
জীবন মানেই তো ছুটে চলা, অজানা কোনো ঠিকানায় হারিয়ে যাওয়া। গত বুধবার তেমনই এক অন্যরকম টানে বরিশালের চরমোনাই গ্রামে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হলো। উদ্দেশ্য—পৃথিবীর সবথেকে ছোট ও প্রাচীন একটি গায়েবি মসজিদ দেখা। শহর থেকে বেলতলা খেয়াঘাট পার হয়ে টমটমে চড়ে সোজা চলে যাওয়া যায় চরমোনাই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে।
সেখান থেকে একটু সামনে এগোতেই চোখে পড়ে সেই ঐতিহাসিক মসজিদটি। বয়স নাকি এর পাঁচশ বছরেরও বেশি! দূর থেকে দেখলে ছোট একটা স্থাপনা মনে হবে, কিন্তু কাছে গেলেই টের পাওয়া যায় সময়ের কী এক ভারী ছাপ এর গায়ে লেগে আছে। মসজিদের ছাদের ওপর দিব্যি বেঁচে আছে এক শতবর্ষী গাছ। ভেতরের পরিবেশটা কেমন যেন রহস্যঘেরা। ভেতরে আলো নেই বললেই চলে, টর্চ জ্বালিয়ে ঢুকতে হয়। সেখানে কোরআন শরিফ আর জায়নামাজ রাখা আছে। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত বা জুমার নামাজ এখানে হয় না, তবে মানুষ এসে মানত করে আর নামাজ পড়ে যান।
সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো মানুষের লোকবিশ্বাস। এই মসজিদের গাছের ডাল বা পাতা কেউ কাটে না। সবার ধারণা, এগুলো কাটলে নাকি বড় ধরনের বিপদ হতে পারে। সময়ের পরিবর্তনের সাথেও এ ধরনের বিশ্বাস মানুষের মনে নানা ভাবনার জন্ম দেয়।
মসজিদ দেখা শেষে ফেরার পথে দেখা মেলে চারদিকে শুধু কাশফুল আর কাশফুল। দুপুর দুটো বাজে, রোদের মধ্যে একা একা সেই মেঠোপথ ধরে হেঁটে যাওয়ার অনুভূতিটাই অন্যরকম। চারপাশের এই নীরবতা আর প্রাচীন ইতিহাস মিলে মনটা কেমন যেন শান্ত হয়ে যায়। মানুষ আসলে প্রকৃতির মাঝেও যেন এক অদ্ভুত প্রশান্তি খুঁজে পেতে ভালোবাসে।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



