কৃত্রিম হৃদের ব্যপারটা বলে নেই। ক্যানবেরা পুরোটাই কিন্তু আগে মানুষের কল্পনায় এসেছে, তারপরে বাস্তবে এসেছে। মূল প্রদেশের পুরোটাই অনেক ভেবে চিন্তে প্ল্যানড, গুছিয়ে গড়ে তোলা। ক্যানবেরার মাঝ খান দিয়ে একটা বিশাল বড় হৃদ বানান হয়েছে, ঘুরানো পেঁচানো বিশাল হৃদটাকে এখন দেখলে মানুষের সৃষ্টি মনেই হবে না। হৃদের তীরেই পার্লামেন্ট হাউজ, ন্যাশনাল মিউজিয়াম, ন্যাশনাল লাইব্রেরী, ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, এমনকি হৃদের মাঝখান দিয়ে চলে ফেরি, স্পীড বোট।
আমরা জানতাম না আমাদের তখনকার অবস্থান থেকে হৃদটা ঠিক কোন দিকে। তবু হাঁটা শুরু করলাম একদিকে। হাজার হোক, ক্যানবেরার মত জনমানবহীন, ছোট্ট ডেড সিটিতে হারিয়ে যাওয়া হবে আমাদের খোদাপ্রদত্ত বুদ্ধিমত্তার অবমাননা। প্রায়ে এক ঘন্টা হাঁটলাম। হাঁটার সময় এক গাদা ছবি তোলা হল, সিডনী ক্যানবেরার তুলনায় বার বার সিডনীকে বিজয়ী প্রমান করা হল, রাস্তা ঘাট বিল্ডিং সব কিছুর নামকরণ চলল। অবশেষে হঠাৎই পানির ঝিলিক দেখলাম দুর থেকে। পেয়ে গেছি হৃদ!
হৃদটা অদ্ভূত সুন্দর। আকাশটা খুব লক্ষী ছিল, একদম সময় মত আমাদের ভীষণ ভালবেসে মেঘের হিজাব খুলে ফেলেছে। শুধু টুকরো মেঘের অলংকার পড়ে ছিল নীলের রূপ বহু গুণে বাড়িয়ে। টলটলে হৃদের পানিতে অদ্ভুত সুন্দর আকাশের প্রতিবিম্ব মন্ত্রমুগ্ধের মত দেখছিলাম। পার্কের সবুজ আর আকাশের নীল তুলনা করে নীল আর সবুজের সখ্যতার এত সুন্দর রূপটা নতুন করে টের পেলাম। পার্কের সবুজেরও কত রূপ। ওই দূরের গাছগুলোর এক রকম সবুজ রং। পাহাড়র সবুজ রংটা অন্য রকম। ঘাসের হালকা সবুজ রংটাও পাগল করা। উইপিং উইলো গাছগুলোতে তো একটাও পাতা নেই, তীব্র শীতে সব ঝরিয়ে দিয়েছে, তবু কি যে সুন্দর! ঝুঁকে পড়ে কয়েকটা উইলো গাছ আবার পানির আয়নার নিজেদের চেহারা দেখছে। কাঁদছে কি না কে জানে! স্রষ্টার সৃষ্টির সৌন্দর্য আমাকে বরাবর অভিভূত করে... এবার একটু বেশিই করল...
এই হৃদের ধারে হাঁটলাম অনেক্ষণ। হৃদের পাশে পা ঝুলিয়ে বসে থাকলাম, ছুটাছুটি করলাম, ছবি তুললাম, ইমু গাছে উঠে মৌমাছির তাড়াও খেল। এক ফাঁকে খেয়ে নিলাম আর শর্ট কাট নামায। এই ব্যপারটা মজার। ক্যানবেরার দুরত্বের জন্য ওখানে কসর নামায। ফলে নো সুন্নত, ফরজটাও শর্ট কাটে। জোহরের দুই রাকাত ফরজ আর আসরের দুই রাকাত ফরজ এক সাথে পড়লাম লেইকের পাশে ঘাসে দাঁড়িয়ে, সূর্যের ছায়া দেখে দিক নির্ণয় করে। 100% সত্যি সত্যি মুসাফিরের মত ব্যপার স্যপার!
সন্ধ্যা হয় হয় করছিল যখন তখন অদ্ভূত সুন্দর জায়গাটার মায়া ছাড়িয়ে রওয়ানা দিলাম বাস স্টপের উদ্দেশ্যে। সূযর্াস্তের সময়ের লজ্জায় রাঙা আকাশ দেখতে দেখতে ক্যানবেরার পাহাড়ী পথে বাসের সাথে দুলতে দুলতে বাসায় ফিরলাম।
(চলবে)
[ইটালিক]বি:দ্র: এই সিরিজের নামে অরিজিনালিটি নেই, কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি মুখফোড়ের ছড়ার। পুরো সিরিজটাই উৎসর্গ করলাম ধূসর গোধুলিকে।[/ইটালিক]
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



