আমার প্রিয় পোস্ট

C:\Documents and Settings\raad\My Documents\Lighting cig..jpg

ঊনসত্তুর থেকে পচাঁত্তুর-'৭১এ যাদের বয়স তিনের কম ছিল তাদের থেকে সামুর কনিষ্ঠতম ব্লগারটিকে উৎসর্গীকৃত-পর্ব১১

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:৫৩

শেয়ারঃ
0 4 0

[si]অবতরনিকা: বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্বংশকারীদের (আমি নির্বংশই বলবো কারন প্রচলিত ধারায় বংশগতি পুরুষ উত্তরাধিকারীর ওপরেই বর্তায়) শাস্তি প্রদানের পর থেকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটার পর একটা পোষ্ট আসছে। যার প্রায় সবগুলোই (গুটি কয়েক ব্যতিক্রম ছাড়া) পক্ষপাত দুষ্ট। অনেক ভাবনা চিন্তা করে আমার নিজস্ব ক্ষতির কথা ভুলে/ এড়িয়ে আমি আমার একান্ত ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরছি, শিরোনামে উৎসর্গীকৃত ব্লগারদের জন্যে। ৩ বছরটা উল্লেখ করার কারন হ'ল যে মানুষের কোন স্মৃতি ৩ বছর বয়সের আগে থাকেনা, সাধারনত। এ পোস্টে আমার ব্যাক্তিগত ক্ষতি গুলোঃ

১। এটা প্রকাশিত হবার পর আমার পরিচয় গোপন থাকবেনা, যা আমি এতদিন সযতনে রক্ষা করেছি।

২। ব্যাক্তিগত ঘটনা বয়ান পাঠকদের কাছে মাঝে মধ্যে আত্মপ্রচার ও পারিবারিক প্রচারের মত লাগবে যা আসলেই অশোভন, অরুচিকর এবং বিরক্তিকর। এগুলোও আমি লুকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে এসেছি আজীবন।

৩। কোন পক্ষাবলম্বন না করে লেখাটা অত্যন্ত দুঃসাধ্য। আমার জন্যে আরো কঠিন। কারন যৌবন যখন সদ্য দেহ-মনে ভর করে আমার সমগ্র সত্তাকে ভীষনভাবে নাড়িয়ে দিচ্ছে, যা কিছুই সুন্দর তারই প্রেমে পড়ছি, ঠিক সে সময়ই বংগবন্ধুর সাথে আমার পরিচয়। নিরপেক্ষভাবে তাঁর ব্যাপারে লিখতে আমার খুবই কষ্ট হবে এবং আমাকে অসাধ্য সাধন করতে হবে।

৪। শুধুমাত্র স্মৃতি নির্ভর লেখার মূল সমস্যাটা হ'ল ভুল স্মৃতি মনের মধ্যে থাকা। যে কেউ যদি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে আমার কোন বক্তব্যে দ্বিমত প্রকাশ করেন, তা'লে তাকে আমি অনুরোধ করবো মন্তব্যে তা তুলে ধরতে। আমার স্মৃতি ঘাটতে সাহায্য করার নেই কেউ আমার হাতের কাছে।

আমি আপ্রাণ চেষ্টা করবো-আমার যে একটা দায় আছে আমার পরের প্রজন্মগুলোর কাছে।

আমার এই দায় শোধ যদি এই প্রজন্মকে আমাদের গৌরবময় আর কলংকলেপিত অতীতকে নিরপেক্ষ ভাবে দেখতে শেখার পথে একপাও এগিয়ে নিয়ে যায়, তা'লেই আমি মনে করবো সেটা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন।

অনুগ্রহ করে মনে রাখবেন এটা আমার একান্তই ব্যাক্তিগত সৃতিচারন। পারিবারিক ঘটনাবলীর চর্বণ। সমগ্র দেশের ব্যাপারটা কখনোই প্রধান্য বিস্তার করবেনা, সে সাধ্য বা যোগ্যতা আমার নেই।

পুরো সময়টার কিছু অনুল্লেখ যোগ্য অংশ বিষদ ভাবে আসবে আবার অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ পরবে, ব্যাক্তগত স্মৃতিচারনের এটা একটা বিরাট সমসয়া। অনুরোধ করি বিষয়টা মনে রেখে আমার এ লেখাটা পড়বেন ।

পুরোটা পড়ার পর অনেকের কাছেই এটাকে "পর্বতের মূষিক প্রসব" বলে মনে হ'তে পারে। তাদের কাছে আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>

পর্ব-১পর্ব-২পর্ব-৩ পর্ব-৪
পর্ব৫পর্ব-৬পর্ব-৭ পর্ব-৮ পর্ব-৯ পর্ব-১০

ফিরে দেখা

ঝাউতলার ট্রেন থামিয়ে

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে একদিন (সময়টা এখন মনে নেই) একটা খবর আমাদের সবাইকে আতংকে দিশেহারা করে দেয়।

ঝাউতলা রেল স্টেশন থকে একটা রেলগাড়ী চিটাগাং আসছিল। পথে শের শাহ কলোনীর (বিহারীদের বাসস্থান)কাছে ওটাকে থামানো হয়। ট্রেন থেকে সবাই কে নামনো হয় এবং আবাল বৃদ্ধ বনিতা সকলকেই জবাই করা হয়। কোলের শিশুটিও রক্ষা পায়নি।

নানাভাবে, নানা সূত্রে খবরটি আসতে থাকে। বিশদ সব বিবরন শুনতে থাকি। ভয়ে আমাদের কারোই অনেকদিন পর্যন্ত খাবার গলা দিয়ে নামেনি। কাছেই হালিশহর। কোন্ দিন যে সেখানকার বিহারীরা এসে আমাদের জবাই করে সে চিন্তাতেই আমরা সারা দিন মান কাটিয়ে দিতাম।

_____________________________________________

বধ্যভুমি ফয়েজ লেক

১৮/১৯/২০ তারিখেই চিটাগাংএর সবাই ছুটে যায় ফয়েজ লেকে। আমাদের বাসার সবাই গেলাম সেখানে। ফয়েজ লেকে ঢোকার রাস্তা দিয়ে এগিয়ে ডানে এখন ছিল টিলার মত একটা জায়গা। পুরো জায়গাটা স্যান্ডেল, জুতো, পরিধেয় বস্ত্র, টুপি ইত্যাদি দিয়ে ছড়ানো। রাস্তা থেকে নেমে একটা ঢাল বেয়ে যেতে হয় গুহার মত একটা জায়গায়।

প্রথমেই চোখে পড়লো মাঝারী সাইজের একটা ছুরি গুহার মুখে ডান পাশে পড়ে আছে। ছুরির আগা থেকে বাঁট পর্যন্ত কালচে রক্ত জমাট বেঁধে আছে। গুহার ভেতরে বড় একটা পাথর। অনেকটা বেদীর মতন। পাথরটার আসল রং ধরতে পারছিলাম না। তখন ছিল শুকনো রক্তের প্রলেপে খয়েরী। গুহাটার ভেতরে আলো ছিল কম। চোখ সয়ে আসতেই চারিদিকে তাকালাম। ছোট্ট একজোড়া স্পন্জের স্যান্ডেল। আমার সবচে' ছোট দু'বছরের বোনটির পায়েও লাগবেনা। কয়েকটা ওড়না, দু'চারটি বোরকা ইতস্তত ছড়ান। গুহার এককোনে চোখ গেল। মানুষের জটলা থেকে দুরে, গোলচে' সাদা মত কি যেন। প্রথমে ভেবেছিলাম পাথর হবে। পরে কি মনে করে যেন কাছে গেলাম। অতি ক্ষুদ্র একটা মাথার খুলি। চামড়া ফেটে হাড্ডির সাথে লেগে আছে। আমি যেন নিশিতে পাওয়া। হাতে তুলে নিলাম। আমার দু'হাতের মধ্যে তা প্রায় এঁটে গেল।

আমার প্রথম সন্তান ভুমিষ্ঠ হওয়ার পর যখন প্রথম তার কাছে যাই, কোলে তুলে নেয়ার আগে মনের অজান্তেই আমার হাত দু'টো দিয়ে তার মাথাটা মেপে দেখেছিলাম, তুলনা করতে কোন মাথাটি বড়। যদিও ততদিনে আমার হাতের চেটো অনেক বড় হয়ে গেছে।


গুহার বাইরে এসে নরোম রোদে চোখ অভ্যস্ত হতেই দেখলাম অদুরে হাজার লোকের ভীড়। কারো বগলের নীচ দিয়ে আবার কারো দু'পায়ের মাঝ দিয়ে এগিয়ে গেলাম। একটা ছড়া। স্বচ্ছ পানি বয়ে চলছে। ছড়ার অপর পাড়টি উঁচূ। বহমান পানির ধার থেকে দেড় মানুষ সমান উঁচু, ৫০ ষাট জন লোক পাশাপাশি দাঁড়ালে যতটুকু জায়গা লাগবে ততটুকু চওড়া একটি স্থানে থরে থরে সাজানো মানুষের খুলি। ভীড় বেড়েই চলছে। অতি কষ্টে ওখান থেকে বেড়িয়ে এলাম(জবাই করেই ক্ষান্ত হয়নি তারা, ধড় থেকে মুন্ডুটি আলাদা করেছে, তারপর সাজিয়ে রেখেছে)।

এরকম খুলির ডিবি ওখানে আরো দেখেছি। কোদাল, শাবল, খুরপি দিয়ে লোক জন পাগোলের মত খুঁড়ে চলছিল।

ফয়েজ লেক এখন ফয়'অস লেক, বিনোদোন কেন্দ্র। ঠিক যেমন ঢাকার শিশু পার্ক। পাকিদের সম্ভ্রমের শেষটুকু হারানোর সেই জ্বলজ্যান্ত নিদর্শন কোথায় গেল আজ? সত্তরে তো কত শতবার গ্যাছি। আমরা যারা '৭১এর জীবন্ত সাক্ষী এখনো, আমরা যারা এখনো পাকিদের অত্যাচারের স্মৃতিতে ভারাক্রান্ত, তাদের বড্ড শান্তি দিত সেই জায়গাটুকু। ওটাকে শিশু পার্ক বানানোর উদ্দেশ্য বের করতে কাউকে রকেট সায়েন্টিস্ট হতে হয় না।

বিশাল সব পয়ঃ ট্যাংক, মানুষের দেহ দিয়ে উপচে' পড়া


ফয়েজ লেক থেকে গেলাম আমরা শেরশাহ কলোনীতে। কলোনীর প্রতিটি ইমারত সারির পেছনে পয়ঃ ট্যাংক লাইন ধরে । লোকে লোকারন্য। সবাই উত্তেজিত, চোখে মুখে চরম জিঘাংসার অভিব্যাক্তি। ভিড় ঠেলে অনেক কষ্টে পৌছুলাম ট্যাংকের ধারে। ট্যাংকের ঢাকনি খোলা। উঁকি দিলেই দেখা যাচ্ছে মানুষের হাত, পা, ধড়। কালচে হয়ে আসা একটি অতি ছোট্ট শিশুর শরীর দেখতে পেলাম। হাঁটু ভাঁজ করা তার পায়ের পাতাটি ঠিক আমার দিকে ফেরানো।

এখনো যখনই ছোট্ট কোন শিশুকে শুয়ে শুয়ে পা ছুঁড়তে দেখি, কেন জানি সে দৃশ্যটা ভেসে ওঠে চোখের সামনে।

শের শাহ কলোনীর ঐ পয়ঃ ট্যাংকগুলো তে কত শত হতভাগ্য নিরীহ মানুষের লাশ যে ছিল, ধারনার মধ্যে আনতে পারিনি। তবে আন্দাজ করেছি, একটা রেলগাড়িতে কত শত লোক থাকতে পারে। লাশগুলো ছিল ঝাউতলা থেকে আসা ট্রেনের মানুষদের।

সেদিন চিটাগাংবাসীদের চোখে, দেহভংগীতে, কথায়, আচার আচরনে যে প্রতিশোধ স্পৃহা দেখেছি তা বর্ণনা করার সাধ্য আমার নেই।

বিহারীরা যদি প্রজন্মের পর প্রজন্ম, ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্যদের নিজেদের গায়ের চামড়া দিয়ে জুতো বানিয়েও দিতে থাকে, তবুও তারা তাদের ঋণ শোধ করতে পারবেনা।

আমি যখন সি এন এনএ আমেরিকান সৈন্যদের নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে থাকতে দেখলাম, বাগদাদ যখন লুট হচ্ছে, বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ যাদুঘর খালি করে ফেলা হচ্ছে, তখন আবার ভারতীয় সেনা বাহিনীর পেশাদারী ভুমিকা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করলাম। একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিধর, সবচেয়ে আধুনিক সেনাবাহিনীর কত কিছু শেখার আছে বিংশ শতাব্দীর একটা গরীব দেশের Rag Tag Armyর কাছ থেকে।

হায়রে, পাশ্চাত্য থেকে প্রাচ্যের আজও সভ্যতা শিখতে হয়!


বাগদাদের আমেরিকানদের মত যদি ভারতীয় বাহিনী শুধু দেখেই যেত, চট্টগ্রামবাসীরা বিহারীদের সম্পর্কে শুধুমাত্র বই পত্র পড়ে জানতো।

সেদিন বাসায় ফিরে আমরা সবাই কেমন জানি অপ্রকৃতিস্থের মত আচরন করতে লাগলাম। চুলোয় কোন রান্না উঠলোনা। কারো কোন ক্ষিদে নেই। কেউ বসে আছে সোফায়, কেউ মাটিতে। নড়ছেনা কেউই।ফোন বেজে বেজে থেমে যাচ্ছে। কেউ রিসিভার উঠাচ্ছে না। মুক্তি যোদ্ধার একটা দল এল। কেউ অভ্যর্থনা জানালোনা (অকল্পনীয়), বাসার ভেতর ঘুরে ফিরে চলে গেল তারা।

নির্যাতন যন্ত্রের প্রদর্শনী

ওভার ব্রিজ পার হয়ে টাইগার পাসের পর একটা রাস্তা ডানে গেছে চিটাগাং ক্লাব আর ইনজিনিয়ার্স ইনসটিটিউটের মাঝ দিয়ে। কদ্দুর এগুলেই বাঁয়ের রাস্তা , সার্কিট হাউজ আর নিয়াজ স্টেডিয়ামের মধ্য দিয়ে, একটু পর আবার বাঁয়ে গেছে রাস্তাটি, গিয়ে মিশেছে টাইগার পাস থেকে আসা সোজা রাস্তাটির সাথে । রাস্তা দিয়ে বাউন্ডারি দিলাম যে জমিটুকুর সে জমিতে আছে, চিটাগাং ক্লাব, সার্কিট হাউজ আর ফিল্ড এ্যাম্বুলেন্সের একটা ইউনিট (অধুনা মসজিদুল আল ফালাহ ও আছে এখানে)। এই জমিটুকু ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান আর্মি অধিগ্রহন করে আঠারো শতকের গোড়ার দিকে। শেষে এর অধিকার বর্তায় বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর ওপর। মসজিদুল আল ফালাহর জমিটুকু হোমো নিজের মন্ত্রনালয় (প্রতিরক্ষা) থেকে ঘাতক-দালাল মন্ত্রী মৃত মওলানা (এ উপাধিতে তাকে ডাকা উপাধিটির চরম অবমাননা, নইলে চিনবেন না বলে) বেজন্মা মন্নানের মন্ত্রনালয়ে দিয়ে দেন। আমি জানিনা কেন, এ জমিটুকুতে আমি একা হাঁটতে এখনো ভয় পাই। এখানে অস্ত্রাগার লুন্ঠনের প্রীতি লতার আত্মহননের স্মৃতি (স্বাধীনতা সংগ্রামে চট্টগ্রাম, পূর্ণেন্দু দস্তিদার), একাত্তরে বাংগালী জাতীয়তাবাদী ও নিরীহ জনগনের ওপর সুপরিকল্পিত, অমানুষিক ও পাশবিক নির্যাতনের দুঃসপ্ন আর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হত্যা যার ফলশ্রুতিতে Kangaroo Trialএর মাধ্যমে ডজনাধিক ফাঁসী(অধিকাংশই মুক্তিযোদ্ধা)র বেদনা সব সময় যেন কিরকম একটা ভয়াবহ আবহ সৃষ্টি করে আমার জন্যে।

বধ্যভুমির অসহনীয় দৃশ্যাবলী দর্শনের সপ্তাহ খানেক পর সেই সার্কিট হাউজে গেলাম আমরা। ফিল্ড টেলিফোন ( ওঅর মুভিতে দেখে থাকবেন) ঘুরিয়ে বৈদ্যুতিক নির্যাতন, ডান্ডা বেড়ি, মধ্যযুগীয় কাঠের বানানো যন্ত্র যার বড় ফুটো দিয়ে মাথা আর ছোট দুটি দিয়ে হাত ঢুকিয়ে দিনের পর দিন মানুষকে উবু করে রাখা হ'ত, কাঁটাযুক্ত মুগুর আরও কত কি! সবচে' ভয়াবহ ছিল একটি চেয়ার। যাদেরকে পাকিরা মেরে ফেলতে মনস্থ করতো, তাদের শেষ গন্তব্য ছিল এই চেয়ার। চেয়ারে বসিয়ে হাত পা বেঁধে ফেলা হত। তারপর শরীরে প্রবাহ করা হত ৪৪০ ভোল্টের বিদ্যুৎ। তবে চেয়ার পর্যন্ত পৌঁছুবার আগেই বেশিরভাগ মানুষই থাকতো মৃতপ্রায়, মৃতয়ু যন্ত্রনা সম্ভবত: তেমন একটা পেত না (নির্যাতনের বিবরন সার্কিট হাউজে কর্মকত এক আর্দালীর কাছ থেকে শোনা)।

-চলবে

 

সর্বশেষ এডিট : ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:০০ | বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:০২
অন্তীম বলেছেন: অনেক জানতে পারলাম ধন্যবাদ
১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৪২

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকেও।

২. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:১২
রোহান বলেছেন: পুরো পোষ্ট টা পড়ে কেমন একটা অসুস্থ বোধ হচ্ছে..... এইসব নরপশুদের প্রকাশ্যে টেনে চামড়া ছিলে ঝুলিয়ে রাখলেও এদের অপকর্মের শাস্তি দেওয়া শেষ হবে না... আর কিছুই বলার নাই... কিচ্ছু বলার নাই....

