আমার প্রিয় পোস্ট

C:\Documents and Settings\raad\My Documents\Lighting cig..jpg

ঊনসত্তুর থেকে পচাঁত্তুর-'৭১এ যাদের বয়স তিনের কম ছিল তাদের থেকে সামুর কনিষ্ঠতম ব্লগারটিকে উৎসর্গীকৃত-পর্ব১৫

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:২৮

শেয়ারঃ
0 2 0

[si]অবতরনিকা: বংগবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্বংশকারীদের (আমি নির্বংশই বলবো কারন প্রচলিত ধারায় বংশগতি পুরুষ উত্তরাধিকারীর ওপরেই বর্তায়) শাস্তি প্রদানের পর থেকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটার পর একটা পোষ্ট আসছে। যার প্রায় সবগুলোই (গুটি কয়েক ব্যতিক্রম ছাড়া) পক্ষপাত দুষ্ট। অনেক ভাবনা চিন্তা করে আমার নিজস্ব ক্ষতির কথা ভুলে/ এড়িয়ে আমি আমার একান্ত ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরছি, শিরোনামে উৎসর্গীকৃত ব্লগারদের জন্যে। ৩ বছরটা উল্লেখ করার কারন হ'ল যে মানুষের কোন স্মৃতি ৩ বছর বয়সের আগে থাকেনা, সাধারনত। এ পোস্টে আমার ব্যাক্তিগত ক্ষতি গুলোঃ

১। এটা প্রকাশিত হবার পর আমার পরিচয় গোপন থাকবেনা, যা আমি এতদিন সযতনে রক্ষা করেছি।

২। ব্যাক্তিগত ঘটনা বয়ান পাঠকদের কাছে মাঝে মধ্যে আত্মপ্রচার ও পারিবারিক প্রচারের মত লাগবে যা আসলেই অশোভন, অরুচিকর এবং বিরক্তিকর। এগুলোও আমি লুকিয়ে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে এসেছি আজীবন।

৩। কোন পক্ষাবলম্বন না করে লেখাটা অত্যন্ত দুঃসাধ্য। আমার জন্যে আরো কঠিন। কারন যৌবন যখন সদ্য দেহ-মনে ভর করে আমার সমগ্র সত্তাকে ভীষনভাবে নাড়িয়ে দিচ্ছে, যা কিছুই সুন্দর তারই প্রেমে পড়ছি, ঠিক সে সময়ই বংগবন্ধুর সাথে আমার পরিচয়। নিরপেক্ষভাবে তাঁর ব্যাপারে লিখতে আমার খুবই কষ্ট হবে এবং আমাকে অসাধ্য সাধন করতে হবে।

৪। শুধুমাত্র স্মৃতি নির্ভর লেখার মূল সমস্যাটা হ'ল ভুল স্মৃতি মনের মধ্যে থাকা। যে কেউ যদি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে আমার কোন বক্তব্যে দ্বিমত প্রকাশ করেন, তা'লে তাকে আমি অনুরোধ করবো মন্তব্যে তা তুলে ধরতে। আমার স্মৃতি ঘাটতে সাহায্য করার নেই কেউ আমার হাতের কাছে।

আমি আপ্রাণ চেষ্টা করবো-আমার যে একটা দায় আছে আমার পরের প্রজন্মগুলোর কাছে।

আমার এই দায় শোধ যদি এই প্রজন্মকে আমাদের গৌরবময় আর কলংকলেপিত অতীতকে নিরপেক্ষ ভাবে দেখতে শেখার পথে একপাও এগিয়ে নিয়ে যায়, তা'লেই আমি মনে করবো সেটা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন।

অনুগ্রহ করে মনে রাখবেন এটা আমার একান্তই ব্যাক্তিগত সৃতিচারন। পারিবারিক ঘটনাবলীর চর্বণ। সমগ্র দেশের ব্যাপারটা কখনোই প্রধান্য বিস্তার করবেনা, সে সাধ্য বা যোগ্যতা আমার নেই।

পুরো সময়টার কিছু অনুল্লেখ যোগ্য অংশ বিষদ ভাবে আসবে আবার অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ পরবে, ব্যাক্তগত স্মৃতিচারনের এটা একটা বিরাট সমসয়া। অনুরোধ করি বিষয়টা মনে রেখে আমার এ লেখাটা পড়বেন ।

পুরোটা পড়ার পর অনেকের কাছেই এটাকে "পর্বতের মূষিক প্রসব" বলে মনে হ'তে পারে। তাদের কাছে আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।

>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>

পর্ব-১পর্ব-২পর্ব-৩ পর্ব-৪
পর্ব৫পর্ব-৬পর্ব-৭ পর্ব-৮ পর্ব-৯ পর্ব-১০ পর্ব-১১ পর্ব-১২ পর্ব-১৩ পর্ব-১৪

ইন্দিরা গান্ধী ও ভক্সল ভিভা

বাবার অধীনে ছিল প্রগতি ইন্ডাসট্রিজ। জেনারেল ম্যানেজার ছিলেন হাবিবুল্লাহ খান (তখন কারখানা প্রধানরা জি এম ছিলেন, এখনকার মতো এম ডির চল ছিলনা) । হাবিবুল্লাহ খান ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী। বংগবন্ধুর সাথে তার নিবিড় সম্পর্ক ছিল। হেড অফিসের আদেশ নির্দেশের কোন তোয়াক্কাই তিনি করতেন না। তার অধীনস্ত কর্মকর্তা কর্মচারীদের তিনি ইচ্ছেমত বিভিন্ন সুযোগ সুবিধে দিয়ে পুরোপুরি বশ করে রেখেছিলেন। বাবা শত চেষ্টাতেও তাকে বাগে আনতে পারছিলেন না।

এসময় ইন্দিরা গান্ধী আসলেন বাংলাদেশ সফরে। বিশাল আয়োজন চারিদিকে। সাজ সাজ রব। আমরা ইন্দিরা গান্ধীকে যথেষ্ট সম্মান করতাম ও ভালবাসতাম। সবারই মনে খুশী ও কৃতজ্ঞতার আমেজ। খুশীর চোটে হাবিবুল্লাহ খান ইন্দিরা গান্ধীকে প্রগতিতে সংযোজিত একটি ভক্সল ভিভা গাড়ি উপহার দিলেন।

বাবা এরকম একটা সুযোগেরই অপেক্ষায় ছিলেন। তিনি প্রথমে এই উপহার দেয়ার কারন দর্শাতে বল্লেন। জবাব সন্তোষজনক না হওয়াতে আইনানুগভাবে তাকে বরখাস্ত করলেন। সাইফুল ইসলাম চাচা আবার বাবকে অনেক বোঝাতে চেষ্টা করলেন। ব্যার্থ হয়ে তিনি বাবাকে বল্লেন: "Sir Habibullah Khan is a Titanic, don't underestimate him. You have no idea about his influences. In no time he would ensure that you are thrown in the trash (হাবিবুল্লাহ খান হচ্ছে টাইটানিক, তাকে ওজন করতে ভুল করবেন না। আপনার কোন ধারনাই নেই যে ও কত প্রভাবশালী। অতি অল্প সময়ের মধ্যেই সে নিশ্চিত করবে যাতে আপনাকে আবর্জনায় নিক্ষেপ করা হয়)। "

বাবার উত্তর " Mr. Saiful Islam, if Habibullah Khan is Titanic, I'm an iceberg (হাবিবুল্লাহ খান যদি টাইটানিক হয় তা'লে আমি সমুদ্রে ভাসা বিশাল বরফখন্ড)।" সাইফুল ইসলাম চাচা বাবাকে ব্যাপারটা শিল্প মন্ত্রীকে অবহিত করতে বল্লেন। বাবা রাজী হলেন না এ বলে যে আইনানুগভাবে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে যা তার এখতিয়ারের ভেতর।

হাবিবুল্লাহ খান ঢাকায় বেশ কয়েকবার আসলেন, বংগবন্ধু সহ অনেকের সাথে দেন দরবার করলেন। কিন্তু কিছুই হ'লনা। তল্পিতল্পা গুটিয়ে তিনি অবশেষে প্রস্থান করলেন।

এইবার বাবা পড়লেন বিপদে। যাকেই প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজে পোষ্টিং দেন সেই এসে অনুরোধ করেন বাবাকে পোস্টিং বাতিল করতে। আমার মনে হ্য় বাবার অধীনের প্রায় সবগুলো কারখানার মহাব্যাবস্থাপককেই নিয়োগ দেয়া হয়েছিল প্রগতিতে।

শেষে এগিয়ে আসলেন মহিউদ্দিন চাচা (বর্তমানে প্রধান মন্ত্রীর নিরাপত্তা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল তারেকের আপন চাচা, বাড্ডা এলাকা যখন গ্রাম ছিল তখনকার সেখানের স্থায়ী বাসিন্দা, হার্ট এ্যাটাকে অনেকদিন আগেই গত)। মহিউদ্দিন চাচা তখন ছিলেন এ্যাটলাস বাংলাদেশ লিমিটেডের মহা ব্যাবস্থাপক। গুজব উঠলো যে উনি দায়ীত্ব নিতে গেলে ওখানকার লোকেরা তাঁকে পিটিয়ে মেরে ফেলবে। অত্যন্ত সাহসী তিনি প্রগতিতে যোগ দিলেন। কঠোর হাতে সব অসন্তোষ দমন করলেন।

দেশের মধ্যে যে আরেকটা দেশ ছিল তার অস্তিত্ব লোপ করলেন।

বংগবন্ধু হত্যার পর হাবিবুল্লাহ খান জিয়ার শিল্প উপদেষ্টা/মন্ত্রী (সম্ভবতঃ) হয়েছিলেন । তিনি কখনোই বাবার ওপর প্রতিশোধ নেবার চেষ্টা করেন নি।


গাজী গোলাম মোস্তফায়/রাস্তা দিয়া হাইট্টা যায়/ কম্বল একখান বান্ধা ছিল/ গাছেরো আগায় গো...

এটা একটা প্যারোডি: দ্বীনের নবী মোস্তফায়/রাস্তা দিয়া হাইট্টা যায়/ হরিন একখান বান্ধা ছিল গাছেরো তলায় গো....

একদিন বাবার পিএ বাবার অফিস কক্ষে উদ্ভ্রান্তের মত ঢুকে পড়লেন। " স্যার গাজী গোলাম মোস্তফা ফোন করেছেন"। বাবা বল্লেন "তো ইন্টরকমে না দিয়ে এখানে এসেছেন কেন?" লজ্জিত হয়ে পিএ প্রস্থান করলেন। ফোনে ওপার থেকে আওয়াজ আসলো " .. আমি গাজী গোলাম মোস্তফা। আপনার কর্পোরেশনে ডাঃ ফাতেমা (ধানমন্ডি ১৯/১৫ নম্বরে থাকতেন। তাঁর মেয়ে চিত্রার প্রেমে পড়েনি এমন খুব কম যুবকই ছিল তখন ধানমন্ডিতে)কে ১৭ই ডিসেম্বর, ১৯৭১ থেকে Retrospective আদেশ দিয়ে আজই আপনার কর্পোরেশনের চীফ মেডিক্যাল অফিসার বানিয়ে আদেশ বের করবেন। বাবার মাথার শেষ ঢিলা স্ক্রুটি খুলে গেল। বল্লেন "Who are you to dictate me that? গাজী উত্তর করলো : এটা প্রধান মন্ত্রীর হুকুম। বাবা উচ্চস্বরে বল্লেনঃ "If it is Prime Minister's order it should come in writing from PM's Secretariat"। বলে ফোনটা রেখে দিলেন। বাবার গলার স্বরে সাইফুল ইসলাম চাচা আর গিয়াস চাচা পিএর কাছ থেকে খবর নিয়ে জানতে পরলেন যে জিজিএম ফোন করেছিল বাবাকে। বাবার কাছে সব শোনার পর বাবাকে সাইফুল ইসলাম চাচা সনির্বদ্ধ অনুরোধ করলেন যাতে করে ডাঃ ফাতেমাকে পদোন্নতি দিয়ে (অবশ্যই অন্যদের ডিংগিয়ে) এখনই বাবা জিজিএমকে ফোন করে ঘটনাটার ফয়সালা করে নেন।

পরিচালককে যেহেতু "বহিস্কার হও" বলা প্রোটোকল অনুমোদিত নয় , বাবা তাই নিজেই অফিস থেকে বের হয়ে গেলেন।

তোফায়েল চাচার উদ্দ্যোগে আবার চেষ্টা চালানো হ'ল রাজনৈতিকভাবে এটার সূরাহা করা যায় কিনা। সম্ভব না হওয়াতে সকলে বাবাকে স্বপরিবারে খরচের খাতায় লিখে রাখলেন।

সেদিন বাবা খুব তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরে এসেছিলেন-সন্ধ্যার সাথে সাথেই। ছোট খালু (তখন বুয়েটের সহযোগী অধ্যাপক, এখন একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য) এলেন পর পরই কোথায় থেকে যেন জি জি এমএর এর সাথে বাবার কথোপকথন শুনে। আসলেন প্রয়াত সাইফুল ইসলাম চাচা, গিয়াস চাচা, বাবার সবচেয়ে কাছের বন্ধু প্রয়াত মোরশেদ চাচা (মাটির ময়নার তারেক মাসুদের কাজিন), বাবার অনেক ক'জন ছাত্র(বুয়েটের)। ডঃ মোজাফ্ফর আহমেদ (প্রাক্তন টিআইবি, পাকিস্তান আমলে চাকুরীতে বাবার জেষ্ঠ ছিলেন, বাবার এ সি আর লিখতেন। বাবা যদ্দিন সুস্থ ছিলেন তদ্দিন প্রতি ঈদের নামাজের পর পরই ওঁর বাসায় আমাদের সবাইকে নিয়ে দেখা করতে যেতেন) ফোন করলেন। এর পরপরই ফোন আসলো কিংবদন্তীর ডঃ রশীদের (বুয়েটের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য)। ডঃ রশীদ ছাড়া সবাই বাবার হঠকারিতায় চিন্তিত, আতংকিত এবং বিরক্ত। ডঃ রশীদ (বাবার শিক্ষক, আহসানুল্লাহ ইনজিনিয়ারিং কলেজের, পরে কলিগ) বাবাকে সাহস দিলেন এবং বল্লেন ভীতুরা মরে বহুবার, সাহসীরা একবার (Cowards die many times before their death...............)। কোন কিছুতেই রাজী না করাতে পেরে সবাই বাবাকে অনুরোধ করলো বাসা ছেড়ে কিছুদিন অন্য কোথাও লুকিয়ে থাকতে। বাবা রাজী হলেন না।

আপনার যারা জিজিএম সম্পর্কে জানেন না তাদের জন্য- বলছি। জিজিএম ছিল ভয়ংকর একটা ত্রাসের প্রতিশব্দ। সে সময় (বোধ করি) সে ছিল রেড ক্রস সোসাইটির চেয়ারম্যান। আজকের এরশাদ শিকদার, জয়নাল হাজারী, মকবুল, পিন্টু, অভির যদি ক্রস ব্রিড করা যায় তা'লে একটা জিজিএম হলেও হতে পারে। প্রতিপক্ষকে তিনি কয়েক প্রজন্ম সহ এক রাতের মধ্যে পৃথিবী ত্যাগে বাধ্য করতেন।

যে বাবা সন্তানের এবং স্ত্রীর জীবনকে শুধুমাত্র পেশাগত কারনে বলী দিতে প্রস্তত থাকেন, সে বাবাকে, সে স্বামীকে আমি আদর্শ বাবা, আদর্শ স্বামী হিসেবে মেনে নিতে পারিনা। এজন্যে তাকে শ্রদ্ধাও করা যায় না। বড় জোর মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন বলে ক্ষমা করা যায়।

আমাদের ভাগ্য সেদিন ছিল অতি সুপ্রসন্ন। সে রাতেই জিজিএম এর ছেলে এক বিয়েতে মেজর ডালিমের স্ত্রীর চুল টেনে এলাহী কান্ড ঘটায়। মেজর ডালিমকে ধরে জিজিএম বংগবন্ধুর বাসায় নিয়ে এসে বলেন ডাকাত ধরে এনেছি (এ এইচ এম কামরুজ্জামান, বাংলাদেশের সম্ভবত দ্বিতীয় শিল্প মন্ত্রীর কাছ থেকে শোনা)।

বাবার চরম বেয়াদবী চাপা পড়ে যায়।

তালহা তিতুমির গত পোষ্টে একটি ব্যাপার খোলাসা করতে বলেছিল আমাকে (মেজর ডালিমের স্ত্রীকে অপহরণ ও নির্যাতন করেছিলো শেখ কামাল। আসলে এ কুকর্মের নায়ক হলো আওয়ামিলীগ নেতা গাজী)। শেখ কামাল ডালিমের স্ত্রীকে অপহরন করেনি। পুরো ঘটনায় তিনি কোনভাবেই জড়িত ছিলেন না। ঘটনার মূল নায়ক হচ্ছে গাজীর ছেলে। সেই বিয়েতে নিমন্ত্রণ খেতে আসা ঐ ঘটনার সাক্ষীর অনেকেই এখনো বেঁচে আছেন, ঢাকাতেই আছেন।

জিজিএমের এক ছেলে এখন থাকে গুলশানের ৩৫ নম্বর রোডে (যদি এখনো বেঁচে থাকে)। জনসমক্ষে আসেনা। তার স্ত্রীই সবকিছু সামলায়। বছর খানেক আগেও দেখেছি বান থাই নামে কুখ্যাত এক মিলন কেন্দ্র সেই বাড়িতে।


সন্তানের জন্যে

এক গভীর রাতে বাবা মার চিৎকারে ঘুম ভেংগে গেল। অনেক কাল আগের বুয়েটের স্মৃতি মনে পড়ে গেল। সে সময় বাবা মা প্রায়ই ঝগড়া করে থালা বাসন ভাংগতেন, ফলশ্রুতিতে আমাদের ডেকচীর ঢাকনায় খাবার খেতে হ'ত। অনেক সময়ই ডঃ আলীমুল্লাহ খান এবং জুম্মার নামাজ থেকে ফেরা পথে একদিন ডঃ রশীদও সে ঝগড়ার মধ্যস্থতা করেছেন। তবে ১৯৬৫ সালে ছয় মাসের মধ্যে আমাদের সম্প্রসারিত পরিবারের বাবার এবং মার সব মুরুব্বী মৃত্যুবরন করলে বাবা-মা সে বিশাল পরিবারের প্রধান এবং একমাত্র উপার্জনক্ষম দম্পতি হয়ে যান । তারপর থেকে ঝগড়া করার সময় ও সুযোগ তাঁরা পান নি।

আমি ওঠার আগেই বাড়ির সবাই উঠে গিয়েছিল। ঝগড়ার বিষয়ঃ মা সে রাতে আমার ছোট বোনের জন্যে সোভিয়েত দুতাবাসের দেয়া নৈশ ভোজ থেকে এক টুকরো খাবার নিয়ে এসেছিলেন। বাবা ব্যাপারটা জানতে পেরে তুলকালাম বাঁধিয়েছেন।

তখন মাসে অন্ততঃ দুটো নৈশভোজ বা বিয়ের দাওয়াত থাকতো। সেগুলোতে অংশ নেয়া মার জন্য ছিল রীতিমত মানসিক অত্যাচার।

ফাকুন্দা (fungus) পড়া ডাল আর কুড়োর রুটি ছাড়া সন্তানকে যে মা আর কিছুই খাওয়াতে পারেনা, সে মা যদি ৭/৮ প্রস্থ (course) নৈশভোজ থেকে এক টুকরো খাবার নিয়ে আসেন অপার বাৎসল্যে তা'লে তাকে বোধ হয় দোষ দেয়াটা সমীচীন নয়।

-চলবে।

 

বিষয়বস্তুর স্বত্বাধিকার ও সম্পূর্ণ দায় কেবলমাত্র প্রকাশকারীর...

 

১. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৩৪
মিখাইল জাবির বলেছেন: শহীদ জিয়াউর রহমান-এর নাম পরিবর্তন করিয়া শেখ মুজিবর রহমান রাখা হইল।

যেহেতু
জিয়া টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ না করিয়া
বগুড়ায় জন্মগ্রহণ করিয়াছে।
যেহেতু
জিয়া পাকিস্তানিদের দুধ কলা না খাইয়া
মুক্তিযুদ্ধ করিয়াছে।
যেহেতু
জিয়া পাকিস্তানিদের বশ্যতা স্বীকার না করিয়া
স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়াছে।
যেহেতু
জিয়া একদলীয় বাকশাল গঠন না করিয়া
বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করিয়াছে।
যেহেতু
জিয়া বাঙালী না হইয়া
বাংলাদেশী হইয়াছে।
যেহেতু
জিয়া ভারতের মুখ্যমন্ত্রি না হইয়া
বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট হইয়াছে।
যেহেতু
জিয়া হিন্দু সংস্কৃতি গ্রহণ না করিয়া
দেশীয় (স্ব স্ব ধর্মের) সংস্কৃতি গ্রহণ করিয়াছে।

সেহেতু
শহীদ জিয়াউর রহমান-এর নাম পরিবর্তন করিয়া
শেখ মুজিবর রহমান রাখা হইল।
২. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৪৮
লালসালু বলেছেন: রাজসোহানের আগের প্লাসটা আমার। কোন পর্ব মিস করিনি।
১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:১৬

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

৩. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:০১
সবুজ সাথী বলেছেন: আমিও সব পর্বই আগ্রহ সহকারে পড়ছি। আমি ৭১ এর অনেক পরে জন্মেছি, কিন্তু মনে হচ্ছে সেই যুগে চলে গেছি।
১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:১৭

লেখক বলেছেন: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

৪. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:০৪
রাজীব বলেছেন: আপনাকে একটি অনুরোধ, সবটুকু শেষ হবার পর একটি কপি আমাকে মেইল করবেন।

কোন কারনে যদি ব্যান হয়ে যান বা পোস্ট সরিয়ে ফেলা হয় তাহলে লিখাটি মিস করতে চাই না। একটি একটি গুরুত্বপূর্ন ইতিহাস।

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:১৯

লেখক বলেছেন: ব্যান হলে মেইল দিয়েন, যদি আপনার এ্যাড্রেসটা হারিয়ে ফেলি।

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:২০

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ মগ্নতা পড়ার জন্যে।

৬. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:১৯
দেব সুযাত্র বলেছেন: ত্রিশোনকু'র ধারাবাহিকটা সত্যিই ভালো হচ্ছে।
১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:২১

লেখক বলেছেন: দেব সুযাত্র,

পড়ার জন্যে অনেক ধন্যবাদ।

৭. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:১৬
নাজনীন১ বলেছেন: আপনার মায়ের কষ্টটা কেমন যেন বুকে বাজছে।

আচ্ছা, ঐ সময়ে কি বঙ্গবন্ধু পারতেন না জিজিএম এবং শেখ মনিকে জেলে পুরতে বা ফাঁসীতে ঝোলাতে? খুব কি অসুবিধা হতো তাতে?
১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:১১

লেখক বলেছেন: না পারার তো কোন কারন দেখিনা।

৮. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৫:২১
নাজনীন১ বলেছেন: আচ্ছা, একটা ব্যাপার জানতে ইচ্ছা করছে, শ্রমিকরা কি রকম অন্যায় দাবী করছিলো? আসলেই কি সেগুলো অন্যায় ছিল, নাকি যৌক্তিক দাবী পূরণের মতো অবস্থা তখন সরকারের ছিল না? যেখানে ১ম গ্রেডের সরকারী কর্মকর্তা ৫০০ টাকার মতো বেতন পেতেন, আর চালের কেজি ছিল ১০ টাকা, সেখানে এই শ্রমিকেরা কত টাকা বেতন পেতেন, কেমন করে তাদের সংসার চলতো?
১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:১৯

লেখক বলেছেন: ব্যাপারটা তা ছিল না। অন্য কিছু ছিল যার অবতারনা করলে এখানে বিতর্কের সৃস্টি হতে পারে। আগ্রহী হ'লে ইমেইলে যোগাযোগ করতে পারেন।

৯. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:৫১
তায়েফ আহমাদ বলেছেন: ফাকুন্দা (fungus) পড়া ডাল আর কুড়োর রুটি ছাড়া সন্তানকে যে মা আর কিছুই খাওয়াতে পারেনা, সে মা যদি ৭/৮ প্রস্থ (course) নৈশভোজ থেকে এক টুকরো খাবার নিয়ে আসেন অপার বাৎসল্যে তা'লে তাকে বোধ হয় দোষ দেয়াটা সমীচীন নয়।

শেষের এই কথাগুলো পড়ে মন্তব্য করার সাহস হারিয়ে ফেললাম।
১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:২১

লেখক বলেছেন: খাবার প্রতি আমার প্রচন্ড লোভ বোধ করি তখনকার না খেতে পারা বেদনা থেকেই, যদিও কলেজে যখন থাকতাম তা টের পেতাম না।

১০. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:০৭
অলস ছেলে বলেছেন: আপনার বাবার মতো মানুষ আমি দেখেছি। আল্লাহ এদের ভালো করুন।

প্রগতির নাম শুনলেই দু:খ লাগে। আশাহীন ক্ষয়িষ্ণু বাংলাদেশের একটা চিহ্ন।
১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩৫

লেখক বলেছেন: আপনার বাবার মতো মানুষ আমি দেখেছি। আল্লাহ এদের ভালো করুন।

-আমিও দেখেছি। বাবার জন্যে প্রার্থনা করাতে আপনাকে অন্তরের অন্তস্থ্ল থেকে ধন্যবাদ। পরপারে এর চেয়ে বড় সম্বল খুব বেশী নেই, নিজের সৎ কর্ম ছাড়া।

প্রগতির নাম শুনলেই দু:খ লাগে। আশাহীন ক্ষয়িষ্ণু বাংলাদেশের একটা চিহ্ন।

- স্টাফ কলেজ করার সময় একটা পেপার লিখতে হয়। বিষয়টি নিজেরই ঠিক করতে হয় এবং লিখে ডিফেন্ড করতে হয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এর ওপর "মাস্টার আফ ডিফেন্স স্টাডিজ" দেয়া হয় আজকাল। তো আমার পেপারের বিষয় বস্তু ছিল "Manufacturing of Mass Transportation Means Utilizing the Idle Capacities of Public Sector Enterprises." আমার প্রমাণ করতে হয়েছিল যে রাষ্ট্রায়াত্ব কারখানা গুলোকে কাজে লাগিয়ে আমরা দেশেই ট্রাক-বাস নির্মাণ করতে পারি। লক্ষ্য করুন, আমি বলেছি নির্মান, সংযোজন নয়।

১১. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:০৬
অলস ছেলে বলেছেন: দোয়া অবশ্যই। আমি একজন সচিবকে দেখেছিলাম, শেখ হাসিনা প্রথম টার্মে এত দলবাজির পরও উনাকে কিছু করেননি। সততা এবং যোগ্যতার মিশ্রণ থাকলে আলাদা শক্তি হয়ে দাড়ায়।

ঠিকমতো এসেম্বলিং চালু রাখলেই যথেষ্ট ছিলো। নির্মাণতো স্বপ্নের মতো শোনায়। হয়তো কোন একদিন হবে, দেখা যাক। ধন্যবাধ।
১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:২৭

লেখক বলেছেন: আমার ছোট ছেলের সহপাঠির বাবা সচীব। কিছুদিন আগ পর্যন্ত এন বি আরের চেয়ারম্যান ছিলেন। অত্যন্ত সৎ এবং দক্ষ। এখন ওএসডি।

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৩৩

লেখক বলেছেন: ঠিকমতো এসেম্বলিং চালু রাখলেই যথেষ্ট ছিলো। নির্মাণতো স্বপ্নের মতো শোনায়। হয়তো কোন একদিন হবে, দেখা যাক।

-মারুতির এ্যাসেম্বলী বন্ধ করিয়েছে উত্তরা মটরস। তাদের সুজুকি অল্টো বিক্রি বন্ধ হয়ে যাওয়াতে। তখন মারুতি ছিল ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা, সুজুকী অল্টো ২ লাখ ৬৫ হাজার।

বন্ধ করিয়ে এখন তারা জাপান থকে সুজুকী এবং ভারত থকে মারুতি আমদানী করে। ছোট্ট একটা উদাহরন দিলাম। আরো আছে ভুড়ি ভুড়ি।

১২. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৮:১৯
পারভেজ বলেছেন: যে কারণে ড: ইকবাল, হাজী সেলিম, শিবিরের নাসির, নাসিরউদ্দিন পিন্টু, জয়নাল হাজারী প্রমুখের কোন ন্যায় বিচার হয়না, ঠিক সেই কারণেই জিজিএম ও হয়নি; এদের বিচার হয়না।
১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৫৬

লেখক বলেছেন: সঠিক।

১৩. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৯:৪১
শাহেরীন বলেছেন: মন্ত্র-মুগ্ধের মত পড়ছি।।
তবে আগের পর্বে মাইনাস পরতে দেখেছি, যারা মাইনাস দিচ্ছেন, বা দিবেন, দয়া করে কারণ জানিয়ে যান!!!
ত্রিশোংকু, পাশে আছি।।
১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৫৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ শাহেরীন।

১৪. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:২৮
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: আপনার বাবার মত শ খানেক বাবা সরকারের উচ্চ পদে থাকলেই কাজ হয়ে যেত....|
১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৫৮

লেখক বলেছেন: আনেকদিন পর।

ধন্যবাদ।

বদ্ধ উন্মাদ হালিতে চারটা করে পাওয়া যায় না।

১৫. ১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৪৯
ফালতু মিয়া বলেছেন: আপনার বাবার জন্য দোয়া রইল।
১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:০২

লেখক বলেছেন: অন্তরের অন্তস্থল থেকে কৃতজ্ঞতা।

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:০৩

লেখক বলেছেন: উনি আগে কর্মচারী পরে বাবা।

১৭. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:০৭
তুতুষার বলেছেন: "Who are you to dictate me that? গাজী উত্তর করলো : এটা প্রধান মন্ত্রীর হুকুম। বাবা উচ্চস্বরে বল্লেনঃ "If it is Prime Minister's order it should come in writing from PM's Secretariat"। বলে ফোনটা রেখে দিলেন।

এমন ব্যক্তিত্ব চাই।
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:১০

লেখক বলেছেন: পাগলে কিনা বলে........... বাবা ছিলেন বদ্ধ উন্মাদ। তাই তাঁর জন্যে এরকম বলা সম্ভব হয়েছিল।

১৮. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:১৩
লুৎফুল কাদের বলেছেন: আপনার বাবার মত লোক আমাদের দেশের ভিশন প্রয়োজন. এরা বাঘের বাচ্চা এবং সত্যিকারের মুসলিম. এরা ভয় সুধু আল্লাহকেই করে.
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ২:০৮

লেখক বলেছেন: মাথা কাজ না করলে যা হ্য় তাই হয়েছিল, মাঝখান থেকে আপনাডের বাহবা কুড়োচ্ছেন।

বাবার যদি তেমন একটা বোধ শক্তি থাকতো আমি আপনাদের কমেন্টগুলো তাঁকে পড়ে শোনাতাম।

১৯. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১:২২
চন্দন বলেছেন: আপনার বাবাকে স্যালুট

জিজিএম এর মত কুকুরের কাছে মাথানত না করার জন্য।

চমৎকার লিখেছেন, চালিয়ে যান।
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:৫১

লেখক বলেছেন: আমার বাবাকে তার অভিভাবকের ভুমিকায় বসালে আপনি কিন্তু তাকে এত বেশী সম্মান জানাতে কুন্ঠিত হতেন।

ধন্যবাদ চন্দন, ভাল থাকুন।

২০. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:৩৩
বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: লেখক বলেছেন:

বাবার যদি তেমন একটা বোধ শক্তি থাকতো আমি আপনাদের কমেন্টগুলো তাঁকে পড়ে শোনাতাম........।


----------->> চোখ ভিজে আসছে, যেভাবে পারেন তাকে একবার জানতে দিন আজকের বা;লাদেশের শিক্ষিত প্রজন্ম তার সততা ও নীতিবোধকে কত টুকু শ্রদ্বা করে, তাকে কতটুকু ভালবাসে, কতটুকু মিস করে..... তাকে জানতে দিন এই চোরের দেশে অসহায় আমরা কিভাবে তার মত লোকের অভাব বোধ করছি| জাতি হিসাবে আমরা হলাম বেঈমানের ব;শধর, অন্ততপক্ষে একজন ভালমানুষকেও যদি তার মরনের আগে শ্রদ্বা জানাতে পারি তাহলেও পাপ কিছুটা লাঘব হবে| হাজার সালাম আপনার বাবাকে|

১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:২১

লেখক বলেছেন: চোখ ভিজে আসছে, যেভাবে পারেন তাকে একবার জানতে দিন আজকের বা;লাদেশের শিক্ষিত প্রজন্ম তার সততা ও নীতিবোধকে কত টুকু শ্রদ্বা করে, তাকে কতটুকু ভালবাসে, কতটুকু মিস করে.....

-আমি অলৌকিকে বিশ্বাসী, মানুষের সদিচ্ছায় বিশ্বাসী, সৃষ্টিকর্তার অপার অনুগ্রহে বিশ্বাসী। সর্বশক্তিমান চাহেন তো বাবা আপনাদের দেয়া এই অতি বিরল সম্মান মাথা পেতে নিতে পারবেন। সম্ভবতঃ এটাই তাঁর জীবনের সবচে' বিশাল প্রাপ্তি।


২১. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:৫৯
শাহেরীন বলেছেন: বিদ্রোহী রণ ক্লান্ত বলেছেন: লেখক বলেছেন:

বাবার যদি তেমন একটা বোধ শক্তি থাকতো আমি আপনাদের কমেন্টগুলো তাঁকে পড়ে শোনাতাম........।


----------->> চোখ ভিজে আসছে, যেভাবে পারেন তাকে একবার জানতে দিন আজকের বা;লাদেশের শিক্ষিত প্রজন্ম তার সততা ও নীতিবোধকে কত টুকু শ্রদ্বা করে, তাকে কতটুকু ভালবাসে, কতটুকু মিস করে.....

তাকে জানতে দিন এই চোরের দেশে অসহায় আমরা কিভাবে তার মত লোকের অভাব বোধ করছি|

জাতি হিসাবে আমরা হলাম বেঈমানের ব;শধর, অন্ততপক্ষে একজন ভালমানুষকেও যদি তার মরনের আগে শ্রদ্বা জানাতে পারি তাহলেও পাপ কিছুটা লাঘব হবে|


হাজার সালাম আপনার বাবাকে|


শত ভাগ সহমত।।
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:২৭

লেখক বলেছেন: ধন্যবাদ।

২২. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:১০
রাজর্ষী বলেছেন: আচ্ছা আমাদের দেশে এত ভালো মানুষ থাকার পরে আমরা কেনো তলিয়ে যাচ্ছি?
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১১:১২

লেখক বলেছেন: দেখুন আজ দলীয় কোন প্লাটফর্মে না গিয়ে আপনি যদি চলতে চান তা'লে হয় আপনি শাহরিয়ার কবির নয়তো দেলোয়ার হোসেন সাঈদী। নিজের বাইরে, পরিবারের বাইরে, দলের বাইরে আমরা আর ভাবতে পারিনা। দল ছাড়া আমরা পরিচয়হীন, বেজন্মা। সে সময়ে কিন্তু তা ছিল না। অন্তত প্রশাসন দলীয়করন তখনো হয়নি।

দেশের মংগলের চিন্তা করে শুধু শক্তিহীন, সামর্থহীন কিছু আমজনতা। মংগল কামনা ছাড়া আর কোন শক্তিই তাদের নেই।

আমি ব্যাক্তিগতভাবে একজন সচীবকে চিনি যার পেশাগত সুনাম ও সততা প্রশ্নাতীত। শুধুমাত্র কোন দলীয় মতাদর্শ না থাকায় তিনি এখন ও এস ডি। চার মাস পর পর কিভাবে তিনি তাঁর আত্মজ/আত্মজার টিউশন ফির যোগান দেবেন সে চিন্তায় সর্বক্ষণ আতংকিত থাকেন।

২৩. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৯:২৭
বাস্তবতা বলেছেন: কোন একজন সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা পারেননি এই গোলাম মোস্তফাগুলোকে মেরে ফেলতে? একটা গুলিই তো যথেষ্ট ছিল।

---

যতদূর জানি, গাজী ভবন নামে যে মার্কেটটা ছিল, সেটা এই গোলাম মোস্তফার। শেখ মুজীবের পরে ওর কোন সাজা হয়েছিল বলে জানা নেই। লেখককে অনুরোধ করছি, গোলাম মোস্তফার জীবন সম্পর্কে আরো কোন তথ্য থাকলে শেয়ার করার জন্য।
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:৩৫

লেখক বলেছেন: কোন একজন সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা পারেননি এই গোলাম মোস্তফাগুলোকে মেরে ফেলতে? একটা গুলিই তো যথেষ্ট ছিল।

-গাজীদের উত্থান ও মুক্তিযোদ্ধাদের পতন সমসাময়িক কালের।

আমার কাছে আর কোন তথ্য নেই, তবে তাঁর ছেলের স্ত্রীর সাথে কিছু অভিজ্ঞতা আছে যা আমি ব্যাক্তিগতভাবে আপনার সাথে শেয়ার করতে পারি।

২৪. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:১৮
সাজিদ বলেছেন: আপনার পোস্ট পড়া হয়নি কয়েকদিন। এই পোস্ট পড়ে আমার নানার কথা মনে পড়ে গেল। উনও এমন একরোখান মানুষ ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসএম হলের এজিএস ছিলেন। কনভোকেশনের সময় উনিই প্রথম প্রতিবাদ করেছিলেন মাথা নুয়াবেন না কারন মুসলমান মাথা নুয়ায় শুধু একজনের কাছে। পরে কতৃপক্ষ সার্টিফিকেট নেয়ার সময় মাথা নুয়ানোর সেই নিয়মটি বাতিলে বাধ্য হন। সারা জীবন সত ছিলেন কিন্তু লীগ করতেন না বলে সরকার উনাকে টপকে উনার থেকে অনেক জুনিয়র একজন ফরিদপুরবাসীকে আইজি প্রিজন করেছিল। অথচ সেই উনি জেল হত্যার সময় নিজের জিবনে ঝুকি নিয়ে হত্যাকারীদেরকে বাধা দিয়েছিলেন। জেলহত্যা বিষয়ে যে কোনো বইয়ে উনার এই অসীম সাহসের কথা লেখা আছে। উনিই লালবাগ থানায় জেল হত্যা মামলা করেছিলেন পরিচিতজনদের পরামর্শ উপেক্ষা করে।

বাংলাদেশে আপনার বাবা এবং উনাদের মত মানুষরা কেনো প্রধানমন্ত্রী হন না? কেন অসভ্য পাগল গুলা ক্ষমতায় যায়? একজন আসাফুদ্দৌলা বা ডঃ আকবর আলী খানের মত সচিব কয়জন আছে দেশে? ঠিকভাবে অনেকে বাংলাতেই কথা বলতে পারে না।
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ১০:৪১

লেখক বলেছেন: অথচ সেই উনি জেল হত্যার সময় নিজের জিবনে ঝুকি নিয়ে হত্যাকারীদেরকে বাধা দিয়েছিলেন। জেলহত্যা বিষয়ে যে কোনো বইয়ে উনার এই অসীম সাহসের কথা লেখা আছে। উনিই লালবাগ থানায় জেল হত্যা মামলা করেছিলেন পরিচিতজনদের পরামর্শ উপেক্ষা করে।

-আপনার নানার কথা আমি পড়েছি। খোঁজ নিয়ে দেখবেন, উচ্চ পদস্থ কর্মকতা হওয়া সত্যেও ওঁ বাকশালে যোগ দেন নি, ১৯৭৫এর শুরুতে।

হয়তো বা এইসব বদ্ধ উন্মাদগুলোর জন্যেই দেশটি এখনো টিকে আছে।

২৫. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ১২:৪২
বাস্তবতা বলেছেন: জানাতে পারেন
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫০

লেখক বলেছেন: পাঠাচ্ছি।

৪১ ঘন্টা ধরে নির্ঘুম। ঘুমুতে গেলাম ক'বার। অত্যন্ত কড়া ঘুমের ওষুধও কাজে দিচ্ছেনা।

অভাগা অভুক্ত বাংগালীর মৃত মানুষের মাংস খাওয়ার দৃশ্য আমি দেখতে পাচ্ছি।

শুধুমাত্র বেঁচে থাকার অসহায় তাড়নায় বাংগালী রমনীর সম্ভমটুকুও বিকিয়ে দিতে হচ্ছে----এ যেন এক বিয়োগান্ত চলচিত্রের বিভৎস রস।

অসহনীয়।

২৬. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:১৬
শাহেরীন বলেছেন: জানতে চাই আরো।।
জানাতে পারেন,
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫৪

লেখক বলেছেন: কি সম্পর্কে?

২৭. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৩:৩৯
হাসান শহীদ ফেরদৌস বলেছেন: পড়ে যাচ্ছি মন্ত্রমুগ্ধের মত।

কে কি বললো না ভেবে নির্ভয়ে লিখে যান, যা সত্যি বলে জানেন। অবশ্য শোনা কথা যদি কারো সম্মানহানী করে তবে তা উহ্য রাখাই শ্রেয়।
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫৫

লেখক বলেছেন: আপনার প্রেরণা আমাকে লিখে যেতে অনেকদুর এগিয়ে নেবে।

ধন্যবাদ।

২৮. ১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ বিকাল ৪:৪৬
জনৈক আরাফাত বলেছেন: সবগুলো পর্বই মন্ত্রমুগ্ধের মত পড়ছি। পড়েছি।

কোন বিশেষ মন্তব্য করবার খুঁজে পাচ্ছিনা। শুধু ধন্যবাদ।
১৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৫৮

লেখক বলেছেন: জনৈক আরাফাত ,

আপনাকে অশেষ ধন্যবাড।

২৯. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ৩:১০
অলস ছেলে বলেছেন: মতিউর রহমান নামে একজনের লেখা, ১৯৮০ সালে প্রকাশিত একটা বই পড়ছি, আয়রন বারস অফ ফ্রিডম। পৃ১০০ থেকে একটা কিছু বাংলায় অনুবাদ করে দিচ্ছি। মন্তব্য বড় হয়ে গেলে দু:খিত।

