আমার প্রিয় পোস্ট

C:\Documents and Settings\raad\My Documents\Lighting cig..jpg

ঊনসত্তুর থেকে পচাঁত্তুর-'৭১এ যাদের বয়স তিনের কম ছিল তাদের থেকে সামুর কনিষ্ঠতম ব্লগারটিকে উৎসর্গীকৃত-পর্ব ৪

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২৯

শেয়ারঃ
0 1 0

অবতরনিকা: বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্বংশকারীদের (আমি নির্বংশই বলবো কারন প্রচলিত ধারায় বংশগতি পুরুষ উত্তরাধিকারীর ওপরেই বর্তায়) শাস্তি প্রদানের পর থেকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটার পর একটা পোষ্ট আসছে। যার প্রায় সবগুলোই (গুটি কয়েক ব্যতিক্রম ছাড়া) পক্ষপাত দুষ্ট। অনেক ভাবনা চিন্তা করে আমার নিজস্ব ক্ষতির কথা ভুলে/ এড়িয়ে আমি আমার একান্ত ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরছি, শিরোনামে উৎসর্গীকৃত ব্লগারদের জন্যে। ৩ বছরটা উল্লেখ করার কারন হ'ল যে মানুষের কোন স্মৃতি ৩ বছর বয়সের আগে থাকেনা, সাধারনত। এ পোস্টে আমার ব্যাক্তিগত ক্ষতি গুলোঃ ১। এটা প্রকাশিত হবার পর আমার পরিচয় গোপন থাকবেনা, যা আমি এতদিন সযতনে রক্ষা করেছি। ২। ব্যাক্তিগত ঘটনা বয়ান পাঠকদের কাছে মাঝে মধ্যে আত্মপ্রচার ও পারিবারিক প্রচারের মত লাগবে যা আসলেই অশোভন, অরুচিকর এবং বিরক্তিকর। এগুলোও আমি লুকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে এসেছি আজীবন। ৩। কোন পক্ষাবলম্বন না করে লেখাটা অত্যন্ত দুঃসাধ্য। আমার জন্যে আরো কঠিন। কারন যৌবন যখন সদ্য দেহ-মনে ভর করে আমার সমগ্র সত্তাকে ভীষনভাবে নাড়িয়ে দিচ্ছে, যা কিছুই সুন্দর তারই প্রেমে পড়ছি, ঠিক সে সময়ই বংগবন্ধুর সাথে আমার পরিচয়। নিরপেক্ষভাবে তাঁর ব্যাপারে লিখতে আমার খুবই কষ্ট হবে এবং আমাকে অসাধ্য সাধন করতে হব. ৪। শুধুমাত্র স্মৃতি নির্ভর লেখার মূল সমস্যাটা হ'ল ভুল স্মৃতি মনের মধ্যে থাকা। যে কেউ যদি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে আমার কোন বক্তব্যে দ্বিমত প্রকাশ করেন, তা'লে তাকে আমি অনুরোধ করবো মন্তব্যে তা তুলে ধরতে। আমার স্মৃতি ঘাটতে সাহায্য করার নেই কেউ আমার হাতের কাছে। আমি আপ্রাণ চেষ্টা করবো-আমার যে একটা দায় আছে আমার পরের প্রজন্মগুলোর কাছে। আমার এই দায় শোধ যদি এই প্রজন্মকে আমাদের গৌরবময় আর কলংকলেপিত অতীতকে নিরপেক্ষ ভাবে দেখতে শেখার পথে একপাও এগিয়ে নিয়ে যায়, তা'লেই আমি মনে করবো সেটা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন। অনুগ্রহ করে মনে রাখবেন এটা আমার একান্তই ব্যাক্তিগত সৃতিচারন। পারিবারিক ঘটনাবলীর চর্বণ। সমগ্র দেশের ব্যাপারটা কখনোই প্রধান্য বিস্তার করবেনা, সে সাধ্য বা যোগ্যতা আমার নেই। পুরোটা পড়ার পর অনেকের কাছেই এটাকে "পর্বতের মূষিক প্রসব" বলে মনে হ'তে পারে। তাদের কাছে আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>

পর্ব-১
পর্ব-২
পর্ব-৩

আবার পিছিয়ে যাওয়া (স্মৃতিকে সুশৃংখল করার কোন উপায় আমার জানা নেই কারো থাকলে অনুগ্রহ করে এগিয়ে আসুন)

চিটাগাংএর জনগনের একটি বীর গাঁথা

মার্চের মাঝামাঝি বা দ্বিতীয়ার্ধে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে সোয়াত নামে একটি জাহাজ চিটাগাং বন্দরে নোংগর করে। সে জাহাজ ভর্তি ছিল সমরাস্ত্রে। পোর্টে কর্মরত কুলী ও কর্মচারীদের মাধ্যমে খবরটি আগুনের মত ছড়িয়ে পরে পুরো চিটাগাংএ। বন্দরের কুলীরা অস্ত্রের মুখেও সে অস্ত্র সম্ভার জাহাজ থেকে নামাতে অস্বীকার করে। শহরের অর্ধেকেরও বেশী আম জনতা পোর্টের দিকে ছুটে যায় এবং বন্দর থেকে শহর পর্যন্ত পুরো রাস্তা অবরোধ করে। তাদেরকে ছত্রভংগ করতে প্রথমে আসে নৌবাহিনীর সদস্যেরা, তার পর বিমান বন্দরের কাছ থকে বিমান সেনারা। সব শেষে সেনানিবাস থেকে আসে ভারী অস্ত্রে সুসজ্জিত (armed to teeth) সেনা বাহিনীর সদস্য। কিন্তু এ যেন ধনুক ভাংগা পণ। আনআর্মড ম্যাংগো পাবলিক জীবন পণ করে সেদিন পাকিদের সব চেষ্টা বিফল করে দিয়েছিল। সেদিন দুপুরে আমাদের বুড়ো বাবুর্চী ভাই (নাসিরুদ্দিন শিকদার, কলাকোপা বান্দুরা, বিক্রমপুর। কোলকাতার ফারপো হোটেল থেকে অবসর নেয়ার পর আমাদের কাছে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ছিল। আমার জানা রান্নার ৮০ শতাংশ তাঁর কাছ থেকে শেখা) খবরটি নিয়ে আসেন। আমি আমার দুই সহদরকে নিয়ে এক দৌড়ে শর্টকাট মেরে চলে যাই বন্দরে।

চার নম্বর (?) জেটি থেকে সল্টগোলা পর্যন্ত যদ্দুর চোখ যায়, মানুষ আর মানুষ। সেদিন কোন "ভায়েরা আমার" শুনিনি। কাউকে নেতৃত্ব দিতে দেখিনি। সবার চোখে মূখে ছিল ঘৃনা আর দৃঢ় প্রতিজ্ঞার ছাপ।এক সাথে এত মানুষের চোখে মুখে এ ধরনের অনুভূতির প্রকাশ আমি আর কখোনো দেখিনি। আমার ধারনা, এ পৃথিবীর নব্বুই শতাংশ মানুষেরই এধরনের অভিজ্ঞতা হয়না।

বাংগালী নিধনে আনা সেইসব অস্ত্র শেষ পর্যন্ত জাহাজের খোলসের মধ্যেই ছিল। সম্ভবত: ঐ জাহাজের মাল খালাসে যাবার সময়ই মেজর জিয়ার গাড়ীকে মেজর রফিক পথিমধ্যে থামান এবং প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ গ্রহনে উদ্বুদ্ধ করেন।

আমদের গ্লানি


২৬শে মার্চ থেকে ৪ঠা এপ্রিল (অনেকের কাছে ৩রা এপ্রিল) পর্যন্ত চিটাগাং স্বাধীন ছিল। এ সময়ে শুধু বিহারী নয়, পশ্চিম পাকিস্তানী ও ভারত ঠেকে আসা অন্যান্য রাজ্যের অবাংগালীদের নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়।


২৬/২৭শে মার্চে ই পি আর সদস্যেরা ফৌজদার হাট কেডেট কলেজে ঢোকে।ঢুকেই অবাংগালীদের খোঁজ করতে থাকে। অধ্যক্ষ লে কর্নেল ফজল ই হক, এ্যাডজুটেন্ট ক্যাপটেন জুবেরী আর মিস্টার ইরফান (আমরা মিস্টার ডাকতাম) এই তিনজন ছিলেন অবাংগালী। মিস্টার ইরফান তাঁর বাসার ফ্রিজের পেছনে লুকিয়ে থেকে রক্ষা পান। অধ্যক্ষ ও এ্যাডজুটেন্ট অত ভাগ্যবান ছিলেন না। তাদের দুজনকে তুলে নিয়ে ফৌজদারহাট বীচে (এখন যেখানে ম্যানগ্রোভ) হত্যা করা হয়।

তারপর কলেজের অধ্যাপক জনাব নাসিরের ( নাসির চৌধুরী, শহীদ মুনির চৌধুরীর ছোট ভাই) ভাতুষ্পুত্র জুন, ক্যাপটেন জুবেরীর অপরূপা সুন্দরী, অন্তসত্তা স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতে লাগলো কয়েকদিনের জন্যে।


১৯৭৪-৭৫ সালে ৮ম ইষ্ট বেংগল রেজিমেন্টের একজন হাবিলদার আমাদের ড্রিল ইনসট্রাকটর হয়ে আসেন। তিনি প্রায়ই স্বাধীনতার যুদ্ধের ঘটনাবলীর বর্ণনা করতেন। ১৯৭১এর প্রথম থেকে ওঁ ছিলেন মেজর জিয়ার ব্যাটম্যান/রানার। ।তার গল্প শুরু হত মেজর জিয়া (সহ-অধিনায়ক ৮ম ই. বেংগল) কিভাবে অধিনায়ক কর্নেল জানজুয়ার বাসায় ঢুকে তাকে হত্যা করেন পিস্তল দিয়ে সেখান থেকে। ঘটনা বলতে বলতে কালুরঘাটের প্রতিরক্ষা ত্যাগের জায়গায় আসলেই তিনি কেমন যেন অন্য মনষ্ক হয়ে যেতেন। একটা অপরাধ বোধ তার চোখে মুখে ফুটে উঠতো। কালুর ঘাট সেতু পার হবার পরই কয়েকটি কল কারখানা ছিল। এখন আছে আকতারুজ্জামান বাবুর একটি ডালডা কারখানা (হোসাইন১৯৫০ থেকে পাওয়া তথ্য) । আর ছিল সেখানে ঐসব কারখানার অফিসারদের জন্যে একটা ক্লাব। ২৬/২৭ তারিখের মধ্যেই সে সব কল কারখানার অবাংগালী অফিসারদের (শ্রমিকেরা মূলত ছিল নোয়াখালী ও কুমিল্লার, অল্প কিছু চিটাগাংএর)কে তারা হত্যা করে। মহিলা ও শিশুদের বন্ধী করে রাখা হয় অফিসার ক্লাবে। প্রতিরক্ষা ত্যাগ করার সময় যখন জিজ্ঞেস করা হয় এই মেয়ে আর শিশুদের কি করা হবে। উপর থেকে আদেশ এসেছিল "মার ডালো'

অফিসার ক্লাবের তালা খুলে গুলী বর্ষনে সবাইকে হত্যা করা হয়।

ডাঃ সৈয়দ আনোয়ার আলী ১৯৭১ এর এপ্রিলে বর্ণনা করেছিলেন ঐ ক্লাবের অবস্থা। ঘর ভর্তি মেয়ে-শিশুর লাশ দুমড়ে মুচড়ে আছে। রক্ত সিঁড়ি সিঁড়ি ভাসিয়ে লন এর বিরাট একটা অংশে জমে আছে।

{১৯৭৫ সালে মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বীর উত্তম, ডি সি এস (Deputy Chief of Army Staff) ছিলেন, পদাধিকার বলে তিনি ছিলেন কেডেট কলেজ সমুহের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান। সে বছর তার ভিজিটের সময় আমাদের ঐ ড্রিল ইনসট্রাকটরের সাথে উনি অন্তরংগতার সাথে বেশ কিছুক্ষন কথা বলেন। তাঁর জন্য যা ছিল ব্যতিক্রমী আচরন।এই ঘটনার পর ঐ ইনস্ট্রাকটরের গল্পগুলো আমরা বিশ্বাস করতে শুরু করি}



চিটাগাংএ জল্লাদ খানার একটি ছিল চিটাগাং শহরের ওয়াপদা রেষ্ট হাউজ। আমার স্মৃতি যদি বিশ্বাসঘাতকতা না করে তা হ'লে সে রেষ্ট হাউজটা ছিল এখন চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের ছেলেদের হোস্টলের উল্টোদিকে পাহাড়ের ওপর। সারা শহর ও আশেপাশের এলাকা থেকে জাতিগত বৈষম্যের অপরাধে হতভাগ্যদের ধরে এনে এখানে জবাই করা হ'ত।

বাবা যখন ৬/৭ এপ্রিলে কাজে যোগ দেন তখন তাঁর সিকিউরিটি অফিসারকে অপ্রকৃতিস্থ দেখতে পেয়ে একদিন বাসায় নিয়ে আসেন। অনেকক্ষন ধরে কথা বার্তার পর যা বেরিয়ে আসে তা হ'ল - ২৭ মার্চ'৭১ এ তাকে আওয়ামী লীগ নেতা হান্নান/মান্নান (দুজনের একজন) লোক দিয়ে বাসা থেকে ডেকে নেন। তাঁর ওপর দ্বায়িত্ব দেয়া হয় ওয়াপদা রেষ্ট হাউজ থেকে ট্রাকে করে কিছু বর্জ কর্ণফুলী নদীতে ফেলার। উনি প্রতিদিন (২রা এপ্রিল পর্যন্ত) ২/৩ ট্রাক বর্জ কর্ণফুলী নদীতে ফেলেছেন। এ কাজ করার জন্যে তিনি মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত।

সে বর্জ ছিল মানুষের লাশ।

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:০৬
বাস্তবতা বলেছেন: যে কথাগুলো আপনি বললেন, তা আমাদের অনেকেই সাহস করে বলে না। কথাগুলো সত্যি। আমি জানি। অনেকবার এ নিয়ে ব্লগে লিখতে ইচ্ছে হয়েছে। যুদ্ধ শুধু বীরত্বই প্রকাশ করে না, গ্লানীও প্রকাশ করে।

আমার অভিজ্ঞতা বই থেকে ধার করা। তাই সেটা বলতে চেয়েও বলিনি। আপনার সে সীমাবদ্ধতা নেই। তাই অভিনন্দন এবং ধন্যবাদ।
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:২৯

লেখক বলেছেন:
লক্ষ করে থাকবেন আজ অনেক দেরীতে কিস্তিটা ছেড়েছি। কারন ছিল দুটো। সামু সাইটটা খুবই ভুগিয়েছে। এখনো ভোগাচ্ছে। মন্তব্য করতে পারছিলাম না। এখনো এডিট করতে পারছিনা। টাইপোগুলো রয়েই গেছে তার ওপরে বানান ভুল গুলো শুধরাবার সাধ্য আমার নেই। বাংলা লিখছি তিন দশকেও বেশী সময় পর। বানান ভুলে গেছি।নত্ব বিধান সত্ব বিধান গুলিয়ে খেয়েছি।

লেখার সময় শুধুই ভাবছিলাম কেউ কি আমার সমর্থনে এগিয়ে আসবে? ভেবে ভেবে বিকেল পর করে সন্ধ্যার দিকে পোষ্ট টি দিলাম। তাছাড়াও আমার তিক্ত অভিজ্ঞতা আছে এ ব্লগে। জিয়ার দুই ছেলেকে নিয়ে সত্য একটি ঘটনার পোষ্ট দিয়েছিলাম এই ব্লগে। তৃতীয় দিনে কতৃপক্ষ সেটা গায়েব করে দেন। আমার ভাগ্য আজ সুপ্রসন্ন। প্রথম মন্তব্যেই আপনার সমর্থন পেলাম। আপনাকে অন্তরিক ধন্যবাদ।

আজকের এই পোষ্টটি আওয়ামী লীগ ও বি এন পির কড়া সমর্থকরা কিভাবে নেবে তাও চিন্তা করেছি।

শেষ পর্যন্ত ভেবে দেখলাম শুধু চোখের দেখা আর কানের শোনাকে তুলে ধরবো বলেই তো আমার এই লেখাটি।

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:২৯

লেখক বলেছেন: ???

৩. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩২
ও.জামান বলেছেন: আমার খালুর বাবা ঐ সময় ছিলেন চিটাগাং পোর্টের সিকিউরিটি অফিসার। অবাঙ্গালী নিধনের এই ইতিহাস তাঁর মুখেও শুনেছি। শুনেছি খালুর মুখে (উনি এখনো পোর্টে কর্মরত)। এসব কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন দেখে ভাল লাগছে। এই সত্য ইতিহাসটা সবার জানা থাকা প্রয়োজন। সবাই শুধু আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের আলোকিত দিকটাই দেখায়। অন্ধকার দিকটাও দেখা প্রয়োজন।
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৩৯

লেখক বলেছেন: সাথে থাকুন। সাহস দিন। শুধু ভাবছি আমার এই সিরিজটা আবার যেন গায়েব না হয়ে যায়।

বিশ্বাস করুন লেখার সময় ভাবছিলাম, আমি যা লিখছি তা কি বিশ্বাস যোগ্য? তবে সত্য কথনের বোধ হয় একটা ভাল দিকই হচ্ছে কিভাবে যেন সমর্থন এসে যায়।

আমি জিয়ার ছেলে সম্পর্কে লিখেছিলাম যে তারা সেন্ট যোসেফ স্কুলে পড়তো। অসত্য বলার অভিযোগে আমি যখন জর্জরিত তখন আসলো আমার পরিত্রান। ঘন্টা তিনেকের মধ্যে দুজন ব্লগার সাক্ষ্য দিল যে তারেক আর কোকো ঐ স্কুলে পড়তো। পরে ও পোষ্টটা কর্তৃপক্ষ খেয়ে ফেলেছেন।

৪. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫১
ক্যামেরাম্যান বলেছেন: আমার এক খালু ছিলেন রেলওয়েতে। তাকে তার ছেলে সহ জবাই করে হত্যা করেছিল অবাংগালিরা। এইরকম অনেকেই হয়তো অবাংগালীদের হাতে নিহত হয়েছিলেন। আমার নিজের দেখা ঘটনা আছে এরকম একটা, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়। আর রাজনৈতিক বঞ্চনাও তো ছিল। ২৫শে মার্চের পর পাকি সৈন্যদের সাথে সরাসরি লড়াই করতে না পারা লোকজন হয়তো এভাবেই অপেক্ষাকৃত দূর্বল অবাংগালিদের মেরে প্রতিশোধ নিচ্ছিলো।

ঢাকার মিরপূর কিন্তু স্বাধীন করতে সময় লেগেছিল অনেকদিন। সেখানে অবাঙ্গালীদের ঘাটি ছিল দূর্ভেদ্য। জহির রায়হান আর ঈশিতার নানা সেখানে গিয়ে নিখোজ হয়েছিলেন।
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৪৫

লেখক বলেছেন: আমার জানা মতে আপনার খালু ও তার ছেলেকে ৪ঠা এপ্রিলের পর খুন করা হয়। বিহারীরা প্রতিশোধ নিতে দুটি নিয়ামক পেয়েছিল তাদের সংগী হিসেবে। দখলদারদের সমর্থন আর ৮ মাস ১২ দিনের দীর্ঘ একটি সময়।

জহির রায়হানের অন্তর্ধানের সময় মিরপুরের যুদ্ধের ওপর একটা ব্লগে আমার বেশ কিছু মন্তব্য আছে। পড়লে ভাল লাগবে আশা করি।

৫. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫৫
অলস ছেলে বলেছেন: বড় ভয়ঙ্কর। ভারী বাস্তবতাকে বহন করাও অনেক কঠিন কাজ। অতীতের বইটার পৃষ্ঠার ভাঁজে ভাঁজে কত মানুষের কত ঘটনা আর মৃত্যু লুকিয়ে থাকে, হারিয়ে যায়। এত কঠিন লেখায় মন্তব্য করার আপাতত স্পর্ধা নেই। লিখতে থাকুন দয়া করে, পড়ছি। যথেষ্ট সময় পেরিয়েছে, ঐসময় যারা ছিলেন তাদের সবারই উচিত অনর্থক আবেগবর্জিতভাবে সত্যি অভিজ্ঞতাগুলো লিখে যাওয়া।
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৪৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। আপনি পুরো সময় ধরেই আছেন। ভাল্লাগছে তাই।