ফয়েজ লেকের সেই সময়ের অনেক ঘটনার টুকটাক শোনা... আপনার মতো আব্বাও প্রায়ই বলে, ফয়েজ লেকরে বিনোদন কেন্দ্র বানানোর নেপথ্য বুঝতে রকেট সায়েন্টিষ্ট হতে হয় না....
১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০৮

লেখক বলেছেন: দেখুন, আজ থকে ৬৫ বছর আগে বৃটিশদের জন্যে এদেশের যে লোকেরা প্রাণ দি্যেছিল তাদের সমাধি কত্তো যত্ন করে, কত্তো সুন্দর করে, ছবির মতো সাজিয়ে রেখে দেয়া হয়েছে বাদশা মিয়া চৌধুরী রোডে আর রানীর কুটিরের কাছে। দুটো ওঅর সিমেট্রীই আমাদের দেশের মধ্যে। আমি বাংলাদেশ মেঘালয় সীমান্তে, হালি শহরে নিজ চোখে দেখেছি মুক্তি যুদ্ধে প্রাণ দেয়া মানুষদের সমাধি। আজ কি তার কোন চিহ্ন দেখাতে পারেন কেউ? আমার ভুল হ'তে পারে, আমি বছর দশেক আগেও অনেক খুঁজে তামাবিলে সে সমাধি পাইনি যা আমি '৮২তে দেখেছি, জিয়ারত করেছি। '৭৮এ, ১২টি ইপিআর সৈনিক, যারা যুদ্ধের শুরুতে প্রাণ দিয়েছিল দেশের জন্যে ক্যাপ্টেন রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে, তাদের কবর দেখেছি আমি হালিশহরে। '৮৬র মধ্যে সবগুলো গায়েব হয়ে গেছে। বৃটেনে একটা ছোট্ট দুধের শিশুকে জিজ্ঞেস করুন তাদের হিরোদের নাম। অন্তত: ২০টি তারা বলে দেবে মুখস্ত। তার চেয়ে বড়, আমার কন্যাকে শুধান আচ্ছা বলোতো খুকী, আমাদের বীর শ্রেষ্ঠদের নাম-সাতটি নাম বলতে পারবেনা।৭ সংখ্যাটি বলতে পারে কিনা.. জাতি হিসেবে আমাদের চেয়ে অকৃতজ্ঞ জাতি খুঁজে পাবেন কিনা, আমার তাতে যথেষ্ঠ সন্দেহ আছে।

৩. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:১৩
নাজনীন১ বলেছেন: যুদ্ধের ময়দানে মানুষের মৃত্যুর কিছু যৌক্তিকতা খুঁজে পাই, কিন্তু নিরীহ মানুষ, নারী, শিশুদের হত্যার কোন যুক্তি আমি খুঁজে পাই না, কি মনস্তত্ত্বঃ এর পেছনে কাজ করতে পারে, সেটা আজো বুঝি না।
১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪৬

লেখক বলেছেন: আমিও পাইনা, তাই বিয়োগান্ত বীর গাঁথার চেয়ে এঘটনাগুলো আমকে বেশি বিক্ষিপ্ত করে।

৪. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:২৩
তায়েফ আহমাদ বলেছেন: ভয়াবহ তথ্য।
:(
ফয়েজ লেকের বধ্যভূমির ব্যাপারে আগে শোনা টুকরো-টুকরো ঘটনাগুলো জোড়া লাগল।
১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪৮

লেখক বলেছেন: সত্যিই ভয়াবহ। যদি ভারতীয় সেনা বাহিনী সেদিন তাদের আগলে না রাখতো আমার মনে হয়না ভারত সফর না করে আপনি আপনার জীবনে কোন বিহারীকে দেখতেন।

৫. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৩৯
মোহাম্মদ লোমান বলেছেন: বিহারিরা যথেষ্ট বাঙ্গালী হত্যা করেছিল তখন। বর্তমানে অত্যন্ত দূঃখের সাথে লক্ষ্য করছি ওদের ছানা পানারা একটি দলের সাথে যোগ দেয়াতে এখন ওরা মুক্তি যুদ্ধের পক্ষের শক্তি। ঢাকার মীর পুর, চট্রগ্রামের হালিশহর ও এনায়েত বাজারের কিছু তথ্য আমার নিকট রয়েছে।

জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ যার প্রচেষ্টায় হোকনা কেন মসজিদটি আমার নিকট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমার মতে এটি একটি ভাল উদ্দোগ।

পোস্ট ভাল লাগল। ধন্যবাদ।
১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৫৬

লেখক বলেছেন: আপনি উনচল্লিশ বছর পর এনায়েত বাজারের হত্যাকান্ডের কথা মনে করিয়ে দিলেন।

জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ যার প্রচেষ্টায় হোকনা কেন মসজিদটি আমার নিকট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমার মতে এটি একটি ভাল উদ্দোগ।

-আসলে উদ্দেশ্যটাই আসল, ফল যাই হোক না কেন।

লে. জে. হো। মো।এরশাদকে অত্যন্ত কাছে থেকে দেখেছি, সাথে তার গর্লফ্রেন্ডদেরকেও।

তবে আমি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ। জুম্মার নামজটা পড়তে পারি মনের মত করে।

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৫৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৭. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৫০
গডফাদার০২ বলেছেন: এর আগের সবগুলো পর্বই আগ্রহ নিয়ে পড়েছি, কমেন্ট করা হয়নি। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

বিহারীদের জন্য ইদানিং অনেকেই মায়া দেখাচ্ছেন, কিন্তু এই পরগাছা দের আমি এখনো সহ্য করতে পারিনা। যতবার এদের কে দেখি বা এদের কথা শুনি, আমার কেন যেন এদের ৭১ এর নৃশংসতার কথা মনে পড়ে যায়। সরকার বোধ হয় এখনো খুজলে এদের মধ্য থেকে কিছু সত্যিকারের যুদ্ধোপরাধী খুজে পাবে। এদেরকে বিচারের মুখোমুখি করা হোক।

যুদ্ধ পরবর্তি সময়ে আমাদের স্মৃতি গুলোকে মুছে ফেলার যে অপচেষ্টা গুলো সফল হয়েছে, তার মধ্যে ফয়েজ লেক এর গনকবর অন্যতম। এখন সেই সব নিদর্শন গুলো নেই, কিন্তু স্থানটাতো আছে। এখানে একটা স্মারক স্থাপনা প্রয়োজন।

আপনার পরের পর্বের অপেক্ষায়।
১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:০৩

লেখক বলেছেন: যুদ্ধ পরবর্তি সময়ে আমাদের স্মৃতি গুলোকে মুছে ফেলার যে অপচেষ্টা গুলো সফল হয়েছে, তার মধ্যে ফয়েজ লেক এর গনকবর অন্যতম। এখন সেই সব নিদর্শন গুলো নেই, কিন্তু স্থানটাতো আছে। এখানে একটা স্মারক স্থাপনা প্রয়োজন।

- যেখানে তেরানব্বুই হাজার পাকিদের বিবস্ত্র করা হয়েছিল যে জায়গাটি কি আপনি দেখেছেন? খুঁজে বার করতে পারবেন?

আমি কিন্তু দেখেছি। সেটা কে সরালো কেন সরালো, তা বুঝতে অতি সাধারন মানের মগজই যথেস্ঠ।

৮. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:০৩
শাহেরীন বলেছেন: আপনার আজকের পোস্টটা পড়ে মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেল।।
এখনো ঐ বর্বর আল বদর আর পাকিদের জারজরা রয়েছে এদেশে, শিবির হায়েনাদের রগ কাটা অভিযান এখনো বর্তমান।।

ধন্যবাদ আপনাকে আবারো, সত্য ঘটনাগুলো আমাদের সামনে এমন গুছিয়ে উপস্থাপনের জন্য।।
শুভ কামনা।।
১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:১৯

লেখক বলেছেন: লেখক বলেছেন: "শিবির হায়েনাদের রগ কাটা অভিযান এখনো বর্তমান।"

-কোন সময় ভেবে দেখেছেন কি শিবির কি ভাবে আসলো? কেন আসলো? আজ যারা শিবির করে তাদের বাপ দাদারা কি সবাই মুসলিম লীগ করতো, জামাত করতো, নেজামে ইসলাম করতো?

শিবিরের ভেতর ঢোকা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার, কিন্তু ঢুকতে পারলেই দেখবেন, মুক্তি যোদ্ধার নাতীরাও আছে সেখানে।

কেন?

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে কিনা সে ব্যাপারে আমার যথেষ্ঠ সন্দেহ আছে। হ'লেও তা হবে প্রহসন।

এমনকি সব যুদ্ধাপরাধীদের স্বচ্ছ, সাংবিধানিক, ন্যায় বিচার করা যদি সম্ভবও হয় শিবির করা কি লোকে ছেড়ে দেবে?

কখোনোই না।

এর জন্যে প্রয়োজন রাজনৈতিক প্রনোদন যা আমাদের মধ্যে অনুপস্থিত।

আজ পি মুন্সী এ ব্যাপারটাই আমাকে চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন।

৯. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩৭
হাসান শহীদ ফেরদৌস বলেছেন: ফয়েজ লেকে আমি প্রথমবার যাই আমার বাবার সাথে, সম্ভবত ২০০৩ সালে। সময় ছিল না, আধা ঘন্টা ঘুরে চলে এসেছি। জায়গাটা খুব সুন্দর লেগেছিল, তাই আরো দুইবার গিয়েছি বন্ধুদের সাথে। কত ঘুরেছি, ছবি তুলেছি, গান গেয়েছি, নৌকা নিয়ে ঘুরে ঘুরে এসেছি, কত আনন্দের স্মৃতি।

ঘুনাক্ষরেও টের পাইনি, এই যায়গাটা একটা বধ্যভূমি। যে জায়গায় দাঁড়িয়ে আমি ছবির পোজ দিচ্ছি, সেখানে হয়ত একজন মানুষকে জবাই করে ফেলে রাখা হয়েছিল, হয়ত এখানে নিজের জীবনে শেষবারের মত সূর্যকে দেখে নিয়েছিল সে মানুষটি।

মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমার পড়াশোনা হয়ত খুব সামান্য, কিন্তু তার মাঝে ফয়েজ লেকের নামটা ২/১ বারের বেশী পাইনি, একেবারেই অগুরুত্বপূর্ণভাবে তুলে ধরা হয়েছে। আপনার লেখা থেকে যে বিভৎস বর্ণনা পেলাম, তা আমার কল্পনাতেও আসেনি।

অনেকবার মনে হয়েছে বাঙ্গালী কিছুটা বিস্মৃতিপরায়ন জাতি, আজকে তার ব্যাপকতা বুঝতে পারলাম। সে জায়গাটায় কি একটা স্মারকচিহ্ন লাগানো যেতনা? একটা স্মৃতিস্তম্ভ? একটা ছোট্ট জাদুঘর? অবহেলাটা এতই দৃষ্টিকটু যে তা ইচ্ছাকৃত, এই বিশ্বাসটাই দৃঢ় হয়।
১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:১৬

লেখক বলেছেন: "সে জায়গাটায় কি একটা স্মারকচিহ্ন লাগানো যেতনা? একটা স্মৃতিস্তম্ভ? একটা ছোট্ট জাদুঘর? অবহেলাটা এতই দৃষ্টিকটু যে তা ইচ্ছাকৃত, এই বিশ্বাসটাই দৃঢ় হয়।"

- আপনার সাথে দৃঢ়ভাবে একমত।

১০. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৩৭
জনৈক আরাফাত বলেছেন: পড়ছি। কী বলবো বুঝতে পারতেছিনা।
স্মৃতিকথাগুলোর জন্য শুধু ধন্যবাদ দেয়াটা অপরাধের পর্যায়ে পড়ে।
তবুও, ধন্যবাদ।
১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:০০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকেও।

১১. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:০২
শাহেরীন বলেছেন: লেখক বলেছেন--
"কোন সময় ভেবে দেখেছেন কি শিবির কি ভাবে আসলো? কেন আসলো? আজ যারা শিবির করে তাদের বাপ দাদারা কি সবাই মুসলিম লীগ করতো, জামাত করতো, নেজামে ইসলাম করতো?

শিবিরের ভেতর ঢোকা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার, কিন্তু ঢুকতে পারলেই দেখবেন, মুক্তি যোদ্ধার নাতীরাও আছে সেখানে। "

যথার্থ বলেছেন।।
আমাদের দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়া প্রতিটি সরকার জামায়াতের উত্থানের জন্য দ্বায়ী।।
কেউ তাদের সাথে এক টেবিলে বসে আন্দোলনও করেছেন, আবার প্রতিহিংসা, স্বজনপ্রীতি, ও ক্যাডারের রাজনীতি এবং পার্শ্ববর্তী দেশের চাটুকারী করে তাদের(জামায়াত/শিবির) আরো কর্মী-সমর্থক সংগ্রহের সুযোগ করে দিয়েছে।।
আবার কেউ তাদের(জামায়াত/শিবির) নিজের পরিবারের লোক বানিয়ে "চাচা" ডেকে সালাম করেছে, তাদের গাড়িতে উড়েছে আমাদের মহান পতাকা।।

বই-পত্র পড়ে যতটুকু জেনেছি, তাতে মনে হয়েছে, পূর্বেও প্রতিটি সরকারের তাদের প্রতি অনেক নির্ভরশীলতা ছিল।।

ধর্ম প্রতিটি মানুষের একটি খুবই সেন্সিটিভ জায়গা, প্রতিটি সরকার তাদের(জামায়াত/শিবির) সাথে সুসম্পর্ক রাখা ও তাদের রাজনীতিতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করার কারণ হল, এই ধর্মের নামে সাধারণ মানুষগুলোকে উলটো দিকে চালানো, যেন এই সরল মানুষেরা সরকারের বিরুদ্ধে কিছু না বলতে পারে। আর সেই সুযোগে দেশটাকে শোষন করা।।
১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:০৩

লেখক বলেছেন: আমাদের রাজনীতি এমন হবে কেন যে জামাতরা ধর্ম নিয়ে খেলতে পারবে?

১২. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:৪৬
ও.জামান বলেছেন: স্যরি, আপনার এই পোস্টটি পড়তে পড়তে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম। গত চার ঘন্টা লাগলো স্বাভাবিক হতে। প্লিজ শিরোনামে ব্রাকেট বন্ধী করে (দূর্বল চিত্তদের জন্য নয়) লিখে দিন। ফয়'স লেক আমার খু্ব প্রিয় একটা জায়গা প্রথম যাই ১৯৮৫ সালে। সর্বশেষ ২০০৭ এ বৌ-ছেলে-মেয়ে নিয়ে জেমস এর কনসার্ট দেখতে।

ওখানে এত ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছিল জানতাম না।
১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৪৮

লেখক বলেছেন: "আপনার এই পোস্টটি পড়তে পড়তে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম।গত চার ঘন্টা লাগলো স্বাভাবিক হতে। "

-আপনার ব্যাপারটা আমি বুঝতে পারছি খুব ভালভাবেই।

কি করবো প্যান্ডোরার বাক্স যে খুলে ফেলেছি!

উনচল্লিশ বছর আগের ভীষন সেসব দূঃসপ্ন ফিরে এসেছে, তাড়া করছে। আড়াই পাতা লিখতে ৮ ঘন্টা লাগার কথানয় মিনিটে যদি ৫টি শব্দও লিখি । আজ লিখতে বসি সকাল সাড়ে ছ'টায়, পোষ্ট করি পোনে পাঁচটার দিকে। মাঝখানে এক ঘন্টার বিরতি। বাকি সময় টুকুর বেশীর ভাগই মানসিক ভাবে সম্পূর্ন বিপর্যস্ত ছিলাম। আমার মত অতি লোভীও খাবার উগরে দিয়েছে।

আমি সে সময় নিয়ে যাই লিখি চোখের সামনে স্পষ্ট ভাসে শুধু মানুষ হত্যা, নাকে গন্ধ পাই মানুষের ফিনকি দিয়ে ওঠা তাজা রক্তের মরচে ধরা লোহার গন্ধ।

এমূহুর্তেও পাচ্ছি।

১৩. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:৫৯
সাজিদ বলেছেন: ফয়েস লেইকে অনেকবার গেছি তবে সেটা অনেক আগে। তখন শুধু চিড়িয়াখানা ছিলো। ফয়েস লেকে ঢুকতে টিকেট লাগতো না। ফয়েস লেক একটা অসাধারন জায়গা। লেকের পারে সিমেন্টের বেন্চে বসে থাকতে অনেক ভালো লাগতো। এখন সেখানে কি হোয়েছে জানি না। তবে সঠিকভাবে পরোকল্পনা করলে এই জায়গাটা একটা আন্তর্জাতিক মানের রিসোর্ট গড়ে তোলা যায়। বিশ্বের অন্যতম জনবসতিপূর্ন একটা দেশে আপনি একটা রেস্টহাউসের বারান্দায় বসে মাইলের পোর মাইল বিস্তৃত পাহার দেখতে পারছেন। বংগোপসাগর দেখতে পারছেন। স্বচ্ছ পানির লেইক আর কি চাই। আমি জানি না কোথায় পার্কটা এখন কিন্তু আমি একবার ভেটেরেনারি কলেজের পর, ডায়াবেটিক সোসাইটির কি জানি েকটা আছে সেটার কাছে রাস্তার ডানে একটা সাইনবোর্ড দেখেছিলাম বধ্যভুমির।

তাছাড়া ফয়েস লেইকে ঢুকার মুখে হাতের ডানে কিছু বাড়ি দেখেছিলাম। আর দান দিকে তো ইউ এস টিসির হোস্টেল আর আনসারের েকটা ইুনিট আছে মনে হয়। আমি যেটা বলতে চাচ্ছি বধ্যভুমির ভাবগাম্ভির্য রক্ষা করেও ফয়েস লেইকে বিনোদন কেন্দ্র গড়ে তোলা যায় বা যেত। আমি যাই নাই সেটা হোবার পর।
১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:২৩

লেখক বলেছেন: "অনেকবার মনে হয়েছে বাঙ্গালী কিছুটা বিস্মৃতিপরায়ন জাতি, আজকে তার ব্যাপকতা বুঝতে পারলাম। সে জায়গাটায় কি একটা স্মারকচিহ্ন লাগানো যেতনা? একটা স্মৃতিস্তম্ভ? একটা ছোট্ট জাদুঘর? অবহেলাটা এতই দৃষ্টিকটু যে তা ইচ্ছাকৃত, এই বিশ্বাসটাই দৃঢ় হয়।"
-হাসান শহীদ ফেরদৌস।

-আমি আপনাকে ওখানকার চেয়ে শতগুণ নয়নাভিরাম, শত জায়গায় নিয়ে যেতে পারি শুধু চিটাগাংএর মধ্যেই।

১৪. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:০৪
ইব্রাহীম আহমেদ বলেছেন: পড়ছি , জানছি , শিউরে উঠছি । :(
১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:২৫

