার দেয়াল, সিলিং, জানালা........আমার খুব পছন্দের একটা কাজ হল রাতের বেলা বারান্দায় দাঁড়িয়ে আকাশ দেখা। মাঝে মাঝে বারান্দার বাইরের তারাভরা আকাশটাকেও বড্ড অচেনা লাগে। আর কখনো কখনো তো নিজেকেই খুঁজে পাইনা। মনে হয় আমি কি সত্যিই আমি! আর তখন সত্যিই ভয় পেয়ে যাই। হারিয়ে গেছি.........হারিয়ে গেছি আমি। তখন ফেসবুক খুলে হয়তো পেয়ে যাই সুরঞ্জনা আপুনির ভালবাসা ভরা একটা মেসেজ, "কেমন আছো গো কন্যা? ব্লগে খুব মিস করি তোমায়.........." কিংবা অনলাইনে মেঘুর মিষ্টি একটা ধমক, "তুমি লেখা ছেড়ে দিছো কেন? খুব মিস করি তোমাকে। লিখবা যা খুশি।" এই মিষ্টি মেয়েটার সাথে আমার দেখা হয়নি কখনো, এমনকি সরাসরি কথাও না। কদাচিৎ অনলাইনে দুয়েকটা বাক্য বিনিময়। কিন্তু অদ্ভুতভাবে ওর সাথে আমার খুব সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম অনুভূতিগুলো মিলে যায়। আমার কাছে মনে হয় মেঘু হল আমার হঠাৎ বৃষ্টি। রানাভাই খুব মায়াভরা ছোট্ট একটা প্রশ্ন করেন হয়তো, "কি খবর তিথি?" বা বলেন, "মন খারাপ কেনরে বাবু?" মনে হয় এইরকম একজন বড়ভাই থাকলে আর কি লাগে! স্বপ্ন তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বলে, "তোমারে খুব মিসাই।" পাপীকে ফোন করলে নাটকের আক্কাছকে নকল করে বলে, "আপনারা আপুরা ছোটভাইদের কথা মনে রাখেন না......."। আর সোহানতো আছেই........কিছু হলেই ফোন করবে আর অভিযোগের পাহাড়, "তুমি কতদিন ফোন কর না, কোন খবর নাই, ব্লা ব্লা ব্লা........." সোহানের সাথে দেখা হওয়াটাই একটা স্মরণীয় ঘটনা। আমিতো পোস্টই দিয়ে ফেলেছিলাম। আর ওর ছোটখাট সব সমস্যা যেহেতু আমাকেই সমাধান করতে হতো, তাই ওকে নিয়ে আবারও লিখতে হয়েছিল। আর আছে আমার চড়ুই পাখি। যদিও দুষ্টু ছেলেরা ওর নাম দিয়েছে প্যাঁচা। আরো সবার নাম এখন নাই বললাম না হয়। এরপর আমার মনেই হয় না হারিয়ে গেছি আমি। বরং নিজেকে নিজের কাছে ফিরে পাই। সামহোয়্যার ইন ব্লগ আমাকে এত এত মানুষের ভালবাসা দিয়েছে। মাঝে মাঝে আমার মনে হয় এতটা কি আমার পাওয়ার কথা!

চলে গেল এক বছর এবং একটি সপ্তাহ। পুরো সপ্তাহ ধরেই ভাবছি কিছু লিখি। কিন্তু কি যে ছাই লিখবো.......ভেবেই ঠিক করতে পারছিলাম না। সময় কি খুব দ্রুত চলে যায়? মাঝে মাঝে মনে হয় বড্ড দ্রুত, আবার মাঝে মাঝে মনে হয়......যাচ্ছেই না..........

অফিসে ফেসবুক ব্লক করে দেয়ার পর কয়দিন খুব বিপদে পড়ে গিয়েছিলাম। কি করি.........কি করি.........তারপর মনে হল ব্লগেই কেন নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করি না! সেই তিনবছর আগের নিকটাতো কবেই কোথায় হারিয়ে গেছে। সেটার নাম ছিল অপরাজিত। ঠিক ঠিক মনে আছে আমার। লিখেছিলামও অনেক কিছু। তারপর কেন যে ছেড়ে দিলাম। আসলে আমার স্বভাবটাই এমন। খুব বেশিদিন কিছুতে স্থির হতে পারি না। সেই নামটাই আবার খুঁজেছিলাম, পেলাম না। তাই বেছে নিলাম আরেকটা পছন্দের নাম.........মেঘবালিকা। দশ-পনরদিন পার হওয়ার পরেও যখন কমেন্ট একসেস পেলাম না, জানালাম মডুদের। দু:খের কথা, আর কেউ আগেই ছিল এ নামে.........সুতরাং আমাকে বদলাতে হবে নাম। কি করি.........অনেক ভেবে বের করলাম এ নামটা মাথা থেকে আর ভাগ্যক্রমে গ্রান্টেড হয়েও গেল। ব্যস..........আর কি.............লেখা শুরু করলাম। খুব লিখতাম। যা ইচ্ছা তাই। কেমন যেন নেশার মত হয়ে গেছিল। নেশার ঘোরেই যেন দেখতে দেখতে কেটে গেল ঘটনাবহুল একটা বছর........কত কিই না ঘটেছে এই একটা বছরে।

ষোল পর্বের একটা সিরিজ লিখেছিলাম, 'যন্ত্রণা'। লিখতে লিখতে তমার ভিতরে এমনভাবে ঢুকে গিয়েছিলাম, মাঝে মাঝে নিজেকেই তমা মনে হতো। যখন যা ইচ্ছে হতো আবোল তাবোল বকে যেতাম। চড়ুই পাখির ভাষায় সেগুলো হল প্রলাপ। আর রোমান্টিক লেখা কম লিখিনি। দূরের বন্ধুর জন্যও ছোট্ট একটা লেখা ছিল আমার। শেয়ার করতে চাইলে এখন ৭৯টা লেখাই শেয়ার করতে হবে। কারণ প্রতিটা লেখাই আমার বড় আদরের। সব ব্লগারের কাছেই নিজের লেখা তাই, তাই না?

কি লিখবো ভাবছিলাম কেবল সাতদিন ধরে। আবোল তাবোল কত কিই যে ছাই লিখে ফেলেছি। আমার ভয় কি, আমার বন্ধুরা এইসব প্রলাপে মোটেই বিরক্ত হবে না আমি জানি। আর হলেই কি? বন্ধুকেইতো বিরক্ত করতে হয়, অচেনা কাউকে না। :)
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ১২:৪৭
৪২টি মন্তব্য ৪২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

লিখেছেন আঘাত প্রাপ্ত একজন, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ৮:২৬

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

[সম্ভাবনার ক্রমানুসারে নয়ঃ]

আর্জেন্টিনা: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ তার ডিফেন্স আর ইনজুরি । ৩৮ বছরের তরুণ(!) সেন্টারব্যাক ওতামেন্দি আর কমপক্ষে এক হালি হাফ-ফিট ফুটবলার নিয়ে ১৯ জুলাই পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×