আপনার পছন্দের বইয়ের অতি ক্ষুদ্র তালিকা আমাকে মুগ্ধ করেছে।

৬. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫৮
রিফাত হাসান বলেছেন: অন্য অনেকের মতো, আপনার বয়স ইত্যাদির ব্যাপারে আমারো ভ্রম ছিল, সব ব্লগারদের সাথে মিলে মিশে যাওয়ার ক্ষমতা সাধারণত এইরকম ভরা বয়সে থাকে না, তার উপর এই পোষ্টের কারণেও আমি বিভ্রান্ত হচ্ছিলাম। যাই হোক, এই লেখাটার শুরু থেকেই পড়ছি, এখনো সাথে আছি, আপনার নিরপেক্ষ থাকার আপ্রাণ চেষ্টার ভিতর থেকে আপনি এবং আপনার সময়টারে ধরার চেষ্টা করছি, যার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা এবং অনুভূতি থেকে আমরা যারা অনেক পরে জন্মেছি, তারা বঞ্চিত এবং কিছুটা প্রতাড়িতও। একটা ছোট্ট নোট দিয়ে নিই: আমি খাঁটি চাটগাঁইয়া ছেলে, এখনো চট্টগ্রামেই থাকি, তাই অলি-গলিগুলোতে আপনার সাথে আমিও মোটামোটি ঘুরতে পারছি। লেখা আপাতত অনুসরণেই আছি। ভাল থাকবেন।
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:০৯

লেখক বলেছেন: আপনার পোষ্টগুলো ও মন্তব্যগুলো পড়ে আমার আপনাকে তাই মনে হয়েছিল তখন। কিন্তু তবুও আপনার পক্ষেই আমি প্রতিবাদ করেছিলাম। মত প্রকাশের স্বাধীনতার ব্যাপার ছিল সেটা।

"অন্য অনেকের মতো, আপনার বয়স ইত্যাদির ব্যাপারে আমারো ভ্রম ছিল, সব ব্লগারদের সাথে মিলে মিশে যাওয়ার ক্ষমতা সাধারণত এইরকম ভরা বয়সে থাকে না"

-আমার সবচে' বড় সুবিধে হ'ল শুধু মাত্র যে ক' মুহুর্ত আমি আয়নার সামনে থাকি শুধু সে ক'মুহুর্তই আমি আমার প্রকৃত বয়সে থাকি। আয়নার সামনে থেকে সরে গেলে আমি আদি ও অকৃত্রিম শাখা মৃগ।

আমার সবচে' প্রিয় শহর হ'ল চিটাগাং। আমি বাঁচার জন্যে খাইনা , খাওয়ার জন্যে বাঁচি। বদ্দার হাটের গরুর মাংস আমার অতি প্রিয়। সামুদ্রিক মাছের অফুরন্ত টাটকা যোগান আমাকে মোহিত করে। মেজবান আমার সবচে' প্রিয় দাওয়াত।

মসেন আউলিয়ার আশে পাশে তখন ইয়াসিন মোরগ (ইয়াছিন্না খুঁড়া) পাওয়া যেত। ইয়া বড় বড় মোরগ , দাঁড় করালে উচ্চতায় বাবার হাঁটু ছাড়িয়ে যেত। কিন্তু এত কচি যে চুলায় চড়াতে না চড়াতে সেদ্ধ হয়ে যেত। আর কি যে স্বাদ। বিশ্বাস করবেন না, চিটাগাং থেকে চলে আসার পর মোরগ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছি। মাইজ ভান্ডারীর ওরশ এর সময় সেখানে আনা মানুষের সমান লম্বা সাদা মুলো চুরি করে খেয়েছি। একটা মুলো চারজনের পেট ভরাতো। আর কি মিষ্টি , কটু গন্ধ নেই।



৭. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:০১
জাতীয়তাবাদী শুভ বলেছেন: ভাই আপনি কি যুদ্ধাপরাধীর বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিবেন নাকি। বাংলাদেশীদের (বিশেষ করে আওয়ামী লীগ নেতাদের) যুদ্ধকালীন যেসব অপরাধের কথা বলতেছেন তাতে তো যুদ্ধাপরাধীর বিচার করলে আওয়ামী লীগের সহ অনেকেরই ফেসে যাবার সম্ভাবনা আছে।
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:১৩

লেখক বলেছেন: আজ যা লিখেছি তা অত্যন্ত স্পর্শ কাতর তবে বাস্তব ইতিহাসের অংশ। দেখি ধাক্কা সামলাতে পারি কিনা।

মন্তব্যের জন্যে সাধুবাদ।

ক'দিন আগে মান্নান মারা গেছেন। সেদিন সারাদিন আমি ভেবেছি এই যদি আমাদের সবার নিয়তি হয়, তা'লে কেন আমরা সীমা অতিক্রম করি, বারে বারে?

৮. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:০২
অলস ছেলে বলেছেন: হঠাৎ একটা পরিবারের কথা মনে পড়লো অধ্যাপক নাসিরের ভাতিজার কান্ড পড়ে। ছোটবেলায় দেখেছিলাম দেওয়ান বাজারে একটা পরিবারকে, লোকটার নাম ভুলে গেছি এখন, ৭১ পুর্ব চট্টগ্রামের ধনীলোক সোলাইমান শেঠের বউ কে নিয়ে এসেছিলো এবং পরে বিয়ে করেছিলো, আবেদীন কলোনীতে শেঠের একটা বাড়ির দখল নিয়ে মামলা বিবাদও ছিলো উনার এক আওয়ামী লীগ নেতার সাথে। আগের ঘরের দুইজন ছেলে ছিলো সম্ভবত। পরে ঐ লোকের ঐরসে তিন/চার সন্তান হয়। ঘরে উর্দু কথার চল ছিলো। সেই মহিলাকে আমি যখন দেখি তখন উনার বয়স অন্তত সত্তর হবে, বুঝা যেত কিরকম সুন্দরী ছিলেন।
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:৩৫

লেখক বলেছেন: ক্যাপটেন জুবেরীর স্ত্রীকে জোর করে রেখেছিল। জুন সম্ভবত এখনো বেঁচে। তার বাবা তো বেঁচেই আছেন, চাচাও।

মিসেস জুবেরী মুক্তি যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাকিস্তানে চলে যান।

আমি অনেক অপরূপা পান্জাবী মেয়ে দেখেছি। তবে আমি তখনো বয়:সন্ধিতে পৌঁছুতে পারিনি।

৯. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৫৫
হোসাইন১৯৫০ বলেছেন:
দাদা ,
কারখানার নাম----পানাম বনস্পতি (মালিক-আখতারুজ্জামান বাবু)
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:৪৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। আপনি যখন ফোন করেছিলেন তখন আমি এত মানুষের ভীড়ে যে আপনার কথা ঠিক মত শুনতে পাচ্ছিলাম না। যখন লিখতে বসলাম তখন স্টেডিয়াম ভর্তি মানুষ খাওয়ানো লোকটা আর ডালডা এই দুটো কথাই শুধু মনে ছিল। আপনাকে ফোন করলাম। নেট ওঅর্ক ব্যস্ত থাকায় পাইনি।

এডিট করা যাচ্ছেনা, এক্ষুনি চেষ্টা করলাম।

১০. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৫৯
সব্যসাচী প্রসূন বলেছেন: শুনেছি সত্যি সব সময় ভারী হয় ... ব্যাপারটা বুঝতাম না ... আজকে আপনার লেখা পড়ে সেটা উপলব্ধি করছি ... সত্যের মুখোমুখি হয়ে আমি কি খুশি না কি ভীত বুঝে উঠতে পারছি না... চরম গোলক ধাঁধায় পড়ে গেছি ...
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:০৪

লেখক বলেছেন: আপনার দেখা নিষ্ঠুরতম উপন্যাস বা ছবির চেয়েও নিষ্ঠুর নয় কি আপনার অতীত, আমার এই উপাখ্যান?

মানব জাতির ইতিহাস এথনিক ক্লিনজিং দিয়ে ভরা।

১১. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৫৯
হোসাইন১৯৫০ বলেছেন:
কারখানাটির বিষয়বস্তু বা, পণ্য সম্পর্কে আমি জানতে পারিনি ।
জানলে আপনাকে জানাবো ।
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:০৭

লেখক বলেছেন: আপনাকে আনেক ধন্যবাদ। পন্যটি ইডবল হাইড্রোজেনেটেড ভেজিটেবল অয়েল হওয়ার সম্ভবনা বেশী।

ধন্যবাদ হোসাইন।

১২. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:১০
হোসাইন১৯৫০ বলেছেন:
যুদ্ধ শুধু বীরত্বের হয় না , এর সাথে বয়ে আনে কিছু লজ্জার বিষয় ।
আমার পরিবারের একটি ঘটনা ২ নং পর্বে লিখেছিলাম ।
আমাদের হোসাইন পরিবারের ওই রক্তধারার(মুহাম্মাদ ইব্রাহীম হোসাইন) এখন আর কেউ বেঁচে নেই।
আমার দাদার ফুফাতো ভাই(মুহাম্মাদ সিদ্দিক হোসাইন) ১৯৯৪ সালে আর তাঁর স্ত্রী ১৯৯৬ সালে ইন্তেকাল করেন । আমার সেই দাদীকে(আমার দাদার ফুফাতো ভাইয়ের স্ত্রী) শেষবার দেখি ৯৫-এর শেষে । দেখে ভয় পেয়েছিলাম(আমার বয়স তখন ৮ বছর) । কারণ , উনি তখন পুরোপুরি মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছিলেন ।
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:০৮

লেখক বলেছেন: আনেক অনেক ধন্যবাদ হোসেইন। সাথে থাকার জন্যে।

১৩. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:২৩
তায়েফ আহমাদ বলেছেন: কিস্তিগুলো পড়ে যাচ্ছি। স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রথম প্রহরে বাঙ্গালীদের হাতে অনেক নিরপরাধ অবাঙ্গালী নিহত হয় বলে শুনেছি, পড়েছি আগেই। কিন্তু, এর বেশীরভাগই সে সময়ের স্বাধীনতার বিরোধীদের লেখা বলে ততটা আমল দিই নি। এখন তো কিছুটা আমলে নিতেই হচ্ছে।
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:১০

লেখক বলেছেন: তাও যে আক্রমন করেন নি, সে জন্যে আপনাকে কৃতজ্ঞতা।

আমি যদি আপনি হতাম আর আপনি আমি, তা'লে আপনাকে এখন রজাকারের বাচ্চা বলে গালি দিতাম।

১৪. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:২৯
আবূসামীহা বলেছেন: এগুলোই বাস্তবতা। আমি আমার অনেক পরিচিত বন্ধুদের সাথে এসব নিয়ে আলোচনা করছিলাম। মুক্তিযুদ্ধাদের কমাণ্ডার কারো কারো কাছ থেকেও সরাসরি শোনা।

যুদ্ধাপরাধের বিচার অনেকেই চান। কিন্তু সেখানে চাওয়া থাকে মূলত মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা কারীদের। যুদ্ধাপরাধ অনেক কঠিন বিষয়। তাতে যুদ্ধে অংশগ্রহনকারী সব পক্ষ থেকেই যুদ্ধাপরাধ সংগঠিত হতে পারে। বিচার হলে সব যুদ্ধাপরাধের বিচার হওয়া উচিৎ। তাও রাজণৈতিনক বিরুদ্ধবাদীদের শায়েস্তা করতে নয় বরং মানবতার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার স্বার্থে। এ নিয়ে একটা লিখা লিখেছিলাম যাতে সাধারণ ব্লগাররা সমর্থন করেছিলেন বিপুল হারে। শুধু অল্প কয়েকজন ব্যতিক্রম ছাড়া যারা মূলত কোন আইন কানুনের তোয়াক্কা করেনা। লিখাটা নীচের লিঙ্কেঃ

যুদ্ধাপরাধ কি, কারা যুদ্ধাপরাধী?

মানুষের বিরোধিতার তোয়াক্কা না করে আপনার নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতার কথাগুলো লিখে যান নিঃসঙ্কোচে।
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৫৩

লেখক বলেছেন: ভাই,

ম্যাংগো পাবলিকদের বিচারের জন্য পরকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়।

আপনার পোষ্টটি পড়লাম।সুন্দর পোষ্ট ধন্যবাদ। আপনার কথাতে কিছু যুক্তি আছে যা খন্ডানো কঠিন।

আপনি বেশ কঠোর হস্তে মডারেশন করেছেন। থাকতোই না হয় ও মন্তব্যগুলো। পোস্টটি আরও প্রানবন্ত রয়ে যেত। অনেক দামী ব্লগারদের মন্তব্য আপনি মুছে দিয়েছেন। ওগুলো থাকলে আপনার পোস্টটি পূর্ণতা পেত।

আমার মনে হয় মত প্রকাশের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখতে আমরা যদি নাই পারি, আর কারা পারবে?

কেবল মাত্র অশ্লীলতা ছাড়া অন্য মন্তব্যে হাত না দেয়াই ভাল বলে মনে করি।

১৫. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:৪২
আবূসামীহা বলেছেন: আরেকটা কথা। আপনার লিখাগুলো সেইভ করে রাখুন। বলা যায়না কখন আপনার ব্লগটা বাতিল হয়ে যায়।
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৫৬

লেখক বলেছেন: হা হা হা। আমি যখনই ব্লগে কোনঐতিহাসিক বা সাধারন সত্যকে তুলে ধরেছি, আমার পোষ্টে বা মন্তব্যে তখনই তার অকাল প্রয়ান ঘটেছে।

অনেক ধন্যবাদ। সেইভ করছি।

১৬. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:০১
তারার হাসি বলেছেন:
"আমার সবচে' প্রিয় শহর হ'ল চিটাগাং। আমি বাঁচার জন্যে খাইনা , খাওয়ার জন্যে বাঁচি। বদ্দার হাটের গরুর মাংস আমার অতি প্রিয়। সামুদ্রিক মাছের অফুরন্ত টাটকা যোগান আমাকে মোহিত করে। মেজবান আমার সবচে' প্রিয় দাওয়াত।"
ভবিষ্যতে কোন একসময় আপনাকে মেঝবানের দাওয়াত দিব।
ভাল থাকুন, সুস্থ থাকুন।
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৫৭

লেখক বলেছেন: গরবা আইস্যে খুড়া জরা।

আস-স্লোমালাইকুম।

১৭. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৪০
স্তব্ধতা' বলেছেন: সবক'টি পর্ব এক নি:শ্বাসে পড়লাম।এরকম ব্রেদলেস রিডিং অনেকদিন দেইনি।যুদ্ধপরবর্তী প্রজন্ম, যারা এই বহুবিভক্ত জাতির নানান বিভাজনে বিভ্রান্ত এবং পঙ্কিল রাজনীতির পঙ্কিলতম অগভীর নোংরা পানিতে পায়ের কাছে কিলবিল করতে থাকা কয়েকটি মাছই যাদের শিকারের সম্বল তাদের জন্য আপনার লেখাটি একটি অসামান্য দলিল।শেষ করলেন নাকি? আমি আরও আশা করছি।আশা করছি পক্ষপাতিত্বের পঙ্কিলতা আপনাকে স্পর্শ করবেনা।চালিয়ে যান।

আর একটা কথা, এক জায়গায় বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর প্রতি আপনি মোহাবিষ্ট ছিলেন সিরাজ সিকদারের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত।এতদিন কি ভাবে মোহাবিষ্ট ছিলেন তাই ভাবছি।তার আগেই তার এক নায়কতন্ত্র কায়েম, প্যারামিলিটারী গঠন, জাসদের কর্মীদের হত্যা...সর্বপরি রাষ্ট্র পরিচালনায় তার অদূরদর্শীতার কারনে তার আস্থাভাজন অনেকেই তার প্রতি বিরাগ হয়েছিলেন।খুব সুন্দর সিরিজটির জন্য ধন্যবাদ।অপেক্ষায় থাকলাম।
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:২৩

লেখক বলেছেন: ভাই,

আপনাকে ছেলে ধরে নিয়ে বলছি, ছোটবেলায় প্রেমে পড়েছিলেন কখনও? যদি না পরে থাকেন তা'লে বোঝাতে পারবোনা। বড় বেলার প্রেম সে তুলনায় বড় জোর মোহ- ইনফ্যাচুয়েশন। আর যদি পড়ে থাকেন তা'লে বলুন সেই প্রেমটি ভুলতে কদ্দিন লেগেছিল? আপনার প্রেমিকা যখন আন বাড়ি গেল আপনারই আংগিনা দিয়া, তখনো কি শুধু তার চুলের সৌরভের স্মৃতি আপনাকে উন্মাদ করে রাখেনি, দিনের পর দিন?

বংগবন্ধুর মত কারিশমা নিয়ে শত কোটিতে একটা লোকও জন্মায় না।

তাকে ভোলা এক অসম্ভব ব্যাপার। এই যে আমি লিখছি, আমার চোখের সামনে চলে আসছে ৩২ নম্বরের লন। বংগবন্ধু দাঁড়িয়ে আমার সামনে বা তাঁর ড্রইং রুম- ওঁ বসে, একপাশে........ আমার চোখ ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে, লোম খাড়া হয়ে উঠছে... বুকের মধ্যে উথাল পাথাল.....এখনো.....।

আপনাকে যে বোঝাবো,সৃষ্টিকর্তা আমাকে সে ক্ষমতা দেন নি। আমি যে পৃথিবীর সবচে' সুদর্শন মানুষটিকে ভালবেসেছিলাম।

__________________________________________

আমার মনে হয় আমি পুরোটা সময় তাঁকে বেনিফিট অফ ডাউট দিয়ে গ্যাছি। সরকারী হেফাজতে সিরাজ সিকদারের মৃত্যুর তাঁর দম্ভোক্তিই আমাকে কিছুদিনের জন্যে মোহ মুক্ত রেখেছিল।

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:২২

লেখক বলেছেন: আপনার পরের মন্ত্যব্যটা ভলে মুছে ফেলেছি। কম্পিউটেরে তুলে রেখছিলাম বলে নীচে আমার মন্তব্যে আবার দিলাম, আমার জবাব সহ। দূঃখিত।

১৮. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৪৬
এইতো আমি বলেছেন: আমাদের স্মৃতিচারণও আজকাল আম্লীগ-বিনপি টাইপ, কিন্তু এখানে একজন মানুষের কথা পড়ছি বলেই মনে হলো। শ্রদ্ধা থাকলো, সাথে থাকলো নির্ভেজাল স্মৃতিকথা লেখার জন্য ঊৎসাহ।

এটা খুব স্পষ্ট যে আপনি লিখতে খুব আনন্দ পাচ্ছেন, যা আপনাকে সাবলীলভাবে সামনে এগিয়ে নিচ্ছে। আপনার এই আনন্দ দীর্ঘস্থায়ী হোক।

হোসাইন১৯৫০,ক্যামেরাম্যান আর তারার হাসিকে ধন্যবাদ লেখাটিকে সমৃদ্ধ করার প্রয়াসের জন্য, আপনাদের জন্য লেখার কমেন্টগুলোও পড়তে হচ্ছে X((
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৩৭

লেখক বলেছেন: আমি আদতে একজন আমুদে মানুষ। দিনের বেশীর ভাগ সময়েই আমি কারো না কারো পেছনে লেগে থাকি। কাউকে না পেলে নিজের নির্বুদ্ধিতা নিয়ে নিজেকেই পঁচাই। আমার লেখায় তারই ছাপ ফুটে উঠেছে বোধ হয়।

বিশ্বাস করুন। বড় বেদনা দায়ক এই স্মৃতি রোমন্থন।

আনন্দ দায়ক হ'লে আরো অনেক আগেই হয়তো লিখতাম-অন্তত: পনেরো বছর আগে তো অবশ্যই। শুরু করেছিলাম নতুন প্রজন্মের নির্ভেজাল অতীত জানার আকুতি দেখে, যা এ ব্লগে না আসলে তেমন অনুভব করতে পারতাম না কখনোই । আর আমার একান্ত ব্যাক্তিগত অতীত যার অল্প কিছু অংশ ইতিহাসের অংশ হয়ে গেছে ঘটনা চক্রে, তা সাথে করেই আমি কবরে যেতাম।

আসলে আপনাদের উৎসাহই আমাকে লিখতে সহায়তা করছে, আমাকে সাহস জোগাচ্ছে। অনেক ধন্যবাদ।

১৯. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:২৪
ফারযানা বলেছেন: সে বর্জ ছিল মানুষের লাশ। - বিভৎস। পরের পর্বের অপেক্ষায় থাকলাম।
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৪২

লেখক বলেছেন: লেখার পর অনেক্ষন মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলাম।

এখনো স্বাভাবিক নই।

সব সময় সাথে সাথে থাকার জন্যে ধন্যবাদ।

২০. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৩৩
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: ভয়ের কিছু নেই, আমরা আপনার পাশে আছি|

আপনি সত্য বলছেন আমরা সত্য শুনছি| কেউ বাগড়া দিলে, পাশে আছি সবটুকু ভালবাসা ও শ্রদ্বা নিয়েই|
০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫৫

লেখক বলেছেন: আপনার সাথে বাদানুবাদের সময়ই আমার কেন জানি মনে হয়েছিল লোকে আপনাকে ভুল বোঝে। পরে আপনার মন্তব্য আর পোষ্ট পড়ে সে ধারনা আমার আরো বদ্ধমূল হয়েছে।

যারা ভাবে আপনি তাদের সাথে তারা যেমন অলীক কল্পনা করে, তেমনি যারা আপনাকে শত্রু মনে করে তাদের শত্রু আপনি নন।

আপনার ভালবাসা ও শ্রদ্ধা বিনম্র চিত্তে গ্রহন করলাম।

২১. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৩৪
মনজুরুল হক বলেছেন:

আমি আন্তরিক ভাবে এই পর্বটায় অমি রহমান পিয়াল এর মন্তব্য আশা করছি।
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:০০

লেখক বলেছেন: একাত্তরে মুক্তিবাহিনীর অনেক নামের মধ্যে একটা ছিল "বিচ্ছু"। আপনি যে তখন বিচ্ছু ছিলেন তা আমরা জানি।


......তবে কল্পনাতেও আসেনি যে আপনি এখনো বিচ্ছুই থেকে যাবেন!