লেখক বলেছেন: আমি এখন পর্যন্ত হরর কোন মুভি দেখিনি যা আমার নিজে দেখা হররের চেয়ে দানবীয়।

১৫. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:০৬
রাজিব খান০০৭ বলেছেন: আপনার পোস্ট আমার প্রিয় সংকলনে রেখেছি
Click This Link
১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৩৮

লেখক বলেছেন: আপনি এমন কিছু করেছেন যা আমার প্রাপ্য নয়।

আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা।

১৬. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৪০
সাজিদ বলেছেন: আমিও সেটাই বলতে চাইছিলাম।সেখানে একটা যাদুঘর করা উচিত ছিলো অনেক আগেই। আপনার পোস্ট পড়ে যেটা জানতে পারলাম সিএমসির কাছে এবং ফয়েস লেইকের বধ্যভুমী চট্টগ্রামের দুটি গরুত্বপূর্ন জায়গা। এখানে একটু উদয়োগ নিলেই যাদুঘর গড়ে তোলা যায়। যাদের পরিচয় জানা গিয়েছে তাদের নাম উতকীর্ন করে একটি দেয়াল করা যায়। কিন্তু মনে হয় সেজন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে যতদিন তাদের কোনো বংশধর প্রধানমন্ত্রী হবে। কিন্তু সেই জন্য পুরা ফয়েস লেইককে ফেলে রাখাটা যৌক্তিক মনে হয় না।

১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৫০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্যে।

১৭. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:১৪
আতিকুল হক বলেছেন: আপনার সিরিজ পুরোটাই পড়ছি। অনেক কিছু জানা হচ্ছে। আজকের পর্বে হতাশার সুরটা বেশ প্রকট।

ব্যক্তিগতভাবে দেশের ব্যপারে আমি প্রচন্ড নিরাশ একজন মানুষ। অনেকে এর জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দায়ী করবেন, কিন্তু আমি নেতৃত্বের জন্য নয়, দেশের মানুষের প্রতিই আস্হা হারিয়েছি।

আপনার কাছে আমার একটা প্রশ্ন আছে। আপনি যেহেতু লেখা ইতিহাস নয়, আপনার দেখা/শোনা ইতিহাস বলছেন, আমি জানতে চাইছি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের পেছনে কোন আদর্শিক মোটিভেশন কি কাজ করছিল? স্বাধীন হওয়ার পরে দেশ কিভাবে চলবে, সরকারে দেশের মানুষের আরো বেশি অংশগ্রহন কিভাবে নিশ্চিত করা হবে, সর্বোপরি আমাদের সরকার পাকিস্তানি ধরনের সরকার থেকে কিভাবে ভিন্ন কিছু হবে এধরনের কোন ভাবনা কি সাধারন মানুষ বা রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে ছিল?
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৪৬

লেখক বলেছেন: ২৫ শে মার্চ পর্যন্ত ছিলনা।

১৮. ১০ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:১৮
শাহেরীন বলেছেন: লেখক বলেছেন: "আমাদের রাজনীতি এমন হবে কেন যে জামাতরা ধর্ম নিয়ে খেলতে পারবে?"

পূর্বে বলেছিলেন, "জাতি হিসেবে আমাদের চেয়ে অকৃতজ্ঞ জাতি খুঁজে পাবেন কিনা, আমার তাতে যথেষ্ঠ সন্দেহ আছে।"

এই কমেন্টের সাথে আমি আংশিক সম্মত, কারণ আমাদের দেশের দুর্ভাগ্য যে তারা বাংলাদেশে এমন কোন নেতা পায়নি যে দেশটাকে নিজের পায়ে দাড়া করাতে পারে।
এখানে লক্ষণীয় যে, বঙ্গবন্ধুর দেশ প্রেম প্রশ্নাতীত, কিন্তু শাসক হিসেবে তাঁর দৃঢ়তা প্রশ্নবিদ্ধ।।
'৭২ থেকে ৭৫, এই সময়কালে বঙ্গবন্ধুর সরকার ও তাদের মিলিশিয়া বাহিনী(রক্ষি বাহিনী, নীল বাহিনী, লাল বাহিনী...প্রভৃত্তি) সদ্য স্বাধীন একটা দেশে যে লুট তরাজ চালিয়েছে তা পরিমানের দিক দিয়ে কম হলেও আনুপাতিক হারে তা বিগত চার দলীয় জোট সরকারকেও হার মানাবে। সেনাবাহিনী থেকে বেশি বরাদ্দ থাকত এই মিলিশিয়াদের জন্য।।
তারা নির্যাতন চালাত সাধারণ মানুষের উপর, সংবাদ কর্মীদের উপর, এমন কি লেখকদের উপর।।
সিরাজ শিকদার সম্ভবত স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিচার বহির্ভুত হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছিলেন। তাঁকে হত্যা করা হয়েছিল পুলিশ হেফাজতে আর তার দোষ ছিল এটুকুই যে তিনি এই স্বৈরাচারিতা, স্বেচ্ছাচারিতাকে মেনে নেননি, এর বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছিলেন।।
পরবর্তিতে বাকশাল কায়েম করে, সারা দেশে জরুরী অবস্থা জারী করে মানুষের স্বাধীনতা কুক্ষিগত করা হয়েছিল। তখন মাত্র চারটি সংবাদপত্র বর্তমান ছিল, যা ছিল সরকারের নিয়ন্ত্রানাধীন। দেশের মানুষ অনাহারে থাকলেও সরকারের দালালরা ছিল টাকার খনিতে।।
আমি আবারো একটা কথা স্পষ্টতঃ বলতে চাই, বঙ্গবন্ধুর দেশ প্রেম নিয়ে যদি কারো দ্বিমত থাকে তবে সে এদেশের কেউ নয়। তিনি এই দেশকে দেশের মানুষকে যতটা ভালবেসেছেন, দেশের প্রতি এত মায়া কারো আছে বলে আমার জানা নেই। তাই তো বলতে পেরেছিলেন, "....সাত কোটি মানুষের জন্য সাড়ে সাত কোটি কম্বল আসলো...আমার কম্বল কোথায়???..." তিনি আরো বলেছেন, "...সকলে পায় তেলের খনি, স্বর্ণের খনি, আর আমি পাইলাম চোরের খনি।।..." একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিকের পক্ষেই এমন স্বীকারোক্তি সম্ভব।।
তবে এতে এই ব্যাপারেও কোন দ্বিমত থাকার কথা নয় যে নেতা হিসেবে তিনি ছিলেন যতটা উজ্জ্বল, দেশ পরিচালনায় তার প্রশাসন ছিল ততটাই অন্ধরাচ্ছন্ন।।
এ আমাদের দুর্ভাগ্যই বলতে হবে যে এমন একজন নেতাকে আমরা হারালাম দুর্ভাগ্যজনক ভাবে।।

এবার আসি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর সরকারের প্রসঙ্গে। এই সরকারের শুরু হয়েছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যা ও এর পরবর্তি দেশের অচলাবস্থার ফলে। যে কর্নেল তাহের অভ্যুত্থান ঘটিয়ে জিয়াউর রহমানকে গৃহ বন্দি অবস্থা থেকে মুক্ত করেছিলেন, তাকে নেতা বানালেন, সেই ভাইয়ের তাহেরকেই তিনি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে খুন করলেন।।
বঙ্গবন্ধুর খুনী ও রাজাকারদের করলেন পূনর্বাসনের ব্যবস্থা।।
সেনাবাহিনীর ভেতরে ও বাইরে যারাই দ্বিমত পোষণ করতেন, তাদের উপরেই চলত নির্যাতন।।
তিনিও অবতারণা করেছিলেন এক নব্য বাকশালের। যেখানে কোন স্বাধীন সংবাদপত্র ছিল না। ছিল না কারো মত প্রকাশের কোন স্থান।।
উপরন্তু, তিনি ইসলামের নাম করে সস্তা সুনামের আশায় রাজাকারদের রাজনীতিতে উত্থান ঘটালেন।।

এর পরের ইতিহাস অনেকেই নিজ চোখেই দেখেছেন, আসলো স্বৈরাচারী হো মো এরশাদ-এর সরকার, তিনিও করলেন ঐ ৭১'-এর বিতর্কিত ব্যক্তিদের মন্ত্রি, রাজাকার গোষ্ঠি প্রতিষ্ঠিত হল রাজনীতিতে। তিনি এখনো বর্তমান সরকারের অংশ।।

উপরের বক্তব্য থেকে একটা কথাই বলা সম্ভব, আমরা দুর্ভাগা জাতি। যে জাতি দেশ পরিচালনায় কখনো সঠিক নেতৃত্ব পায়নি।।
আর তাই উত্থান ঘটেছে আল বদর, আল শামসদের উত্তরসুরীদের।।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৪৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

১৯. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:১২
তারার হাসি বলেছেন:
পরিস্থিতি মানুষকে অনেক কঠিন বানিয়ে দেয়।

গত পর্বে চলবে লেখা ছিল না তাই মনে করেছিলাম শেষপর্ব ... যেমন অবাক হয়েছিলাম তেমন খুব রাগ ও লেগেছিল...
এই পর্ব পড়ে কেমন যেন একটা নিষ্ফল রাগ, কিছু করতে না পারার আক্ষেপ হচ্ছে সাথে সাথে ঘৃণার পরিমাণ তীব্র হচ্ছে।
ধন্যবাদ আপনাকে অনেক যন্ত্রণা নিয়েও লিখে যাওয়ার জন্য।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৪৮

লেখক বলেছেন: আপনি স্বাগতম। আমি'৭৫ পর্যন্ত কাভার করার চেষ্টা করে যাব।

২০. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৪৮
লুৎফুল কাদের বলেছেন: আমাদের স্বাধীনতার অনেক কিছুই নতুন জানা হলো. জানা হলো ভইন্কর ইতিহাস. রাজাকারদের আমাদের কোনো রাজনৈতিক দলই কিছু করবেনা. আমাদের সকল বাংলাদেশীদের এক হযে এদেরকে পিটিয়ে মেরে ফেলা উচিত.
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৫১

লেখক বলেছেন: আরো খারাপভাবে মরতো যদিনা ভারতীয় বাহিনিী তাদের আগলে রাখতো।

২১. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৫৫
পারভেজ বলেছেন: ৮২/৮৩ র দিকে মনে হয় প্রথম ফয়েজ লেকের দিকে যাই; তখন কোথাও এই সব ভয়াবহতার কোন চিন্হ দেখেছি বলে মনে পড়ছে না; আজই প্রথম জানলাম আপনার কাছ থেকে!
এই সব অপরাধের সাথে যারা জড়িত ছিল; তারা মৃত হোক বা জীবিত, অন্তত চিন্হিত হওয়া উচিত।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:২৯

লেখক বলেছেন: সহমত।

২২. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:০৩
আতিকুল হক বলেছেন: ২৫ শে মার্চের পর মোটিভেশনটা দাড়ায় সারভাইভ্যাল ইনস্টিংক্ট। এটা খুবই স্বাভাবিক, এবং সত্যি কথা বলতে গেলে সাধারন মানুষ বিপ্লব বা যুদ্ধে যায় সারভাইভ্যাল ইনস্টিংক্ট থেকেই। তবে স্বাধীন হওয়ার পর বা বিপ্লবের শেষে কি হবে, এটা খুব কঠিন এবং গুরুত্বপূর্ণ একটা প্রশ্ন। এইটার উত্তর যদি কোন জাতির নেতৃত্বের জানা না থাকে তাহলে তো এখনকার বাংলাদেশের যা হয়েছে, তাই হওয়ার কথা। আমার মনে হয়, বাংলাদেশের নেতৃত্ব এটা জানতেন না।

আমার অবাক লাগে আমাদের কেন এটা গড়ে উঠলো না। আমরা তো কম সময় পরাধীন ছিলাম না। আমাদের আসলেই বড় কোন সমস্যা আছে।
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:১৪

লেখক বলেছেন: এ পরিসরে যদিও এটা আসেনা, তবুও যেহেতু তুলেছেন, বলে রাখি:

১৯৭১এর ছাব্বিশে মার্চ শক্তির ভারসাম্য বাংগালীর পক্ষে ছিল। সাংগঠিক কাঠমো এবং নেতৃত্বের অভাব ছিল । কিন্তু এব্যাপারে সেদিনের বাংগালী রাজনৈতিক নেতাদের দোষ দেয়ার অবকাশ আমদের নেই। ২৫শে মার্চ, ১৯৭১ এর আগে স্বাধীনতা ঘোষনা করা নীতিগতভাবে এবং কৌশলগত ভাবে অসম্ভব ছিল।

আমি সবাইকে অনুরোধ করবো আপনাদের মন্তব্য শুধু আমার স্মৃতি চারণার মধ্যে রাখতে।

২৩. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:১৪
পি মুন্সী বলেছেন: আবার ফিরে আসতে হলো, বলতে পারেন কিছুটা ভয় পেয়ে।
আপনার এই পর্বটা লোমহর্ষক, মারাত্মক ভয়ঙ্কর ও বিভৎস স্মৃতিময়।

কিন্তু আমি চিন্তা করছি এগুলো পড়ার পর আমাদের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে?

আগের দশম পর্বে,আপনি লিখেছিলেন, "উর্দ্দূ আমার কাছে শোষণের ভাষা"। এছাড়া আওয়াম বা কাবুলী পোষাক নিয়েও অনেক কথা ছিল সেখানে।

আমি ভীত মানুষ আগে আপনাকে জানিয়েছি।

প্রথমদিককার কোন এক পর্ব আপনি সার কথায় যা বলেছিলেন: সভ্যতা বা ইতিহাসের সাথে এথিনিক ক্লিনজিং একটা অঙ্গ হয়ে জড়িত হয়ে আছে। যেনবা যুদ্ধ বা সভ্যতার ইতিহাস মানে আর একদিক থেকে পড়লে ওটা একইসাথে এথিনিক ক্লিনজিং এরও ইতিহাস। আপনার কথাগুলো বুঝে এখানে আমার ভাষায় বললাম।
এখন আজকের আমরা এতদূর যদি বুঝে গিয়ে থাকি, বিভিন্ন ইতিহাস পাঠ থেকে যদি কিছু শিখেছি দাবী করতে চাই তাহলে এথিনিক ক্লিনজিং এরও ইতিহাসের অভিমুখ এরপরেও একইভাবে ঘটতে দিতে আমরা আর পারি না। আমরা যদি প্রমাণ রাখতে চাই ইতিহাসের অঙ্গ হয়ে থাকা এথিনিক ক্লিনজিং এর লোমহর্ষক, মারাত্মক ভয়ঙ্কর ও বিভৎস স্মৃতিময় ঘটনা সে ইতিহাস আমরা জানি, পড়েছি তবে এথেকে সতর্কতা আমাদের আছে, শিক্ষা আমাদের আছে - এই নতুন বোধ আগামি ইতিহাস আমাদের কাছে দাবি করে।

এথিনিক ক্লিনজিং এর লোমহর্ষক, বিভৎসতার বিপরীত, উল্টোদিক বা প্রতিক্রিয়া আর একটা ওর চেয়ে কঠিন কোন এথিনিক ক্লিনজিং এর লোমহর্ষক, মারাত্মক ভয়ঙ্কর ও বিভৎস ঘটনা হতে পারে না। খারাপ স্মৃতিময় ঘটনাকে আর একটা আরও খারাপ স্মৃতিময় ঘটনা দিয়ে ভুলা যায় না। আমি নিশ্চিত থাকতে চাই, পাঠক আমার সাথে একমত আছেন।

তাহলে আপনার শেষের এই দুই পর্বে লোমহর্ষক, মারাত্মক ভয়ঙ্কর ও বিভৎস স্মৃতিময় নৃশংস ঘটনার কথা যা আমরা পাঠকরা পড়ছি, এগুলো পড়ার সময় বা পরে আমাদের প্রতিক্রিয়া কি হবে? সে বিষয়ে মন-বেঁধে নিজেকে শাসন করে নেবার বিষয়টাও খুবই জরুরী। এথিনিক ক্লিনজিং এর লোমহর্ষক ঘটনার প্রতিক্রিয়া হতে হবে এর প্রতি ঘৃণা ও প্রচন্ড সতর্কতা।
সব ধরণের, সবখানের, আগামিরও যেকোন এথিনিক ক্লিনজিং এর চিন্তার প্রতি আমাদের ঘৃণা; সচেতন অস্বীকার করতে হবে এই কদর্য পথে হাটতে। আমাদের সবার অভিজ্ঞ মনগুলোতে সবসময় এই সতর্কতা জারি রাখতে অভ্যস্হ হতে হবে যেন কোন এথিনিক ক্লিনজিং এর লোমহর্ষক, মারাত্মক ভয়ঙ্কর ও বিভৎস ঘটনাগুলো পড়তে গিয়ে প্রতিক্রিয়ায় আমরা অগোচরে অসর্তকায় কোনভাবেই সঙ্গোপনে এথিনিক ক্লিনজিং চিন্তার ধারক না হয়ে যাই, বরং এর সীমাহীন বিপদ, বিপর্যয় আমার মাথায় জাগরুক থাকে।

আপনার লোমহর্ষক, বিভৎসতার ঘটনা পড়ে আমরা একমাত্র এভাবেই পাঠ করতে পারি, শিক্ষা নিতে পারি। অন্য কোনভাবে, কোন কিছু নয়।

আপনি বলেছেন, "উর্দ্দূ আমার কাছে শোষণের ভাষা"। একথা যেমন সত্যি তার চেয়েও গভীর সত্যি হলো এরপরেও আমরা কোন ভাষা সংস্কৃতির বিদ্বেষী হতে পারি না। কোন সুযোগই নাই।

না, অন্যের প্রতি দয়া দাক্ষিণ্য, মাফ করে দিতে, উদারতার পক্ষে আমাদেরকে উদ্বুদ্ধ করতে একথা বলছি না। বলছি নিজেদের স্বার্থে। নিজেদের রাজনৈতিক জনগোষ্ঠিগত পরিচয় দাঁড় করাবার স্বার্থে। বলছি আমাদেরকেও কেউ অন্যের ভাষা, পোষাক সংস্কৃতি বিদ্বেষী না বলতে পারে; আমাদের পরিচয় রেসিষ্ট (racist) বা জাত্যাভিমানী হোক - এটা ঘুর্ণাক্ষরেও আমরা ভাবতে চাইনা। এথিনিক ক্লিনজিং এর লোমহর্ষক, মারাত্মক ভয়ঙ্কর ও বিভৎসতার অভিজ্ঞতা মধ্যে দিয়ে হেঁটে একমাত্র এটাই আমাদের রাজনৈতিক জনগোষ্ঠিগত শিক্ষা ও পরিচয় বৈশিষ্ঠ।

ভাষা হিসাবে উর্দ্দূ আমাদেরই বাংলার মত এক ভাষা, অন্য সংস্কৃতির জনগোষ্ঠির গৌরবের এক ভাষা। এককালে পাকিস্তান রাষ্ট্র, ওর ঘৃণিত শাসক এই জবানকে ঘৃণিত করার চেষ্টা করে নিজেরাই কুখ্যাত ইতিহাস হয়ে আছে। মানব সভ্যতার ইতিহাসে উর্দু আর অনেক ভাষার মত গৌরবোজ্জ্বল অবদান রেখেছে।
আমি জানি না আপনি আমার সাথে কতটুকু একমত হবেন। ভালো থাকবেন।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:৪৮

লেখক বলেছেন: ভাষার ব্যাপরে আপনি যা বলেছেন তা না মেনে আমার উপায় নেই। কিন্তু আমার একটা সীমাবদ্ধতা আছে। এই ভাষা দিয়ে আমাকে, আমার জাতিকে হিউমিলিয়েট করার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা আমার আছে। এখানে একাধিকবার একটা বাক্য এনেছি "বাংলা বোলনেসে সাস নিকাল দেগা"।

"উর্দ্দূ আমার কাছে শোষণের ভাষা" সে জন্যেই।

আমি শুধু আমার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা আর প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা তুলে ধরছি । আমার নিজস্ব মতামত দিচ্ছি একেবারেই কম।

তরজমাকৃত বাংলায় আমি কৃষনচন্দর আর সাদত হাসান মিন্টোর বেশ কিছু অপুর্ব মানবতাবাদী গল্প আমি পড়েছি। এমুহূর্তে মনে পড়ছে গাদ্দারের কথা। অতুলনীয়।

আদ্যপান্ত খুটিয় পড়ার জন্যে কৃতজ্ঞতা।

২৪. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:০১
স্বপ্নকথক বলেছেন: হোসাইন১৯৫০ ভালো আছে, এই মাত্র কথা হলো।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:৩২

লেখক বলেছেন: আমার ঘুম আসছিলনা।

একটা মানুষ কিভাবে এত কম সময়ে আরেকজনের মনে বিরাট একটা জায়গা দখল করতে পারে তা অবোধ্য।

আপনাকে অশেস ধন্যবাদ।

২৫. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:১০
মেটালিফেরাস বলেছেন: মনে হয় আগে আপনার পোস্টে মন্তব্য করি নাই। প্রথম থেকেই পড়লাম। সমস্যায় পড়ে গেলাম আপনার "সিলেকশন অব গোল" কি তা খুঁজে না পেয়ে! শেখ মুজিব, জিয়া, এরশাদ, উর্দ্দু, পাকি, জামাত-শিবির বিষয়ে বেশ কন্ট্রাডিক্টরি মনে হলো।

আপনি বলেছেন "যদি ভারতীয় সেনা বাহিনী সেদিন তাদের আগলে না রাখতো আমার মনে হয়না ভারত সফর না করে আপনি আপনার জীবনে কোন বিহারীকে দেখতেন।"
এটা বুঝলাম না। ভারতীয় সেনাবাহিনী কি বিহারীদের প্রটেক্ট করেছিল? এটার কোন সূত্র আছে?

আপনি বলছেন "একাত্তরে বাংগালী জাতীয়তাবাদী ও নিরীহ জনগনের ওপর সুপরিকল্পিত, অমানুষিক ও পাশবিক নির্যাতনের দুঃসপ্ন আর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হত্যা যার ফলশ্রুতিতে Kangaroo Trialএর মাধ্যমে ডজনাধিক ফাঁসী(অধিকাংশই মুক্তিযোদ্ধা)র বেদনা সব সময় যেন কিরকম একটা ভয়াবহ আবহ সৃষ্টি করে আমার জন্যে।"
একাত্তরের গণহত্যার সাথে জিয়া হত্যা বা ক্যাঙ্গারু ট্রায়াল কি ভাবে আসে? যদি আসেই তাহলে জিয়ার আমলে গোপনে আরও মুক্তিযোদ্ধা অফিসার হত্যার প্রসঙ্গ আসা উচিৎ কি না?

আপনি আবার বলছেন "লে. জে. হো। মো।এরশাদকে অত্যন্ত কাছে থেকে দেখেছি, সাথে তার গর্লফ্রেন্ডদেরকেও।
তবে আমি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ। জুম্মার নামজটা পড়তে পারি মনের মত করে।"

তার মানে কি আপনি এরশাদের পিরিয়ডের আগে জুম্মার নামজটা মনের মত করে পড়তে পারতেন না?

এই পর্বটা পড়তে পড়তে বেশ চক্করে পড়ে গেলাম ভাই।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:২২

লেখক বলেছেন: প্রথমেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি অন্য পোষ্টটিতে করা আমার মন্তব্যের জন্যে।

দ্বিতীয়তঃ আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি আমার পোষ্টটি পড়ে যাওয়ার জন্যে এবং মন্তব্য করার জন্যে।

"সমস্যায় পড়ে গেলাম আপনার "সিলেকশন অব গোল" কি তা খুঁজে না পেয়ে!"

-আমার কোন গোল নেই। শুধু যা দেখেছি তারই বণর্না করে যাচ্ছি। গোলই যদি বলেন তা হ'তে পারে যেহেতু নিজের দেখা বা প্রত্যক্ষদশীদের কাছে শোনা ব্যাপারগুলোকেই আমি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি, যারা সে সময়টাকে প্রত্যক্ষ্ করেনি তাদের সে সময় সম্পর্কে ধারনা দেয়া, যেহেতু আমার দেখার সাথে লিপিবদ্ধ ইতিহাসের কিছু অমিল আছে।

"আপনি বলেছেন "যদি ভারতীয় সেনা বাহিনী সেদিন তাদের আগলে না রাখতো আমার মনে হয়না ভারত সফর না করে আপনি আপনার জীবনে কোন বিহারীকে দেখতেন।" এটা বুঝলাম না। ভারতীয় সেনাবাহিনী কি বিহারীদের প্রটেক্ট করেছিল? এটার কোন সূত্র আছে?"

-আমার দেখা। সমস্ত সূত্র এমন কি পরের জানা সত্যকেও এড়িয়ে যাচ্ছি আমি। তবে আমি যেহেতু দেখেছি নিজে, সূত্র কোথাও না কোথাও থাকবেই, যে কোন রুপে। ফয়েজ লেকের এই নৃশংস হত্যার খুব কমই সুত্র আছে। স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্রে ডাঃ আনোয়ার আলী, ইনজিনিয়ার আশিকুল, ঘোষিকা রেখা এবং আরো ক'জনের অবদানের সুত্র আমি শত চেষ্টাতেও ২৩ বছরে কোথাও খুঁজে পাইনি।

আপনি বলছেন "একাত্তরে বাংগালী জাতীয়তাবাদী ও নিরীহ জনগনের ওপর সুপরিকল্পিত, অমানুষিক ও পাশবিক নির্যাতনের দুঃসপ্ন আর প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হত্যা যার ফলশ্রুতিতে Kangaroo Trialএর মাধ্যমে ডজনাধিক ফাঁসী(অধিকাংশই মুক্তিযোদ্ধা)র বেদনা সব সময় যেন কিরকম একটা ভয়াবহ আবহ সৃষ্টি করে আমার জন্যে।" একাত্তরের গণহত্যার সাথে জিয়া হত্যা বা ক্যাঙ্গারু ট্রায়াল কি ভাবে আসে? যদি আসেই তাহলে জিয়ার আমলে গোপনে আরও মুক্তিযোদ্ধা অফিসার হত্যার প্রসঙ্গ আসা উচিৎ কি না?
-আসলে এখানে আমারি দোষ, দুটো বিষয় একসাথে লিখেছি আমি।

"একাত্তরে বাংগালী জাতীয়তাবাদী ও নিরীহ জনগনের ওপর সুপরিকল্পিত, অমানুষিক ও পাশবিক নির্যাতনের দুঃসপ্ন" এটা '৭১এ পাকিদের সার্কিট হাউজে নিযার্তন যার বণর্না আমি পরের প্যারাতেই দিয়েছি।

আর "প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হত্যা যার ফলশ্রুতিতে Kangaroo Trialএর মাধ্যমে ডজনাধিক ফাঁসী(অধিকাংশই মুক্তিযোদ্ধা)র বেদনা" এটাতে বোঝাতে চেয়েছি যেঃ

১। জিয়াকে সেখানে হত্যা করা হয়।

২।তার ফলশ্রুতিতে ১৩ জন মুক্তি যোদ্ধার ফাঁসী হওয়া।

এগুলোই আমার সব সময় একটা ভয়াবহ আবহ সৃষ্টি করে ।"

আপনি ঠিকই বলেছেন কর্ণেল তাহের থেকে উপরে ২ নম্বর পর্যন্ত আমার কাভার করা উচিৎ ছিল, কিন্তু আমি আমার বর্ণনার সময় বেঁধে দিয়েছি ৭৫ পর্যন্ট। জিয়া হত্যা ও ফাঁসি এসেছে শুধু মাত্র আমার ভয়ের ব্যাপারটা বোঝাতে।

আজ একটা বই বেরুচ্ছে বই মেলায় "সসস্ত্র বাহিনীতে গণহত্যা", আনোয়ার কবির, সাহিত্য প্রকাশ। আপনার উল্লেখিত বিষয়টি ওখানে বিস্তারিত ভাবে উঠে এসেছে, সাক্ষীদের কথনে। আমার একটি ছোট্ট কথন আছে সেখানে।

আপনি আবার বলছেন "লে. জে. হো। মো।এরশাদকে অত্যন্ত কাছে থেকে দেখেছি, সাথে তার গর্লফ্রেন্ডদেরকেও। তবে আমি তাঁর কাছে কৃতজ্ঞ। জুম্মার নামজটা পড়তে পারি মনের মত করে।"

তার মানে কি আপনি এরশাদের পিরিয়ডের আগে জুম্মার নামজটা মনের মত করে পড়তে পারতেন না?

-ন না না , সম্ভবতঃ লোমানকে এ মন্তব্য করেছি বলে বিষদে যাইনি, ও বুঝতে পারবে বলে। লে জে এরশাদ সাপ্তাহিক ছুটি রোববারের জায়গায় শুক্রবার করেন। আগে অফিস থকে তড়িঘড়ি করে নামাজে যেতে হত, না শারিরিকভাবে, না পরিধেয়তে আর না মনের প্রস্তুতিতে নামাজে যাবার যোগ্য মনে করতাম। এখন শুক্রবারে ছুটি হওয়াতে মন ও শরীর কে প্রস্তত করে সপ্তাহের সবচে' সুন্দর নামাজটা পড়তে পারি।

ভাল্লগলো খুব বলতে পেরে।

ভাল থাকুন।

২৬. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৪:১২
রাগ ইমন বলেছেন: কপাল গুণে এটি পড়ার সময় খাবারের প্লেট সামনে ছিলো , কাজ শেষ করে সবে দুই লোকমা মুখে তুলেছি । তার পরেই বুঝলাম , চরম ভুল হয়ে গেছে ।

মাইলকে মাইল কক্সবাজার পড়ে রয়েছে , আহাজারি করেও তাকে পর্যটন , বিনোদনের জায়গা বানানো গেলো না ।

বেছে বেছে ফয়েজ লেককেই বিনোদন কেন্দ্র করার দরকার হইলো?

খালেদা জিয়ার সৈনিকেরা বুদ্ধিজীবী হত্যার ফাইল গায়েব করে দিয়েছে ।

এর পরেও জিয়া ও খালেদার প্রতি মানুষের প্রেম কমে না । এই দেশটা নিয়ে মাঝে মাঝে বুঝে উঠতে পারি না , আসলেই কি করা উচিত , কি ভাবেই তা করা সম্ভব!

আমিও অনুরোধ করে যাই , আপনার স্মৃতিচারণ এরশাদ আমল পর্যন্ত রাখুন।
-----------------

পি মুন্সী , আমি আপনার লেখার খুব ভক্ত । কিন্তু , আপনার উপরের কথাটার ব্যাপারে একটু ভিন্নমত দেই।

যে মানবতার কথা বললেন, সেই মানবতাবোধ আদৌ মানবীয় কি না আমার সন্দেহ আছে । যে বার চট্টগ্রামে সাধারন মানুষ আর নেভীর লোকজনের ভিতরে সংঘর্ষ হলো ( দিন তারিখ মনে নেই) , তখন নেভীর অফিসার আত্মীয়ের কাছে শুনেছিলাম , কমান্ড কেউ মানে নাই । তাদের একজনের কথা ছিলো , ঘরে ঢুকে দেখলাম স্যার আমার প্রেগ্নেন্ট ওয়াইফের পেট কেটে জবাই করে রেখেছে , এরপর আর কারো কথা শোনার কিংবা নিয়ন্ত্রনের কোন কমান্ড মানা যায়?

কারো ব্যক্তিগত ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখে দাঁড়িয়ে আবেগহীন সিদ্ধান্ত নিতে পারাটা দেবতাদের ব্যাপার স্যাপার , মানবীয় না মনে হয়। এই জন্য সাধারন মানুষের নেতাদের একটু " অসাধারন" হওয়া বাঞ্ছনীয় ।

৫২ এর ভাষা আন্দোলন বাংলার পক্ষে ছিলো , কিন্তু একই সাথে সেইটা উর্দুর বিপক্ষে গেছে ।

সেই রকম বাংলাদেশের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিতে গিয়ে অন্য কোন সংস্কৃতির বিপক্ষেই হয়ত দাঁড়াতে হবে ( যেমন হালের হিন্দী আকাশ সংস্কৃতি ) ।

তবে বিপক্ষে দাঁড়ানোর ভিতরেও যেন যথেষ্ট সংযম থাকে , সেইটা প্রতিষ্ঠা খুব কষ্টকর হলেও , প্রচন্ড জরুরীও বটে ।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:৩১

লেখক বলেছেন: মাইলকে মাইল কক্সবাজার পড়ে রয়েছে , আহাজারি করেও তাকে পর্যটন , বিনোদনের জায়গা বানানো গেলো না ।
[/sb
-আজকের শ্রেষ্ঠ বাক্য।

আমিও অনুরোধ করে যাই , আপনার স্মৃতিচারণ এরশাদ আমল পর্যন্ত রাখুন।

- এটুকু লিখতেই জান শেষ, রোজগার করছিনা, বাসার কাজ করে দিচ্ছিনা, রান্নাঘর সামলাচ্ছিনা, খরচপাতির হিসেব রাখছিনা,দাড়ি প্রায় নির্মলেনদূ গুণের সমান, মোচের খোঁচায় ঠোট কাহিল-- এ পর্বটা শেস করি, তারপর বাকিটা দুইবারে শেষ করার চেষ্টা করবো। জিয়ারটা হবে করুণ রসের, এরশাদেরটা হাস্য রসের।

২৭. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:০০
আতিকুল হক বলেছেন: রাগ ইমন, তারিখটা ছিল ১৯৯২ সালের ২রা এবং ৩রা জানুয়ারি। মুল সংঘর্ষটা হয় ৩রা জানুয়ারি। আমরা তখন নেভাল বেইজে থাকতাম। আমি কোনদিন তারিখটা ভুলবো না। প্রথম গুলির আওয়াজ শুনি সেইদিন।

গুজবের পর গুজব ছড়াচ্ছিল দুপক্ষের মধ্যে। পরে জেনেছি, বাইরে ছড়ানো হয়েছিল অনেক সিভিলিয়ান ধরে এনে আটকা রাখা হয়েছে, কয়েকজনকে নাকি মারাও হয়েছে। যেটা মিথ্যা ছিল। আর নাবিকদের মধ্যে গুজব ছড়ানো হয়েছিল, সেইলর্স কলোনিতে মহিলা, শিশুদের মেরে পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দিচ্ছে। এরপর নাবিকরা অফিসারদের কোন কথাই শোনেনি। ঘটনার পরে তদন্ত হয়েছে, কিছু লোকের চাকরি গেছে, কিন্তু কারা এই গুজবগুলো ছড়ালো তার কোন সন্ধান হয়েছিল কিনা জানি না।

আমার দুটো উপলদ্ধি হয়েছে সব মিলিয়ে। এক, সত্যিকার অর্থে কোনরকম জাতি, গোত্র বা গোষ্ঠীয় প্রীতির উর্ধে উঠে মানবতাবাদি মানুষ হওয়া খুব কঠিন, অসম্ভবই বলা যায়। দুই, পৃথিবীর সব জাতিই নৃশংস। তবে বাংলাদেশিরা ছাড়া অন্যরা এই নৃশংসতাটা নিজ জাতির বাইরে অন্যদের উপরে প্রয়োগ করে। এইদিক থেকে আমরা বেশ নিরপেক্ষ।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:৩৮

লেখক বলেছেন: "পৃথিবীর সব জাতিই নৃশংস। তবে বাংলাদেশিরা ছাড়া অন্যরা এই নৃশংসতাটা নিজ জাতির বাইরে অন্যদের উপরে প্রয়োগ করে। এইদিক থেকে আমরা বেশ নিরপেক্ষ।"

-এ মন্তব্যকেই বলে "Quotable quote"

২৮. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:৪৪
বাস্তবতা বলেছেন: ১৯৯২ তে নেভাল বেস এর ঘটনাটা জানি না, কেউ একজন ঘটনাটা বলবেন?

