somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বরিশালের চরমোনাইতে ৫০০ বছরের পুরনো এক অদ্ভুত গায়েবি মসজিদ ও কিছু ভাবনা

০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


জীবন মানেই তো ছুটে চলা, অজানা কোনো ঠিকানায় হারিয়ে যাওয়া। গত বুধবার তেমনই এক অন্যরকম টানে বরিশালের চরমোনাই গ্রামে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হলো। উদ্দেশ্য—পৃথিবীর সবথেকে ছোট ও প্রাচীন একটি গায়েবি মসজিদ দেখা। শহর থেকে বেলতলা খেয়াঘাট পার হয়ে টমটমে চড়ে সোজা চলে যাওয়া যায় চরমোনাই মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে।

সেখান থেকে একটু সামনে এগোতেই চোখে পড়ে সেই ঐতিহাসিক মসজিদটি। বয়স নাকি এর পাঁচশ বছরেরও বেশি! দূর থেকে দেখলে ছোট একটা স্থাপনা মনে হবে, কিন্তু কাছে গেলেই টের পাওয়া যায় সময়ের কী এক ভারী ছাপ এর গায়ে লেগে আছে। মসজিদের ছাদের ওপর দিব্যি বেঁচে আছে এক শতবর্ষী গাছ। ভেতরের পরিবেশটা কেমন যেন রহস্যঘেরা। ভেতরে আলো নেই বললেই চলে, টর্চ জ্বালিয়ে ঢুকতে হয়। সেখানে কোরআন শরিফ আর জায়নামাজ রাখা আছে। নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত বা জুমার নামাজ এখানে হয় না, তবে মানুষ এসে মানত করে আর নামাজ পড়ে যান।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো মানুষের লোকবিশ্বাস। এই মসজিদের গাছের ডাল বা পাতা কেউ কাটে না। সবার ধারণা, এগুলো কাটলে নাকি বড় ধরনের বিপদ হতে পারে। সময়ের পরিবর্তনের সাথেও এ ধরনের বিশ্বাস মানুষের মনে নানা ভাবনার জন্ম দেয়।

মসজিদ দেখা শেষে ফেরার পথে দেখা মেলে চারদিকে শুধু কাশফুল আর কাশফুল। দুপুর দুটো বাজে, রোদের মধ্যে একা একা সেই মেঠোপথ ধরে হেঁটে যাওয়ার অনুভূতিটাই অন্যরকম। চারপাশের এই নীরবতা আর প্রাচীন ইতিহাস মিলে মনটা কেমন যেন শান্ত হয়ে যায়। মানুষ আসলে প্রকৃতির মাঝেও যেন এক অদ্ভুত প্রশান্তি খুঁজে পেতে ভালোবাসে।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সব হারিয়েও বেঁচে থাকা: একজন রোকসানা রুমার নিঃসঙ্গ গল্প

লিখেছেন ওয়াদুদ সোহেল মোল্লা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬


জীবন আসলে বড় অদ্ভুত এক গোলকধাঁধা। আমরা ভাবি মেধা, ডিগ্রি আর সাফল্য দিয়ে পুরো জীবনটা সাজিয়ে ফেলা যাবে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস মানুষকে কোথায় এনে দাঁড় করায়, তা কেউ জানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিটারে টাকা ভরতে গিয়ে এ কি হলো আমার সাথে। না পড়লে চরম মিস।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১২

বিদুৎ মিটার, দুই প্রকার। এক হচ্ছে প্রিপেইড আরেকটি পোস্ট পেইড। আমার কাছে পোস্ট পেইড ভালো লাগে। কারন এখানে বিলের কপি দিয়ে যায়। ও বিলের কপি নিয়ে ব্যাংকে গিয়ে জমা দিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=নীলাম্বরী সেজে আছি=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৩৮



এই এসো না কাছে এসো,
নীল শাড়ীতে নীলাম্বরী
ঠায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষাতে
এসে ভাসাও প্রেমের তরী।

নীল সমুদ্দুর ডেকেছে আজ
তাই দাঁড়িয়ে আছি একা
এসো তুমি হাওয়ায় উড়ে
এসে করো একটু দেখা।

হাঁটতে ইচ্ছে বালিচরে,
তুমি আমার - পাশে হাঁটবে?
মনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যস্ফীতি বাড়লে বা কমলে আমরা টের পাই না কেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১


গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে বাংলাদেশে এখন কয়টা ঋতু আছে তা কেউ বলতে পারে না। আমার মনে হয় গ্রীষ্ম আর বর্ষার একটা মিশ্র ঋতু আছে, আর আছে শীত। এই গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×