___________________________________________

এ পর্বটা আপনার জন্য সহজ পর্ব। উইকি নিয়ে এ পর্বে কেউ লড়তে আসবেনা। আপনাকে শতভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারি!

২২. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৪৯
রাগ ইমন বলেছেন: অন্যায় ও অসাম্যের সবটুকু ঝুঁকি ( শুধু আপনাকে মন্তব্য দেব বলে) নিয়ে এবং নিজের কট্টর সিদ্ধান্ত (কিছুতেই ব্লগে ঢুকবো না) পরিবর্তন করে আপনার এই পর্বে আপনাকে তুমুল সমর্থন জানাতে এলাম কারণঃ
বয়স, জ্ঞান ও আদি অকৃত্রিম বাঁদরামিতে আপনি আমার উপলব্ধির বাইরে - কিন্তু একটা জায়গায় আমি বুঝতে পারি আপনার কি হইতে যাচ্ছে ।
--------------
মেডিকেলে থাকতে আওয়ামী - বি এন পি দুই রাজনৈতিক ছাত্রদলের নোংরা রাজনীতি থেকে প্রকাশ্যে ও সরবে দূরে ছিলাম , দরকার হলে প্রতিবাদও করেছি। ফলে, আওয়ামী লীগ ভাবতো আমি বি এন পির , বি এন পি ভাবতো আমি লীগের । আর সাধারণ আম জনতা যারা প্রতিবাদের মত 'বোকামি' না করে তৈলাক্ত সুসম্পর্ক বজায় রাখতে বেশি পছন্দ করতো , তারা আমার ঘাড় তেড়া , উদ্ধত , পৌরুষ (ভীতি ও আনুগত্য ছাড়া নারী হয় কি করে?) রুপটিকে হজম করতে পারতেন না । ফলে,

আওয়ামী লীগের শত্রু ছিলো বি এন পি।
বি এন পির শত্রু ছিলো আওয়ামী লীগ।
তাবলীগ জামাতের শত্রু ছিলো দুই প্রধান রাজনৈতিক দল।
ভীত সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের শত্রু ছিলো দুর্নীতিবাজ রাজনীতি ও তাবেদার প্রশাসন।
উপরোক্ত সকল প্রকার প্রাণীর শত্রু ছিলাম একলা আমি।
------------------

পাপকে পাপ বলে স্বীকার করে তার প্রতিবাদ , প্রতিকার করাটা যখন সকল প্রকার প্রাণীর সুবিধাবাদের বিরুদ্ধে যায়, তখন "চারিদিকে শত্রু"। তাই না?

যে পথে হাটছেন তাতে একলা চলো নীতিটাই একমাত্র নীতি , বাকি সবই দুর্মতি । হুরমতি হয়ে উঠুন, রমজান - সে যে দলেরই হোক- কান কেটে নিতে পিছপা হবেন না । ( ইহা একটি গুরুগম্ভীর বাক্য, হাস্য করিবেন না)
--------------------
বাংলা ভাষা বিষয়ক মন্তব্যটি ( ৩টি স, ২টি ণ ইত্যাদি) পরে বড় করে উত্তর দেব। ইংরেজি নিজেও কম ফাজিল নয়, অভ্যস্ত বলে চোখে পড়ে না।
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:২৮

লেখক বলেছেন: "আর সাধারণ আম জনতা যারা প্রতিবাদের মত 'বোকামি' না করে তৈলাক্ত সুসম্পর্ক বজায় রাখতে বেশি পছন্দ করতো , তারা আমার ঘাড় তেড়া , উদ্ধত , পৌরুষ (ভীতি ও আনুগত্য ছাড়া নারী হয় কি করে?) রুপটিকে হজম করতে পারতেন না"

-আম জনতার রুদ্র রূপ দেখার যে বিরল সৌভাগ্য বিধাতা আমাকে দিয়েছিলেন, সে সৌভাগ্য থেকে তিনি প্রয় শতভাগ মানুষকে বন্চিত করেন। আমি তাই আম জনতার ওপর বিশ্বাস হারাতে আমি নারাজ। আর বাকি যা লিখেছেন তার সাথে আমি সহমত প্রকাশ করছি

__________________________________________
"বাংলা ভাষা বিষয়ক মন্তব্যটি ( ৩টি স, ২টি ণ ইত্যাদি) পরে বড় করে উত্তর দেব। ইংরেজি নিজেও কম ফাজিল নয়, অভ্যস্ত বলে চোখে পড়ে না।"

- ওগুলো ছিল আমার আত্মজ-আত্মজার কথা। ওরা সবাই ডাক্তার ভয় পায়। আপনার কাছে নিয়ে আসবো একদিন। আচ্ছা করে বকূ করে দিয়েন (মাকে যদিও অল্প একটু, আমাকে কিন্তু মোটেই ভয় পায় না)।

___________________________________________

আপনি যদি সায়কায়াট্রিষ্ট, কোন স্পেশালিস্ট, অপথ্যালমোলজিষ্ট জাতীয় কিছু হন তা'লে ঠিক আছে, যদি সার্জন বা এ্যানাসথিওলজিস্ট হয়ে থাকেন তা'লে এখনই ঘুমাতে যান-হয় আপনি রোগীর পেটের মধ্যে গজ ফেলে আসবেন ন্য ওভার ডোজে সিডেটিভ দিয়ে রোগীর সংগী সাথীদের ইন্না নিল্লাহে..... রাজেউন পরাবেন।

২৩. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫৫
তারার হাসি বলেছেন:
লাম্বা ঠ্যাং আলা ধান খাইয়ে খুড়া
(মূল প্রসংগ থেকে সরে এসে মন্তব্য করার জন্য দুঃখিত, আর এমনটি হবে না।)
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৪৮

লেখক বলেছেন: এক্কানা তিঈঅ- মাইয়াফুয়া লাঈম্বো।

___________________________________________

(অসুবিধে নেই। প্রকারান্তরে আপনি আমাকে সাহায্য করছেন স্বাভাবিক হ'তে, আমি আসলে এই বিভৎস স্মৃতি হৃদয়ের অনেক গভীর থেকে টেনে বের করেছি, সচেতনে যা আমি উনচল্লিশ বছর চাপা দিয়ে রেখেছিলাম। আজ রাতে যদি উসতাদ আলী আকবর খানের সরোদ তাঁর সামনে বজ্রাসনে বসে শুনতে পারতাম, বা ইহুদি মেনুহীনের বেহাল শুনতে পারতাম তাঁর সান্যিদ্ধে, বাখ বা সাইকোভস্কি যদি তাদের একটা কনসার্টে নিয়ে যেতেন এখনি যেখানে তাঁরাই কনডাক্ট করবেন, হয়তো তা'লে মনটা কে শান্ত করতে পারতাম। এই একটা এপিসোড আমাকে যে কতদিন তাড়া করবে আপনি তা কল্পনাতেও আনতে পারবেন না। আমি আদ্যপান্ত একটি আবেগ প্রবন ব্যাক্তি।

২৪. ০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫৮
নাজনীন১ বলেছেন: আপনার লেখাগুলো পড়ে কেমন যেন ভয়ের অনুভূতি হচ্ছে।
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:০১

লেখক বলেছেন: নেতিবাচক মিশ্র অনুভুতি হচ্ছে আপনার আসলে।

ভয়,
অসহায়ত্ব,
মানুষের মনুষত্যের অবমাননা,
বিভৎসতা,
চরম নিষ্ঠুরতা,
এথনিক ক্লিনজিং,
নিরাপত্তর দুঃসহ অভাববোধ,
পাশবিকতা,
অস্বাভাকিক সমষ্টিগত আচরন,
সর্বোপরি এতদিনের আমূল বিশ্বাস ভুমিকম্পে ধ্বসে পড়া- যে একমাত্র পাকি এবং ঘাতক দালালেরা শুধু মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ করেছে.- এবং আরো অনেক।

২৫. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:০৯
তায়েফ আহমাদ বলেছেন: গালিগালাজ করাটা আমার স্বভাবের সাথে যায় না।:)
একজনের সাথে মতের মিল না হলেই মুখ খারাপ করতে হয়- এ নীতিতে আমি বিশ্বাসী নই।:(
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৩০

লেখক বলেছেন: আমিও নই।

যারা গালি দেয় তাদের কে আমার বুদ্ধজড় বলে মনে হয়।

আপনাকে ধন্যবাদ।

২৬. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:১২
অলস ছেলে বলেছেন: আপনার যদি জানা থাকে চট্টগ্রামের ডালিম হোটেল নিয়ে কি কিছু লিখবেন সামনের কোন এক পর্বে?
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৩৭

লেখক বলেছেন: ভাষাভাষা শোনা। তা দিয়ে এপোষ্টে লেখাটা অনুচিত হবে। তবে খর্ন্নাল আটের /পাকিস্তান বাজারের এক বিভৎস ঘটনা লেখার চেষ্টা করবো।

মানবতার অবমাননা নিয়ে লেখা মনকে খুবই ভারাক্রান্ত করে। আমার ওপর তার নিগেটিভ প্রভাব পড়ে প্রচন্ড। আমার পেশগত কাজ হয় ভীষন ভাবে বাঁধাগ্রস্থ, পরিবারিক জীবন হয়ে ওঠে অসহনীয়।

২৭. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:২৬
মনজুরুল হক বলেছেন:

ইতিহাস কখনো নিরপেক্ষ হয়না স্যার! যিনি লিখছেন যার বা যাদের দ্বারা আদিষ্ট হয়ে লিখছেন, ইতিহাস তারই কথা কয়। আমরা মোঘলদের যে গৌরবোজ্জল(!) ইতিহাস পড়েছি সেখানে তারা এক একজন মূর্তিমান দেবতা, মহান শাসক, দুর্দমনীয় বীর! কিন্তু মোঘল বাদশাদের রাজ চিকিৎসক ফরাসী পরিব্রাজক ফ্রাঁসোঁয়া বর্ণিয়ের এর লেখা পড়ার পর সম্পূর্ণ একশ'আশি ডিগ্রী ঘুরে দেখতে হবে!

কালুরঘাট বেতারের তৎকালিন বেলাল বেগদের সহকর্মি আব্দুল্লাহ আল-ফারুক বর্তমানে ডয়েচে ভ্যেলে'র বাংলা বিভাগের প্রধান কিন্তু আমার বন্ধুর বড় ভাই। রাতের পর রাত তার পেট খালি করে আমরা পেট ভরিয়েছি কিন্তু....অতএব নো "সম্ভবত"।
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৪৮

লেখক বলেছেন: বেলাল বেগের সাঠে আমার প্রথম দেখা ১৯৬৪তে। তখনকার ঢাকার একমাত্র ঘড়িওয়ালা দালানে। পিটিভি, ঢাকা তখন ওখানেই ছিল। পিচ্চি আমি পড়ি তখন সরকারী গভঃ লাবরেটরীতে।

ডয়েচে ভেল্যেতে বেলাল মোহাম্মদের দেয়া স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেদ্রের ওপর দেয়া সাক্ষাৎকার শুনে আমার দুই দিন মাথা নষ্ট ছিল। তারপর সমকালে তার লেখাটা পড়ে মেজাজ আরও বিগড়েছে। এ সিরিজটা শেষ করেই আমি কিছু ঐতিহাসিক সত্য যা বেলাল মোহাম্মদ একেবারেই এড়িয়ে গেছেন ইচ্ছকৃতভাবে, নিজে সব ক্রেডিট নেয়ার জন্যে তার ওপর লিখবো। রসদ জোগাড় করছি।

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৪৯

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ নরাধম। চুপচাপ পড়ে না চলে গিয়ে এতটুকু লিখলেও বুঝি আমার সংগে অনেকে আছেন।

২৯. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:১১
ছন্নছাড়ার পেন্সিল বলেছেন: আমি প্রথম পর্বটা অফলাইনে পড়েছিলাম অফিসে বসে। সময়-সুযোগ না থাকায়, আর মাঝে দুইদিন খুব ব্যস্ত থাকায় ঢুঁ মারা হয়নি।

আপনার আগের কোনো লেখায় সেভাবে মন্তব্য করা হয়নি, আমি অনেকের লেখাই পড়ে উঠতে পারি না সময়াভাবে। এই লেখার প্রথম পর্বটাকে যদি তবলার ঠুকঠাক ভাবি তাহলে সেই বাজনা চার নম্বরে এসে একেবারে তুঙ্গে! আবছা আবছাভাবে জানা ঘটনাগুলো এখন একেবারেই অন্যভাবে সামনে আসছে।

আমি ছোটবেলায় মুক্তিযুদ্ধের গল্প পড়তে বা শুনতে থাকলে কল্পনায় ভাবতাম ঠাঠা যুদ্ধ হচ্ছে, গোলাগুলি আর বোমার শব্দ ধোঁয়া চারিদিকে। বড়ো হয়ে জেনেছি যে এই রণাঙ্গনের যুদ্ধের চেয়েও বড়ো বলি হয়েছে নিরীহ মানুষ (ক্লাস ৩/৪ পর্যন্ত আমাকে নৃশংস বলে পঁচিশে মার্চের ছবিগুলো বাবা-মা দেখতে দেন নাই, পরে ক্লাস ফাইভে বৃত্তি পাওয়ার পরে একটা মোটা বই কিনে দিয়েছিলেন বইমেলা থেকে।) সেই ছবিগুলো প্রথম দেখার পরে শরীরের ভেতর থেকে বমির গন্ধ পেয়েছিলাম। বধ্যভূমির লাশ, ইকবাল হলের সারি সারি ছাত্রের লাশ, নদীতে ভেসে বেড়ানো লাশের ওপরে শকুনের ছবিগুলো কি ভাষায় বর্ণনা করা যায়?

তখন ভাবি নি যে এই নিরীহ মানুষ কেবল বাঙালি ছিলো না, অনেক অবাঙালিও ছিলো! আর সবকিছুর পরেও তারা কেবল মানুষ ছিলো।

আজকে আবারও যুদ্ধের প্রকৃত দানবের বলিদের কথা পড়লাম, সবাই সবকিছুর পরেও মানুষ। পাকি'রা বাঙালি মেরেছে, বাঙালি অবাঙালি মেরেছে, হিন্দু, মুসলমান, বিহারি, পাঞ্জাবি কেউই তো বাঁচেনি!!!

আপনি লিখতে থাকুন। আমি পড়বো।
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৫৪

লেখক বলেছেন: "আজকে আবারও যুদ্ধের প্রকৃত দানবের বলিদের কথা পড়লাম, সবাই সবকিছুর পরেও মানুষ। পাকি'রা বাঙালি মেরেছে, বাঙালি অবাঙালি মেরেছে, হিন্দু, মুসলমান, বিহারি, পাঞ্জাবি কেউই তো বাঁচেনি!!!"

-অপুর্ব অনুভুতি প্রকাশের জন্য থাকলো একরাশ ভালবাসা।

আমার এই সিরিজের মূল সুর আপনি ধরতে পেরেছেন।

মুক্তি যুদ্ধ আমার এ লেখাটায় কমই আসবে উঠে।

৩০. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:২৮
ত্রিশোনকু বলেছেন: ভুলে স্তব্ধতার একটি কমেন্ট মুছে ফেলায়ঃ

স্তব্দ্ধতা বলেছেন: বংগবন্ধুর মত কারিশমা নিয়ে শত কোটিতে একটা লোকও জন্মায় না। -----------সহমত।সংযুক্তি: নক্ষত্রের পতন।

আমার মনে হয় আমি পুরোটা সময় তাঁকে বেনিফিট অফ ডাউট দিয়ে গ্যাছি।-------------আপনার ডাউট !!! থাকলে বেনিফিট তিনি পান বৈকি।কোন আপত্তি নেই।

চালিয়ে যান। সাথে আছি।আর আমাকে আপনার ছেলে মনে হলো কেন? মেয়েতো হতে পারি না কি? তাতে প্রেমানুভূতির তারতম্য ঘটবে বলে মনে হয়না।লিঙ্গ হোক যথা তথা, মানবকুল হিসেবেই নিননা।অপেক্ষায় থাকলাম।এখানেই সিরিজটির শেষ দেখতে মন চাইছেনা।ধন্যবাদ।

লেখক বলেছেনঃ

চলবে কথাটা লিখতে ভুলে গিয়েছিলাম। যখন প্রকাশ করুন বাটনে চাপ দেই তখন আসলে আমি একেবারেই স্বাভাবিক ছিলাম না। তাছাড়াও, সারাদিন সামুর সাইটটা খুব বিরক্ত করেছে। এখনো আমি পোষ্ট এডিট করতে পারছিনা।

স্তব্দ্ধতা শব্দটি ছেলের বা মেয়ের হতে পারে। যদিও নামে সুরভীটা মেয়েদের।

যখন একটি ছেলে আর মেয়ের মধ্যে পরকীয়া হয়, সাধারনত দেখা গেছে ছেলেটি মেয়েটিকে সারা জীবনের জন্যে চায়। আর মেয়েটি ছেলেটিকে শুধু মাত্র দৈহিক ভাবে চায়, কিছু দিনের জন্যে। এটা একটা উপাত্ত। তাও আবার পশ্চিম বিশ্বের।ব্যাতিক্রম অবশ্যই আছে। তাই আপনি মেয়ে হ'লে আমার বলা ব্যাপারটা আপনার কষ্ট কল্পনার মধ্যে থেকে যেতে পারে-সে জন্যেই বলা।

"আমার মনে হয় আমি পুরোটা সময় তাঁকে বেনিফিট অফ ডাউট দিয়ে গ্যাছি।-------------আপনার ডাউট !!! থাকলে বেনিফিট তিনি পান বৈকি।কোন আপত্তি নেই।"

-ডাউট থেকে নয় পক্ষপাতিত্ব থেকে। দেখুন, মনের অগোচরে পাপ নেই, তাই এই স্বীকোরোক্তি।
৩১. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৩৬
শ।মসীর বলেছেন: আমার সবচে' বড় সুবিধে হ'ল শুধু মাত্র যে ক' মুহুর্ত আমি আয়নার সামনে থাকি শুধু সে ক'মুহুর্তই আমি আমার প্রকৃত বয়সে থাকি। আয়নার সামনে থেকে সরে গেলে আমি আদি ও অকৃত্রিম শাখা মৃগ।

আমার সবচে' প্রিয় শহর হ'ল চিটাগাং। আমি বাঁচার জন্যে খাইনা , খাওয়ার জন্যে বাঁচি। বদ্দার হাটের গরুর মাংস আমার অতি প্রিয়। সামুদ্রিক মাছের অফুরন্ত টাটকা যোগান আমাকে মোহিত করে। মেজবান আমার সবচে' প্রিয় দাওয়াত। :):):)

বান্দরামী কি আর ছাড়া যায়......বয়স বাড়ে বাড়ুক না, আমার আমিত আমিই।

--------------------------------------------------
পড়ছি........
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:০১