হয়ত চরম বিভৎস হবে, কিন্তু নিজেদেরকে জানার তাগিদেই জানতে চাইছি।
২৯. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৬:৩৪
ও.জামান বলেছেন: ২০০৩ সালে ভারতের শিলং ইউনিভার্সিটিতে একটা কনফারেন্সে পেপার প্রেজেণ্ট করতে গিয়েছিলাম। তো শেষ দিনে ওরা বিভিন্ন জায়গায় বেড়াতে নিয়ে গিয়েছিলো। প্রচণ্ড মাথা ব্যাথা ছিলো তাই কিছুই উপভোগ করছিলাম না। এক পর্যায়ে গাড়ী থামলো "কোহিমা ওয়ার সিমেট্রিতে"।

ওয়ার সিমেট্রি আগেও দেখেছি। কুমিল্লায়, চট্রগ্রামে। খালার বাসা দামপাড়ায়। ওখানে ৩৬৫ দিনের ৩০ দিন তো অবশ্যই কাটিয়েছি। এখনো কমপক্ষে ১০ দিন কাটাই। ওয়ার সিমেট্রি বেড়ানোর জন্য একটা চমৎকার জায়গা (কোহিমা যাওয়া আগ পর্যন্ত তাই মনে হতো)।

প্রসঙ্গে ফিরে আসি। আমার গিন্নী আমাকে বললো নেমে একটু হাটা হাটি করলে ভালো লাগবে। গেলাম। সেই বিখ্যাত এপিটাফের সামনে দাঁড়ালাম।

"When You Go Home, Tell Them Of Us And Say, For Your Tomorrow, We Gave Our Today" "যখন তুমি বাড়ী ফিরে যাবে, সবাই কে আমাদের কথাটা জানাবে; এবং বলবে, তোমাদের আগামীকালের জন্য আমাদের বর্তমান দিয়ে গেলাম"

এই প্রথম প্রাকৃতিক নিসর্গ দেখা বাদ দিয়ে শহীদের সারি অতিক্রম করতে শুরু করলাম। প্রতিটা কবরে প্রতিদিন একটা ফুল দেয়া হয়। পরে কুমিল্লা-চট্টগ্রামেও একই বিষয় লক্ষ্য করেছি। আরো খেয়াল করেছি ওখানে অফিসার সৈনিক এমন কি শত্রু জাপানীদের ও সমান মর্যাদায় সমাহিত করা হয়েছে।

আমরা মুজিব-জিয়ার কবরকে শতকোটি টাকায় মাজার তৈরি করি আর শহীদদের কবর থাকে অবহেলায়। (শত্রুদের কবরের কথা বলে "ছাগু" ডাক শোনার ঝুকি নিলাম না।)
___________________________________________
প্রথমবার এই পোস্টটি ফয়'স লেক পর্যন্ত পড়ে আর পড়িনি। ২য়বার শুধু কমেণ্ট করার জন্য ঢুকেছিলাম। এইবার পুরোটা পড়লাম।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৮:২১

লেখক বলেছেন: "When You Go Home, Tell Them Of Us And Say,
For Your Tomorrow, We Gave Our Today"
"যখন তুমি বাড়ী ফিরে যাবে, সবাই কে আমাদের কথাটা জানাবে;
এবং বলবে, তোমাদের আগামীকালের জন্য আমাদের বর্তমান দিয়ে গেলাম।

-আমি সারা রাত জেগে আছি। ঘুমে চোখ বুজে আসছে কিন্তু চোখ বন্ধ করলেই সেই সব ভয়াল স্মৃতি।তোমাদের আগামীকালের জন্য আমাদের বর্তমান দিয়ে গেলাম।

আমরা মুজিব-জিয়ার কবরকে শতকোটি টাকায় মাজার তৈরি করি আর শহীদদের কবর থাকে অবহেলায়। (শত্রুদের কবরের কথা বলে "ছাগু" ডাক শোনার ঝুকি নিলাম না।)

- আপনি দু'জনকেই ধরেছেন এক সাথে আপনার খবর আছে।

৩০. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৬:৪৯
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: রাগ ইমন বলেছেন:

খালেদা জিয়ার সৈনিকেরা বুদ্ধিজীবী হত্যার ফাইল গায়েব করে দিয়েছে | এর পরেও জিয়া ও খালেদার প্রতি মানুষের প্রেম কমে না ।

-------------------->>

শুরু হয়ে গেল দলীয় চামচামী ও অন্যের উপড় দোষ ছুড়ে মারার চিরাচরিত দলীয় বদ মতলবীয় কমেন্ট............??

পেটের ভাত হজম হয় না এসব না করলে তাই না......??
৩১. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:১৬
ও.জামান বলেছেন: বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত ভাই, ঐ মন্তব্যটা আমার চোখেও পড়েছে। একবার লিখতে চেয়েছিলাম যে, ১৯৫ জন সুনির্দিষ্ট চিহ্নিত পাকী যুদ্ধ অপরাধীকে বিচার করার জন্য ১৯৭৩ সালে ইন্টারন্যাশনাল ওয়ার ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল ১৯৭৩ পাশ করা হয়েছিলো। জাতি অবাক হয়ে দেখলো ১৯৭৪ সালের ৯ই এপ্রিল forgive and forget এর কথা বলে ত্রিদেশীয় চুক্তি এর মাধ্যমে এই ১৯৫ পাকিস্থানী যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করে পাকিস্থানে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হলো।

আওয়ামী ইতিহাসবেত্তারা এখন "পাকিস্হানে আটক বাংলাদেশী" বন্দীদের কথা কথা বলবেন, তাই না? তাদের ঐ জবাবটাও এখানেই দিয়ে রাখছি।

১৯৭৪ সালের মার্চের ২৫ তারিখের মধ্যেই সকল বাংলাদেশীকে ফেরত আনা শেষ হয়েছিল। আর মুজিব এই ১৯৫ পাকি যুদ্ধাপরাধীকে ছেড়ে দেয় এর ও পরে ত্রিদেশীয় চুক্তির মাধ্যমে, যা সাক্ষর হয় ১৯৭৪ সালের ৯ ই এপ্রিল।

কিছু বেওয়ারিশ বাংলাভাষী পাকিস্থানে পাকী নাগরিকত্ব নিয়ে থেকে গিয়েছিলো। এই জারজদের একজন হচ্ছে ফোরদৌসী মজুমদার, কবির চৌধুরীর ভাই। ওই পাকী জারজ যুদ্ধের সময়ও বাংলাদেশের বিরোধীতা করেছে। মজার বিষয় হচ্ছে কবির চৌ এবং ফেরদৌসীরা পাকিস্থানে গেলে এখনো ওখানেই ওঠে।

এই ডিফেক্টেড পাকীদের নিশ্চই আপনারা "পাকিস্হানে আটক বাংলাদেশী" বলবেন না।
৩২. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:৩০
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: @জামান:

এখানে কোন দল-মত নয়, আমরা মুক্তিযুদ্বের ঘটনার একজন চাক্ষুষ সাক্ষীর সাক্ষ্য শুনছি, কেউই বিএনপি-আম্লীগ টেনে আনেনি|

ঐ ব্লগারের পেটের ভাত হজম হয় না জিয়া-খালেদা-বিএনপিকে গালি না দিলে| এই চরম এলার্জি নিয়ে সে দিনানিপাত করে কিভাবে ভাবতে অবাক লাগে.........!!!

দোয়া করি আল্লাহ যেন উনার জন্য দ্রুত কোন মলমের ব্যাবস্হা করে দেন.......!!!!!!!!!!
৩৩. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:২৭
হাসান শহীদ ফেরদৌস বলেছেন: ১৯৫ পাকিস্তানীদের প্রত্যাবর্তন নিয়ে চমৎকার একটি পোষ্টঃ

Click This Link
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:০৬

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ।

সেক্টর কমান্ডারদেরকে নিয়ে আপনার মন্তব্যে কিছু রেখে এসেছি।

৩৪. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:২৮
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: ভারতীয় সেনাবাহিনী কি বিহারীদের প্রটেক্ট করেছিল? এটার কোন সূত্র আছে?"

১৬ ডিসেম্বরের পর নারায়নগঞ্জ, মীরপুর, মোহাম্মদপুরসহ বিহারী অধ্যূষিত এলাকাগুলো ভারতীয় বাহিনী ঘিরে রেখেছিলো। কারণ বাইরের মিডিয়ায় এ নিয়ে বেশ প্রচারণা চলছিলো। হ্যা ভারতীয় বাহিনী বিহারীদের প্রটেক্ট করছিলো বাঙালীদের রোষ থেকে।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:১৩

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ পিয়াল।

৩৫. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:৩১
অমি রহমান পিয়াল বলেছেন: বিদ্রোহী রণক্লান্ত @ আপনি নিজে কি কোনো মলম ব্যবহার করেন? যেই উপসর্গ বললেন, সেখানে নেত্রী আর পার্টির নাম বদলাইলে তো একই রোগে আপনিও ভুগতেছেন, বরঙ আপনারটা বেশ সিভিয়ার কেইস লাগে।
৩৬. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:১৭
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: @অমি রহমান পিয়াল:

লেখকের ১১ টা পর্ব লেখা হয়েছে, কোন যায়গায় কোন দলের নাম নিয়েছি কি-না দেখেন, অন্য কোন ব্লগারও এই কাজটা করে নাই| সন্তর্পনে সবাই বিরত থেকেছি নীজ নীজ দলকে টেনে আনতে বা অন্য দলের উপড় কিছু চাপিয়ে দিতে|

ঐ ব্লগারের কমেন্টটা দেখে মনে হইলো, আর পারতাছে না, এত গুলা পর্ব শেষ হইলো এখনো জিয়া-খালেদা-জাতীয়তাবাদী কাউরে জড়ানো হইতাছে ক্যান, আর পারি না, ফাইট্টা যাইতাছে অবস্হা.......।

৩৭. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:২১
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: পিয়াল ও লেখককে প্রশ্ন:

মিরপুর ও মোহাম্মদপুরে কিছু বিহারী চোখে পড়ে বাকী বিহারীগুলা কি যুদ্বের পর সব পাকিস্হানে পালাইছে ? পুরা পরিবার লইয়া ভাগলো ক্যামনে........??
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৩৭

লেখক বলেছেন: আমার জানা নেই।

৩৮. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:২৫
রাগ ইমন বলেছেন: ত্রিশোংকু,
একেবারেই অফ টপিক মন্তব্য করতে হচ্ছে বলে দুঃখিত । সব কয়টা অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য মোছার ব্যাপারে যদি কোন সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে এটাও নিশ্চিন্তে মুছে দিয়েন।

বিদ্রোহী,
আপনার নিকের সাথে কাজে কর্মের মিল রাখতে গিয়ে মাঝে মাঝে প্রচন্ড গুবলেট করে ফেলেন, তখন আপনাকে ইগনোর করাটাই হয়ত সমীচীন। কিন্তু , ৩টি সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য খরচ করে যেহেতু আমাকে প্রাসঙ্গিক ও নিরপেক্ষ থাকার উপদেশ দিতে এসেছেন , সেই জন্য আপনাকে একটা প্রশ্ন করি , হ্যাডম থাকলে অন্য কোন পোস্টে ( আমার লাস্ট পোস্টেও দিতে পারেন) উত্তর দিয়েন।

" আজ পর্যন্ত মুজিব, জিয়া, হাসিনা, খালেদা, গোলাম আজম , এরশাদ - সেই অর্থে বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে , দেশ শাসনের পরিক্রমায় , একটু হলেও ঝামেলা করতে পেরেছে - এমন কোন দলটির বা দলের প্রধান ব্যক্তিটির খারাপ কাজ ও সিদ্ধান্তের সমালোচনা / নিন্দা / প্রতিবাদ আমি করিনি , তার একটা প্রমান দিতে পারবেন? "
৩৯. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:২৫
ও.জামান বলেছেন: ত্রিশোনকু ভাই, আমি দুইজনকে ধরি নাই। যারা এই দুইজনকে নিয়ে ব্যবসা করে তাঁদের ধরেছি। আমাদের মনে রাখতে হবে ওনারা মানুষ ছিলেন। ওনাদের ভুল ভ্রান্তি ছিলো। আবার অনেক গুণ ও ছিলো। যাদের নিজেদের যোগ্যতা নেই তারাই মৃত মানবের পোস্টার নিয়ে রাজনীতি করে। মৃত মানবকে আকাশে তোলার বা পাতালে পোতার চেষ্টা করে আলোচনায় থাকতে চায়। নিয়তির পরিহাস হচ্ছে এইসব চটি লেখক তাৎক্ষনিকভাবে মানুষের মনে দাগ কাঁটলেও সে দাগ অল্প দিনেই মুছে যায়।
_____________________________________________

এর আগেও অন্য কোন পোস্টে আমার মন্তব্যে 'চটি' শব্দটি একজন ব্লগার পর্ণো অর্থে অনুধাবন করেছেন। যাদের সাহিত্য চেতনা মূল থেকে আসে তাঁরা জানেন, "চটিবই হচ্ছে একটি এক ফর্মার (বইয়ের সাইজে ১৬ পৃষ্ঠা) কিংবা আধা ফর্মার প্রকাশনা, যেখানে পয়ার ছন্দে অন্তমিল রেখে একটা কাহিনি বর্ণনা করা হয়। ফর্মাটি ভাঁজ করা থাকে, ভাঁজ খুলে পৃষ্ঠা নম্বর দেখে-দেখে পড়ে যেতে হয়। সাধারণত কোনো চালু কাহিনি, ঘটে-যাওয়া ঘটনা, অলৌকিক কোনো বিবৃতি, কিংবা কোনো স্ক্যান্ডালকে উপজীব্য করে এসব প্রকাশনা বের হয়।"

নারী ও প্রগতি, ডিসেম্বর ২০০৮ সংখ্যায় চটি সাহিত্য নিয়ে একটা লেখা পড়তে পারেন।
Click This Link

আর যাদের সাহিত্যের হাতেখড়ি পর্ণো চর্চার মাধ্যমে, তারা চটি নাম শুনে আমার ওপর ঝাপিয়ে পড়তে পারেন, যেমন পড়েছিলেন এর আগে।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৩৯

লেখক বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

৪০. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৩৭
ও.জামান বলেছেন: আর বিপদে পড়ার কথা বলছেন?

আপনার নিশ্চই খেয়াল আছে, জিয়ার লাশ নিয়ে টানাটানির আসল উদ্দেশ্য কি? জেনেশুনে ইচ্ছে করেই কি শেখ হাসিনা তার পিতার লাশের অসম্মান হতে দিয়েছেন! শিরোনামে একটি একটি পোস্ট দিয়েছিলাম ৬/২/২০১০ সন্ধায়। সেখানে জিয়ার লাশ নিয়ে যারা অশালিন মন্তব্য করেছেন এবং চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন তাদের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে ২ জুন ১৯৮১ তে ইত্তেফাকের নিউজ কপিপেস্ট করেছিলাম। প্রত্যক্ষদর্শীদের নাম দিয়েছিলাম। এবং কেন শেখ হাসিনা এই জঘন্য কাজটি করলেন তা ব্যখ্যা করেছিলাম।

সেখানে আপনার মূল্যবান মন্তব্যও ছিল।

গত ০৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৫৬ এ নীচের মেসেজ দিয়ে আমার পোস্টটি মুছে দেয়া হয়
-------------------------------------------------------------------------------
dear blogger,

your post (জিয়ার লাশ নিয়ে টানাটানির আসল উদ্দেশ্য কি? জেনেশুনে ইচ্ছে করেই কি শেখ হাসিনা তার পিতার লাশের অসম্মান হতে দিয়েছেন!) have been deleted due to violation of the blog rules. please do not republish this writing again on the blog or we will be forced to ban you from the blog.

3b. if the post or picture that contains personal attack, harassment, defamation, vulgarity, profanity, obscenity, name calling or pornography.

৩খ. যদি পোস্ট কিংবা ছবিতে ব্যক্তি আক্রমণ, হয়রানিমূলক, কুৎসা রটনামূলক, অশ্লীলতা, কুরুচিপূর্ণ, আপত্তিকর, গালিগালাজ এবং পর্ণগ্রাফি সম্বলিত বক্তব্য কিংবা বিষয় থাকে।



regards,
somewherein blog team.
--------------------------------------------------------------------------------

আপনি তো ওটি পড়েছেন, খুবই ভালো একটা কমেণ্টও করেছিলেন। বলুন তো, ওখানে কি ৩খ. ধারা ভঙ্গ করার মত কোন কিছু ছিলো?
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৪১

লেখক বলেছেন: পোস্টটিতে ব্যক্তি আক্রমণ, হয়রানিমূলক, কুৎসা রটনামূলক, অশ্লীলতা, কুরুচিপূর্ণ, আপত্তিকর, গালিগালাজ এবং পর্ণগ্রাফি সম্বলিত বক্তব্য ছিলনা।

৪১. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৪০
অলস ছেলে বলেছেন:
লেখা পড়লাম। নির্বাক।
মন্তব্যগুলো পড়লাম। আরো নির্বাক।
আমাদের জাতিগত সমস্যা আছে। অনেক সমস্যা আছে।
ফয়স লেক গিয়েছি শেরশাহ কলোনী গিয়েছি, কখনো জানতাম না এমন সব স্মৃতি হারিয়ে আছে ঐসব জায়গায়। এই ইতিহাস কারা দাফন করেছে? একটু খুলে বলবেন প্লিজ। আমরা কমবুদ্ধির মানুষ রকেট সায়েন্টিষ্ট ও না আবার সাধারণ মাত্রার বুদ্ধিও হয়তো নেই, তাই সরলভাবে না বললে অনেক কিছু বুঝি না, আপনার সেই তথাকথিত অগ্নিজল টা কি জিনিস এখনো মাথায় মাঝে মাঝে ঘুরে, বুঝি না, কিন্তু প্রাসঙ্গিক না বলে জিজ্ঞাসাও করা হয় না।

মন্তব্য পড়তে গিয়ে নেভির মারামারি আর গান পাউডারের বিভৎস আগুনগুলো আবার চোখের সামনে এসে গেলো, কিশোর ছিলাম, স্বচক্ষেই দেখেছিলাম, নেভিতেও আত্মীয় আর বাবার বন্ধুরা ছিলেন, কমচিট তথাকথিত বন্দীদশা থেকে মুক্ত হবার পরপরই দেখেছি (আমরা সাধারণ মানুষ যা শুনেছি আরকি)। অন্যদিকে মহিউদ্দিনের রাজনৈতিক তৎপরতাও দেখেছি। আর কাঠগড়ে তো অনেক আত্মীয় স্বজন। ঐ ঘটনা এখন আবার ভাবতে গেলে এ বিশ্বাসই দৃঢ় হয়, আমাদের জাতিগত সমস্যা আছে যার প্রতিবিধান অনেক দুরুহ।
মারামারি করতে পারবো, সৈনিক হলে যুদ্ধে হয়তো মানুষও হত্যা করতে পারবো, কিন্তু সাধারণ মানুষ নারী আর শিশু হত্যা করা আমার পক্ষে সম্ভব না।
যাইহোক, বর্তমান থেকে আবার অতীতে ফিরে যাই। পরের পর্ব পড়ার অপেক্ষায়।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৪৪

লেখক বলেছেন: আমরা এক অতি আশ্চর্য জাত।

একবেদ্বিতীয়ম।

৪২. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৪৩
ও.জামান বলেছেন: বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: পিয়াল ও লেখককে প্রশ্ন: মিরপুর ও মোহাম্মদপুরে কিছু বিহারী চোখে পড়ে বাকী বিহারীগুলা কি যুদ্বের পর সব পাকিস্হানে পালাইছে ? পুরা পরিবার লইয়া ভাগলো ক্যামনে........??

ভাই এই প্রশ্নের উত্তর খুব সোজা।
৫৭ জন বীর সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা ও তাঁদের পরিবারের ওপর নির্যাতনকারীরা যেভাবে পিলখানা থেকে হাপিস হয়ে গিয়েছিলো, সেই একইভাবে।
৪৩. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৪৬
রাগ ইমন বলেছেন: জামান,

খালেদা জিয়ার আমলে বুদ্ধিজীবী হত্যার ফাইল পত্র গায়েব হয়ে গেছে , তাতে আওয়ামী আমলের ভুল কিংবা অপরাধের দোষ কমে যায় না। আপনারা যারা অন্যদেরকে "একটি দল করতেই হবে" এর বাইরে চিন্তা করতে পারেন না , তাদের জন্য এই সত্যটা উপলব্ধি করাটা ভীষণ কষ্ট ।

প্রসঙ্গ ক্রমে , ঐ বিশেষ বাক্যটি আমার লাস্ট পোস্টে মনজু ভাই এর করা ঃ

মনজুরুল হক বলেছেন:

৭২ এর সংবিধানে ফিরলেই "কি করতে হবে"র সুরাহা হয়ে যাবে।

খালেদা জিয়ার সৈনিকরা বুদ্ধিজীবী হত্যার দলিলপত্র সরাইয়া ফেলছে!

Click This Link

আপনার তীব্র মতামত আপনি ঐ পোস্টে দিতে পারেন । মনজু ভাই কিংবা আমার " বুদ্ধিজীবী হত্যার ফাইল গায়েব হওয়া নিয়ে" কোন মতামত/ তথ্যটা ভুল সেইটাও জানাইতে পারেন।

এই পোস্টে আর কিছু বলতে চাই না ।

-----------------------------

ত্রিশোংকু ,

ফয়েজ লেক গণ কবর কিংবা বধ্যভূমি থেকে বিনোদন কেন্দ্র ঠিক কবে থেকে হওয়া শুরু হয়েছিলো , কে বা কারা এর উদ্যোক্তা ছিলো , এই সংযোজন টুকু কি করা সম্ভব আপনার পক্ষে ? এইটাও তো ইতিহাসেরই অংশ ।

-------------------------

আতিকুল,
বিনীত অনুরোধ রইল ১৯৯২ নিয়ে একটা পোস্ট দেওয়ার । আমি অনেক বেশি ছোট ছিলাম । অনেক কিছুই বুঝিনি , জানতে পারিনি । এই ঘটনার বেনিফিশিয়ারী কারা?

নাকি এইটা কোন টেস্ট কেস ছিলো?
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৪৯

লেখক বলেছেন: ত্রিশোংকু ,

ফয়েজ লেক গণ কবর কিংবা বধ্যভূমি থেকে বিনোদন কেন্দ্র ঠিক কবে থেকে হওয়া শুরু হয়েছিলো , কে বা কারা এর উদ্যোক্তা ছিলো , এই সংযোজন টুকু কি করা সম্ভব আপনার পক্ষে ? এইটাও তো ইতিহাসেরই অংশ ।
- আমার জানা নেই। এই প্রক্রিয়া শুরু হবার অনেক আগেই আমি চিটাগাংএর বাইরে।

৪৪. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৫২
অলস ছেলে বলেছেন: জিয়া আর জাতীয়তাবাদ এইসব অনেকেরই গ্রহণযোগ্য সমস্যার উদ্রেক করে। গ্রহণযোগ্য কারণ বিরুদ্ধমত সহ্য করতে না পারার অভ্যেস এদের মজ্জাগত। আওয়ামী লীগ অনেক পুরনো গণতান্ত্রিক দল। কিন্তু সম্মানিত লেখকের প্রিয় এবং অবশ্যই সম্মানিত শেখ মুজিব উনার পূর্বসুরীদের মুছে ফেলে একদলীয় ফ্যাসিবাদী স্বৈরতন্ত্রই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরে সুবিধা না হওয়াতে আবার দলের নাম নিতে হলেও মনমানসিকতা আর কাজকর্ম বাকশালীই রয়ে গেছে, পরিবারতন্ত্র তো অনুষঙ্গ। এখন এদের সমস্যা একটাই, একদল একমত একদেশ কেন হয়নাই। অতীতে ফিরে যেতে হলেও ইতিহাস বর্তমান থেকে কখনো আলাদা না, এবং মজ্জাগত প্রকৃতি না বদলালে অতীতই আবার ফিরে ফিরে আসবে। বাহাত্তর থেকে পচাত্তরের বাস্তবতা বাংলাদেশীরা ভুলে গেছে এবং সেই সুদিন ফিরে না আসলে স্মৃতিরও পুণরুত্থান হবেনা। গোল্ডফিশ মেমরী যেহেতু।

এই বাকশালীদের সকল চুলকানী গ্রহণযোগ্য, মলম ব্যবহার করতে হবে অন্যদের। ধাড়ি শিয়ালের লেজ কাটা গেলে যেমন আমজনতার লেজও কাটতে হয় তেমন।

দু:খিত এই পোষ্টে এমন কথা বলতে হলো। কিন্তু অন্যায় আচরণকে অন্যায় বলতেই হবে।
৪৫. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৫৮
রাগ ইমন বলেছেন: এটুকু লিখতেই জান শেষ, রোজগার করছিনা, বাসার কাজ করে দিচ্ছিনা, রান্নাঘর সামলাচ্ছিনা, খরচপাতির হিসেব রাখছিনা,দাড়ি প্রায় নির্মলেনদূ গুণের সমান, মোচের খোঁচায় ঠোট কাহিল-- এ পর্বটা শেস করি, তারপর বাকিটা দুইবারে শেষ করার চেষ্টা করবো। জিয়ারটা হবে করুণ রসের, এরশাদেরটা হাস্য রসের।

আমাদের পক্ষ থেকে আপনাকে ও আপনার পরিবারকে এই কষ্ট , এই আত্মত্যাগের জন্য স্যালুট । ভালো যে কোন কিছুর পেছনেই একাধিক মানুষের ত্যাগ থাকে, আবারো প্রমানিত ।

মাঝে কেউ আপনাকে টাইপ করে দিতে চেয়েছিলো । ইচ্ছাটা আমারও হয় মাঝে মাঝে । এই জন্যই আজকে একটু জানতে চাইছি , আপনি বাংলা টাইপ করার জন্য কি ব্যবহার করেন আসলে?

আমি অভ্রের ভক্ত ।

অভ্র ডাউনলোড করে নিন এখান থেকে

যদিও দেশী প্রযুক্তি অভ্রকেই প্রচার করতে পছন্দ করি , তারপরেও একটু ছাড় দিয়ে আপনাকে গুগুল ট্রান্সলিটারেশন এর লিং দিচ্ছি ।

এটি অফ লাইনেও কাজ করে , ডানের লিংক থেকে ডাউনলোড করে নিন

আর এইটার সুযোগ সুবিধা জানতে এইখানে ক্লিকান ।

আশা করছি , আপনার টাইপিং এর স্পীড বহুগুণে বেড়ে যাবে । আমার আব্বুকে শিখানোর চেষ্টা করে দেখলাম, উনি বিজয়েই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন । তারপরেও লেগে আছি , আব্বুর কাছ থেকে অনেক লেখা লিখাতে হবে তো!
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:০৩

লেখক বলেছেন: অনেক ধন্যবাদ। অভ্র আমার আছে। কিন্তু আমি ফনেটিকে অভ্যস্ত হয়ে গেছি যেটা আবার ব্লগে ছাড়া লেখা যায় না। আমার কাছ থেকে নিয়ে আমার জেষ্ঠ পুত্র বেশ ভালই শিখেছে।

গুগুল ট্রান্সলেটর দিয়ে হিব্রু, আরবী , ফ্রেন্চ , ক্রোয়াট এসব অনুবাদ করেছি। কিন্তু বাংলা পাই নি।

সাহায্যের জন্যে অসংখ্য ধন্যবাদ।
___________________________________________

আজ একটা বই বের হয়েছে: সশস্ত্র বাহিনীতে গনহত্যা , আনোয়ার কবির, সাহিত্য প্রকাশ। এ বইটা বের হবার পর আমার লেখার কিছুই থাকেনা '৭৫-'৮১।

শুধু জিয়া হত্যা থকে ফাঁসী হওয়ার সময়টুকু ছাড়া।
__________________________________________

পাদটিকাঃ আমার কথাগুলোতে কৌতুকই বেশী ছিল।

৪৬. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:০২
সাজিদ বলেছেন: বিএনপির দোষ খুজা কিছু বাকশালির জন্মগত স্বভাব। রাগ ইমন বলছেন কক্সবাজারের কথা। চট্টগ্রাম শহরের কথা বলছি এখানে। কক্সবাজার ৩/৪ ঘন্টা ড্রাইভিং ডিসটেন্সে।

সেখানে প্রাইভেট ইউনি হয়েছে। মানুষ বাড়িঘর করে থাকছে। টিভি সেন্টার হলো। আর এখন একটা বিনোদন কেন্দ্রের জন্য সব দোষ বিএনপির।

মহিউদ্দি আংকেলতো চট্টগ্রামের মেয়র ১৫ বছর ধরে। ড্রেনের উপর ইউনিভার্সিটি বানায় ফেললো আর একটা স্মৃতিস্তম্ভ বনাতে পারে না?
৪৭. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:১৮
রাগ ইমন বলেছেন: সাজিদ,

নিচের বাক্য গুলা মন দিয়ে পড়েন। অর্থ না বুঝলে আমার ব্লগে এসেও জিজ্ঞেস করে যেতে পারেন,

খালেদা জিয়ার আমলে বুদ্ধিজীবী হত্যার ফাইল পত্র গায়েব হয়ে গেছে , তাতে আওয়ামী আমলের ভুল কিংবা অপরাধের দোষ কমে যায় না। আপনারা যারা অন্যদেরকে "একটি দল করতেই হবে" এর বাইরে চিন্তা করতে পারেন না , তাদের জন্য এই সত্যটা উপলব্ধি করাটা ভীষণ কষ্ট ।

----------------------

বুদ্ধিজীবী হত্যার ফাইল গায়েব, গণকবরের উপর বিনোদন কেন্দ্র - এই গুলা অন্য কাজের সাথে তুলনা করাটা ঠিক না । বাংলাদেশের ইতিহাস মুছে দেওয়ার চেষ্টা আর টাকার খাই খাই থেকে প্রতিটা দলের সম্পদ দখল, ব্যবসা বাণিজ্য , এক জিনিস না ।

বাংলাদেশের ইতিহাসকে নিয়ে দলীয় আচরণ থেকে আওয়ামী লীগ মোটেও মুক্ত নয় । সাধারণ মানুষের আন্দোলনের গুড় রাজনৈতিক দল হিসেবে সবচেয়ে বেশি খেয়েছে আওয়ামী লীগ। আপামর জনতার আশা আকাঙ্খার পিঠে ছুরি মারার কাজটাও এই দলটাই সবচেয়ে বেশি করেছে ।

সেই তুলনায় বি এন পি, জাতীয় পার্টি কিংবা জামাত ইসলামীর কাছ থেকে আসলে আমাদের মত মানুষ কিছু আশাই করে না ।
----------------------

বাংলাদেশের যুদ্ধের ইতিহাস ছাড়া আর কোন প্রসঙ্গে এই পোস্টে এইটাই আমার শেষ মন্তব্য ।

ত্রিশোংকু , আবারও ক্ষমা চাইছি ।
৪৮. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:২৩
রোহান বলেছেন: মাইলকে মাইল কক্সবাজার পড়ে রয়েছে , আহাজারি করেও তাকে পর্যটন , বিনোদনের জায়গা বানানো গেলো না ।

বেছে বেছে ফয়েজ লেককেই বিনোদন কেন্দ্র করার দরকার হইলো?

কমেন্টে জাঝা.............

একটা বিষয় দেখে অবাক হলাম... ফয়েজ লেকের বধ্যভূমির ইতিহাস চিটাগাং এর লোকাল অনেকেই জানেনা.... এমনকি তেমন অনেকে যারা অনেক অজানা ছোটো ছোটো বিহারী পরিবারের হত্যা নিয়েও অনেক কিছু জানে তারাও.... এইখানে যে একটা বিশাল বধ্যভূমি ছিলো, বিশেষ করে রং বদলে যাওয়া একটা পাথরের গল্প আমি কিন্তু শুনেছি অনেক ছোটো বেলায়... খুব সম্ভবত মাত্র হাই স্কুলে পড়ি, আব্বার এক কলিগের ফ্যামিলি আর আমাদের ফ্যামিলি কোনো উইকেন্ডে ওখানে গিয়েছিলাম... তখনই আংকেল আর আব্বা ঐ পাথরের গল্প করছিলো.... আমার বন্ধুদের অনেকে পাথরের কথা জানে, খুব সম্ভবত অনেক পরে এসে প্রথম আলো কিংবা ভোরের কাগজ বধ্যভূমি নিয়ে একটা সিরিজ করছিলো (মিরপুরের জল্লাদখানা খনন চলার সময়টাতে) ওটাতে ফয়েজলেকের কথা বেশ ভালোভাবেই আসছিলো। ফয়েজলেকের সেই পাথরটা একটা বেশ বড় মিথ... পারিবারিকভাবে চিটাগাংএর লোকাল যারা তাদের তো আরও ভালো বলতে পারার কথা... তাহলে এবার বুঝেন কিভাবে এমন নৃশংস অপকর্মের ইতিহাস মানুষের মুখ থেকে এমনকি মন থেকেও সরিয়ে ফেলেছে...

আসলেই জাতি হিসাবে আমাদের অকৃতজ্ঞতা দেখার মতো একটা জিনিস.... তার উপর আমাদের ইতিহাস নিয়ে এতো এতো কাঁটাছেড়া... যে যাই বলতে পারে, গায়ের জোরে অস্বীকার করতে পারে -- তবে একটা বিশেষ সময়ের মাঝে এইসব ঐতিহাসিক চিহ্নগুলো রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় নিশ্চিহ্ন করার প্রয়াস তো ছিলোই... আজব আমরা আমাদের দেশেও সেই বিশ্বযুদ্ধের সেনানীদের সমাধি পাই অথচ আমাদের নিজের জন্মের জন্য যাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ তাদের বরং দ্বিতীয়বার ধামাচাপা দিয়ে পরিতৃপ্ত হই... আফসোস লাগে আমাদের নিজেদের জন্যই... সামনের প্রজন্মের জন্য আদৌ কি কিছু রেখে যাচ্ছি একগাদা লজ্জা ছাড়া....
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:০৮

লেখক বলেছেন: আফসোস লাগে আমাদের নিজেদের জন্যই... সামনের প্রজন্মের জন্য আদৌ কি কিছু রেখে যাচ্ছি একগাদা লজ্জা ছাড়া.

-মানা অতি কষ্টকর কিন্তু দ্রুব সত্য।

৪৯. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:৩৭
রোহান বলেছেন: আরেকটা মজার বিষয়... ধরেন একজন ভদ্রলোকের বাসার সামনে দিয়ে একটা পাগল দিগম্বর হয়ে ট্রাফিক কন্ট্রোল করে, তাই বলে ঐ ভদ্রলোকে তো আর নিশ্চয়ই সেই পাগলের পাশে দিগম্বর হয়ে দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করে না তাই না? কিংবা ট্রাফিক সেটাকে স্ট্যান্ডার্ড মেনে নিজেও দিগম্বর হয়ে দাঁড়ায় না.... কিছু লোকজন তৈরী হয়েই থাকে তাদের পছন্দের যেকোনো শাসক গোষ্ঠীর যেকোনো শাসনকাল নিয়ে কথা বলতে গেলেই ৭২-৭৫ টানে, যুদ্ধাপরাধের বিচার করতে বললে বলে আগে লেজের দিকের পাঁচটার নাম আনেন, আল বদরের পরিকল্পিত নিধনের কথা আনতে গেলেই বিহারীদের কথা টেনে অশ্রুপাত করেন... আসলে কি এগুলোর তূলনা করা যায়? অন্যের অপকর্মের দোহাই টেনে তো আর নিজের পাপকাজগুলো হালাল হয় না তাই না??? আফসোস...

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৫৯

লেখক বলেছেন: হক কথা।

না মেনে কোন উপায় নেই রোহান।

কিন্তু চোখ থাকিতে অন্ধ যাহারা তাহাদের নিকট আপনার এই সত্য কথন কোন অর্থই বহন করেনা।

৫০. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:৪৩
সাজিদ বলেছেন: রাগ ইমন, গনকবরের উপর যদি বিনোদনকেন্দ্র হয়ে থাকে তাহলে ততকালীন পর্যটন মন্ত্রী মির নাসীর আর কনকর্ডের উচিত হবে কানধরে উঠবস করা জিইসির মোড়ে। কিন্তু গনকবরটা কোথায় ছিলো সেটাইতো জানতে চাচ্ছিলাম। আমি একবার ছোট একটা সাইনবোর্ড দেখেছিলাম ঐ এলাকায়। সেটা ফয়েস লেক থেকে েকটু দূরে ছিল। আর একটা যাদুঘর করতে কত টাকা লাগে? এতগুলা মানুষকে এভাবে মেরে ফেললো অথচ তাদের জন্য কিছুই করা হলো না সেটা তাদের পরবর্তি প্রজন্মের একজন হিসেবে আমাদেরকে চরমভাবে অকৃতগ্গকরে দেয়। কিন্তু সেই জন্য আপনি একা বিএনপিকে দোষ দিচ্চিলেন।
৫১. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১:৫৭
সেতূ বলেছেন: ত্রিশোংকু আপনাকে ধন্যবাদ -আপনার প্রতিটি পর্ব মন্তব্য সহ পড়ে আসছি ও অনেক কিছু নতুন করে জানছি।
র্ফয়েজ-লেক একটি বধ্যভুমি ছিল এটা জানাছিল না।
হয়তো কিছু দিন পর দেখব রায়ের বাজার ও ৭১-র সৃতি রক্ষার স্বার্থে বিনোদন কেন্দ্র হিসাবে গড়ে তুলা হবে...
যেমনটি হয়েছে বংগ-বন্ধুর ও জিয়ার সমাধি সমধিস্থল...

এই জাতি সব ভুলে যায় খুব অল্পেই...
নিজে খাই আর না খাই...আওয়ামিলীগ, বিএনপি, জামাত ও...বলতেই অগ্গেয়ান...
এই সকল শকুণে-দল (আওয়ামি লীগ, বিএনপি, জামাত ও জাতিয় পাটি .....)
পার-গাছার মত দেশ কে কুরে-কুরে খাচ্ছে আর দেশ ও দেশের জনগনের সাথে যুগ যুগ ধরে বেইমানি করে আসছে। এখনো শিক্ষিত ও অশিক্ষিত জনগণ অন্ধের মত ভোট দেয়..