"শেখ মুজিবের দুর্নীতিগ্রস্থ অনুসারীদের অন্যতম গাজী গোলাম মোস্তফার কুখ্যাতি আন্তর্জাতিক পরিসরেও ছড়িয়ে পড়েছিলো। ছোটখাটো ব্যাবসায়ী গোলাম মোস্তফা ষাটের দশকে শেখ মুজিবুর রহমানের 'টি-বয়' হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করে। স্বাধীনতার পর মুজিব তাকে ঢাকা শহর শাখা আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং বাংলাদেশ রেড ক্রসের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেন। বাংলাদেশ রেড ক্রসের প্রধান হিসেবে পা্ওয়া সমস্ত ক্ষমতা এই লোকটি তার পরিবার, বন্ধু বান্ধব এবং অনুগতদের পকেট ভারী করতে সর্বাত্বক ব্যাবহার করে। রিলিফের সামগ্রী (উল্লেখ্য যে স্বাধীনতার পর ইউএস এবং অন্যান্য দেশ বিপুল পরিমাণ, ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ, রিলিফ সাহায্য দিয়েছিলো বাংলাদেশের পুনর্গঠনের জন্য) এবং অষুধপত্র এই গাজী মোস্তফা চোরাবাজারে বিক্রি করে কয়েক মিলিয়ন পাউন্ড উপার্জন করেছিলো। ক্ষুধায় মৃতপ্রায় শিশুদের জন্য আন্তর্জাতিক সাহায্য হিসেবে পাওয়াখাবার সে তার বিড়াল এবং গবাদিপশুকে খা্ওয়াতো। তার ৩৭ টি কেমিষ্ট দোকান এবং ফার্মেসী ছিলো, এবং ২৯ টি ব্যাংক একাউন্ট ছিলো। চারবছরের ভেতরে তার সম্ভাব্য সেভিংস ছিলো ইউকেতে একলক্ষ ষ্টার্লিং পাউন্ড, আমেরিকায় বারোলক্ষ পঞ্চাশ হাজার ডলার এবং সমপরিমাণ ফ্রাঙ্ক সুইস একাউন্টে, এবং ইন্ডিয়ান রুপী সহ অন্যান্য কারেন্সী যার পরিমাণ জানা যায়নি; যার পুরোটাই ছিলো আন্তর্জাতিক সাহায্য থেকে মেরে দেয়া।" রেফারেন্স দেয়া আছে (দ্য ডেইলী টেলিগ্রাফ, লন্ডন, ৩১ মে, ১৯৭৬)

শেখ মুজিবের ভাই আবু নাসের কিভাবে একজন সাধারণ ব্যাবসায়ী থেকে কোটিপতি হলেন এবং 'খুলনার রাজা' উপাধি পেলেন, ভাগ্নে শেখ মণি যিনি ভুতপুর্ব পুর্ব পাকিস্তানে একজন ক্লার্ক ছিলেন, তিনি কিভাবে হঠাৎ করে বাড়ী গাড়ী প্রিন্টিং প্রেস এসবের মালিক হয়ে গেলেন দুই তিন বছরের ভেতর এসব নিয়েও প্রশ্ন আছে লেখকের।
১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:২৬

লেখক বলেছেন: আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। জিজিএম সম্পর্কে আমার এত জানা ছিলনা।

সম্পদ নশ্বর, কীর্তি অবিনশ্বর। তাই বোধহয় জিজিএমের ছেলের বউ হন্যে হয়ে তার একতলাটির জন্যে ভাড়াটিয়া খোঁজে। একপুরুষেই কিভাবেজিজিএমের বিশাল সে সম্পদ শেষ হয়ে গেল। সে সম্পদ শেষ হয়ে গেল।

ইতিহাস থেকে আমরা কোন শিক্ষা নেই না। তাই ইতিহাসের পূনরাবৃত্তি হয়।

দূর্নীতিবাজ তখনো ছিল এখনো আছে। কারা বেশী দূর্নীতি করেছে তা আজ বিতর্কের বিষয়।
শুধু একটাই পার্থক্য। সেই সময়ে দূর্নীতিবাজদের সবাই ঘৃণা করতো এখন তাদের আমরা পূজো করি।

৩০. ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সকাল ৭:৩৮
বাস্তবতা বলেছেন: নিজের উপর এত স্ট্রেস নিবেন না। হাজার হলেও মানুষের শরীর।

এক কাজ করুন। কয়েকদিন বিরতি দিন। পরিবারের সাথে সময় কাটান। যে সময়টা চলে গেছে তা ফিরে আসবে না আপনার স্মৃতিচারনে।

অসাধারন একটা সিরিজ চলছে। আমি চাই এটা ঠিকমত শেষ হোক। অতিরিক্ত স্ট্রেস এ আপনার কোন সমস্যা হোক এটা আমাদের কারোরই কাম্য নয়।

ভাল থাকবেন এই প্রত্যাশায়।
১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ দুপুর ২:৩৪

লেখক বলেছেন: আপনাকে ধন্যবাদ শুভকামনার জন্যে আর পরামর্শের জন্যে তো অবশ্যই।

আসলে আমি এক অন্যভুবনে ঢুকে পরেছি। ঘুম ক্ষুধা, ক্লান্তি সবই কোথায় যেন পালিয়েছে।

ভাল থাকবেন।

শেষ করবো, সৃষ্টিকর্তা চাহেন তো।

৩১. ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১০:৩২
রাগ ইমন বলেছেন: comment by: অলস ছেলে বলেছেন: আরেকটা কথা হঠাৎ মনে পড়লো। বাস্তব জীবনে দুর্নীতিবাজ অফিসারদের ভুড়ি ভুড়ি ছড়াছড়ি দেখি, কিন্তু যারা লেখে তাদের বাবারা কি চমৎকার সৎ হয়। আহা, দেশের সব অফিসারদের সন্তানরাই যদি লেখালেখি করতো।
জবাব দিন|মুছে ফেলুন | ব্লক করুন

------------------------
অলস ছেলে বলেছেন:আপনার বাবার মতো মানুষ আমি দেখেছি। আল্লাহ এদের ভালো করুন।

১৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:৩৫

omment by: অলস ছেলে বলেছেন: দোয়া অবশ্যই।

আমি একজন সচিবকে দেখেছিলাম, শেখ হাসিনা প্রথম টার্মে এত দলবাজির পরও উনাকে কিছু করেননি। সততা এবং যোগ্যতার মিশ্রণ থাকলে আলাদা শক্তি হয়ে দাড়ায়।
------------------------

ত্রিশোনকু,
আপনি তো সেনাবাহিনীর লোক তাই না? আব্বুকে চিনতেও পারেন। আপনার বাবার মত এই লোকটার পাগলামিও কিংবদন্তী হয়ে আছে । শুট হিম! ( এডিটেড) ( রম্য কিন্তু সত্য ঘটনা) - এই পোস্টের ঘটনা সেই সময় জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পোস্টেড যে কোন অফিসারের কাছ থেকে জেনে নেওয়া যাবে। ৩৯ না ৪৯ বার রেজিগ্নেশন দেওয়া এই অফিসারিটিকে দুনিয়ার সমস্ত প্রটোকল ভেঙে তাঁর সিনিয়ার অফিসার স্যালুট করে বিদায় জানিয়েছিলেন শুধু তাঁর সততার কারণে । কিন্তু তারপরেও , অকুতোভয় মুক্তিযোদ্ধা এবং অকল্পনীয় সৎ অফিসার হওয়ার পরেও অলস ছেলেদের মত শয়তানেরা ( অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা কি এই জন্যই বলে?) তাঁর একটি দোষ ঠিকই খুঁজে বের করেছেন আর সেইটা হইলো তিনি "রাগ ইমনের বাবা"।

একজন মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান করার জন্য আমরা কত ছলই না খুঁজে বের করি , তাই না?

উপরের অলস ছেলের দেখার চোখের উপরে আমার তেমন কোন ভরসা নাই। বরং , এই মুক্তিযোদ্ধার সহযোদ্ধা - "মুক্তিযুদ্ধে আট নম্বর সেক্টর "- কর্নেল (অবঃ) মোহাম্মদ সফিকউল্লাহ, বীর প্রতীক - এর বয়ান আমার কাছে অনেক বেশি ভরসার যোগ্য তবে আপনার সেন্স অফ হিউমারের উপর আমার অগাধ ভরসা । অলস ছেলের মন্তব্য গুলো পাশাপাশি রাখলে একটা অতুলনীয় "ফান" হয় । ক'দিন আগেও আমরা এই রকম ফান হতে দেখেছি লাক্স এর মেয়েদের নিয়ে আর অধুনা দেখলাম দুনিয়া কাঁপানো ৩০ মিনিটে ।

গায়ে লাগে না কেউ যখন আমার বাবাকে নিয়ে নোংরামো করার লুইচ্চামিটা করে , কিন্তু গায়ে লাগে যখন একজন মুক্তিযোদ্ধা সম্পর্কে লুইচ্চা কারো মূল্যায়ন শুনতে হয় । আমাকে অপছন্দ করার কারনে কেউ যখন একজন মুক্তিযোদ্ধাকে অপমান করে , তখন সেইটা আমার কাছে লুচ্চামি ছাড়া আর কিছু না ।

ফানটাকে পরিপূর্ণ উপভোগের সুবিধার্থে নিচের লিংক গুলোতে ক্লিক করতে অনুরোধ করি । পোস্ট যখন মুক্তিযুদ্ধ নিয়েই , তখন একজন মুক্তিযোদ্ধার অপমান - জিনিসটা অফ টপিক নয়, অন টপিক হিসাবেই দিলাম।

নীচে অপমানিত সেই মুক্তিযোদ্ধার সামান্য স্মৃতিচারণ ।

জাতির ক্রান্তি কালে মুক্তিযুদ্ধই আমাদের পথ প্রদর্শক !

[link|http://www.somewhereinblog.net/blog/valobashablog/28691466 |স্বাধীনতার ইতিহাস [ ১৬ই ডিসেম্বর , যশোরের]

স্বাধীনতার ইতিহাস পর্ব -২

স্বাধীনতার ইতিহাস পর্ব -৩

স্বাধীনতার ইতিহাস - শেষ পর্ব
২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৩৯

লেখক বলেছেন: এই মুক্তিযোদ্ধার সহযোদ্ধা - "মুক্তিযুদ্ধে আট নম্বর সেক্টর "- কর্নেল (অবঃ) মোহাম্মদ সফিকউল্লাহ, বীর প্রতীক - এর বয়ান আমার কাছে অনেক বেশি ভরসার যোগ্য তবে আপনার সেন্স অফ হিউমারের উপর আমার অগাধ ভরসা ।

আমি এখন একটা ঘোরের মধ্যে আছি। পরাবাস্তব একটা জগতে।

কর্নেল শফিকু্ল্লাহ, এ ই সি সম্পর্কে আমি শুধু এটাই বলতে চাই : যখন একটা হতভাগ্য সাধারন সৈনিকের পক্ষ নেই ১৯৮৮তে , এ্যান্থনী ম্যাকরানহাসের আ লিগাসী অফ ব্লাড খ্যাত চিটাগাংএর আন্ধা হাফিজের বিরুদ্ধে,

যখন হোমো চিটাগাং আসলেই ওর সাথে অতি অবশ্যই দেখা করতেন,
যখন চিটাগাংএর এরিয়া কমান্ডার ও জিওসি মেজর জেনারেল সালাম [পরে ময়মনসিং-৫ (সম্ভবতঃ) এর সাংসদ আওয়ামী লীগের টিকেটে] এবং রেড ক্রিসেন্টের চেয়ারম্যান সপ্তাহে দুদিন এবং তাঁর স্ত্রী প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা তক এই আন্ধা হাফিজের কাছে থাকতেন হালি শহরে, যখন আমার একটা ডিউটি ছিল আন্ধা হাফিজকে খবর দেয়া ভি ভি আই পিদের আসার,

তখন

একটা জিনিষের জন্যে আমার আন্ধা হাফিজকে খুব ইর্ষা করতাম। অত্যন্ত সুন্দরী সুঠাম দেহী প্রায় ১০/১৫ জন মেয়ে (১৩ থেকে ৪৫)তার সব ধরনের সেবা করতো।


একদিন আমার সৈন্য দল নিয়েদৌড়াতে বেরিয়েছি। তাকে দেখেই আমি থামাই এবং জিজ্ঞেস করি যে তার কাছে এত মহারথী আসে কেন? সে উত্তর করে আমি বাংলা বুঝিনা উর্দূতে বলুন। আমার কুখ্যাত রাগ মাথায় চড়ে যায় এবং আমি তাকে বলি, বেজন্মা, আমার দেশে, আমার মাটিতে, আমর বাতাসে ১০০ বছর পার করে দিয়েছিস এখনো বাংলা বলতে পারিস না। তোর উর্দু তোর পশ্চাদ দেশ দিয়ে ঢুকাবো। পিটি শেষ হবার ৫ মিনিটের মধ্যে আমি গ্রপ্তার হই,৬৩ দিন সেভাবে থাকি এবং ৪ টি লাল কালি আমার ডোসিয়ারে নিয়ে বেড়িয়ে আসি জেনারেল সলামের অফিস কক্ষথকে।

আমার তদন্ত আদালতের সভাপতি ছিল কর্নেল সফিকুল্লাহ, নইলে তখনই আমর খেল খতম হত।

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৪৫

লেখক বলেছেন: আপনি আগামীকাল ও পরশুর পর্ব দুটিতে সময় মত হাজির থাকবেন। পরশুই শেষ হয়ে যাবার কথা। আমি দুদিনে শেষ পর্ব লিখতে পেরেছি ৮/১০ লাইন। কি বোর্ড জলে ভেসে যাচ্ছে।

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১০ রাত ১১:৪৮

লেখক বলেছেন: Now I have Children of my own
They ask their mother
What will I b.....................

৩২. ০৭ ই মার্চ, ২০১০ বিকাল ৫:৩৫
সুবিদ্ বলেছেন: আপনার বাবার মতোন বা রাগ ইমনের বাবার মতোন মানুষ যদি অনেক হতেন সংখ্যায় তবে দেশটা হয়তো অত খারাপ অবস্থায় যেতনা.......

আমি বুঝিনা শেখ মুজিবের মতোন মানুষ কীভাবে গাজী-তাইপ লোকগুলোকে এত পাত্তা দিতেন........কেন???
০৭ ই মার্চ, ২০১০ রাত ৯:৩৯

লেখক বলেছেন: বিশ্বাস করুন এর উত্তর আমার জানা নেই। বংগবন্ধুর ব্যাক্তিত্বের কাছে গাজী তেলাপোকাও ছিল না।

 

মোট সময় লেগেছে ৩.০২২৭ সেকেন্ড

 

সামহোয়‍্যার ইন...ব্লগ বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, মাতৃভাষা বাংলায় একটি উন্মুক্ত ও স্বাধীন মত প্রকাশের সুবিধা প্রদানকারী প্ল্যাটফর্ম। এখানে প্রকাশিত লেখা, মন্তব‍্য, ছবি, অডিও, ভিডিও বা যাবতীয় কার্যকলাপের সম্পূর্ণ দায় শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট প্রকাশকারীর...
© সামহোয়্যার ইন...নেট লিমিটেড | ব্যবহারের শর্তাবলী | গোপনীয়তার নীতি
না প্রেমিক না বিপ্লবী
trishonku@hotmail.com
আর এস এস ফিড

পোস্ট আর্কাইভ

আমার লিঙ্কস

আমার বিভাগ

    কোন বিভাগ নেই