লেখক বলেছেন: অনেকক্ষন পরে আমি একটু হাসলাম।

গ্রিনিং, স্মাইলিং আর লাফিং এর জুৎসই বাংলা শব্দ আমি খুঁজে পাইনি। আই ওঅজ গীনিং অল দ ঠাইম হোয়াইল রিডিং ইঅর কমেনট। দুঃখিত ইংরেজী লেখা আসছেনা।

অনেক ধন্যবাদ।

৩২. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৩৭
স্তব্ধতা' বলেছেন: আশ্চর্যতো !!!!! আপনি আমার দ্বিতীয় মন্তব্যটি মুছে দিলেন কি জন্য তাই ভাবছি।এমন কিছুতো বলিনি।মন্তব্য মুছে দেয়ার কারণটি জানতে পারি কি? বিষয়টা জটিল লাগলো।যাই হোক, আমি পরের পর্বগুলোর অপেক্ষায় থাকলাম।
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:০৩

লেখক বলেছেন: আপনি আপনার প্রথম কমেন্টে যান। তারপর ৩০ নম্বর মন্তব্যে। বুঝে যাবেন। রাগও পড়ে যাবে।

৩৩. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৪৫
স্তব্ধতা' বলেছেন: প্লিজ আমার তৃতীয় কমেন্টা মুছে দিন।আপনি যে ভুলে আমার দ্বিতীয় কমেন্টটি মুছে দিয়েছেন সেটা মাত্র জানতে পারলাম।আন্তরিক ভাবে দু:খিত।আমার অপেক্ষা করা উচিত ছিলো।

বি:কৌ: এতো রাত ধরে ব্লগিং, গিন্নি বকুনী দেয়না? B-)) B-)) B-))
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৫৪

লেখক বলেছেন: থাকুক না। ভাল্লাগছে দেখতে। আর আপনি তো আমাকে অশ্লীল কিছু বলেন নি। অশ্লীল মন্তব্য ছাড়া আমি কিছুই মুছিনা। আমার ব্লগে যেয়ে বিডিআর বিদ্রোহের কয়েকটি পোস্ট পড়লেই বুঝবেন কত খারাপ মন্তব্য আমি রেখে দিয়েছি। আমার প্রতি ওদের কমপ্লিমেন্ট।

___________________________________________
বি:কৌ: এতো রাত ধরে ব্লগিং, গিন্নি বকুনী দেয়না?

প্রচন্ড রাগ করে, দুটি কারনেঃ

১। ও ঘুমুবার সময়ে আমাকে পাশে থেকে ঘুম পাড়িয়ে দিতে হয় :``>>

২। আমার সাস্থ্যের ব্যাপারে ওর একটা আতংক কাজ করে। যদিও কোন রোগ নেই আরোগ্য দাতার কৃপায়, কিন্তু বয়স তো আর থেমে থাকেনি। এককালের পার্টি এ্যানিম্যাল এখন একনাগারে তিনটা নাম্বার নেচেই বসে পড়ে হাঁফাতে থাকে। তিন মাস ধরে তিন বেলা গরুর মাংস খাওয়াও বন্ধ। রেড মিট নাকি ক্ষতিকর- কে বোঝাবে আমার বাবা ৭০বছর বয়স পযর্ন্ত তিন বেলা ঐ মাংসটিই খেয়েছেন। কিছুই হয়নি।

যখন খুব বেশী ইন্টারনেটে থাকতে হয় তখন ও ঘুমিয়ে গেলে পা টিপে টিপে কমপিউটার অন করে কাজ করি। অনেক সময় ধরা পরে যদি এবং যথা রীতি কঠোর ভৎসর্না। তবে আজ ব্যাপারটা অন্যরকম। আমার ব্লগ পড়ে ও বল্ল তোমার এটাতো কালকেই ব্লক করবে। তুমি কি এটার কোন কপি রাখছ? আমি উত্তর দেই যে আমার লেখা গুলো রেখেছি।ও বল্ল: কমেন্ট গুলোর? আমি নেতি বাচক উত্তর দিতে ও বল্ল "আরে হাবলা, কমেন্টগুলোই তো তোমার লেখার সৌন্দর্য্য। এখুনি সব কপি করে রাখ। সকালে ঘুমিও, সারাদিন"।

৩৪. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:০৩
মনজুরুল হক বলেছেন:

আপনি আমার ইঙ্গিত ধরতে পারেননি। "সম্ভবত" শব্দটা নিয়ে আমার অনুসন্ধীৎসা।

আপনি বলছেনঃ "তার গল্প শুরু হত মেজর জিয়া কিভাবে অধিনায়ক কর্নেল জানজুয়ার বাসায় ঢুকে তাকে হত্যা করেন পিস্তল দিয়ে সেখান থেকে। আর ছিল সেখানে ঐসব কারখানার অফিসারদের জন্যে একটা ক্লাব। ২৬/২৭ তারিখের মধ্যেই সে সব কল কারখানার অবাংগালী অফিসারদের কে তারা হত্যা করে। মহিলা ও শিশুদের বন্ধী করে রাখা হয় অফিসার ক্লাবে। প্রতিরক্ষা ত্যাগ করার সময় যখন জিজ্ঞেস করা হয় এই মেয়ে আর শিশুদের কি করা হবে। উপর থেকে আদেশ এসেছিল "মার ডালো'। "

আবার সেই জিয়া যে সোয়াত থেকে পাকিস্তানী অস্ত্র খালাসের দাযিত্ব পালন করছিল সেখানে বলছেন "সম্ভবত"। এই দুটি বিষয় গুলিয়ে যাচ্ছে।
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৪০

লেখক বলেছেন: বুঝেছিলাম এবং এড়িয়ে যাচ্ছিলাম।

আমি যখন এটার উত্তর দিচ্ছি তখন ধরে নিচ্ছি যে এ উত্তরে বিরুপ প্রতিক্রিয়া হবে। এবং আমি এও জানি যে আপনি বুঝেছিলেন যে আমি পিছলাচ্ছি । তাই আপনি ছাই দিয়ে ধরেছেন এবার। খাঁটি বিচ্ছু আমার।

ঐ সোয়াত জাহাজের মাল খালাস যদি ঐ সময় না হয়ে থাকে ,

যদি মেজর রফিকুল ইসলাম (লক্ষ প্রানের বিনিম্যে দ্রষ্টব্য) ঐ রাতে মেজর জিয়া, টু আই সি (সহ অধিনায়ক, ৮ম ইষ্ট বেংগল) এর গাড়ি ষোল শহরে ইন্টার সেপট না করে,

তাহলে জিয়া বন্দরে চলে যান এবং ঐ সোয়াত জাহাজ থেকে বাংগালীদের কে পাখীর মত মারার জন্য আনা মারনাস্ত্রগুলো অফলোড করেন।

কারন সে ডিউটিই তিনি পালন করতে যাচ্ছিলেন।

যে মারনাস্ত্র চিটাগাংএর আম জনতা স্বতস্ফুর্ত ভাবে নিজেদের জীবন বাজী রেখে সোয়াত জাহাজ থেকে নামাতে দেয় নি সে মারনাস্ত্র নামনোর নেতৃত্ব দিয়ে আজ আমাদের ইতিহাসের কোন স্থানে তিনি জায়গা করে নিতেন?

আমার এই পোস্টটি খুব ধীরে ধীরে আরেকবার পড়লে ইন বিটুইন দ লাইনস আরো অনেক কিছুই পড়তে পারবেন।

আমি অনেক কিছুই উহ্য রেখে দিয়েছি যোগ বিয়োগ করে ঠিকই ধরতে পারবেন।

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:৩৪

লেখক বলেছেন: আমি আপনার কষ্ট হাড়ে হাড়ে বুঝি।

যার যা প্রাপ্য নয় তাকে তা দিতে দেখে আসতে আসতে, প্রাপ্যের কানা কড়িও না পেয়ে ধুঁকে ধুঁকে বিনা চিকিৎসায় বাংগালী জাতির সবচেয়ে বড় গৌরবদের চোখের সামনে মৃত্যু বরন করতে দেখেছি। তাদের ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ হ'তে দেখেছি। আমার সাধ্য এখনো অত্যন্ত সীমিত। তখন ছিল তা শুন্যের কোঠায়। সরকারী বেতনের টাকায় মাসের দশদিন ও চলতোনা। ব্যাংকের দয়ালু মানেজারদের কৃপায় ওডির পর ওডি করেছি। যা শোধ করতে হয়েছে পেনশন বেচার টাকায়। অক্ষম অক্রোশে আত্ম ধংসের পথ আমি বহু পথ হেঁটেছি। তার ফল ছিল একান্ত আপন পরিবারের (ইমিডিয়েট ফ্যামেলি) অসহনীয় কষ্ট।

কিন্তু দুয়ে দুয়ে চার করার অবকাশ আমার নেই এই পোষ্টে।

আপনি আমার প্রিয়জন। তাই এসব কথা বল্লাম। আমার সীমাবদ্ধতাকে আমলে এনে কষ্ট লাঘব করতে সবিনয়ে অনুরোধ জানাচ্ছি।


০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:৩৬

লেখক বলেছেন: "তার গল্প শুরু হত মেজর জিয়া কিভাবে অধিনায়ক কর্নেল জানজুয়ার বাসায় ঢুকে তাকে হত্যা করেন পিস্তল দিয়ে সেখান থেকে। আর ছিল সেখানে ঐসব কারখানার অফিসারদের জন্যে একটা ক্লাব। ২৬/২৭ তারিখের মধ্যেই সে সব কল কারখানার অবাংগালী অফিসারদের কে তারা হত্যা করে। মহিলা ও শিশুদের বন্ধী করে রাখা হয় অফিসার ক্লাবে। প্রতিরক্ষা ত্যাগ করার সময় যখন জিজ্ঞেস করা হয় এই মেয়ে আর শিশুদের কি করা হবে। উপর থেকে আদেশ এসেছিল "মার ডালো'। "

-২৫ তারিখের রাতে ৮ম তষ্ট বেংগলের অধিনয়ক কর্নেল জানজুয়ার আদেশে জাহাজ থেকে অস্ত্র নামাতে রওয়ানা হয় সহআধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান। যে জাহাজ থকে অস্ত্র নামবার কথা ছিল, সে জাহাজটা সোয়াত হবার সম্ভাবনা আছে।ষোল শহর আসার পর তার গাড়ীটিকে থমায় মেজর বফিকুল ইসলাম । তিনি তখন ই পি আরে প্রষনে ছিলেন। গাড়ি থামিয়ে মেজর রফিক ঢাকার অবস্থা জানান জিয়াকে। কারন ওঅরলেসে ততক্ষনে বংগবন্ধুর ডিক্লারেসন অফ ইনডিপেনডেন্স পৌঁছে গেছে।

মেজর জিয়া তখন চিটাগাং সেনানিবাসে ফিরে যান, কর্নেল জানজুয়াকে তার বাস ভবনে হত্যা করেন এবং ৮ম ইষ্ট বেংগলের সৈনিকদের নিয়ে সেনানিবাস ত্যাগ করেন। সবই ঘটেছিল ঐ এক রাতে। পরদিনই(২৬শে মার্চ) মেজর রফিকুল ইসলামের পরামর্শ উপেক্ষা করে জিয়া কালুর ঘাটে প্রতিরক্ষা অবস্থান নেয়। জিয়ার ব্যাটেলিয়ান হেড কোয়াটারস ছিল সম্ভবতঃ পটিয়ায়।

৩৫. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৪১
ত্রিভুজ বলেছেন: ভেবেছিলাম পুরোটা একবারে পড়বো (কারণ আমি একটানে বই পড়ে অভ্যস্থ)... কিন্তু আপনার সিরিজটার বেলায় পড়ে ফেললাম। বলা যায় এই সিরিজটা পড়ার জন্যই গত ক'দিন ধরে নিয়ম করে ব্লগে আসছি।
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:৫৭

লেখক বলেছেন: আপনার অনুসন্ধৎসার প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

বিধাতা আপনার মংগল করুন।

ভাল থাকুন।

৩৬. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:২৪
মনজুরুল হক বলেছেন:

.......এবং আপনি ওই "অনেক কিছু উহ্য রেখে যাওয়ার" কারণে ইতিহাসের এই ট্যুইস্ট কারো কারো কাছে উপভোগ্য হচ্ছে। সেই বর্ণচ্ছটা আপনি দেখে হয় উপভোগ করছেন, নয়ত "নিরপেক্ষ" বলে এড়িয়ে যাচ্ছেন। এ কারণেই বলছিলামঃ ইতিহাস কখনোই নিরপেক্ষ হয়না, হতে পারেনা।

ঘুমোতে গেলাম। ভাল থাকুন
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:১৮

লেখক বলেছেন: মেনে নিচ্ছি। শেষ হওয়া পর্ন্ত তুলে রাখুন অনুসন্দিততসাটুকু। তারপর প্রশ্নত্তোরের পালা।

আমি নিরপেক্ষ নই তবে বর্ণনা আমার নিরপেক্ষ রাখার চেষ্টাচালিয়ে যাচ্ছি।

ঐ হাবিলদারটা যদি একবারও কতৃপক্ষের/উপরওয়ালার নির্দেশে না বলে কারো নাম আমাকে বলতো,

অথবা সোয়াত জাহাজ থেকেই মেজর জিয়া খালাস করতে গিয়েছিল বলে যদি আমি শুনতে পেতাম,

ডাঃ সৈয়দ আনোয়ার আলীকে সেই মেয়ে শিশু ম্যাসাকরের হোতাদের কারও নাম বলতে শুনতাম,

তাহলে আমি অবশ্যই ব্লগে তা প্রকাশ করতাম।

আমার অনুমানকে আপনাদেরও অনুমানে রাখাই কি যথার্থ নয়?

৩৭. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:৫৯
মোঃ আমিন বলেছেন: জানছি নতুন কিছু, জানতে চাচ্ছি আরো..........ধন্যবাদ আপনারকে। আপনার সুস্বাস্হ্য কামনা করছি।
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:১৬

লেখক বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

সুস্থ রাখার অধিকর্তা আমার প্রতি এখন পর্যন্ত অত্যন্ত সদয়। তাঁর এই অনুগ্রহ আপনাদের কামনায় অতি, অতি দীর্ঘ হোক।

আমি কিন্তু নতুন কিছুই দিচ্ছিনা আপনাদের। আমার এই কথাগুলো এই ব্লগের কারো না করো , কিছু না কিছু জানা।

৩৮. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:১৫
অসীম বলেছেন: বেড়ে হচ্চে গো দাদা ! লিজের মনে করে লিয়ে গেলুম!
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:০৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ। ১৯৯৫তে কোলকাতায় আমার প্রথম অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দিলেন। এই ভাষা শুনতে শুনতে হাফঁয়ে উঠেছিলাম। বোলপুরে গিয়েই হাঁফ ছেড়ে বাঁচি।

৩৯. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:৩৯
বাস্তবতা বলেছেন: একটা তথ্য দিতে পারেন? ২৫ শে মার্চের আগে অবাঙ্গালী সাধারন মানুষেরা কি বাঙ্গালী হত্যাকান্ডে লিপ্ত ছিল? এই অভিযোগটা কোন কোন বইতে এসেছে যে চট্রগ্রামের অবাংগালী পাড়া থেকে মিছিলে গুলি চালানো হত।

১-২৫ শে মার্চ চট্রগ্রামে অনেক বাঙ্গালী মারা গেছে প্রতিবাদ/প্রতিরোধ আন্দোলনে। এটা নিয়ে আপনার অভিজ্ঞতা কি?
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:৩৯

লেখক বলেছেন: আমি সে সময়ে শুনিনি। বংগবন্ধু মারা যাবার পর থেকে শুনে এসেছি। আপনার উল্লেখিত সময়ে বিহারীরা চিটাগাংএ আতংকে কাটাতো। আমার আগের পর্বে 'বিহাইজ্যারে জরা'বার বর্ণনা দেখুন। ওটা ২৫শে মার্চের আগের ঘটনা।

৪০. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:৪১
বাস্তবতা বলেছেন: অটঃ খাবার দাবারের বর্ননা এভাবে দেয়া কি ঠিক!! লোভ লেগে গেল তো!!! এখন দাওয়াত কবে বলুন!
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:৪৩

লেখক বলেছেন: যখন খেতে চান।

আমি খেতে পছন্দ করি সবচে' বেশী।

আর খাবারের স্বাদটা বাড়তে থাকে যত বেশী লোক একসাথে খায় তার সাথে সাথে। এ মাসের মধ্যে খেলে আমি আপনাকে আহালুহির (হাকালুকি হাওরের) মহাশোল খাওয়াতে পারবো, নিজে রেঁধে।

৪১. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৮:১৬
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: প্রোফাইল বেঙ্গল নামে ওয়েবসাইটটিতে ঢোকা যাচ্ছে না কিছুদিন হলো। চট্টগ্রামে ৭০ এর শেষ দিকে বেশ বড় একটি বিহারী ম্যাসাকারের ঘটনা ঘটেছিলো, সেই ঘটনার নেপথ্যের কারণটি তখনকার ব্রিটিশ হাইকমিশনের একটি দলিলে উল্লেখিত ছিলো। পিসিতে কোথাও রাখা আছে, মন্তব্য করার তাগিদে সেটা আপাতত খুঁজে পাচ্ছি না। তবে এই বিহারী-বাঙালী রায়ট নিয়মিতই হচ্ছিলো। সেই সময়কালে বক্তৃতায় শেখ মুজিবুর রহমান প্রায়শই এসবের নেপথ্যে অন্য ষড়যন্ত্রের কথা বলতেন যার ইঙ্গিতটা পাকিস্তানী সামরিক শাসকদের দিকেই ছিলো। ৪ জানুয়ারী ১৯৭১ সালে পল্টনের বক্তৃতায়ও বঙ্গবন্ধু বিহারীদের বাঙালীদের সঙ্গে মিশে যেতে বলেছিলেন, পাকিস্তানীদের প্রতি আনুগত্যের বদলে এই মাটিকে আপন করে নিতে বলেছিলেন। (এই বক্তৃতার ফুটেজটা আপলোড করার ধৈর্য্য এখন নেই, তবে কেউ চ্যালেঞ্জ করলে অবশ্যই করবো)।

পোস্ট লেখক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে বিহারী হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগ নেতারা জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছেন। যদি এমন ঘটনার প্রমাণ তিনি পেয়েই থাকেন, তাতে তাকে অসত্য প্রমাণের দায়ও আমি দেখি না। দেশভাগের পর এসব মানুষ স্রেফ ধর্মীয় পরিচয় নিয়েই উদ্বাস্তু হয়ে এদেশে এসেছিলো। তাদের তো পাকিস্তানপন্থী হওয়াই স্বাভাবিক, আর বাঙালীদেরও তাদের মেনে নেওয়ার কোনো কারণ ছিলো না।

এ ব্যাপারে আরো ভয়ঙ্কর অভিযোগও আছে। প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা কামরুল ইসলাম চট্টগ্রামেরই ছেলে। মার্কিন প্রবাসী কামরুল মুক্তিযুদ্ধের না বলা কথা নামে একটি সিরিজে অতিথি ছিলেন। কিন্তু ব্রেন টিউমারে মারা যাওয়ার কারণে শেষ করে যেতে পারেননি। তার আগে বলে গেছেন অবিশ্বাস্য এক ঘটনার কথা। ভারত পাড়ি দেওয়ার আগ পর্যন্ত জিয়াউর রহমানের সঙ্গেই ছিলেন কামরুল। রামগড়ে এক হেরেমের কথা বলেছেন তিনি। বাড়বকুন্ডের হাফিজ জুটমিলের অবাঙালীদের হত্যা করে তাদের মেয়েমানুষদের ধরে নিয়ে এসেছিলো জিয়ার দল। রামগড় পতনের আগে এসব নারীদের সবাইকে নদীর পারে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যা করা হয়েছিলো কোলের শিশুকেও।



হত্যা হত্যাই যদিও যুদ্ধকালে এটি জায়েজ হিসেবে স্বীকৃত। শত্রুপক্ষের পুরুষদের হত্যা করে নারীদের গনিমতের মাল হিসেবে ব্যবহার করার নিয়মটাও আমাদের পয়গাম্বর ও তার নিকট উত্তরসূরীরা তাদের জিহাদে মেনে চলেছেন।