কেহ ভোট পায় বাপের নাম বিক্রি করে....
কেহ ভোট পায় স্বামীর নাম বিক্রি করে....
কেহ ভোট পায় ধর্মের নাম বিক্রি করে....
কেহ ভোট কেনে অর্থ দিয়ে ......

প্রতারিত হবেন না। ভিক্ষুক-দের চিনে রাখুন ....
Click This Link
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:২০

লেখক বলেছেন: হা হা প গে। সামুতে দেখা সবচে' মজার ফটো ব্লগ।

আপনার দ্বিতীয় লিংকটা খোলেনা:
Sponsored ListingsGet the latest DesktopsBuy New Business Desktops Powered by Intel® Core™2 Duo Processor.sites.google.com/site/florapCall Center SoftwareDialler, ACD, IVR, Reporting, CRM Inbound, Outbound & Blendedwww.drishti-soft.comPartial Discharge MonitorRemote ........................

৫২. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৩৮
অলস ছেলে বলেছেন: বাংলাদেশ নামের রাষ্ট্রটার জন্ম যখন হলো নিজস্ব পরিচয় নিয়ে, সেই 'ফরমেটিভ' বছরগুলোতেই কতৃত্বশালীদের আচরণ এবং কাজকর্ম নির্ধারণ করে দিয়েছে ভবিষ্যতের ইতিহাসে এই রাষ্ট্র আর এই সমাজের পথচলা কি ধরণের হবে। এখনো আমরা সেই অন্ধচক্র আর সেই দায় থেকে বেরুতে পারিনি, তাই 'স্বর্ণযুগ' এর নিতান্ত উল্লেখেই অনেকের উদ্বাহুনৃত্য বেদনার সাথে উপভোগ করতে হয় :(( :(( =p~ =p~ =p~ !:#P !:#P

নিখাদ বিনোদন, সাথে হতাশাটা নিজেদের জন্য।
১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:২৫

লেখক বলেছেন: আমাদের পুরো নেতৃত্বই মধ্যমানের মেধায় আক্রান্ত Mediocrity। যে কজন মান সম্মত ছিল বলে আমি মনে করি, তাদেরকে জেলখানাতেই হত্যা করা হয়েছে।

আমার এ উক্তির সত্যতা সে জঘন্য হত্যাই প্রমান করে।

৫৩. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৫৪
রাগ ইমন বলেছেন: খালেদা জিয়ার সৈনিকেরা বুদ্ধিজীবী হত্যার ফাইল গায়েব করে দিয়েছে ।
--------------------------

সাজিদ, এইখানে গণকবর শব্দটা কোথায় আছে একটু দেখাবেন? কিংবা বিনোদন কেন্দ্র?
------------------------
রাগ ইমন, গনকবরের উপর যদি বিনোদনকেন্দ্র হয়ে থাকে তাহলে ততকালীন পর্যটন মন্ত্রী মির নাসীর আর কনকর্ডের উচিত হবে কানধরে উঠবস করা জিইসির মোড়ে। কিন্তু গনকবরটা কোথায় ছিলো সেটাইতো জানতে চাচ্ছিলাম। আমি একবার ছোট একটা সাইনবোর্ড দেখেছিলাম ঐ এলাকায়। সেটা ফয়েস লেক থেকে েকটু দূরে ছিল। আর একটা যাদুঘর করতে কত টাকা লাগে? এতগুলা মানুষকে এভাবে মেরে ফেললো অথচ তাদের জন্য কিছুই করা হলো না সেটা তাদের পরবর্তি প্রজন্মের একজন হিসেবে আমাদেরকে চরমভাবে অকৃতগ্গকরে দেয়। কিন্তু সেই জন্য আপনি একা বিএনপিকে দোষ দিচ্চিলেন।

---------------

শেষ লাইনে এসে কি বুঝাইতে চাইলেন ?

কই পাইলেন এইটা?
৫৪. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৫৬
রাগ ইমন বলেছেন: ত্রিশোনকু ,

দয়া করে পরের পর্ব ছাড়েন । এই পর্বের বারোটা আমরা বাজিয়ে দিয়েছি ভালোভাবেই।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:২২

লেখক বলেছেন: অনেক আগেই ছেড়েছি।

৫৫. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৪৮
হিমেল নাগ রানা বলেছেন: কই থেকে লিঙ্ক পেয়ে পড়তে বসে ছিলাম মনে নাই। অফিসের কাজ ফেলে পড়তে লেগে গেলাম। ১১টা পর্ব টানা পড়লাম। আমার ভেতরের অবস্থা কথায় বলে বোঝানো আমার পক্ষে সম্ভব না। আমার মা বাবা দাদী কাকা মামা সবার কাছ থেকে অনেক কিছু শুনেছি। কিছু কিছু প্রসঙ্গ বলার সময় আমার দন্তহীন (বর্তমানে প্রয়াত) দাদীর মুখেও যে দাঁত দাঁত চেপে রাগ চেপে রাখা দেখতাম ... সেই অসহায় অস্ফুট রাগ সম্ভবত আমার মুখেও সংক্রামিত।
বাকিগুলোও পড়বো আর আপনার অনুমতি সাপেক্ষে আমি এই পোস্ট গুলো পিডিএফ আকারে সংরক্ষণ এবং সম্ভব হলে অনলাইন এ ছড়িয়ে দিতে চাই।

বাকী গুলোয়ার অপেক্ষায় থাকলাম।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:২৯

লেখক বলেছেন: আপনার অনুভুতিতে সাড়া জাগাতে পেরে আমি সর্ব শক্তিমানের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাই।

অনুমতির জন্যে অনুগ্রহ করে ই মেইলে যোগাযোগ করুন, অতি সত্তর।

১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:০২

লেখক বলেছেন: অত্যন্ত ধন্যবাদ মন্জুর। আমার মনে হয় এই পোষ্টে বুদ্ধিজীবী হত্যা মামলা পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস হওয়ার ব্যাপারে আর কোন সন্দেহের অবকাশ নেই।

৫৭. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:৫০
অলস ছেলে বলেছেন: সরি। সরি। :)


আবার পড়লাম। আবার মন খারাপ হলো। মঞ্চাইতেছে ক্ষমতা দখল করে ফয়স লেক আর যত যত বধ্যভূমি আছে এগুলোকে সংরক্ষিত এলাকা করে আর পাশে যাদুঘর/সংগ্রহশালা করতে। সব জাতিই তাদের ইতিহাসের সাথে জড়িত স্থানগুলো কত সুন্দর করে কত যত্নের সাথে সংরক্ষণ করে। আর আমরা কি করছি এসব? সারা দেশে এমন কত জায়গা ইতিহাসের হাত থেকে বেহাত হয়ে যাচ্ছে কে জানে। আফসোস।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:০৮

লেখক বলেছেন: না করার দায় থেকে কোন দলই রেহাই পাবে না। তিনটি দলই ব হু সময় ধরে রাজত্ব করেছে ।

আপনি জিজ্ঞেস করেছিলেন ইতিহাস কারা দাফন করেছে? একটু খুলে বলবেন প্লিজ।

৫৮. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:০১
ও.জামান বলেছেন: ত্রিশোনকু ভাই, আপনার জোড়হাত করা ছবিটা বলছে চুপ থাকতে কিন্তু বিবেক বলছে কিছু বলতে। আগেই ক্ষমাপ্রার্থী।

@ মনজুরুল হক ভাই, রাগ ইমনের পোস্টে আপনি ২৫ নং মন্তব্য করেছেন, "... খালেদা জিয়ার সৈনিকরা বুদ্ধিজীবী হত্যার দলিলপত্র সরাইয়া ফেলছে!..."
Click This Link

সেইটাকে রেফরেন্স করে (মন্তব্য-৪৩) রাগ ইমন এই পোস্টে মন্তব্য করলেন, "খালেদা জিয়ার সৈনিকেরা বুদ্ধিজীবী হত্যার ফাইল গায়েব করে দিয়েছে | এর পরেও জিয়া ও খালেদার প্রতি মানুষের প্রেম কমে না ।"

কিন্তু আপনি সমকালের যে রেফারেন্স (মন্তব্য-৫৬) দিয়েছেন সেটা তন্ন তন্ন করে খুঁজে আপনার মন্তব্যের কাছাকাছি যে লাইনটি পেলাম সেটি হচ্ছে. "অভিযোগ রয়েছে, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার শুধু মামলাটিকে ধ্বংসই করেনি, মামলার নথি পর্যন্ত উধাও করে দিয়েছে।"

আপনার মন্তব্যে খালেদার নাম উল্লেখ করাটা কি যুক্তিসংগত হয়েছে?

জেলহত্যা মামলার রায়ে আদালত বলেছিলো, "....তদন্তে গাফিলতি এবং ত্রুটিপূর্ণ চার্জসিটের মাধ্যমে মামলার মেরিট নষ্ট করা হয়েছে... "। উল্লেখ্য যে ঐ মামলার তদন্ত শেষ করে চার্জসিট দেয়া হয় শেখ হাসিনার আমলেই। তাহলে কি এটা বলা ঠিক হবে যে, শেখ হাসিনার সৈনিকেরা জেলহত্যা মামলার মেরিট নষ্ট করে দিয়েছে।

সরকারের ইচ্ছা থাকলে বুদ্ধিজীবী হত্যা মামলা ঠিকই চালাতে পারে। দুই দশকের চাপা পড়া হারিয়ে যাওয়া ১৫ই আগষ্ট হত্যা মামলার বিচার কিন্তু ঠিকই হয়েছে। কারণ সরকারের ইচ্ছা ছিল।

আর যদি সরকারের ইচ্ছা না থাকে তবে আপনার রেফারেন্সের সংবাদপত্রের রেফারেন্সবিহীন "অভিযোগ পাওয়া গেছে" কে আশ্রয় করে সরকার বিচার নিয়ে টালবাহানা করবে আর আপনিও সেই রেফারেন্স দিয়ে খালেদার সৈনিকদের দোষারোপ করে আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তুলবেন।
৫৯. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:০২
সাজিদ বলেছেন: আমার জবাব ও জামান দিয়ে দিয়েছেন রাগ ইমন।

"এর পরেও জিয়া ও খালেদার প্রতি মানুষের প্রেম কমে না" আমি আপনের এই লাইনটা মিন করেছিলাম।

আর কোনো কথা বললাম না। কথায় অহেতুক কথা বাড়ে
৬০. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:৪৬
রাগ ইমন বলেছেন: কিন্তু আমি ফনেটিকে অভ্যস্ত হয়ে গেছি যেটা আবার ব্লগে ছাড়া লেখা যায় না।

----------- অভ্রতেও ফোনেটিকই লেখার কথা বলেছি । সেই ফোনেটিক লেখার ধরণ সামুর ফোনেটিকের মতই তবে যুক্তাক্ষর লেখা অনেক অনেক বেশি সহজ। কোন প্লাস চাপতে হয় না। লেখাও আগায় দ্রুত । বাড়তি সুবিধা হলো আপনি মাইক্রোসফট ওয়ার্ড কিংবা নোট প্যাডে - যেইখানে ইচ্ছা অভ্র ফোনেটিক দিয়ে লিখে পরে লগ ইন করে শুধু পেস্ট করে দিলেই চলবে। এমন কি আপনি যখন সামুতে কিংবা অন্য কোথাও লগড ইন অবস্থায় আছেন , তখনও অভ্র অন করে মন্তব্যের উত্তর দিতে পারেন দ্রুত, যেইটা এখন আমি করছি। সুতরাং, অন - অফ লাইনের কোন বালাই এখানে নেই। একই বাক্যে বাংলা এবং ইংরেজি লেখার জন্য শুধুমাত্র F12 চাপলেই চলবে।

গুগুল ট্রান্সলেটর দিয়ে হিব্রু, আরবী , ফ্রেন্চ , ক্রোয়াট এসব অনুবাদ করেছি। কিন্তু বাংলা পাই নি। --------

ভুল করছেন , আমি আপনাকে গুগুল অনুবাদক দেই নাই । ট্রান্সলিটারেশন সফট ওয়ার দিয়েছি । এইটাও অভ্র ফোনেটিকের মতই কাজ করে । বাড়তি সুবিধা হইলো ডিকশনারী আর কাছাকাছি শব্দ গুলো সাজেশন হিসাবে পাওয়া । অভ্রতে টাইপ করতে গেলে দুটো বর্ণ একসাথে জোড়া যাতে না লাগে তাই একটা "ও" টিপতে হয় । গুগুলে সেটা করলেও সমস্যা নাই, না করলেও সমস্যা নাই। আমি যেহেতু অভ্রতেই অভ্যস্ত , একই ভাবে গুগুলে টাইপ করে দেখলাম, সামান্য ভিন্ন হলেও গুগুলে টাইপিং স্পিড বাড়ে । প্রথম বারেই টের পেয়েছি একটু বেশি স্পিডে লিখছি। অভ্যাস করলে নিঃশন্দেহে আরো বাড়বে।


সাহায্যের জন্যে অসংখ্য ধন্যবাদ।----- আপনাকেও ধন্যবাদ ।



---------------------

হাত জোড়ের ছবি গুলো সরানো যায়? ভয়ানক বিশ্রী লাগছে , কষ্টও লাগছে ।

-------------------
সাজিদ ,

কথা না বাড়ানোর জন্য ধন্যবাদ । উল্লেখিত লাইনটি আমাকে খালেদা বিদ্বেষী প্রমান করে না , বরং প্রেমের মত অন্ধ ভক্তি নাই, দোষ করলে দোষ দেখতে পাই প্রমান করে। বিদ্রোহীকে লেখা প্রথম দিকের বাক্যে আমি একটা প্রশ্ন করেছি , সেই প্রশ্নটা দেখার পরেও " না বুঝে - কিংবা ইচ্ছা করেই" অযথা তর্ক বাড়ালেন।

আরো একটা বিষয় লক্ষণীয় , ও জামান অন্য পোস্টে এই আলোচনা নিয়ে গেছেন । আপনিও আমার কিংবা মনজু ভাইয়ের পোস্টে যেতে পারতেন, তার পরেও এইখানেই টেনে লম্বা করলেন। ব্যাপারটা দুঃখজনক।

তাতে আমিও সামিল হলাম বাধ্য হয়ে, সেইটা আরো দুঃখজনক।
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:০৪

লেখক বলেছেন: হাত জোড়ের ছবি গুলো সরানো যায়? ভয়ানক বিশ্রী লাগছে , কষ্টও লাগছে ।


-দিলাম সরিয়ে। যদিও আমার কাছে সুন্দর লাগছিল। অনেকটা রেফারীর বাঁশীর মতন। পোস্টটার নম্রতাও বোঝাচ্ছিল।

অভ্র কিছুটা পারি তবে ও এর ব্যাবহারটা জানতামনা।

ধন্যবাদ।

৬১. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:২৬
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: রাগ ইমন বলেছেন:


বিদ্রোহী,
আপনার নিকের সাথে কাজে কর্মের মিল রাখতে গিয়ে মাঝে মাঝে প্রচন্ড গুবলেট করে ফেলেন, তখন আপনাকে ইগনোর করাটাই হয়ত সমীচীন।

------------->> হ, স্বাধীনতা যুদ্বের ঘটনায় খালেদা জিয়ারে টাইনা আনলো, ধান বানতে শীবের গীত গাইলো "রাগ ইমন" আর এই বদ অভ্যাসটা চোখে আ;গুল দিয়া দেখাইয়া দিয়া গুবলেটতো আমিই করছি.......

রাগ ইমন বলেছেন:

হ্যাডম থাকলে অন্য কোন পোস্টে ( আমার লাস্ট পোস্টেও দিতে পারেন) উত্তর দিয়েন।

" আজ পর্যন্ত মুজিব, জিয়া, হাসিনা, খালেদা, গোলাম আজম , এরশাদ - সেই অর্থে বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে , দেশ শাসনের পরিক্রমায় , একটু হলেও ঝামেলা করতে পেরেছে - এমন কোন দলটির বা দলের প্রধান ব্যক্তিটির খারাপ কাজ ও সিদ্ধান্তের সমালোচনা / নিন্দা / প্রতিবাদ আমি করিনি , তার একটা প্রমান দিতে পারবেন? "


-------------->> হ, আপনার লগে ব্লগীয় কুস্তি করার হ্যাডম আছে, তয় অপ্রাস;গিক ভাবে যেখানে সেখানে জিয়া ভালা না, খালেদা ভালা না, বিএনপি ভালা না, এই উপসর্গ থেকে মুক্ত হতে হবে আপনাকে|
১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৪২

লেখক বলেছেন:

৬২. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:৩২
অলস ছেলে বলেছেন: আমি জানতে চাচ্ছিলাম, এইযে ফয়স লেক কে সবার জন্য শিক্ষণীয় প্রদর্শনী এবং স্মৃতিচারণের জন্য জাদুঘর বা সেন্টার ধরণের কিছু না বানিয়ে, দেশের জন্য যেসব মানুষের জীবনটা পর্যন্ত দিতে হলো তাদের স্মৃতির সাথে জড়িত জাতীয় ঐতিহ্য রক্ষা না করে স্থানগুলো অন্য কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। আপনার কিছু মন্তব্যে মনে হলো ইঙ্গিত আছে যেন এসব ইচ্ছাকৃত ভাবে করা। এসব কি কেবল নিজেদের অবহেলা, না কি এর পেছনে অন্য কিছু আছে? যদি আপনি কিছু জেনে থাকেন, তাহলে ব্লগে লিখবেন কি? যদি কোন সমস্যা না থাকে। আপনার স্মৃতিচারণ সবার কাছেই গ্রহণযোগ্য হয়েছে মোটামোটি। আপনার বিশ্লেষণটা্ও আশা করি হবে। অন্য কারো কাছে না হোক, আমি ব্যাক্তিগত ভাবে বলতে পারি আমার রাজনৈতিক চিন্তার বিপক্ষে গেলেও প্রত্যক্ষদর্শী এবং সেই সব সময়ের ভেতর দিয়ে আসা অভিজ্ঞতার জন্য্ও আপনার মতামতকে আমি নিজের পাঠলদ্ধ চিন্তার চেয়ে কিছুটা হলেও অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য, এই প্রসঙ্গে।
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:২০

লেখক বলেছেন: "আপনার স্মৃতিচারণ সবার কাছেই গ্রহণযোগ্য হয়েছে মোটামোটি। আপনার বিশ্লেষণটা্ও আশা করি হবে।"

১। এটা আমর সৃতি চারণ, বিশ্লেষণের অবকাশ আমার নেই।

২। আমি ইংগিত দিয়েছি আমার অজান্তে।

৩। তাও যদি সে ইংগিতগুলো আপনি অনুসরন করেন তা'লে অবশ্যই পেয়ে যাবেন এর উত্তর ।

৪।সম্ভবতঃ আজই আপনার এক মন্তব্যের জবাবে আমি বলেছিলাম যে তিন সরকারের কোন সরকারই এর দায় থেকে অব্যাহতি পাবার যোগ্যতা রাখেনা। কারন তারা যথেষ্ঠ সময় পেয়েছিল আপাত শান্তিপুর্ণ একটা পরিবেশে।

৫। আপনি আপনাকে জিজ্ঞেস করুন, যেখানে আমার মতো একটি নামহীন কিশোরও পাকিস্তানীদের সম্ভ্রমহানীর স্থানকে তার ব্যাক্তিগত বিজয়ের বেদী হিসেবে একাধিকবার যখনই ঢাকায় আসতো তখনই ঘুরে যেত সে বেদী আজ কোথায়? আমাদের জাতিগত পরিষ্করন (Ethnic Cleansing), আমাদের নারীদের ওপর অত্যাচার যার বিবরন দেয়ার মত মানসিক শক্তি এ লেখাতে পর্যন্ত অজর্ন করতে পারিনি আমি, সেই সব অত্যাচরের প্রতীকী ন্যায় বিচারের একমাত্র নিদশর্ন ছিল যে স্থানটি, একজন বীর উত্তম কি সে জায়গাটি না চিনে থাকতে পারে? পনেরো কোটি মানুষের মধ্যে একটি মানুষকে বের করুন যে বলবে এটা সম্বব।

৬। আপনি আপনার পায়ে তার জুতো গলান। দেখুন আপনি সেখানে শিশু পার্ক বানাতে পারেন কিনা।

৭।আমরা পাকিদের বিচার করতে পারিনি। এমন কি ৯৩ হাজারের মধ্যে ২০০ জঘন্যতম পশুকেও ছেড়ে দিয়েছি, শেষ বাংগালীটা প্রত্যাবর্তনের পরে। একটা পাকিকেও দেখিনি বিসমিল্লাহে আল্লাহু আকবর শুনে জবাই হতে।

আমাদের ছিল শুধু ঐ বেদীটিই।

৮। ১৪ কোটি লোকের এই দেশে কয়টা লোক আছে যে সে জায়গাটি চেনে? বেদীটি ছিল আমাদের গৌরব। মনে রাখবেন, তিন মাসেও ভারতীয় বাহিনী ঢাকায় পৌঁছুতো না যদি না লক্ষাধিক মুক্তি বাহিনী আর সাত কোটি বাংগালী সেদিন তাদের পক্ষে না থাকতো, সমরবিদ্যায় প্রশিক্ষন পেয়ে তারপর বাংলাদেশে ভারতীয় সামরিক হুমকির ওপর আমাকে বিশ্লেষন করতে হয়েছে হাতে কলমে।

৯। আপনিই বলুন আমাকে, যে কে? কি উদ্দেশ্যে জায়গাটির শেষ চিহ্নটুকু মুছে দিয়েছে?

১০। আজ নাহয় গোয়ার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে বিএনপি আমাদের মুক্তির সংগ্রামের আদর্শের পথ থেকে বিচ্যুত। মেয়রের তো সে কষ্ট ছিলনা। সময় ছিল, অর্থ ছিল প্রতিপত্তি ছিল, যা দিয়ে সে ফয়েজ লেকে তাজমহল বানাতে পারতো (ওটাও সমাধিই)। কেন সে বানায় নি? অপর্ণা চরন হাই স্কুলকে গ্রাস করতে সে ছিল ব্যস্ত।

১১।ব্রিটিশ দখলদারদের বিরুদ্ধে যিনি সশস্ত্র সংগ্রাম করেছিলেন, সেই পরম শ্রদ্ধেয়, নবতিপর যোদ্ধা, চট্টগাম যাকে নিয়ে আরও শত বছর গর্ব করতে পারে, যাকে নিয়ে আমি বাংগালী হিসেবে আমৃত্যু গর্ব করে যাব, পূর্নেন্দু দস্তিদারকে নেমে আসতে হয়েছিল মহিউদ্দনের লোভের আগুনকে প্রশমিত করতে।

এই ব্লগে অপর্ণাচরন লিখে কন্টেন্ট সার্চ দিয়ে দেখেন, কতগুলো পোষ্ট দুদিনের মধ্যে সে সময়ে এসেছিল।

একটি বিদেশী সরকার সেদেশের প্রবাসী বাংগালীদের তৎপরতায় প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ করেছিল বলে স্কুলটি রক্ষা পায়।

ইতিহাসের এক বিন্দু অতিরন্জন, বিকৃতিকরন বা সত্য মিথ্যার সংমিশ্রন যদি এইটুকু বক্তব্যে মধ্যে পান, সর্ব সমক্ষে আপনার দেয়া শাস্তি আমি মাথা পেতে নেব । আমার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতেই পারে,কিন্তু এখানে আমি রাজনীতি টেনে আনিনি, এনেছি দেশের মযার্দা, বাংগালীর জাত্যাভিমান।

আপনাকে একটু মনে করে দিতে চাই, যে রাশেদ খান মেনন যেদিন কলিজায় গুলিবিদ্ধ হন, সেদিন তার গাড়ীতে সাকা ছিল।

৬৩. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৫৪
সাজিদ বলেছেন: চট্টগ্রামে যেখানে জিয়াকে হত্যা করা হয় সেই সার্কিট হাউসের সামনেও বিএনপিই শিশু পার্ক করেছে।
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:২৬

লেখক বলেছেন: সঠিক। আমি এই ব্লগে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম জি্য়ার একটি আলোকিত দিক তুলে ধরে, যা তার দুই আত্মজের বিরুদ্ধে যায়। সেই পোস্টটি আম র গায়েব করে দেয়া হয়েছে। আজ থাকলে আপনারা প্রত্যক্ষ দর্শী হিসেবে সে পোস্টের উল্লখ করতে পরতেন।

৬৪. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:০৬
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: @লেখক:

মাই অ্যাপোলজি|

আর কিছু বলবো ঐ ব্লগারকে নিয়ে |
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:২৮

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে।

৬৫. ১১ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫৮
তারার হাসি বলেছেন:
আমি এই বধ্যভূমির কথাই সেদিন বলতে গিয়েছিলাম। অসংখ্য সাজানো খুলি... কাল পড়ার পর এত খারাপ লেগেছিল এ নিয়ে বলতে ইচ্ছে করেনি।
আমি যার মুখে এই বধ্যভূমির কথা শুনেছি, তার বর্ণণা আরো ভয়ঙ্কর। তার বয়স ছিল তখন ১১, প্রথম দেখায় সে সন্মোহিত হয়ে গিয়েছিল... তাকে শুধু কাছে ডাকত এই সাজানো খুলি ইতস্থত ছড়ানো হাড়-গোড়। তার বাসা এর কাছে হওয়াতে এবং রেলওয়ে স্কুলে পড়ার সুবাদে সে বেশ কয়েকবার ফাঁকি দিয়ে দেখতে চলে গিয়েছিল... গিয়ে বসে থাকত চুপচাপ।
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৩৭

লেখক বলেছেন: আমাদের সে বয়সী সবারই মানসিক ভারসাম্য চিরতরে হারিয়ে গেছে।

আপনি ভাবতে পারেন আমি আমার প্রথম সন্তানকে বুকে তুলে না নিয়ে প্রথমেই তার মাথার খুলি মাপি। দুধের শিশুকে পা ছুঁড়তে দেখলে আমার শের শাহ কলোনীর পয়ঃট্যাংকে দেখা মৃত শিশটির পা দুটোই খালি দেখি?

আমি কি মানসিক মানসিক দুস্থতায় ভুগছিনা?

৬৬. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৩৯
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: @লেখক:

মাই অ্যাপোলজি|

আর কিছু বলবোনা ঐ ব্লগারকে নিয়ে |
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:৩৯

লেখক বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ।

৬৭. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৮:১৯
ও.জামান বলেছেন: ১। সেখ সাদীর একটি দোঁহা আছে,
"সাঁচ কাহে তো মারে ল্যাঠা, ঝুটা জগত পাতিয়ায়, গো রস ঘর ঘর ফেরে, দারু বৈঠো বিকায়"

অর্থাৎ,

সত্যি কথা বললে লাঠিপেটা খেতে হয়, মিথ্যাই জনপ্রিয় হয়,
গোরুর দুধ ফেরি করে বিক্রি করে, মদ বসে বসে বিক্রি হয়

২। তারপরও রবীন্দ্রনাথ বলেছেন,

সত্য যে কঠিন , সে কঠিনেরে ভালোবাসিলাম, সে কখনও করেনা বঞ্চনা

৩। মধ্যপন্থা হচ্ছে সত্যের সাথে মিথ্যার মিশেল দিয়ে ককটেল পরিবেশন করা।

এই পোস্টের মন্তব্যসমূহে অপ্রত্যাশিতভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যা মামলার বিষয়টি এসেছে। রাজার শ্যামলা ছেলেটির কাক হয়ে যাওয়ার মত একটা তথ্য রূপান্তর সমকালের প্রতিবেদন হতে রাগ ইমনের পোস্ট হয়ে আপনার এই পোস্টে এসে চুড়ান্ত রূপ পেয়েছে। যা আমি ৫৮ নম্বর মন্তব্যে উল্লেখ করেছি।

আপনার এই পোস্টে অনাকাঙ্খিতভাবে প্রসঙ্গটি চলে এলেও এর মাধ্যমে একটি বিষয় পরিস্কার হয়েছে। সেটি হচ্ছে কিভাবে আমরা উদোর পিণ্ডি বুঁদোর ঘাড়ে চাপিয়ে নিজের দায় এড়াই। ছাত্র জীবনে একটা নাটক করেছিলাম (নির্দেশনাও দিয়েছিলাম); মনোজ মিত্রের 'কিনু কাহারের থেটার'। আমাদের পুতনা রাজ্যে আমরা এবার সেটা মঞ্চস্থ করতে যাচ্ছি। সকল দোষ চাপানোর জন্য খালেদা এবং তার সৈনিকদের পাওয়া গেছে (উনারা নিজেরাও বোধহয় এই দায় নিতে অপ্রস্তুত নন।)। আসল সত্যটি ধামাচাপা দেবার জন্য ধামাধরারা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বাকিটুকু প্রিয় কবি মিনার মাহামুদের কবিতার মত করেই বলি-

এখানে প‌্যাঁচায় বসন্তের আগমণী গায়। কোকিলেরা বহুদিন হয় গেছে নির্বাসনে। আত্মতৃপ্ত নাগরিকেরা ঘুমে অচেতন, ইতিহাস লেখার দায়িত্ব নিয়েছে তুলে কাঁধে- হাজারো ধূর্ত শেয়াল।

সাত সকালের এই বিবেক দংশিত আবেগ আপনার অপছন্দ হলে মুছেদিন। আপনার কথাই সত্যি এদেশে বুদ্ধিজীবি হত্যার বিচার, যুদ্ধাপরাধী হত্যার বিচার কখনোই হবেনা।
১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:২১

লেখক বলেছেন: একটা বিষয় আমি বলছি, অত্যন্ত অপ্রাসংগিক ভাবেই।

বাংলাদেশী প্রশাসন, পাকিস্তান প্রশাসনের উত্তরসুরী যা কিনা আবার ব্রিটিশ-ভারতীয় প্রশাসনের কাছ থেকে আসা। ইংরেজরা ভারতীয়দের শোষন করার সুবিধার্থে ভারতীয় প্রশাসনকে ঢেলে সাজিয়ে ছিল যাতে করে প্রশাসনের কাউকে জবাবদিহিতা করতে না হয়। ব্রিটেনের সিভিল সার্ভিস ছিল এক্কেবারেই অন্য রকম।

সামরিক বাহিনীর ক্ষেত্রে কিন্তু তা হয়নি।সেখানে প্রজা শোষনের কোন ব্যাপার ছিলনা। তাই তাদের জন্যে আইন সংশোধনের প্রয়োজন হয়নি। সেই ব্রিটিশ ইনডিয়ান আর্মির উত্তরসুরী বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

যখন একজন সৈনিক-গাড়ি চালকের গাড়িটি দুর্ঘটনায় পতিত হয়, একশো মাইল দুরে ঘুমিয়ে থাকা তার অধিনায়ককে তখন শাস্তি পেতে হয়, অনেকক্ষেত্রে তাঁর অধিনায়কত্ব চলে যায়(Bloody fool how have you trained your drivers?)।

প্রতিটি সরকার বদলের পর আধ ডজন জেনারেল আর এক ডজন ব্রিগেডিয়ারের চাকুরী চলে যায়। বেসামরিক প্রশাসনের কিছুই হয়না।

কারন বেসামরিক প্রশাসনের একজন সচীবের সর্বোচ্চ শাস্তি হ'ল "Officer on Special Duty with the rank status & pay of a Secretary"

এখন আপনি বলুন, শান্তির সময় দেশের ক্ষতি করার সাধ্য কার থেকে থাকে, সামরিক বাহিনীর জেনারেলদের না বেসামকির আমলাদের?

জবাদিহিতার সংস্কৃতি আমাদের দেশে এখনো গড়ে ওঠে নি। উঠলে এই বিতর্ক এখানে এদ্দুর গড়াতোনা।

তারপরও কথা থেকে যায়, আমি বংগবন্ধুর প্রতি আমার অন্ধ ভালবাসা থেকে যদি বলি যে বাহাত্তুর থেকে পচাঁত্তুর পর্যন্ত অরাজকতা ও অব্যাবস্থার জন্যে তাঁর কোন দায় নেই, আপনি কি তা মেনে নেবেন?

৬৮. ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৮:৩২
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: @ ও. জামান:

সমকাল পত্রিকা......!!!???

এই সমস্ত "টয়লেট পেপার" হলো ওদের ইতিহাস শিখার উৎস| সেই সমাকালীয় ইতিহাস শিখে এসে এরা আবার ব্লগে লেকচারও মারে....!!!
৬৯. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:১৯
ও.জামান বলেছেন: হাঃ হাঃ হাঃ ত্রিশোনকু ভাই। আপনার আবেগকেও নাড়া দিতে পারলাম?

আপনি বলেছেন,"অন্ধ ভালবাসা থেকে যদি বলি যে বাহাত্তুর থেকে পচাঁত্তুর পর্যন্ত অরাজকতা ও অব্যাবস্থার জন্যে তাঁর কোন দায় নেই, আপনি কি তা মেনে নেবেন?"

আমার উত্তর হচ্ছে, না।

কারণ, আমি ১৯৭৪ সালে টাইমস প্রকাশিত কুলদিপ নায়ারের সাক্ষাৎকার পড়েছি। ওরিয়ানা ফালাচির সাক্ষাৎকার Interview With History পড়েছি। নিঃসঙ্গ সারথীতে জোহরা তাজুদ্দিনের কন্ঠে তাজউদ্দীনের সেই হাহাকার, "মুজিঁব ভাই একবারও জানতে চাইলেন না আমি কিভাবে দেশটা স্বাধীন করলাম" শুনেছি।
১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:৩০

লেখক বলেছেন: নিঃসঙ্গ সারথীতে জোহরা তাজুদ্দিনের কন্ঠে তাজউদ্দীনের সেই হাহাকার, "মুজিঁব ভাই একবারও জানতে চাইলেন না আমি কিভাবে দেশটা স্বাধীন করলাম" শুনেছি।

-শুনেছি আমিও, আমর , তাজুদ্দিন আহমদের ওপর একটা পোষ্ট দেয়ার ইচ্ছে ছিল, কিন্তু এব্লগে অনেকেই তঁকে নিয়ে লিখেছেন।

৭০. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ ভোর ৫:২৪
ও.জামান বলেছেন: আপনার আর আমার মধ্যে "যুদ্ধাপরাধীদের বিচার" বা "বুদ্ধিজীবী হত্যার বিচার" এর বিষয়ে অবস্থানগত কোন পার্থক্য আছে বলে আমি মনে করি না। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি..

''সরকারের ইচ্ছা থাকলে বুদ্ধিজীবী হত্যা মামলা ঠিকই চালাতে পারে। দুই দশকের চাপা পড়া হারিয়ে যাওয়া ১৫ই আগষ্ট হত্যা মামলার বিচার কিন্তু ঠিকই হয়েছে। কারণ সরকারের ইচ্ছা ছিল।''
আসুন আমরা সরকারকে ছাই দিয়ে চেপে ধরি যেন পিছলে যেতে বা বিচারের নামে প্রহসন করতে না পারে।
১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৩৪

লেখক বলেছেন: এই সরকারের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করার না আছে সদিচ্ছা না সৎ সাহস।

জাহানারা ইমামকে গাছে চড়িয়ে মই টেনে নিয়েছিল তা আমিও বিস্মৃত হই নি শুধু গত ডিসেম্বরের আগের ডিসেম্বর ছাড়া।

৭১. ১৩ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২৮
হাসান শহীদ ফেরদৌস বলেছেন: আসুন আমরা সরকারকে ছাই দিয়ে চেপে ধরি যেন পিছলে যেতে বা বিচারের নামে প্রহসন করতে না পারে
---
সহমত।
১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১২:৫২

লেখক বলেছেন: আশা ভংগ হবার সম্ভাবনাটাই বেশী।

৭২. ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৪৯
হোসাইন১৯৫০ বলেছেন:

স্বাধীনতার প্রায় ৩২ বছর পরে সক্রিয়ভাবে নকি ভাইয়ের সাথে একাত্তর অনুসন্ধান শুরু করি চট্টগ্রামে ।
হাজার হাজার ত্যাগ , হাজার হাজার না মানতে পারার মত ঘটনা শুনেছি ।

চট্টগ্রাম । আমার পিতৃভূমি চট্টগ্রাম অনেক বিভৎস নারকীয় অত্যাচারের স্বাক্ষী ।
১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:৩৯

লেখক বলেছেন: চট্টগ্রাম । আমার পিতৃভূমি চট্টগ্রাম অনেক বিভৎস নারকীয় অত্যাচারের স্বাক্ষী
-সঠিক। দুঃসপ্নের মত দিনগুলি এখনো তাড়া করে ফেরে।

১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:৪৫

লেখক বলেছেন: আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।

৭৪. ২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:৩৪
সুবিদ্ বলেছেন: এসব নিজের চোখে দেখলে হয়তোবা পাগল হয়ে যেতাম.......
২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:০০

লেখক বলেছেন: আমাদের প্রজন্মের অনেকেই আমরা স্থায়ী ভাবে মানসিক ভারসাম্যহীন।

 

মোট সময় লেগেছে ১.১০১৩ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
না প্রেমিক না বিপ্লবী
trishonku@hotmail.com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই