somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নানা দেশের ফুটবল কৌশল: টোটাল ফুটবল

২৯ শে জুন, ২০১০ রাত ১১:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নানা দেশের ফুটবল কৌশল: জার্মানি
নানা দেশের ফুটবল কৌশল: ইংল্যান্ড
নানা দেশের ফুটবল কৌশল : আর্জেন্টিনা
নানা দেশের ফুটবল কৌশল : ব্রাজিল
নানা দেশের ফুটবল কৌশল : ইতালি


বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার পর থেকে নানা পত্রিকায় নানা ভাবে টোটাল ফুটবল নিয়ে লেখা হয়েছে।
তারপরেও সিরিজের ধারাবাহিকতায় আমিও লিখলাম:P

জ্যাক রেনল্ড নামে এক ভদ্রলোক ছিলেন আয়াক্স ক্লাবের ম্যানেজার।
টোটাল ফুটবলের ধারনা প্রথমে তাঁর মাথায় উঁকিঝুঁকি দেয়। এ ঘটনা জানতে পারেন তাঁর শিষ্য রাইনাস মিশেল।

রাইনাস মিশেলের মাথায় সে ধারনার ডালপালা গজায়। অত:পর তারই শিষ্য ইয়োহান ক্রুইফ সে ধারনার বৈপ্লবিক পরিণতি দান করেন।

টোটাল ফুটবল কী?

কারো জন্য কোন নির্দিষ্ট পজিশন নয়। ফরমেশন ঠিক রেখে যে কেউ যে কোন পজিশনে খেলতে পারবে।

একটু পরিষ্কার করি ব্যাপারটা।
ধরুন, একজন ডিফেন্ডার বল নিয়ে মিডফিল্ডে চলে আসলো, তখন তার রেখে আসা পজিশনে একজন মিডফিল্ডার নেমে ফরমেশন ঠিক রাখবে।
ফলে যদি বলের পজেশন হারিয়েও ফেলে, তবুও কোন পজিশন খালি থাকবে না।



আপনার কি মনে হচ্ছে মাঠে বিশৃঙ্খল অবস্থার সৃষ্টি হবে?
না। মিশেল, ইয়োহান ক্রুইফ সেটি হতে দেননি।

কে কখন দৌড়াবে, কে স্থির থাকবে, সাপোর্টিং রান এ কে সব সময় এগিয়ে থাকবে এ সব কিছু আবর্তিত হতো ক্রুইফকে ঘিরে।

তৎকালীন সময়ের জনপ্রিয় ৪-২-৪ ফরমেশন কে ৪-৩-৩ বানিয়ে টোটাল ফুটবল শুরু হয়।

টোটাল ফুটবলে দুইটি জিনিস প্রাথমিক ভাবে বিবেচনা করা হত।
প্রথমত, আক্রমন আর রক্ষন জিনিসটা সবার আয়ত্বে থাকা, দ্বিতীয়ত, নিজের পজিশন সম্পর্কে প্রতিমুহূর্তে সজাগ থেকে কখন পজিশন বদল করতে হবে তা বুঝার ক্ষমতা।

৪-৩-৩ ফরমেশনে অনেক সময় লেফট/রাইট ব্যাক আক্রমনে উঠে আসতো, ফলে ফরমেশন দাঁড়াতো ৩-৪-৩।
সেন্টারব্যাক কিছু সময়ের জন্য তখন বামে/ডানে সরে লেফট/রাইট ব্যাক হিসেবে থাকতো। তৎক্ষনাৎ ডিফেন্সের দরকার হলে মিডফিল্ড থেকে একজন নেমে এসে সেন্টার ব্যাকের দায়িত্ব নিতো।
ফলে ফরমেশন আবার ৪-৩-৩ হয়ে যেত।
উঠে যাওয়া লেফট/রাইট ব্যাক পেছনে এসে পড়লে, নেমে যাওয়া
মিডফিল্ডার আবার সামনে যেত। ফরমেশন তখনো অপরিবর্তিত!

পুরো খেলাটাই ছিলো অতি আক্রমণাত্বক মনোভাবের।

১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ড টোটাল ফুটবলের চমকপ্রদ প্রদর্শনীতে সবার মন জয় করে নেয়। আফসোস! তারা বিশ্বকাপ জয় করতে পারেনি। ব্যাপারটা অনেক বেশি বেদনাদায়ক। কেন? সেটা একটু পরেই জানতে পারবেন।

আবার কৌশলে ফিরে আসি।
দলের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া টোটাল ফুটবলের পূর্বশর্ত। এছাড়াও রয়েছে গতি আর বুদ্ধিমত্তার এক চমৎকার সমন্বয়।

ইয়োহান ক্রুইফ ছিলেন এমন ফুটবলার যিনি মাঠের যে কোন পজিশনে খেলতে পারতেন। পুরোদলে তিনি এ প্রভাব ছড়িয়ে দেন। ১৯৭৪ সালের বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ড যে ১৫টি গোল করে তার সব কটিতে ক্রুইফের অবদান ছিলো।

[ ক্রুইফের বিদায়ের পর নেদারল্যান্ড পর পর দুই আসরে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণই করতে পারেনি।এবার বুঝুন তার অবদান! ]

বিশ্বকাপ না জেতা এ দল নিয়ে কেন এত মাতামাতি?

পেলে, ম্যারাডোনা, জিদান ফুটবলকে কি দিয়েছেন?
কেমন বেখাপ্পা প্রশ্ন করে বসলাম!
জনপ্রিয়তা? ব্যাক্তিগত নৈপুণ্য? সৌন্দর্য্য?
আর?????

ক্রুইফ ও তার দল ফুটবলকে কি দিয়েছেন?
একটি দর্শন। যে দর্শন আধুনিক ফুটবলকে করেছে সমৃদ্ধ।
৮০'র দশকের পর ফুটবলের ফরমেশন, স্ট্র্যাটেজিতে যে সব বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে তাতে টোটাল ফুটবলের বেশ প্রভাব রয়েছে।

ফুলব্যাক পজিশনের সামনে গিয়ে আক্রমণ করা, উইঙ্গারের পজিশন বদল, ১-২-১ পাসে একজন মিডফিল্ডারের স্ট্রাইকারে পরিণত হওয়া এই ধরনের পরিবর্তন গুলোর পেছনে টোটাল ফুটবলের দর্শন বেশ ভালো ভাবে জড়িত।

ক্রুইফের সময়ের টোটাল ফুটবলের এখন আর অস্তিত্ব নেই। কিন্তু পরিবর্তিত আর পরিমার্জিত হয়ে সেটা এখন ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে!

বিশ্বকাপের দুর্ভাগ্য। সে ক্রুইফ আর তার দলের হাতে উঠতে পারেনি!

বর্তমান সময়ের বার্সেলোনা আর আর্সেনাল তাদের খেলায় আধুনিক টোটাল ফুটবলের স্বাদ দিয়ে যাচ্ছে আমাদের।
এছাড়াও আরো অনেক ক্লাবে টোটাল ফুটবলের পরোক্ষ স্পর্শ দেখতে পাবেন।

ফুটবল একাডেমিতে নিবিড় ভাবে বেড়ে উঠা একদল কিশোরই পারে পরিপূর্ন একটি টোটাল ফুটবলের দল গঠন করতে। কেননা পরিপূর্ন দলীয় বোঝাপড়া ছাড়া টোটাল ফুটবল কখনোই সফলতা লাভ করতে পারেনা। ডাইনামিক পজিশনে খেলার মানসিকতা ক্লাব একাডেমি ছাড়া গড়ে উঠা মোটামুটি অসম্ভব।
কিন্তু টাকার হাতছানি উপেক্ষা করে কয়টি ক্লাব পারে তাদের মূল্যবান খেলোয়াড়কে বিক্রি না করে থাকতে??


বিশ্বকাপ না জিতেও টোটাল ফুটবলের বার্তাবহন করে নেদারল্যান্ড ঠাঁই করে নিয়েছে ইতিহাসে পাতায়, মানুষের মনে।

সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে জুন, ২০১০ রাত ১১:৩৮
১১টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৩



আমাগো গ্রাম আপনারা সবাই চিনেন।
মুন্সিগঞ্জ, বিক্রমপুর। শ্রীনগর থানা। খুবই প্রাচীন অঞ্চল। অবশ্য এখন গ্রাম বদলে গেছে! ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল হয়েছে, বিউটি পার্লার, কমিউনিটি সেন্টার, শপিংমল, ফাস্টফুডের দোকান হয়েছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আপনার ATM কার্ড কি সত্যিই নিরাপদ?

ধরুন, মাসুদ একদিন বাজার করতে বের হয়েছেন। তার মানিব্যাগে একটি Contactless Visa Card ছিল। বাজারের ভিড়ের মধ্যে একজন চোর একটি বিশেষ স্ক্যানিং ডিভাইস নিয়ে ঘুরছিল।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে যাওয়া বলে কিছু নেই

লিখেছেন রানার ব্লগ, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৮:৫৫

আমি যে নদীর কথা ভাবি,
সে নদী জল নয় সময় বয়ে নিয়ে চলে।
এক পাড়ে মানুষের কোলাহল,
হাটের গুঞ্জন, ভাতের গন্ধ, সন্ধ্যার আহবান,
অন্য পাড়ে কেবল শূন্যতা,
যেন কেউ কোনোদিন সেখানে ছিলইনা।

তবু দু পাড়ই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১০০০-তম পোস্টঃ কন্যা আপন সাজন সাজে রে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১০ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:২৪

আমাকে ও রাহমিনকে এনিমেট করলে কেমন দেখাবে? এই আইডিয়া থেকেই গানটা রিমিক্স করে এনিমেটেড ভিডিও সং বানিয়ে ইউটিউবে ছেড়েছি। ছোটবেলায় মেঝ খালার বিয়েতে এই গানটা শুনেছিলাম। সবাইকে গানটি দেখা ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

×