যারা পাকিস্তানী ও জামাতীদের সঙ্গে তুলনা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যাকাণ্ডকেও যুদ্ধাপরাধের পাল্লায় তুলতে চায়, তাদের এসব অভিসন্ধির মুখে জুতার বাড়ি মেরে বলতে চাই, স্যরি, বাংলাদেশে সে উপায় নেই। রাখেননি বঙ্গবন্ধু। মুক্তিযোদ্ধাদের এ জাতীয় সকল অপরাধ থেকে দায়মুক্তি দিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। জামাতীরা অনেক আগে থেকেই এই লাইনে আগানোর চেষ্টা করে যাচ্ছিলো, যে তাহলে মুক্তিযোদ্ধাদের কেনো বিচারের কাঠগড়ায় তোলা যাবে না। আবারও তাদের মুখে জুতার বাড়ি মেলে বলছি- যাবে না, অন্তত বাংলাদেশের সংবিধানে কখনোই যাবে না। পাকিস্তানী সংবিধানে ফেরত যেতে হবে।
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৫৯

লেখক বলেছেন: "মুক্তিযোদ্ধাদের এ জাতীয় সকল অপরাধ থেকে দায়মুক্তি দিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।"

আমি আপনার জ্ঞান, প্রজ্ঞা, পরিশ্রম করার ক্ষমতা এবং সর্বোপরী মুক্তি যুদ্ধের প্রতি অনুকরনীয় ভালবাসার প্রতি অপরিসীম শ্রদ্ধা রেখে দ্বিমত প্রকাশ করছি।

কারো অধিকার নেই নিরাপরাধ নিরীহ মানুষকে হত্যার অপরাধ থেকে দায়মুক্তি দেয়া। সে যেই হোক। যে ফাঁসি কার্যকর করার প্রেক্ষীতে আমার লেখার শুরু সেই ফাসীঁর আসামীদের কিন্তু একটি সংসদ দায় মুক্তি দিয়ে গ্যাছিলেন। সংসদের সেই অধিবেশনে যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের কেউ কেউ হবার কথাঃ

বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী
অধ্যাপক মোঃ ইউসুফ আলী
ফনিভূষণ মজুমদার
মোঃ সোহরাব হোসেন
আব্দুল মান্নান
মনরঞ্জন ধর
আব্দুল মোমেন
আসাদুজ্জামান খান
ডঃ এ আর মল্লিক
ডঃ মোজাফফর আহমদ চৌধুরী
প্রতিমন্ত্রীঃ
শাহ মোয়াজ্জম হোসেন
দেওয়ান ফরিদ গাজী
তাহের উদ্দিন ঠাকুর
অধ্যাপক নূরুল ইসলাম
নূরুল ইসলাম মঞ্জুর
কে এম ওবায়দুর রহমান
মোসলেম উদ্দিন খান
রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ
ক্ষিতিশচন্দ্র মন্ডল
সৈয়দ আলতাফ হোসেন
মোমিন উদ্দিন আহমদ।

(সেদিন সংসদে এদের মধ্যে কেউ কেউ অনুপস্থিত থকতেও পারেন)

ওপরের তালিকায় ক'জন বংগবন্ধুর মন্ত্রী সভার সদস্য ছিল, আমাদের সবারই তা জানার কথা।

আসলে ম্যাংগো পাবলিকের ওপর করা অপরাধের বিচারের জন্য পরকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। সেজন্যেই হয়তো বা আমি সৃষ্টিকর্তা, শেষ বিচারের দিন আর পরকালের ওপর বিশ্বাসী।

"এ ব্যাপারে আরো ভয়ঙ্কর অভিযোগও আছে। প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা কামরুল ইসলাম চট্টগ্রামেরই ছেলে। মার্কিন প্রবাসী কামরুল মুক্তিযুদ্ধের না বলা কথা নামে একটি সিরিজে অতিথি ছিলেন। কিন্তু ব্রেন টিউমারে মারা যাওয়ার কারণে শেষ করে যেতে পারেননি। তার আগে বলে গেছেন অবিশ্বাস্য এক ঘটনার কথা। ভারত পাড়ি দেওয়ার আগ পর্যন্ত জিয়াউর রহমানের সঙ্গেই ছিলেন কামরুল। রামগড়ে এক হেরেমের কথা বলেছেন তিনি। বাড়বকুন্ডের হাফিজ জুটমিলের অবাঙালীদের হত্যা করে তাদের মেয়েমানুষদের ধরে নিয়ে এসেছিলো জিয়ার দল। রামগড় পতনের আগে এসব নারীদের সবাইকে নদীর পারে নিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়। হত্যা করা হয়েছিলো কোলের শিশুকেও। "

- স্বাধীনতার পর আমিও শতবার শুনেছি। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে শুনিনি বলে এ ঘটনাটি আমি এ পোষ্টে আনিনি।

তাছাড়া হাফিজ জুট মিলটা ফৌজদারহাট ও কুমিরার মাঝে(অনেকদিন আগের স্মৃতি থকে। ভুল হলে অনুগ্রহ করে শুধরে দেবেন)। সেখানে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ৮ম বেংগলের তৎপরতা কথা যুদ্ধকালীন সময়ে শুনিনি বলেই খুব একটা বিশ্বাস করতে মন চাইতো না।

ওপরের মন্তব্যটা করা উচিৎ ছিল আপনার ফুটেজটা দেখার পর। কিন্তু আমার আগেই করতে হ'ল। কারন গত পরশু থেকে আমার ইন্টার নেটের গতি আমার ফোনেটিকে বাংলা লেখার গতির সমান। কিছুতেই লোড হচ্ছেনা। আমি অবশ্য অবশ্যই যত শীঘ্র সম্ভব দেখে নেব। এ ফুটেজটার জন্যে আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

লক্ষ করবেন, কালুর ঘাটের ম্যাসাকারের একজন প্রত্যক্ষদর্শী (হাবিলদার) আর আরেক জন হত্যা পরবর্তী সাক্ষী(ডাঃ সৈয়দ আনোয়ার আলী)র দুজনের একজনের মুখেও জিয়াউর রহমানের নাম উচ্চারিত হতে শুনিনি বলেই তাঁর নামটি আমি আমার স্মৃতিচারনে আনতে পারিনি। তা না হ'লে দু'য়ে দু'য়ে চার করে তাকেই সামনে নিয়ে আসার কথা আমার। মাঝে মাঝে দুয়ে দুয়ে পাঁচও হয়ে যায় যে।

"পোস্ট লেখক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে বিহারী হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগ নেতারা জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছেন। যদি এমন ঘটনার প্রমাণ তিনি পেয়েই থাকেন, তাতে তাকে অসত্য প্রমাণের দায়ও আমি দেখি না। দেশভাগের পর এসব মানুষ স্রেফ ধর্মীয় পরিচয় নিয়েই উদ্বাস্তু হয়ে এদেশে এসেছিলো। তাদের তো পাকিস্তানপন্থী হওয়াই স্বাভাবিক, আর বাঙালীদেরও তাদের মেনে নেওয়ার কোনো কারণ ছিলো না।"

-শতভাগ সহমত।

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:২৬

লেখক বলেছেন: "তবে এই বিহারী-বাঙালী রায়ট নিয়মিতই হচ্ছিলো।পোস্ট লেখক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার আলোকে বিহারী হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগ নেতারা জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছেন জন্যঃ বিহারী। পড়ুনঃ অবাংগালী।"

৪২. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৮:২০
আরিফ থেকে আনা বলেছেন: পুরোটা পড়েছি, নিজের শহরের বর্ণনা + মুক্তিযুদ্ধ। অসাধারণ লাগছে।
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:০৫

লেখক বলেছেন: আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ সাগর থেকে আনা, সরি আরিফ থেকে আনা।

যেহেতু চিটাগাংএর আপনি , তাই বলছি। একেবারে গ্যাদা থাকতেই আমি বইয়ের পোকা। চিটাগাংএ '৬৭ সালে যখন যাই, তখন একটা নামকরা বইয়ের দোকান ছিল বিপনী বিতানে-বইঘর। কত শত বই যে কিনেছি ঐ দোকান থেকে --। আমার বন্ধুদের মধ্যে খেলনার মালিকানায় আমি ছিলাম সবচে' দরিদ্র। সেই দোকান থেকে একটা বই কিনেছিলাম "সাগর থেকে আনা" মনে আছে এখনো।

৪৩. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:৫৮
নাজনীন১ বলেছেন: @ অমি পিয়াল, ৯ই এপ্রিল, ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধুর জীবদ্দশায় যে ত্রিদেশীয় চুক্তি হয়েছিল সেটার ১৪ এবং ১৫ নং পয়েন্টের ক্ষেত্রে আপনার মতামত কি? সেখানে তো দেখছি তৎকালীন বাংলাদেশী প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করে দিতে চাইলেন।

Click This Link

এ ব্যাপারে কি কোন সুনির্দিষ্ট ক্ষমা ঘোষিত হয়েছে?
৪৪. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:২৫
কঁাকন বলেছেন: ভালো পোস্ট মন্তব্যসবকিছুথেকেই নতুন অনেককিছু জানছি
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:২৩

লেখক বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ সাথে সাথে থাকার জন্যে।

শেখার বোধ হয় কিছু নেই। মানবজাতি ইতিহাস থেকে কিছুই শেখেনা তাই ইতিহাসের পূনরাবৃর্ত্তি হয়।

জানার কিছু থাকতে পারে।

৪৫. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:৫২
ও.জামান বলেছেন: দেশভাগের পর এসব মানুষ স্রেফ ধর্মীয় পরিচয় নিয়েই উদ্বাস্তু হয়ে এদেশে এসেছিলো। মানুষ ধর্মের কারণে শখ করে দেশ ত্যাগ করে! বাহ্ কি চমৎকার আবিস্কার!

এমন আবিস্কার করার মাজেজা ভিন্ন। ৪৭ এর রায়টে হিন্দু অংশের নেপথ্য নেতৃত্বে ছিলেন নেহেরু-প‌্যাটেল এবং মুসলমান অংশের নেতৃত্বে ছিলেন সুরাবর্দী ও তার সহচর ছিলেন এপার বাংলার মুসলিম লীগের কিছু উদীয়মান পাতি নেতা (ইণ্ডিয়া উইনস ফ্রিডম, মওলানা আবুল কালাম আজাদ)। উদ্দেশ্য ছিল ঘোলাপানিতে রাজনৈতিক নেতৃত্ব বাগিয়ে নেয়া। আর চেলা-চামুন্ডাদের উদ্দেশ্য ছিল সম্পত্ত্বি দখল করা।

এই রায়টের বলি হয়ে যারা দেশ ত্যাগ করলেন (হিন্দু-মুসলিম উভয়েই) তারা চরম ভাবে অত্যাচারিত হয়েছেন। কৃষণ চন্দরের উপন্যাস গাদ্দারে এর রোমহর্ষক বর্ণনা আছে। একটি মেয়ে একবার হিন্দু উগ্রবাদী আরেকবার মুসলমান উগ্রবাদীদের হাতে সম্ভ্রম হারায়। এই মানুষগুলো অত্যাচারিত হয়ে একটা দেশ ত্যাগ করলো। যে দেশটাতে গেল সেটাও তাঁদের রইলো না। আমাদের এখানে যে সকল বাঙলা ভাষী মুহাজের এসেছিল তারা কিন্তু কোন সমস্যায় পড়েনি। পড়েছিল ঐ অবাঙ্গালী মানুষগুলো।

যারা পাকিস্তানী ও জামাতীদের সঙ্গে তুলনা দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যাকাণ্ডকেও যুদ্ধাপরাধের পাল্লায় তুলতে চায়, তাদের এসব অভিসন্ধির মুখে জুতার বাড়ি মেরে বলতে চাই, স্যরি, বাংলাদেশে সে উপায় নেই। রাখেননি বঙ্গবন্ধু। মুক্তিযোদ্ধাদের এ জাতীয় সকল অপরাধ থেকে দায়মুক্তি দিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। জামাতীরা অনেক আগে থেকেই এই লাইনে আগানোর চেষ্টা করে যাচ্ছিলো, যে তাহলে মুক্তিযোদ্ধাদের কেনো বিচারের কাঠগড়ায় তোলা যাবে না। আবারও তাদের মুখে জুতার বাড়ি মেলে বলছি- যাবে না, অন্তত বাংলাদেশের সংবিধানে কখনোই যাবে না। পাকিস্তানী সংবিধানে ফেরত যেতে হবে।

উগ্রবাদী মুক্তিযোদ্ধাদের এ জাতীয় সকল অপরাধ থেকে দায়মুক্তি দিয়ে শেখ মুজিব এই মন্তব্যকারীর মতই নিজের উগ্রবাদী চেহারা সবাইকে দেখিয়েছিলেন। ইরাকে মার্কিন সেনাদের যুদ্ধাপরাধের বিচার খোদ যুক্তরাষ্ট্র নিজেই করছে। যুদ্ধাপরাধ কোনভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। মুশতাক মুজিব হত্যাকারীদের জন্য যে ইনডিমনিটির ব্যবস্থা করেছিলেন তা যেমন ঘৃণ্য ঠিক তেমনই ঘৃণ্য মুজিব কর্তৃক প্রদত্ত দায়মুক্তি। নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা সভ্যজগতে কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়। কাজেই জুতোর বাড়িগুলো নিজের মুখেই মারুন।
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:১৬

লেখক বলেছেন: এমন আবিস্কার করার মাজেজা ভিন্ন। ৪৭ এর রায়টে হিন্দু অংশের নেপথ্য নেতৃত্বে ছিলেন নেহেরু-প‌্যাটেল এবং মুসলমান অংশের নেতৃত্বে ছিলেন সুরাবর্দী ও তার সহচর ছিলেন এপার বাংলার মুসলিম লীগের কিছু উদীয়মান পাতি নেতা (ইণ্ডিয়া উইনস ফ্রিডম, মওলানা আবুল কালাম আজাদ)
-সুহরোয়ারদীর কুখ্যাত ডাইরেক্ট এ্যাকশন। আমর অতি প্রিয় বইয়ের নাম করলেন। শেষ ৩০ পৃষ্ঠা যোগ করে বইটি যখন বের হ্য় তখন আমি এমনি হন্যে হয়েছিলাম বইটির জন্যে যে দিল্লী থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় ওটা সংগ্রহ করি।

৪৬. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:০৩
বাস্তবতা বলেছেন: সকলের সকল দায় একা মুজিব নিজের বুকে টেনে নিয়েছিলেন। আমারা তাই সম্পূর্ণ গ্লানীমুক্ত।
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:২০

লেখক বলেছেন: আমার বিশ্বাস, কারো দায় অন্য করো ওপর যেমন বর্তায় না তেমনি কারো দায় অন্য কেউ বহনও করতে পারেনা। সকলের দায় নিজের বুকে টেনে নেয়া তো দুরের কথা।

তবে আমার বিশ্বাসে কারো কিছু যায় আসেনা, আমার কন্যা রত্নটির ছাড়া।

৪৭. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৪১
রোহান বলেছেন: পুরাটা পড়লাম কমেন্ট সহ। আব্বার চাকরী সূত্রে ছয় মাস বয়স থেকে আঠারো বছর পর্যন্ত চিটাগাং এ... টু বি অনেষ্ট চিটাগাং এর গরুর মাংস আর সারা বাংলাদেশের গরুর মাংসে অনেক তফাৎ... ইস চিটাগাংকে কি যে মিস করি....

পুরা সিরিজটাই চমৎকার। তবে একটা বিষয় কি এখানে আপনি আপনার দেখার জায়গাটুকুই তুলে ধরেছেন, সেটা করতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবেই অনেককিছু উহ্য রাখতে হয়েছে... সেই উহ্য রাখাটা আবার কখনো যেনো প্রকট না হয়ে যায়... আরেকটা কথা জিজ্ঞাসা করতে চেয়েছিলাম ৩৪ নাম্বার পড়ে দেখি মন্জু ভাই আগেই জিজ্ঞাসা করে রেখেছে।

চলুক...

অট: তারেক তো সেন্ট যোসেফে পড়তো বলেই শুনছিলাম আম্মার কাছে আর খুব সম্ভবত রেজাল্ট সংক্রান্ত কারণে ওকে বের করে দেবারও কথা সেখান থেকে। এক আর তিন নাম্বার কমেন্টের রিপ্লাই দেখে বললাম। এখানে মডারেশনের কি ছিলো !!!
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:৫৪

লেখক বলেছেন: "টু বি অনেষ্ট চিটাগাং এর গরুর মাংস আর সারা বাংলাদেশের গরুর মাংসে অনেক তফাৎ... ইস চিটাগাংকে কি যে মিস করি.... "

কোটি শতাংশ (?) সহমত. আমার যে কি যন্ত্রনা হয় গরুর মাংস কিনতে এখন!

"উহ্য রাখাটা আবার কখনো যেনো প্রকট না হয়ে যায়..."

-দুয়েক সিরিজ পরেই এমন প্রকট হবে যে অন্যেরা তো বটেই আপনিও আপনার পাদুকা নিক্ষেপ করবেন।

আমি অপারগ। যা তখন দেখিনি,যা তখন প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থকে শুনিনি, তা যদি আমি লিখি তা হ'বে গল্প বলা।
"তার গল্প শুরু হত মেজর জিয়া কিভাবে অধিনায়ক কর্নেল জানজুয়ার বাসায় ঢুকে তাকে হত্যা করেন পিস্তল দিয়ে সেখান থেকে। আর ছিল সেখানে ঐসব কারখানার অফিসারদের জন্যে একটা ক্লাব। ২৬/২৭ তারিখের মধ্যেই সে সব কল কারখানার অবাংগালী অফিসারদের কে তারা হত্যা করে। মহিলা ও শিশুদের বন্ধী করে রাখা হয় অফিসার ক্লাবে। প্রতিরক্ষা ত্যাগ করার সময় যখন জিজ্ঞেস করা হয় এই মেয়ে আর শিশুদের কি করা হবে। উপর থেকে আদেশ এসেছিল "মার ডালো'। "

-২৫ তারিখের রাতে ৮ম তষ্ট বেংগলের অধিনয়ক কর্নেল জানজুয়ার আদেশে জাহাজ থেকে অস্ত্র নামাতে রওয়ানা হয় সহআধিনায়ক মেজর জিয়াউর রহমান। যে জাহাজ থকে অস্ত্র নামবার কথা ছিল, সে জাহাজটা সোয়াত হবার সম্ভাবনা আছে।ষোল শহর আসার পর তার গাড়ীটিকে থমায় মেজর বফিকুল ইসলাম । তিনি তখন ই পি আরে প্রষনে ছিলেন। গাড়ি থামিয়ে মেজর রফিক ঢাকার অবস্থা জানান জিয়াকে। কারন ওঅরলেসে ততক্ষনে বংগবন্ধুর ডিক্লারেসন অফ ইনডিপেনডেন্স পৌঁছে গেছে।

মেজর জিয়া তখন চিটাগাং সেনানিবাসে ফিরে যান, কর্নেল জানজুয়াকে তার বাস ভবনে হত্যা করেন এবং ৮ম ইষ্ট বেংগলের সৈনিকদের নিয়ে সেনানিবাস ত্যাগ করেন। সবই ঘটেছিল ঐ এক রাতে। পরদিনই(২৬শে মার্চ) মেজর রফিকুল ইসলামের পরামর্শ উপেক্ষা করে জিয়া কালুর ঘাটে প্রতিরক্ষা অবস্থান নেয়। জিয়ার ব্যাটেলিয়ান হেড কোয়াটারস ছিল সম্ভবতঃ পটিয়ায়।


"অট: তারেক তো সেন্ট যোসেফে পড়তো বলেই শুনছিলাম আম্মার কাছে আর খুব সম্ভবত রেজাল্ট সংক্রান্ত কারণে ওকে বের করে দেবারও কথা সেখান থেকে। এক আর তিন নাম্বার কমেন্টের রিপ্লাই দেখে বললাম। এখানে মডারেশনের কি ছিলো !!!"

-জিয়াউর রহমানের একটা বিরল, প্রশংসার্হ গুনের কথাই আমি তুলে ধরেছিলাম ঐ পোষ্টটিতে। কিন্তু যেহেতু তারেক কোকোর জ্ঞান আহোরনে বুৎপত্তির ব্যাপারটা কারো কারো পছন্দ হয়নি তাই ওটা সরিয়ে দেবার ব্যাবস্থা করা হয়েছিল।

মৃতের সম্মানে কারো কিছু যায় আসেনা, এমন কি সে মৃত যদি পিতাও হয়। জীবিতের সত্য অবহারোন মুছে ফেলা তার চেয়ে অনেক জরূরী।





৪৮. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:২৭
ও.জামান বলেছেন: সেই ডাইরেক্ট একশনে অংশ নেয়া তৎকালীন এক পাতি মুসলিমলীগারের (যিনি পরবর্তীতে এদেশের বিখ্যাত নেতা হয়েছিলেন) নাম এবং নৃসংসতা অনেক কলকাতা নিবাসীর কাছেই শুনেছি। চাক্ষুষ প্রমান বা না পাওয়ায় সেই নামটা উহ্যই রাখলাম।
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:০৩

লেখক বলেছেন: একেবারে ধাঁধায় ফেলে দিলেন---ফজলুল হক---খাজা নাজিমুদ্দিন---ভাষানী...খোন্দকার মোস্তাক.......বগুড়ার মোহাম্মদ আলী........নুরুল আমীন.......শেখ মুজিব........ নাহ পারছিনা।

ইমেইলে জানালে বাধিত হব।

৪৯. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:০৭
রোহান বলেছেন: মৃতের সম্মানে কারো কিছু যায় আসেনা, এমন কি সে মৃত যদি পিতাও হয়। জীবিতের সত্য অবহারোন মুছে ফেলা তার চেয়ে অনেক জরূরী।

দারুন বলেছেন।

পাদুকা নিক্ষেপের প্রশ্নই আসে না যেহেতু এইটা স্মৃতিচারণ। আর গরুর মাংসের কথা কি বলবো, চিটাগাং এর মতো গরুর ঢাকায় জবাই ই করা হয় না, এইখানে সব হেলথ ফুড টাইপের গরু... বিরক্তি লাগে... সেইদিন চিটাগাং গেছিলাম, পাঠানটুলীর খানবাড়ির উল্টাদিকে ইসলামিয়া বেকারী আছে ওদের খাস্তা বিস্কুট হাজার খানেক নিয়া আসছি... ছোটোবেলায় চা এর সাথে এটা এতো ফেভারিট আছিলো...
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:২০

লেখক বলেছেন: আপনি বল্লে বিশ্বস করবেন না। বাবা ছিলেন চিটাগাংএ ১৯৬৭ থেকে ১৯৭২এর কিছুদিন পর্যন্ত। পুরো সময়টাতে ওঁর প্রধান খাদ্য ছিল গরুর মাংস। ভাতের বদলে মাংস খেতেন। '৬৭ তে ঢাকায় গরুর মাংসের কেজি ছিল সোয়া দুই টাকা আর চিটাগাংএ পাঁচ টাকা।খাসীর মাংস চিটাগাংএ তখন ছিল ৩ টাকা সের আর ঢাকায় সাড়ে তিন টাকা! চিটাগাং থাকার পুরোটা সময় কখনো খসীর (খাসীর) মাংস খেয়েছি বলে মনে পড়েনা।

পাঠানটুলীর খানবাড়ির উল্টাদিকে ইসলামিয়া বেকারী আছে ওদের খাস্তা বিস্কুট হাজার খানেক নিয়া আসছি... ছোটোবেলায় চা এর সাথে এটা এতো ফেভারিট আছিলো..

-আমার প্রিয় ছিল গণী বেকারীর বেলা বিস্কুট। এখন হয় চিটাগাংয়ের বেলা বিস্কুট শক্ত হয়ে গেছে আর না হয় আমার দাঁত অশক্ত হয়েছে।

৫০. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:২৬
রোহান বলেছেন: আমারে তুমি কইরা বললে খুশি হইতাম ভাইয়া, অনেক ছোটোই হবো...

চিটাগাং কলেজে পড়ছি তো গনির বেলাও খাইছি। তয় এইবার গনির থেকে ইসলামিয়ার বেলা বিসকুটই নরম লাগছে। এরপরে গেলে ঐটা ট্রাই করতে পারেন। আর খাসীর মাংস আঠারো বছরে এক কোরবানী বাদ দিয়ে খুব একটা কিনে খাওয়া হয় নাই...

অট: ভাইয়া মহাশোল ঢাকায় কই পাইলেন? অনেকদিন খাওয়া হয় না...
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২৪

লেখক বলেছেন: আমি খুবই লোভী প্রকৃতির লোক ।

দেশের পুরোটা কভার করা আমার জেলে নেট ওঅর্ক।

হাকালুকির জেলেটা ক'দিন আগে মোবাইল করে জানায় যে একটা মহাশোল ধরা পড়েছে ওর জালে। আনবে কিনা ঢাকায়। আমার লালা পড়া শুরু হ'ল জীব দিয়ে ।সংগে সংগে ব্ল্লাম নিয়ে এস। এদিকে মাসের শেষ হাতে নেই পয়সা। মায়ের কাছে ছোট বেলার মতো হাত পাতলাম।

শুধু চিটাগাংএর গরুর মাংসের নিয়মিত সরবরাহ নেই।

৫১. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৪৩
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন:

কারো অধিকার নেই নিরাপরাধ নিরীহ মানুষকে হত্যার অপরাধ থেকে দায়মুক্তি দেয়া। সে যেই হোক।

স্যরি ভাইজান। এই মানবিকতা একটু বাড়াবাড়ি ঠেকতেছে চোখে। ২৫ মার্চ পরবর্তী তিনদিন ঢাকার বুকে বিহারীদের টানা তান্ডব, যা গোটা যুদ্ধকালেও অব্যহত ছিলো আর ইপিসিএএফের নৃশঙসতার কথা যদি মাথায় থাকে, যদি বাঙালীর রক্ত থাকে শরীরে, তাইলে এই মোহাব্বত ট্রাঙ্কে ঢুকাইয়া লেখতে বসতে হবে। বিহারীদের হত্যাকাণ্ড প্রাসঙ্গিক আলোচনায় আসতেই পারে, কিন্তু সেইটারে আপনি যেই কাতারে তুলতে চাইতেছেন সেইটা ফিরোজ মাহবুব কামাল, ইসা খানরা গত দুইযুগ ধরেই করে আসতেছে। আপনি অবচেতনেই তাদের অনুসরণ করতেছেন। মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গে পাকিস্তানের পরাজিত জেনারেলদের যত আত্মজীবনি আছে, তার প্রায় প্রতিটাতেই ২৫ মার্চের ক্র্যাকডাউনের পিছনে কারণ হিসেবে বিহারীদের উপর বাঙালীদের গণহত্যার কথা বলা হইছে। বাঙালীরা নাকি বিহারীদের ওইভাবে হত্যা করা না ধরলে ইয়াহিয়া খান ঠিকই শেখ মুজিবকে ক্ষমতা দিয়া পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বানাইয়া দিতেন। আপনার প্রজ্ঞা, আপনার জ্ঞান কি এই তত্ব সমর্থন করে?


উপরদিকে শিশুদের ছুড়ে মেরে তা বেয়নেটে গেথে উল্লাস করছে বিহারীরা। এমনও হইছে পাকিস্তানী আর্মি নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়া খালি অবস্থান নিছে আর তাদের হইয়া বাকিটা কইরা দিছে এইসব পাকমন পেয়ারেরা। কিন্তু এই যে এত ভালোবাসা, সেইটার প্রকাশ তো আর শেষ পর্যন্ত দেখা গেলো না। বিহারীরা কইলো তারা পাকিস্তান যাবে, তারা এই দেশের স্বাধীনতা মানে না। কিন্তু পাকিস্তান তাদের নিলো না। এই দেশে শিয়াল-কুকুরের মতো চতুর্থ শ্রেণীর নাগরিক হইয়াই তাদের থাকতে হইলো। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ট্রাক মিছিল বাইর হইছিলো জেনেভা ক্যাম্প থেকে। মোহাম্মদপুর-মীরপুরবাসীর স্মৃতিতে এখনও আছে সেইটা। ১৯৭৬ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে এয়ার ভাইস মার্শাল তোরাবের সেই কুখ্যাত ইসলামী জলসায়ও গোটা বিহারীপল্লী খালি কইরা গেছিলো। হোয়াট শিট ইউর আর টকিঙ এবাউট।

কারো অধিকার নেই নিরাপরাধ নিরীহ মানুষকে হত্যার অপরাধ থেকে দায়মুক্তি দেয়া। সে যেই হোক।

এই অধিকার একজনেরই ছিলো বাংলাদেশ ও বাঙালীর প্রতি তার অসীম ভালোবাসার দাবিতে, তিনি আপনার মোহমুক্তিকালপূর্ব নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। ওই হার্টটা এত্তবড় ছিলো যে তাতে পাষান হওয়ার সুযোগ ছিলো না। তাই তার প্রিয় বাঙালীর রক্তের সঙ্গে বেঈমানী করাদেরও সুযোগ দিছিলেন দেশসেবার। কিন্তু রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি থেকেই আবার '৭৩ সালের স্পেশাল ট্রাইবুনাল অ্যাক্ট কইরা গেছেন যা দালাল আইন বাতিল কইরা তৃপ্তির ঢেকুর তোলা জেনারেল জিয়ার চোখ এড়াইয়া গেছে। মুজিব হয়তো জানতেন একদিন এইদেশে পাকিস্তানের এজেন্টরা কোনো ছলে ঠিকই নিজেদের স্টাবলিশ করে ফেলবে, তারা যাতে দেশের সেরা সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য কোনো ধরণের অপরাধের কাঠগাড়ায় দাড় করানোর সুযোগ না পায়, সেজন্যই এই ইনডেমনিটি। মোশতাকেরটা আর এইটা এক হইলো? এইটা না থাকলে জিয়ারে এত কষ্ট কইরা ক্যুয়ের নাটক বানাইয়া দেশের সব মুক্তিযোদ্ধা মিলিটারি অফিসাররে ফাসির দড়িতে চড়াইতে হইতো না। গোলাম আজমরে দিয়া একটা মামলা করাইয়া চাক্কা চালু কইরা দিতো।

মুজিবের ষণ্ডামীর গল্পও শুনি অনেক ডান-বাম ছাগুর মুখে। মুসলিম লীগের পাতিনেতা হিসাবে উনি কলকাতায় তান্ডব করবেন আর সেইটার রেকর্ড থাকবো না? কলকাতার পাবলিকও এরম একটা খুনীর সমর্থকগো বুকে টাইনা নিবো- বুখে আয় বাবুল কইয়া? একবার আলবদর নেতা কামারুজ্জামানের এক পোলা এই ব্লগে লিখছিলো মুজিব নাকি চেয়ার দিয়া পিটাইয়া স্পিকার খুন করছেন! এমন শোনা কথা নিয়া অনেক তথাকথিত মুক্তমনা এবং প্রগতিশীল ব্লগারও দেখি হাউকাউ করছে। সেইগুলারও দলিলপত্র সহকারে জবাব দেওয়া হইছে। মুজিবের লাইফে পাঞ্জাবীর হাতা গোটানোর ইতিহাস একটাই। কাগমারি সম্মেলনে যখন ভাসানী আলাদা হইলেন, সেইবার কিছু চাইনিজ বামরে চড় থাপর মারছিলেন। সেই পাচ আঙুলের দাগ তারা প্রজন্মান্তরে বহন কইরা বেরাইতেছে, ঘৃণাও। সিরাজ শিকদারের মৃত্যু পরবর্তী দম্ভোক্তিরও কথা তারা উল্লেখ করে। সেইটার জবাবও দেওয়া হইছে। সিরাজ শিকদারের মতো একটা সাইকোপ্যাাথরে যদি বিপ্লবী হিসাবে সাতখুন মাফ কইরা দেওয়ার মানসিকতার রাখেন সেই পাল্লায় আবার মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধাপরাধী হিসেবে দেখানোর নুইসেন্স আসে কোত্থেকে? কোন যুক্তিতে?

উপরে একজন মন্তব্য করছেন স্বাধীনতাবিরোধীতার ক্ষমা ঘোষণার ব্যাপারটা নিয়া। জ্বি ভাই, ৩০ নভেম্বর ১৯৭৩ একটা সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা হইছিলো বটে, যেইটার কথা বইলা এখন নিজামী-মুজাহিদ-কাদের মোল্লার মতো বুদ্ধিজীবি হত্যাকারীরা সেইটারে রক্ষাকবচ বানাইতে চায়। কিন্তু সত্যিকার ঘোষণাটা কোথায়? কেনো এইটার কোনো একজিসটেন্স নাই। আইনজীবিদের সালওয়ারী আইন সংকলনে নাই, বার কাউন্সিলে নাই, আইন মন্ত্রনালয়ে নাই, বিশ্ববিদ্যালয়রে আইনবিভাগে নাই, গেজেট থেকেও মুছে ফেলা হইছে। কে মুছসে? মুজিব, আওয়ামী লীগ? কি কি ধারা ছিলো ওই ঘোষণায় যা হুবহু প্রকাশ পাইলে অনেকের প্রোপাগান্ডার রাজনীতি ইন্তেকাল ফরমাবে? উত্তরটা আমি জানি না।

ত্রিশোংকু ভাই, এর আগে ব্লগজগতে মরহুম বাবুয়া সাহেবও আমাদের ইতিহাস গেলানোর চেষ্টা করছিলেন। তার পরতে পরতে ছিলো ভুল। কারণ ওইটা ছিলো আসলে পরিকল্পিত মত প্রচারের অপচেষ্টামাত্র। কৌশলে ফ্যাক্ট টুইস্টিং, কিছু বিভ্রান্তি ঢুকিয়ে দেওয়া। আপনার বয়স, আপনার যে পরিচিতি আপনি ব্লগে দিয়েছেন তাতে আপনি অবশ্যই সবার শ্রদ্ধার, আমারও। এবং যে অবতরণিকা আপনি এই সিরিজের প্রতিটা পোস্টে রিপিট করছেন তাতে কোথাও আপনি এই দাবি করছেন না যে এইটাই ইতিহাস এবং নিরপেক্ষ ইতিহাস। ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণেও অনেক স্মৃতি ব্যক্তির নিজস্ব অনুধাবন ও পারিপার্শ্বিকপ্রভাব দুষ্ট হয়। যদি ইতিহাসের সঙ্গে তা সংঘাতপূর্ণ হয়, সে জায়গাটায় সেই সংঘাতটা মেটানো অত্যন্ত জরুরী। আপনার কিছু প্রতিমন্তব্যের ধরণ আমাকে আরেকটু বেশী আকৃষ্ট করে তুলেছে এই পোস্টটার প্রতি। আগেই বলেছি, আমি ধরে ফেলেছি আপনি কোন লাইনে এগোবেন। এক্ষেত্রে আমাকে ঠেকানোর একমাত্র উপায় আওয়ামী লীগের ধামাধারী বানানো। কিন্তু আমি প্রয়োজনে দলিলপত্র নিয়েই কথা বলবো, যা স্বীকৃত। কোনো কোনো জায়গায় আবেগের রাশ টানতে অক্ষম হয়েছি হয়তো, সেটা নিশ্চয়ই ক্ষমাসুন্দর চোখে দেখবেন।
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪২

লেখক বলেছেন: কিন্তু সেইটারে আপনি যেই কাতারে তুলতে চাইতেছেন সেইটা ফিরোজ মাহবুব কামাল, ইসা খানরা গত দুইযুগ ধরেই করে আসতেছে। আপনি অবচেতনেই তাদের অনুসরণ করতেছেন।

-আমার মনে হচ্ছে যে আপনি আমার পোষ্টটি পুরো পড়েন নি। আপনাকে আমি কিছুই বানাতে চাইছিনা। আপনার প্রতি আমার সম্ভাষন তা বলেনা(আমি আপনার জ্ঞান, প্রজ্ঞা, পরিশ্রম করার ক্ষমতা এবং সর্বোপরী মুক্তি যুদ্ধের প্রতি অনুকরনীয় ভালবাসার প্রতি অপরিসীম শ্রদ্ধা রেখে)। অপ্রয়োজনে আপনাকে ওপরে তুলে আমি কোন ভাবেই লাভবান হব না। শিরোনামে দেয়া এজেন্ডা ছাড়া আমার কোন এজেন্ডা নেই।


আমাদের ইতিহাস '৭২ থেকে এ পর্যন্ত বিকৃত হয়ে এসেছে। তা না হলে আমি এ লখা লিখতামও না আর আমার ও আপনার এই বয়ান সংঘটিত হ'তনা। তাই আমাদের লিপিবদ্ধ ইতিহাসকে না হয় নাই আনি। স্মৃতি চারনেই সীমাবদ্ধ থাকি?

আমার মনে হচ্ছে হয় আপনি অত্যন্ত ব্যস্ত না হয় মানসিকভারে বিপর্যস্ত। তাই আমার উদ্দেশ্য নিয়ে আপনার সংশয় হচ্ছে। আপনার যে পরিমান বুদ্ধি তা দিয়ে আমার উদ্দেশ্য বের করা আপনার জন্যে মিনিট খানেকের ব্যাপার।

৫২. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:২৫
ও.জামান বলেছেন: যে লোক ধামা ধরেই আছে তাকে কি আর নতুন করে ধামাধারী বানানোর প্রয়োজন আছে? বিকৃত রুচির মানুষ পর্ণো সাইট চালায়। বিকৃত রুচির মানুষ বিকৃত ইতিহাস তৈরি করে। বিকৃত রুচির মানুষ বিকৃত ভাষায় কথা বলে। এসব কুরুচিপূর্ণ কথাবার্তা এখানে না বলে ঐসব পর্ণো সাইটে বললে আমাদের জন্য ভাল হয়। ভাষার মাসে মাতৃভাষার এই অপপ্রয়োগ দাঁতে দাঁত চেপেই সহ্য করলাম।

ত্রিশোঙ্কু ভাই, প্লিজ লেখাটা সেভ করেন। ইনারা এই ব্লগের মা-বাপ। এই পোস্টগুলো খুব শীঘ্রই গায়েব হয়ে যাবে। আপনার সাথে দেখা করতে ইচ্ছা করছে।

কি জানেন, ৭০০ বছর ধরে বৃটেনের ইতিহাসে উইলিয়াম ওয়ালেস কে ভিলেন বানিয়ে স্কটল্যাণ্ডের ইতিহাস লিখে যাওয়া হয়েছে। এমনকি আমরাও পড়েছি স্কটল্যাণ্ডের মা-বাপ হচ্ছে রবার্ট ব্রুস। ইংরেজদের বিরুদ্ধে যেন তিনিই একমাত্র স্কটিশ যোদ্ধা। তার অধ্যাবসায় আমাদের পাঠ্য। অথচ ৭০০ বছর পর বিশ্ব জানলো আসলে সত্যিকার স্কটিশ বীর ছিলেন উইলিয়াম ওয়ালেস। তৈরি হলো ব্রেভহার্ট এর মতো কালজয়ী চলচিত্র।

এইসব বিকৃতভাষী, বিকৃতরুচির ইতিহাস লেখকের লেখা ইতিহাসও এক সময় বাতিল হয়ে যাবে। টিকে থাকবে সত্যিটাই। আপনি লিখুন। অন্যদের লিখতে বলুন। সবার মুখে মুখে সত্যি ইতিহাসটা টিকে থাকুক।
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪৭

লেখক বলেছেন: স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ইতিহাসে আজ যাদের কোন নাম খুঁজে পাবেন না এক কালে তারাই তা প্রতিষ্ঠা করেছিল ও কেন্দ্রটি।। কিছুক্ষন আগে ও কথা দিয়েই আমি আমার ৫ম পর্বের সূচনা করেছি।

৫৩. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৩৮
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: ও.জামান কথা হচ্ছে আমার আর ত্রিশোংকুর। আমি তো মগজধোলাইর শিকার কোনো ছাগুর সঙ্গে ইন্টারঅ্যাকশন করি না। হুদাই ফাল পাইড়া নজর আকর্ষণের চেষ্টা কেনো?
৫৪. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৪৯
রোহান বলেছেন: @ও জামান: খামাখা ভাষার চেতনার তেনা না পেঁচিয়ে আলাদা একটা পোষ্ট দিয়ে পিয়াল ভাই এর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এ পর্যন্ত যে কটি পোষ্ট আছে সেগুলানের কোন কোন গুলোতে আপনার আপত্তি, সেগুলোর কোনো কাউন্টার তথ্য থাকলে দেন। অমি পিয়ালের যদি কিছু বলার থাকে বললো না বলার থাকলে বললো না। আপনেরা এতো ইতিহাস জানেন তো সব গল্প পিয়ালের হাত থিকা জানতে হয় কেন? আপনের মতো সাচ্চা ঐতিহাসিকরা এগিয়ে আসলেই তো আর সঠিক ইতিহাস জানতে ৭০০ বছর লাগে না.... রেফারেন্স থাকলে দেন নাইলে আজাইড়া তেনা পেচাইয়েন না...
৫৫. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:৩৮
হাসান শহীদ ফেরদৌস বলেছেন: @রোহান ভাই, একটা মুভি দেখছেন? Enemy of the state. সেখানে একটা খুনের সাক্ষীকে সরাতে না পেরে গোয়েন্দারা শুরু করে তার নামে কলংক ছড়ানো। সেখানে খুব সুন্দর করে কথাটা বলেছিল যে, তাকে সরাতে না পারলে তার বদনাম কর, ক্রেডিবিলিটি িনিয়ে নাও, যেন সে যখন কথা বলবে, কেউ জেন তা বিশ্বাস না করে।

এদের সামর্থ নাই তথ্য দিয়ে কথা বলার, প্রমান দিয়ে যুক্তি দেবার। এদের দৌড় তেনা পেচানো পর্যন্তই।
৫৬. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:৪৪
হাসান শহীদ ফেরদৌস বলেছেন: @লেখক: ষোল শহর আসার পর তার গাড়ীটিকে থমায় মেজর বফিকুল ইসলাম । তিনি তখন ই পি আরে প্রষনে ছিলেন। গাড়ি থামিয়ে মেজর রফিক ঢাকার অবস্থা জানান জিয়াকে। কারন ওঅরলেসে ততক্ষনে বংগবন্ধুর ডিক্লারেসন অফ ইনডিপেনডেন্স পৌঁছে গেছে।

-----

ওটা রফিক ছিলেন না। ক্যাপ্টেন খালেকুজ্জামান ছিলেন।
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৫৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।
আমি আরেকবার টেইল অফ আ মিলিওন পড়ে যাচাই করে দেখি। আপনি সঠিক হলে এবং আমার এডিটিং প্যানেল কাজ করা শুরু করলে আমি ঠিক করে দেব।

গত পরশু রাত থেকে ছয়টি ব্রাউজার ও ৪ টি কমপিউটার দিয়ে চেষ্টা করেও এডিট করতে পারছিনা।

০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৪৫

লেখক বলেছেন: আ টেল অফ মিলিওনস পাইনি, বাংলাটা, লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে পেয়েছি। আপনি ঠিক।

পৃষ্ঠা ৭৭/৭৮ তে বর্নিত আছে। এ মুহুর্ত পর্যন্ত আমার এডিটিং প্যানেল ঠিক হয় নি। হ'লেই শুধরে দেব।

আসলে আমি সমস্ত রেফারেন্স থেকে সজ্ঞানে দুরে থাকছি, পাছে স্মৃতিতে ইতিহাসের ভেজাল মেশে। আর পরে যা জেনেছি তাও লিখছিনা। যেমন হান্নানই যে প্রথম বাংলায় স্বাধীনতার ঘোষনা দেন তা এখন জানি কিন্তু স্বাধীনতার ঘোষক বিতর্কের আগে পর্যন্ত তা জানতাম না। সোয়াত জাহাজ থেকেই যে মাল খালাস করতে জিয়া যাচ্ছিলেন তা ১২ জন (+১) অফিসারের ফাঁসি হবার মাস খানেক পর লক্ষ প্রানের বিনিময়ে পড়ে জেনেছি। সেটাও আমি "সম্ভবতঃ" বলে রেখেছি যেহেতু '৭১ এ ঠিক করে জানতাম না। "সেই সময়ের" বাইরের জ্ঞান থেকে দুরে থাকতে চেষ্টা করছি। আমার ভুল হবার পেছনে এটাও একটা বড় কারন।

সাথে থেকে থেকে ভুল শুধরে দেবার জন্যে অনেক ধন্যবাদ।

৫৭. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:০৭
ও.জামান বলেছেন: অমি রহমান পিয়াল, আমিও লেখকের সাথেই কথা বলছি। আর একটা ভুল করেছেন। আমি আপনার ভাই না।
৫৮. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:০৯
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: লেখক তার নিজ জীবনের ঘটনা বর্ননা করছেন|

প্লিজ, কেউ চাপ প্রয়োগ, ব্লগীয় মাস্তানি বা দাদাগিড়ী করবেন না|
৫৯. ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:২৫
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: মি: ত্রিশোনকু


প্লিজ, কারো চাপে নতি স্বীকার নয়, আমরা সাধারন পাঠকরা আপনার সাথে আছি| অনেক দলীয় ক্রীতদাস তাদের মন পছন্দ না হলেই অনেক কিছু বলবে|

আপনি সত্য বলছেন, আমরা সত্য শুনছি, আমাদের স্বাধীনতার সত্য| আমাদের হৃদয়, মেধা ও মনন বলবে কোন সত্যটা বুকে ধরবো আর কোনটা ধরবো না|

যুদ্ব হলেই অন্যের স্ত্রী-কন্যাকে গণিমতের মাল মনে করে ভোগ করার ফতোয়াও দিলেন উপড়ের এক ব্লগার.........!!!!!!!!!

আর "ইনডেমনিটি" নিজেদের পক্ষে গেলে জায়েজ, ৫ বছর পর আরেক "ইনডেমনিটি" নিজেদের বিপক্ষে গেলেই হারাম সে ফতোয়াও দিলেন উপড়ের এক ব্লগার.........!!!!!!!!!

হায়রে মানুষ, মানবতার উপড়ে "দল" বড়, তাহার উপড়ে নাই........!!!!!!!!
০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:০৭

লেখক বলেছেন: "কারো চাপে নতি স্বীকার নয়, আমরা সাধারন পাঠকরা আপনার সাথে আছি| "

-আমি চাপ বোধ করছিনা। উপভোগ করছি।

৬০. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:১৪
মনজুরুল হক বলেছেন:

গত রাতে বলে গিয়েছিলাম..........."এবং আপনি ওই "অনেক কিছু উহ্য রেখে যাওয়ার" কারণে ইতিহাসের এই ট্যুইস্ট কারো কারো কাছে উপভোগ্য হচ্ছে। সেই বর্ণচ্ছটা আপনি দেখে হয় উপভোগ করছেন, নয়ত "নিরপেক্ষ" বলে এড়িয়ে যাচ্ছেন। এ কারণেই বলছিলামঃ ইতিহাস কখনোই নিরপেক্ষ হয়না, হতে পারেনা"।

আজ এসে দেখলাম ইতিহাসের ট্যুইস্ট ভাল ভাবেই শুরু হয়েছে। এমনটি হবে আন্দাজ করেই লেখককে দু'কথা বলেছিলাম।

এখানে বার বার একটি কথা উঠে আসছে...."ব্লগীয় মাস্তানী, চাপ প্রয়োগ, দাদাগিরি".. লজিক-ডিবেটকে কারা "চাপ প্রয়োগ" বলছেন? কনভার্সেশনের আগে যাদের কাছে পোস্টটি সুখদায়ক হয়ে উঠেছিল তারাই। কিন্তু কেন? যুক্তি-পাল্টা যুক্তিকে "চাপ প্রয়োগ" বা "দাদাগিরি" বলা হচ্ছে কেন?

ও.জামান বলছেনঃ"সবাই শুধু আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের আলোকিত দিকটাই দেখায়। অন্ধকার দিকটাও দেখা প্রয়োজন"।
@ও.জামান। যুদ্ধ যদি স্বাধীনতার হয় তাতে কোন অন্ধকার দিক থাকেনা। বিস্তারে গেলাম না।

এর উত্তরে লেখক বলছেনঃ"সাথে থাকুন। সাহস দিন। শুধু ভাবছি আমার এই সিরিজটা আবার যেন গায়েব না হয়ে যায়।" কেন ভাই, আপনার এমন মনে হওয়ার তো কোন কারণ দেখছিনা। আপনি মোটেই আসমান থেকে পড়া কোন অলীক ইতিহাস বলছেন না বা ব্যক্তিরোষ কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী কিছু বলছেন না, তাহলে এই পোস্ট "গায়েব" হতে পারে এমন আশংকা কেন? আপনার এই আশংকা দেখেই "বল যোগানোর" উছিলায় পোস্টের সরলরৈখিকতা বাধাগ্রস্থ করা হচ্ছে। আশা করি বুঝতে পারছেন। ভাগ্যিস আপনি চাপ প্রয়োগের বায়বীয় শলা-তে প্রভাবিত না হয়ে বলেছেন..."আমি চাপ বোধ করছিনা। উপভোগ করছি।" তা না হলে আরো কিছু বলতাম।
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:০৪

লেখক বলেছেন:

"সাথে থাকুন। সাহস দিন। শুধু ভাবছি আমার এই সিরিজটা আবার যেন গায়েব না হয়ে যায়।" কেন ভাই, আপনার এমন মনে হওয়ার তো কোন কারণ দেখছিনা। আপনি মোটেই আসমান থেকে পড়া কোন অলীক ইতিহাস বলছেন না বা ব্যক্তিরোষ কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী কিছু বলছেন না, তাহলে এই পোস্ট "গায়েব" হতে পারে এমন আশংকা কেন?"

অত্যন্ত যৌক্তিক কারন আমার আছে।

একটা পোষ্ট ছেড়েছিলাম। তার শিরোনাম ছিল "জিয়াউর রহমান ও লিটন" । সেটর শুরু ছিল: "প্রয়াত জেনারেল জিয়ার দুটি ছেলেই পড়ালেখায় অঘা ছিল। জিয়া যখন বাংলাদেশের হর্তা কর্তা বিধাতা তখন তার দুই ছেলেই ফেল করে বসল, একসাথে। " এই পোষ্টটিতে আমি শুধুই সত্য কথাই তুলে ধরেছিলাম। কতৃপক্ষ পোস্টটিকে গায়েব করে দেন।

ভাগ্যিস আপনি চাপ প্রয়োগের বায়বীয় শলা-তে প্রভাবিত না হয়ে বলেছেন..."আমি চাপ বোধ করছিনা। উপভোগ করছি।" তা না হলে আরো কিছু বলতাম।

বলতেন না কখনোই। চল্লিশ হাজার নিবন্ধিত ব্লগারের মধ্যে অন্ততঃ আপনি জানেন যে এর চেয়ে কত কোটিগুন চাপ আমাকে সহ্য করতে হয়েছে (বাধ্য হয়েই বেশীরভাগ সময়ই নিজের নির্বুদ্ধতা ও প্রাকটিক্যাল জোকের প্রতি অস্বাভাবিক আকর্ষনের জন্য )।
___________________________________________

আপনি আমার পোষ্ট শেষ হওয়া পর্যন্ত যদি না থকেন তা হলে খবর আছে। যদি মরেও যান কবর থেকে উঠিয়ে এনে মন্তব্য লেখাবো।

৬১. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:২৭
সাইবেরিয়ান কোকিল বলেছেন: যুদ্ধ যদি স্বাধীনতার হয় তাতে কোন অন্ধকার দিক থাকেনা।

যারা উপরের কথাটা বুঝে না, তারা দেশপ্রেম কি সেটাই জানে না।
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৩৩

লেখক বলেছেন: সহমত। পুরো সময়টাই অতি মাত্রায় আতংকিত থেকেও কেমন যেন অস্বভাবিক ঔজ্বল্য অনুভবে ছিল সে সময়।

৬২. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:৩১
অভিমানী মেঘ বলেছেন: পুরোটা পড়লাম।

চলতে থাকুক। জানার প্রয়োজন আছে।


জহির রায়হানের অন্তর্ধানের সময় মিরপুরের যুদ্ধের ওপর একটা ব্লগে আমার বেশ কিছু মন্তব্য আছে। পড়লে ভাল লাগবে আশা করি।
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৩৫

লেখক বলেছেন: আমি যাচ্ছি আপনার ব্লগে। আপনার ঐ পোষ্টেই হয়তোবা মন্তব্য করেছিলাম।

৬৩. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:১৮
অভিমানী মেঘ বলেছেন: জহির রায়হানের অন্তর্ধানের সময় মিরপুরের যুদ্ধের ওপর একটা ব্লগে আমার বেশ কিছু মন্তব্য আছে। পড়লে ভাল লাগবে আশা করি।

বলতে চাচ্ছিলাম, লিংক বা পোস্টের নাম দিলে ভাল হত।
০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৩৭

লেখক বলেছেন: মনে নেই। জহির বায়হান, বিহারী, ডাঃ আনিস, কিরো, এসব লিখে কনটেন্ট ভিত্তিক সার্চ দিয়ে দেখতে পারেন।

৬৪. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৬:১৯
ও.জামান বলেছেন: @মনজুরুল হক, আপনার মত সিনিয়র ব্লগারের সাথে সবিনয়ে দ্বিমত পোষণ করেই বলছি,
- হত্যা যদি স্বাধীনতা অর্জনের জন্য হয় তাহলে তাতে কোন অন্ধকার দিক থাকে না।
- হত্যা যদি হয় মোহাম্মদপুরের একটি অবাঙ্গালীর বাড়ি দখলের জন্য আর স্বাধীনতা অর্জনের চাদর দিয়ে যখন তাকে ঢেকে দেয়ার চেষ্টা করা হয় তখন তা হয় অন্ধকার।
৬৫. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৮:৩৫
রোবোট বলেছেন: লেখক
"মার ডালো'। এইটা কি কোন বাংগালী বলসিলো? ৭১এ বাংলাদেশের লোক উর্দুতে কথা বলতো?
আরেক পরবে লিখলেন ২১শে মারচ পাকিস্তানের প্রজাতন্ত্র দিবস। ঐটা ২৩শে মার্চ।
আপনার বিবরণীতে বিহারীদের গুলি-টুলি চালানোর কোন রেফারেন্স পাইলাম না। আমিতো জানতাম পাকিসতান আরমি ওদের ২৫ তারিখের আগে অনেক অস্ত্র-শস্ত্র দেয়।
রোহান
এই পোস্টে গরুর মাংস নিয়া আলাপ না করলে হয় না।



০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৪৮

লেখক বলেছেন: "মার ডালো'। এইটা কি কোন বাংগালী বলসিলো? ৭১এ বাংলাদেশের লোক উর্দুতে কথা বলতো?

-আমি চাচ্ছিলাম না যে এ কথাটা কেউ আমাকে জিজ্ঞেস করুক। মেজর জিয়া তখন ভাল বাংলা বলতে পারতেন না বলে শুনেছি।


"আরেক পরবে লিখলেন ২১শে মারচ পাকিস্তানের প্রজাতন্ত্র দিবস। ঐটা ২৩শে মার্চ।"

-আরেক জায়গায় লিখেছি ২১/২৩। ২১ লিখে বোধহয় "সম্ববত:" লিখেছিলাম। সে খ্ক্ষেত্র ঘটনাটি ২৩শে মার্চের। আমি ঠিক করে দিতাম কিন্তু আমার এডিটিং প্যানেল কাজ না করায় পারছিনা। আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ শুধরে দেবার জন্যে।

আপনার বিবরণীতে বিহারীদের গুলি-টুলি চালানোর কোন রেফারেন্স পাইলাম না। আমিতো জানতাম পাকিসতান আরমি ওদের ২৫ তারিখের আগে অনেক অস্ত্র-শস্ত্র দেয়।

-আপনি সঠিক জানতেন। আসছে পরে।

৬৬. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:০০
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: @মনজুরুল সাহেব:

আমি চুপচাপ শুনতে চাইছি ঘটনা, লেখককে কোন মনস্তাত্বিক চাপ প্রয়োগ ছাড়া|

আপনার ভান্ডারে নীজ জীবনের ঘটনা থাকলে লিখুন, আমিও সেখানে গিয়ে চুপচাপ শুনবো|

আর "ব্লগীয় মাস্তানী, চাপ প্রয়োগ, দাদাগিরি".. কথাগুলো টেনে নিজের কাধে কেন নিলেন.......??

আমিতো কারো নামতো উল্লেখ করি নাই তবে কি আপনার অবচেতন মনই আপনাকে জানান দিচ্ছে আপনি "ব্লগীয় মাস্তানী, চাপ প্রয়োগ, দাদাগিরি".. দোষে দুষ্ট........???

উপড়ের কারো কমেন্টই কী আপনার কাছে "ব্লগীয় মাস্তানী, চাপ প্রয়োগ, দাদাগিরি" মনে হয় নাই.......?? বুকে হাত দিয়ে বলুন|
৬৭. ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:০৩
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: নাহ, উদ্দেশ্য নিয়া কোনো সংশয়ে ভুগি না, প্রত্যেকেই কোনো না কোনো উদ্দেশ্য নিয়াই লেখালেখি করে। সেই অর্থে আপনার উদ্দেশ্য স্মৃতিচারণ। মানসিক বিপর্যস্ততার কিছু নাই, ওইটা যেই সময়ের মন্তব্য সেটা সাময়িক চাপে পড়ে করা, সেটা থেকে বেরিয়েও এসেছি। আর ব্যস্ততা কিছু আছে, সেটাও মুক্তিযুদ্ধ কেন্দ্রিক, প্রতিনিয়ত চেষ্টা করি জানার আর শেখার। আমি শেখার চেষ্টা করছি আপনার পোস্ট থেকে। এটুকুই। মনজুরুল হক ভাই অনুরোধ করেছিলেন তাই মন্তব্য করেছি, হয়তো সেক্ষেত্রে আবেগের বাড়াবাড়ি প্রকাশ ছিলো, নিশ্চিত থাকুন আগামীতে মন্তব্য করছি না আর। তার আগে একটা কথা বলে যাই। আপনি কি জিয়ার নিজের নামে স্বাধীনতা ঘোষণার পেছনের কাহিনীটুকু জানেন? লে. কর্ণেল নুরুন্নবী বীরবিক্রমের একটি সাক্ষাতকার নিয়েছিলাম। তাতে আমার গুতোগুতিতে কিছুটা বলেছিলেন তিনি। '৭১ সাল সিআইএর পক্ষে গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে অভিযুক্ত মোররাজী দেশাই র ভাতিজী জামাই মাহমুদ হাসান তখন চট্টগ্রাম থাকতেন।

এ বিষয়ে নুরুন্নবীর বক্তব্য বেশ চমকপ্রদ। ওই লোকের পুরো নাম মাহমুদ হাসান। '৭০ এর নির্বাচনের পর থেকেই সে চট্টগ্রাম হোটেল আগ্রাবাদে স্থায়ী আবাস নেয়। লন্ডনে পড়াশোনার সুবাদে মোররাজী দেশাইর ভাতিজির সঙ্গে প্রেম ও বিয়ে। বাংলাদেশের লোক সঙ্গীতের উপর গবেষণা ও তথ্য চিত্র নির্মাণের কথা বলে সে স্থানীয় মহলে বেশ খাতির জমিয়ে তোলে। তার গুনমুগ্ধদের মধ্যে ছিলেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র খ্যাত বেলাল মোহাম্মদসহ অনেকেই। বেগম মুশতারী শফির স্মৃতিকথায়ও উল্লেখ আছে মাহমুদের। কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে মেজর জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষণায় উদ্বুদ্ধ করার ব্যাপারে অগ্রগণ্যদের একজন ছিলেন মাহমুদ। জিয়া বেশ কয়েকবারই বিভিন্ন উপলক্ষ্যে এই গল্প করেছেন তার অধীনস্থদের কাছে। নুরুন্নবীর ভাষ্য অনুযায়ী মাহমুদ জিয়াকে হাস্যকর যুক্তিতে কনভিন্স করেন এই বলে যে পূর্ব পাকিস্তানে সিআইএর দায়িত্ব পালন করছেন তিনি এবং জিয়া যদি একটি বিপ্লবী পরিষদ গঠন করেন এবং নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা দেন তাহলে ফিলিপাইন থেকে একদিনের মধ্যে ৭ম নৌবহরকে তার সাহায্যে নিয়ে আসবেন মাহমুদ। ২৭ মার্চ জিয়ার প্রথম ঘোষণাটার এটা অন্যতম রহস্য। যদিও উপস্থিতদের চাপে এরপর তিনি ঘোষণা পাল্টান। মাহমুদ জিয়ার ছাড়পত্র, আগ্রাবাদ হোটেলের পিআরও এবঙ ক্যাশিয়ার ফারুক ও গনি এবং ইস্ট বেঙ্গলের দুজন সিপাই নিয়ে কক্সবাজার রওয়ানা দেন জনৈক উকিলের সঙ্গে দেখা করতে। এরমধ্যে মীর শওকত এবং খালেকুজ্জামানও রওয়ানা হন। পথে দুলহাজারায় একটি ব্যারিকেডে না থেমে এগিয়ে যায় মাহমুদের মরিস মাইনর। পরের ব্যারিকেডে উত্তেজিত জনতা চড়াও হয় তাদের ওপর। মাহমুদ বাংলা বলতে পারতেন না, তাকে বিহারী বলে হত্যা করে উন্মত্ত স্থানীয়রা। মাত্র একজন সিপাই প্রাণ নিয়ে কোনো মতে পালিয়ে আসে। কিন্তু জিয়ার দেখা পাননি, কারণ ২৮ মার্চ জিয়া অলি আহমেদকে নিয়ে নিজেই কক্সবাজার যান। বাংলা ভালো বলতে পারেন না বলে তারও একই সমস্যা হয়, কিন্তু চট্টগ্রামের স্থানীয় অলি সে যাত্রা পার করিয়ে নেন তাকে। কক্সবাজার পৌছে সপ্তম নৌবহরের কোনো দিশা পাননি জিয়া। খোজ মেলেনি শওকতেরও। যিনি রিপোর্ট করেন ৭ এপ্রিল।
এই কাহিনীটার সত্যতা জানাতে পারেন?

