
জীবন আসলে বড় অদ্ভুত এক গোলকধাঁধা। আমরা ভাবি মেধা, ডিগ্রি আর সাফল্য দিয়ে পুরো জীবনটা সাজিয়ে ফেলা যাবে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস মানুষকে কোথায় এনে দাঁড় করায়, তা কেউ জানে না।
সেদিন বরিশালের একটি বৃদ্ধাশ্রমে গিয়ে বুকটা কেঁপে উঠল। সেখানে লুডু খেলছেন ৬৮ বছর বয়সী রোকসানা করিম রুমা। মুখে মৃদু হাসি, অথচ সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে আছে এক বিশাল সমুদ্রসমান কষ্ট। কে বলবে এই মানুষটি একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট হয়েছিলেন! ১৯৭৭ সালে হলিক্রস থেকে পাশ করে যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আলো ছড়িয়েছিলেন, আজ তাঁর নিজের কোনো ঘর নেই।
মায়ের সেবার জন্য একসময় নিজের সরকারি চাকরিটা ছেড়ে দিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন পরিবার আঁকড়ে ধরবে। কিন্তু উল্টো ভাইদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হওয়া, স্বামী ও সংসারী জীবনের নানামুখী আঘাত তাঁকে ধীরে ধীরে নিঃস্ব করে দিয়েছে। পটুয়াখালীর বাউফল ঘুরে শেষ পর্যন্ত তাঁর ঠাঁই হয়েছে বরিশালের এই বৃদ্ধাশ্রমে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই পুরোনো শিক্ষকদের কথা আজও তাঁর মনে পড়ে। ডাস বা লাইব্রেরি চত্বরের তারুণ্যের দিনগুলো এখন কেবলই স্মৃতির রোমন্থন।
আমরা যারা নিজেদের খুব সফল মনে করি, তারা কি কখনো এই মানুষগুলোর দিকে তাকাই? সমাজের ইঁদুর দৌড়ে আমরা হয়তো অনেক দূর এগিয়ে যাই, কিন্তু দিনশেষে কিছু মানুষ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে কেবলই একজন হারানো পথিক হয়ে যান। রোকসানা আপার এই অসহায়ত্ব আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়—আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কগুলো আজ কতটা ঠুনকো হয়ে গেছে। শেষ বয়সে একটু ভালোবাসা আর নিরাপদ আশ্রয় পাওয়ার অধিকার কি এই মানুষগুলোর নেই?
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।









