শ্বাস কষ্ট ও বুকের কফ সমস্যা নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কফিল উদ্দিন 20 মার্চ ঢাকা মেডিকেল কলেজের 53 নং ওয়ার্ডে ভর্তি হন। মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য হওয়ায় তার চিকিৎসার সমস্ত ব্যয় বহনের কথা ছিলো সংশ্লিষ্ট সংস্থার। কিন্তু 9 মার্চ তার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের চিঠি ইসু্য হলেও মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা না পাওয়ায় অপারেশন থিয়েটারে আর যাওয়া হয়নি। 31 মার্চ দুপুর 12টায় তীব্র শ্বাসকষ্ট নিয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের মহা ব্যবস্থাপক আব্দুল হান্নান বিডিনিউজকে বলেন, আমরা হাসপাতালের ডাক্তারের কাছ থেকে কোন ডিমান্ড নোট না পাওয়ায় অপারেশনের টাকা দিতে পারিনি। তবে ঔষধ কেনার জন্য 29 মার্চ কফিল উদ্দিনকে দুই হাজার টাকা দেয়া হয়।
তিনি আরো বলেন, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় কফিল উদ্দিনকে নরসিংদিতে সমাহিত করা হবে। তার স্ত্রীকেও ভরনপোষণ বাবদ প্রতি মাসে দুই হাজার পাচশ টাকা করে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা দেয়া হবে।
এদিকে মৃতের স্ত্রী লায়লা খাতুন বিডিনিউজকে জানান, কর্তব্যরত ডাক্তার আমার স্বামীকে বিভিন্ন সময় গলায় অপারেশনের কথা বলেন। তবে গত দুই দিন ধরে তার শরীরের অবস্থা খুব খারাপ ছিলো। এসময় আমি কয়েকবার চেষ্টা করেও ডাক্তারের খোঁজ পাই নি। তার মৃতু্যর সময়ও কোন ডাক্তার আসে নি।
এই বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষন করা হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজের 14 নম্বর ওয়ার্ডের কর্তব্যরত চিকিৎসক এ. কে. এম সফিউদ্দিন বলেন, কফিল উদ্দিনের শারীরিক অবস্থা অপারেশন থিয়েটারে নেয়ার মতো ছিল না। আমরা তাকে কনজারভেটিভ ট্রিটমেন্ট দিচ্ছিলাম। তার গলায় ক্যান্সার হওয়ায় শ্বাসকষ্টের সমস্যা হচ্ছিল।
তিনি আরো বলেন, কফিল উদ্দিন মারা যাবার পরও আমাকে কেউ জানায় নি। আমি অনেক পরে শুনে 53 নম্বর কেবিনে গিয়েছিলাম।
গত দুই দিন ধরে কফিল উদ্দিনের শরীরের অবস্থা খুব খারাপের দিকে যেতে থাকলেও চিকিৎসকরা কোন জরুরী ব্যবস্থা না নেয়ার কারণ জানতে চাইলে সফিউদ্দিন কোন সদু্যত্তর দিতে পারেননি।
- আরাফাতুল ইসলাম, বিডিনিউজ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