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:২৪

লেখক বলেছেন: লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে, মেজর রফিকুল ইসলাম, বি পি, পৃষ্ঠা ৮৬-৮৭তে এই মাহমুদের কথা আছে।

এই পরিসরে আপনাকে এইটুকুই শুধু বলতে পারিঃ

মেজর জেনারেল শওকত মেজর জেনারেল মান্নানের সাথে আলাপচারিতায় বলেন যে তিনি এক প্রবাসীর প্ররোচনায় সপ্তম নৌবহরের খোঁজে কক্সবাজার গিয়েছিলেন। সাথে আরেকজন অফিসার ছিল। ওখানে গিয়ে না মাহমুদকে আর না সপ্তম নৈবহরের কোন নিশানা পেয়েছিলেন। বিফল মনোরথে তিনি ফিরে আসেন এবং কালুর ঘাটে প্রতিরোধে যোগ দেন। এজন্যে তাকে তিরষ্কার (reprimand) করা হয়েছিল।

স্থানঃ ফ্ল্যাগ স্টাফ হাউজ, যশোর সেনানিবাস।
কাল: ১৯৭৯।
পাত্রঃ মেজর জেনারেল মীর শওকত আলী, বি পি, জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, ৫৫ পদাতিক ডিভিশন, মেজর জেনারেল আবদুল মান্নান সিদ্দিকী, মাস্টার জেনারেল অফ অর্ডন্যান্স, সেনাসদর।
___________________________________________
"মনজুরুল হক ভাই অনুরোধ করেছিলেন তাই মন্তব্য করেছি, হয়তো সেক্ষেত্রে আবেগের বাড়াবাড়ি প্রকাশ ছিলো, নিশ্চিত থাকুন আগামীতে মন্তব্য করছি না আর। "

আপনাকে ওপরের তথ্যটা দিয়েছি যাতে করে আপনি আমার ব্লগে নিয়মিত গতায়ত করেন এবং যৌগিক ও বিয়োগিক অবদান রাখেন। তর্ক তো হবেই।

ব্লগের প্রাণই তো হ'ল তর্ক।

আমি আশা করছি যে আপনি আমার পোস্টে আপনার জ্ঞানের ছিটে ফোঁটা ছড়িয়ে যেতে থাকবেন।

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:০০

লেখক বলেছেন: জন্যঃ মেজর জেনারেল মীর শওকত আলী, বি পি।

পড়ুনঃ মেজর জেনারেল মীর শওকত আলী, বি ইউ।

৬৮. ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:০০
রোবোট বলেছেন: পিয়াল ভাই আপনাকে অন থাকার অনুরোধ জানায় গেলাম।
******************************************************
আপনার লেখার (কমেন্ট ৬৭) এই টাইপের একটা ঘটনার কথা মেজর রফিকুল ইসলামের লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে বইটাতে আছে।
০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:০২

লেখক বলেছেন: রোবট,

৬৭ নম্বর কমেন্টের জবাবে লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে বইটার পৃষ্ঠা উল্লেখ করেছি।

অরপিকে অনুরোধ করার জন্যে ধন্যবাদ।

৬৯. ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:০১
রোবোট বলেছেন: আমি ১-২৫ শে মারচে চাটগাঁয় বিহারী নৃশংসতার কথা বলছিলাম@লেখক
০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:০৫

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ রোবট।

৭০. ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৩১
ফিউশন ফাইভ বলেছেন: শিরোনাম দেখে এতোদিন হাই ওঠা প্রবন্ধ ভেবে একরকম এড়িয়ে গিয়েছিলাম সিরিজটা। অনুমান ভুল ছিল। এককথায় বলবো- দুর্দান্ত লিখছেন! সামনের পর্বগুলোও পড়বো আগ্রহ নিয়ে।
০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:০৬

লেখক বলেছেন: আপনাকে স্বাগতম। আর আপনার মন্তব্যটি ছোট্ট হলেও অপুর্ব।

আপনাকে ধন্যবাদ।

৭১. ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৫১
মনজুরুল হক বলেছেন:

@ও.জামান। "হত্যা যদি হয় মোহাম্মদপুরের একটি অবাঙ্গালীর বাড়ি দখলের জন্য আর স্বাধীনতা অর্জনের চাদর দিয়ে যখন তাকে ঢেকে দেয়ার চেষ্টা করা হয় তখন তা হয় অন্ধকার।" এই নিদৃষ্টকরণ এখানে আসছে কি ভাবে? আপনি বলেছিলেনঃ "সবাই শুধু আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধের আলোকিত দিকটাই দেখায়। অন্ধকার দিকটাও দেখা প্রয়োজন"। এখানে মোহাম্মদপুরের অবাঙালির বাড়ি দখলের প্রশ্ন আসে না। সামষ্টিক অর্থ আর খন্ডিত অর্থ ব্যাপারটা নিশ্চই আপনার চোখ এড়ায় নি! অবাঙালির বাড়ি দখল স্বাধীনতা যুদ্ধের অনুসঙ্গ নয়। বোঝা যাচ্ছে আপনি বাক্য ব্যবহারে যত্নবান, তাহলে আমার বলা বাক্যটির ভুল মানে করা অনভিপ্রেত হলো না কি?

আর যদি হত্যার প্রসঙ্গ তোলেনই তাহলে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, আইন-শৃঙ্খলা, ধর্ম, সাংস্কৃতি, চেইন অব কমান্ড এর নামে এই দেশে কত শত হত্যাকে জাস্টিফাই করা হয়েছে নিশ্চই স্মরণে থাকার কথা। সেটা আপনার-আমার চেয়ে এই পোস্টের লেখক অনেক ভাল করেই জানেন। আপনি তার পরিচয় জানেন না বলে অডিয়েন্সে বলে বাহবা দিচ্ছেন। আমি জানি বলে তাকে "সম্ভবত"র বলয় থেকে বের করে ঝেড়ে কাশতে বলেছি।



৭২. ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:১১
মনজুরুল হক বলেছেন:

@ বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত। প্রথমত: আমার নাম মনজুরুল হক, "মনজুরুল সাহেব" নয়। দ্বিতীয়ত আমিও কারো নামোল্লেখ করিনি, আপনিই বা গায়ে টেনে নিলেন কেন?

"আমি চুপচাপ শুনতে চাইছি ঘটনা, লেখককে কোন মনস্তাত্বিক চাপ প্রয়োগ ছাড়া| " না, আপনি চুপচাপ শুনতে চাচ্ছেন না। আপনি যাকে "চাপ প্রয়োগ" বলছেন সেটা ব্লগে হবে ধরে নিয়েই ব্লগে লেখালেখি হয়। নিরঙ্কুশ প্রশংসাও এক ধরণের "চাপ", এবং আপনি সেটা প্রয়োগ করেছেন। আপনি বলেছেনঃ "০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৩৩ ভয়ের কিছু নেই, আমরা আপনার পাশে আছি| আপনি সত্য বলছেন আমরা সত্য শুনছি| কেউ বাগড়া দিলে, পাশে আছি সবটুকু ভালবাসা ও শ্রদ্বা নিয়েই| " এই যে বললেন-" আপনি সত্য বলছেন আমরা সত্য শুনছি"
এটাই "প্রশংসার চাপ"। লেখক নিশ্চিত নন বলে অনেক কিছু উহ্য রেখে যাচ্ছেন, 'সম্ভবত' বলে ওভার ল্যাপ করে যেতে চাইছেন(সেটা তিনি অকপটে বলেও দিচ্ছেন)। সেখানে আপনি পাঠক হয়েই বলে দিচ্ছেন -আপনি সত্য বলছেন আমরা সত্য শুনছি !! এটা যদি চুপচাপ শুনতে চাইছি হয় তাহলে 'বিগ ব্যং' কোনটা?
৭৩. ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:৫৬
ও.জামান বলেছেন: মনজুরুল হক ভাই, স্যরি। হয়তো আবেগের বশবর্তী হয়ে নিজের অজান্তেই আপনাকে কষ্ট দিয়ে দিয়ে ফেলেছি। আমার প্রিয় মার কাছে শোনা একটি ঘটনা বলছি...

পাকীদের হাত থেকে আমার বাবার জীবন রক্ষা করেছিলেন একজন অবাঙ্গালী মোহাজের। ঢাকায় উনার দুটি বাড়ী ছিলো। একটি ইস্কাটনে অন্যটি মোহাম্মদপুরে। যুদ্ধ শেষে উনার সাথে বাবা ২০ ডিসেম্বর দেখা করেছিলেন হোটেল ইণ্টারকনে। উনি বাবাকে মোহাম্মদপুরের বাসায় আশ্রয় নেয়া আত্মীয়দের খবর নেয়ার অনুরোধ করলে বাবা সেখানে যান। দেখতে পান ওটি একজন বিশিষ্ট বীর উত্তম এর লোকজনের দখলে। আশে পাশে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন কি ভাবে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে বাড়িটি দখল করা হয়েছে। মাঝে কিছু সময় বাদ দিয়ে বাড়ীটি এখনো তাঁদের দখলেই আছে।

আপনি কি এই ব্লগে লিখা আমার মন্তব্যগুলো একটু পড়বেন? তাহলেই বুঝতে পারবেন কেন আমি অন্ধকার দিকের কথা বলেছিলাম। ঐ সময় সম্পত্তি দখলের জন্যও খুন খারাপি হয়েছে এমন মন্তব্য পর্ব-২ এ করেছি (১৬ নং মন্তব্য)। এসব নৃসংসতার ওপর মন্তব্যের ধারাবাহিকতাতেই "অন্ধকার দিকের" কথা এসেছে।

সবাই কি এক রকম হয় ভাই? আমি একটু বেশি রকম ভীতু। জীবনে কখনো মুরগী জবাই করতে পারিনি। নটরডেম কলেজে ব্যাঙ কাটতে গিয়ে ফিট হয়ে গিয়েছিলাম। আপনাদের মত এত সাহসী ব্লগারের ভিড়ে একজন ভীতু কাপুরুষকে না হয় একটু সহ্যই করলেন।
৭৪. ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৩১
ও.জামান বলেছেন: মনজুরুল হক ভাই, আরেকটা বিষয়-

সামষ্টিক অর্থ আর খন্ডিত অর্থ ব্যাপারটা নিশ্চই আপনার চোখ এড়ায় নি!

আসলেই চোখ এড়ায় নি। উত্তর দেব কি দেবনা ভাবছিলাম। এই সামষ্টিক অর্থ আর খন্ডিত অর্থ ব্যাপারটা কিন্তু আমাকেও বিব্রত করে। শেখ মুজিব সমস্টিক ভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিয়ে গেলেন আর খণ্ডিত ভাবে লুটি-পাটি যোদ্ধারাও দায়মুক্ত হয়ে গেল।

(এইবার নিশ্চই ছাগু/ছাগল/মগবাজারী গালি খাবো।)
৭৫. ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪৭
ত্রিশোনকু বলেছেন: ও জামান,

আমরা বাহাত্তরে থাকতাম ১/৭ আসাদ এভিনিউতে। আসাদ গেট দিয়ে ঢুকে হাতের ডানের প্রথম বাড়িটায়। একটা বাড়ির পরেই থাকতেন মীর শওকত আলী। আপনি তার কথা বলছেন নাতো?

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের আগে আগে গুলশান লেকের পার দিয়ে রাস্তায় যাচ্ছিলাম। রাস্তাটি হঠাৎ করে শেষ হয়ে যায় একটা বাড়ির গেটে। আমার কাছে খুবই অস্বাভাবিক লাগে। গেটের ফাঁক দিয়ে ঢুকে বাড়ির সামনে কর্মরত মালীকে জিজ্ঞেস করি এটা কার বাড়ি। মালী উত্তর দেয় জেনারেল শওকতের। আশে পাশের লোকদের জিজ্ঞেস করলেও তারা ঐ একই নাম বলে। রাস্তা আর বাড়ির নাম নোট করে পরদিন আমি মহাখালী রাজউকের অফিসে যাই। এস্টেট দেখাশোনা করে এমন এক ব্যক্তিকে (নামটা সম্ভবতঃ মেহেদী) বাড়ির ঠিকানা দিতেই উনি বলে ওঠেন " ওখানে তো মীর শওকৎ সাহেব থাকেন, সামনের রাস্তাটা বেদখল করে বাড়ির অংশ বানিয়েছেন।" গুলশান এভিনিউ কিন্তু তার নামে এখন।
৭৬. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:০৯
ও.জামান বলেছেন: না ত্রিশোনকু ভাই, মীর শওকত আলী সাহেব না। আরো ভয়ঙ্কর কেউ। নাম নিতে এখনো ভয় পাই।
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:০৬

লেখক বলেছেন: জানতে পেরে আস্বস্ত হলাম।

৭৭. ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:১৯
পারভেজ বলেছেন: ইতিহাসের অনেক জরুরী একটা অংশ নিয়ে জানতে পারছি অনেক কিছু।
ধন্যবাদ আপনাকে।
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:১১

লেখক বলেছেন: যদি সত্যি পান কিছু সেরকম আমার এই TRASH থকে, তাহলে আন্তরিকভাবেই আনন্দিত হব।

৭৮. ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৩১
সুবিদ্ বলেছেন: ভাবির কথাটা অমূল্য.........

পোষ্ট তো বটেই এর মন্তব্যগুলোও অনন্য করে তুলছে সিরিজটাকে

সাথে আছি........
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:০৭

লেখক বলেছেন: সুবিদ্,

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

৭৯. ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:২৫
রাজর্ষী বলেছেন: বাহ সিরিজে সাথে সাথে মন্তব্যগুলোও খুবই গুরত্বপুর্ন। আমি প্রথমেই পক্ষ নিয়ে নিলাম, একজন বাংগালি হিসাবে সবসময় আমার একটা পক্ষ থাকবে।
ইতিহাস নিরেপেক্ষ হয়না। ২য় বিশ্বযু্দ্ধে আমরা খালি জার্মানদের নৃশংসতার কথা পড়ি। মিত্রপক্ষকি কোন যু্দ্ধপরাধ করানি? জাপানে আনবিক বোমা ফেলাটাও তো দেখি মিত্রপক্ষের দোষ হিসাবে না দেখিয়ে আমেরিকার, আর ট্রুম্যানের দোষ হিসাবেই চিত্রিত করা হয়। আমাদের নিরেপেক্ষ চিন্তাশীলদের চিন্তার উপাদান হিসাবে রেখে দিলাম।
যুদ্ধে হত্যা নৃশংসতা হয় উভয় পক্ষ থেকেই। আাবার মানুষের মহানতম জিনিষগুলোও এসময় বের হয়ে আসে উভয় পক্ষ থেকেই। আমরা বিহারীদের বাংগালিকে রক্ষা বা বাংগালীদের বিহাহীকে রক্ষার অনেক অভিজ্গতার কথা জেনেছি। ইতিহাসের জন্য এগুলো এক্সেপশন। আর মানবিকতার জন্য এসব সহজাত। ইহুদী নিধনের মাঝেও জার্মানদের মাঝে এমন অনেক এক্সেপশান ছিলো। কিন্তু তারপরও ইতিহাস কোনটা। আপনার আমার অভিজ্গতাই ইতিহাস নয় কারন এটা খন্ডিত। ইতিহাস হবে সামগ্রিক। ইতিহাস হবে বিজয়ী পক্ষের। সুতরাং আপনার সব ব্যক্তিগত স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি ইতিহাস হলো, ৭১ এর যুদ্ধে পাকিরা ছিলো হানাদার এবং অত্যাচারী আর আমরা প্রতিরোধকারী। মানবতার পতাকা আমাদের হাতে ছিলো। এখানে নিরেপেক্ষতার কোন স্থান নেই। বিশেষ করে এটা যখন আমাদের স্বাধীনতার যুদ্ধ। খুব খিয়াল কৈরা কিন্তু।
আমেরিকার সেনাদের ইরাকের বর্বতরা রিসেন্ট উদাহরন দিয়ে ৩৫ বছর আগের হিসাব বদলানো যাবে না, এসব আসলে ক্ষমতাবান আমেরিকার কালচারাল হেজিমনির আরেকটি অংশ । কৈ আমেরিকা তো ৩৫ বছর আগে তাদের ভিয়েতনামের যুদ্ধের নাপাম বোমার ছোড়ার অপরাধের বিচার করেনা?
এখানে আমরা আপনার স্মৃতিচারন পড়বো আর আশা করবো যে বাংগালী হিসাবে আমরা যেন আরো মানবিক হৈ জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সবার প্রতি। এই ভুখন্ডে মানবতার প্রতি অপরাধ হয়ে আসছে সেই কবে থেকে। দেশভাগের পড়ে হিন্দুদের প্রতি হয়েছে এখানেও তার বিবরন পড়ি। একাত্তরে বিহারীদের প্রতি হয়েছে। কিন্তু এসবের মধ্য দিয়েই আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রামের ইতিহাস এগিয়েছে। আর আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাস কি হবে সেটা বাংগালীরা নির্ধারন করবে, পাকিরা বা পাকি মানসজাতরা নয়।
০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:২৬

লেখক বলেছেন: ০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৫৪

ত্রিশোনকু বলেছেন: এখানে আমরা আপনার স্মৃতিচারন পড়বো আর আশা করবো যে বাংগালী হিসাবে আমরা যেন আরো মানবিক হৈ জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সবার প্রতি।
-অত্যন্ত দামী কথা বলেছেন। আপনাকে ধন্যবাদ।, যিনি রাজা তিনিই ঋষি। আপনাকে ধন্যবাদ অনেক।
sending

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:০৯

লেখক বলেছেন: "ইতিহাসের জন্য এগুলো এক্সেপশন। আর মানবিকতার জন্য এসব সহজাত।"

-অপূর্ব!

৮০. ০৫ ই মার্চ, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৪১
তাহ্‌লীল আহেমদ চৌধুরী বলেছেন: "ঘটনা বলতে বলতে কালুরঘাটের প্রতিরক্ষা ত্যাগের জায়গায় আসলেই তিনি কেমন যেন অন্য মনষ্ক হয়ে যেতেন। একটা অপরাধ বোধ তার চোখে মুখে ফুটে উঠতো। কালুর ঘাট সেতু পার হবার পরই কয়েকটি কল কারখানা ছিল। এখন আছে আকতারুজ্জামান বাবুর একটি ডালডা কারখানা (হোসাইন১৯৫০ থেকে পাওয়া তথ্য) । আর ছিল সেখানে ঐসব কারখানার অফিসারদের জন্যে একটা ক্লাব। ২৬/২৭ তারিখের মধ্যেই সে সব কল কারখানার অবাংগালী অফিসারদের (শ্রমিকেরা মূলত ছিল নোয়াখালী ও কুমিল্লার, অল্প কিছু চিটাগাংএর)কে তারা হত্যা করে। মহিলা ও শিশুদের বন্ধী করে রাখা হয় অফিসার ক্লাবে। প্রতিরক্ষা ত্যাগ করার সময় যখন জিজ্ঞেস করা হয় এই মেয়ে আর শিশুদের কি করা হবে। উপর থেকে আদেশ এসেছিল "মার ডালো'। "

এখানে আমি একটু কনফিউসড। এখানে কি মুক্তিযোদ্ধারা মেয়ে শিশু গোলোকে খুন করেছিল ??

আর আপনার সিরিজটি অসাধারন। এখনও পড়ছি।
২৯ শে মার্চ, ২০১১ রাত ১১:৪৯

লেখক বলেছেন: জ্বি, করেছিল।

২৯ শে মার্চ, ২০১১ রাত ১১:৫৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

 

মোট সময় লেগেছে ১.২৪২৬ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
না প্রেমিক না বিপ্লবী
trishonku@hotmail.com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই