somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডিএনএ এরর!

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের প্রত্যেকটা দুরবস্থার জন্য পরোক্ষভাবে আমরা নিজেরাই দায়ী।

নিচের কথাগুলো ডাঃ জামান নামক একজন চিকিতসকের লেখা-
_________________________________________________
"বাংলাদেশের ডাক্তারদের আত্মসম্মান দিন দিন কমতে কমতে নাই এর পর্যায়ে চলে গেছে।

এখানকার ডাক্তারেরা ১৫ হাজার টাকায় চাকুরী করে আর ক্লিনিকে ডিউটি করে ৮ থেকে ১০ ঘন্টা ৬০০ টাকায়। আর যেসব জায়গায় ২৫-৩০ হাজার টাকা বেতন, সেই জায়গাগুলোতে গলায় পাড়া দিয়ে জান বের করে আনা হয়। ডিউটি ডিউরেশন ১২ ঘন্টা দিয়ে ৩০ হাজার টাকা দিলেও সেই টাকার প্রতি মন উঠে যায়।

আরে একটা ভালো কম্পানীর রিসিপসনিস্টের বেতন আছে ২০ হাজারের উপরে, এরোপ্লেনে উঠে বয়গিরি করলে বেতন আছে ৫০ হাজার থেকে শুরু লক্ষাধিক, হ্যালো ম্যাডাম ইউর জুস, হ্যালো স্যার ইউর কফি, ইউর ন্যাপকিন ম্যাডাম, ইউর টিস্যু পেপার স্যার, সো সুইট অব ইউ ম্যাডাম, ইটস আ প্ল্যাজার টু মি স্যার... থ্যাংক ইউ ম্যাডাম, টেক কেয়ার স্যার...
ব্যাস... এতেই লাখ টাকা।

আর ক্লিনিক ডিউটি সম্পর্কে আমার একটা থিওরী আছে। ঢাকা শহরে ৫ ঘন্টা রিকশা চালালে কামাই হয় ৬০০ টাকার উপরে, আর ক্লিনিকে ১০ ঘন্টা ডিউটি করলে হয় ৬০০ টাকা।
রিকশাওয়ালার ৫ ঘন্টার কামাই = ডাক্তারের ১০ ঘন্টার কামাই।

আর এখানে বলে রাখি, রিকশাওয়ালা যথেষ্ট স্বাধীনতা নিয়ে রিকশা চালান, তার নিজস্ব লিবার্টি এন্ড অথরীটি আছে। কিন্তু ক্লিনিকে ডিউটি করলে লিবার্টি এন্ড অথরীটি তো দূরের কথা, নিজের আত্মসম্মান নিয়ে টানাটানি লেগে যায়।

এত কিছুর পরেও, আজ ১৫ হাজার টাকায় চাকুরী করেন ডাঃ যদু। এখন অথরীটি যদি বেতন কমিয়ে ১৪ হাজার করে দেয়, তবে যদু হয়তো কষ্ট পেয়ে চাকুরীটা ছেড়ে দিবেন, কিন্তু ১৪ হাজার টাকায় চাকুরীটা লুফে নিবেন ডাঃ মদু। কিছুদিন পরে অথরীটি যদি বেতন কমিয়ে ১২ হাজার করে দেয়, তবে মদুও হয়তো কষ্ট পেয়ে চাকুরীটা ছেড়ে দিবেন, কিন্তু এই ১২ হাজার টাকার চাকুরীটাও লুফে নিতে ঝাপিয়ে পড়বে ডাঃ কদু।

কারন যদু, মদু, কদু সবাই আজ ডাক্তার।

আমার জানামতে, এই জামানায়ও এমন ক্লিনিক আছে, যেগুলো পার ডিউটি ৪০০ টাকা করে দেয়। এবং বিশ্বাস করেন, তাদের ডাক্তারের অভাব হয়না।

টাকাটা আসলে সব কিছু না, তবুও একটা ভাল জীবন বজায় রাখার জন্য একটা নুন্যতম টাকা দরকার। আর টাকার কথা বাদই দিলাম, যদি সম্মান না থাকে তাহলে আর কিছুই বাকী থাকেনা।"
________________________________________________

উপরের কথাগুলোর আলোকে বলি, যখন দেশে সীমিত সংখ্যক মেধাবী (বা পরিশ্রমী) ডাক্তার/ইঞ্জিনিয়ার ছিল, তারা নিজেরা বা তাদের অভিভাবকেরা কতই না ফুটাঙ্গি দেখাতেন- আমার ছেলে অমুক, আমার মেয়ে তমুক।

বাংলাদেশে প্রচলিত সামাজিক ব্যবস্থা বা সভ্যতার চেয়ে আমাজনের জংলি সমাজেও অনেক পারস্পরিক শ্রদ্ধা-সহমর্মিতার পরিচয় পাওয়া যায়। তা' নাহলে যে দেশের ৮০ ভাগ (পাঠ্যপুস্তক অনুসারে!!) মানুষ কৃষির উপর নির্ভরশীল, সে দেশে কৃষক-খেতখামারীদের কেন এত ছোট করে দেখা হয়? কেন রিয়েল এস্টেট কোম্পানির মূল চালিকাশক্তি নির্মাণশ্রমিকেরা নির্মাণকালীন সময়েও ন্যুনতম সুরক্ষা পায় না? কেন দেশের সর্ববৃহত শিল্পের শ্রমিকেরা সুযোগ-সুবিধার দাবীতে রাস্তায় নেমে পরোক্ষভাবে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়?

ব্যাপারটা শুধু এই এক ক্ষেত্রেই নয়, সব ক্ষেত্রেই আমাদের দূরদর্শিতার অভাব রয়েছে। প্রকৃতির নিয়ম-শৃঙ্খলা, স্বাভাবিক সামাজিক স্তরবিন্যাসকে মানতে আমরা নারাজ। ভুলে যাই, "কালো আছে বলেই সাদা আছে, সাদা আছে বলেই আছে কালো।"

অনেকে এই দেশ নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখে। বলে, এ দেশের সম্ভাবনা ফুরিয়ে যায়নি! তারা হয়তো শিশু, না হলে পাগল! কেন এরকম বলছি? কারণ, যে দেশের আপামর জনগণেরই স্বভাব খারাপ, তাদের নিয়ে আর কিছু হোক স্বপ্ন দেখা যায় না। শুধু সরকার বা রাষ্ট্রব্যবস্থার দোষ দিয়ে লাভ নেই, দোষ আমাদের ডিএনএ-তে!
৩টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নির্বাচন ২০২৬

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:০৪

জুলাই বিপ্লবে হাজারো তরুন রাস্তায় নেমেছিল একটা বৈষম্যহীন রাস্ট্র গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। নির্বাচনের দাবীতে কোন মানুষই জুলাইতে রাস্তায় নামেনি। একঝাক তারুন্যের রক্তের বিনিময়ে সবার প্রত্যাশা ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আমায় তুমি বসন্ত দুপুর দিয়ো/বসন্তে ফুল ফুটবেই=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ৮:৪৬

তোমার কি ইচ্ছে হয় না, আমায় দাও একটি =আমায় তুমি বসন্ত দুপুর দিয়ো=
তোমার কি ইচ্ছে হয় না, আমায় দাও একটি বসন্ত দুপুর
ইচ্ছে হয় না আমায় নিয়ে পায়ে বাজাতে পাতার... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাতিয়ায় শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায় তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণ করে বিএনপির কুলাঙ্গাররা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:১০

এক আওয়ামী ব্লগার আমাকে প্রশ্ন করছে আপনি তো বিএনপি করেন তাহলে জামাতের পক্ষে পোস্ট দেন কেন। উত্তরা এই পোস্টের শিরোনামে আছে। আমার উত্তর হচ্ছে আমি জামাতও করি না।

আমার পরিবার,আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

দুইশো নয় আসন নিয়েও কেন অন্যদের বাসায় যেতে হচ্ছে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:০৯


নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা সোশ্যাল মিডিয়ায় একধরনের উৎসবের আমেজ ছিল। স্ট্যাটাস, পোস্ট, কমেন্ট—সবখানে একই সুর। বিএনপি দুইশো নয়টা আসন পেয়েছে, জামায়াত মাত্র সাতাত্তর, দেশ এবার ঠিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

জামাতের নিশ্চিত ভূমিধ্বস পরাজয়ের কারন

লিখেছেন কিরকুট, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৩৪

*** জামাত শিবিরের পচা মস্তিষ্কের কেউ এই পোষ্টে এসে ল্যাদাবেন না***


রাজনীতির ইতিহাসে কিছু পরাজয় থাকে তা কেবল নির্বাচনী ফলাফলের ভেতর সীমাবদ্ধ নয় সেগুলো হয়ে ওঠে নৈতিক রায়।

জামাতের সাম্প্রতিক নিশ্চিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×