এই বাংলাদেশ স্বাধীনে একজন মুক্তিযোগ্ধার অবদান যে কী তা সবাই জানেন। গতকাল ঢাকায় এক আবাসিক হোটেল থেকে একজন মুক্তিযোগ্ধা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে, তিনি বিষপানে আত্বহত্যা করেছেন। লাশের সাথে একটি চিরকুটও পাওয়া গেছে।
"মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ইউনিট ঘোষণার জন্য মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এ হান্নানকে টাকা দিয়েছিলাম। টাকা দিয়ে বারবার আবেদন করার পরও তিনি দক্ষিণ জেলা ইউনিট ঘোষণা করেননি। তাঁর বাসায় গিয়ে টাকা ফেরত চাইলে তিনি গলাধাক্কা দিয়ে অপমান করে বের করে দেওয়ায় আমি আত্মহত্যা করলাম। আমার লাশটা যেন ঢাকায় দাফন করা হয়।"_প্রথম আলো
কতোটা কষ্ট পেলে বা বাধ্য হলে একজন মুক্তিযোগ্ধা নিজ দেশে একজন আমলা তাও আবার মুক্তিযুগ্ধ বিষয়ক সচিবকে ঘুষ দেয় ভাবতে পারেন?
তার চেয়ে একজন আমলার কতোটা সাহস হলে, তিনি একজন মুক্তিযোগ্ধার গায়ে হাত দিতে পারেন?
কাজ যাই হোক, একজন মুক্তিযোগ্ধার কাছে ঘুষ নেয়া ঠিক হয়নি। মুক্তিযোগ্ধা বিষয়ক সচিব যখন এমন কাজ করে তখন দেশের আসল মুক্তিযোগ্ধাদের কী দষা তা ভাবা যায়?
প্রথম আলোর সংবাদের শেষ অংশটুকু পড়ে আরো অবাক হলাম,
"এই মুক্তিযোদ্ধার বিষয়ে জানতে গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাতকানিয়া উপজেলা ইউনিট এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। তবে তাঁর মুক্তিযোদ্ধা সনদ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের বর্তমান নেতাদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।"
আসলেই কী কোন অন্য মানুষ বা মুক্তিযোগ্ধা নন?
না আমাদের সন্মানিত সচিবকে বাচাতে নেয়া প্রথম পদক্ষেপ? যদি তাই হয়, তবে তিনি মরার আগে হারিয়েছেন সন্মান আর এখন হারাবেন পরিচয়।
যাই হোক, তিনি মুক্তিযোগ্ধা হন আর নাই হোন তার মুক্তিযোগ্ধার পরিচয় আছে, আর একজন বেতনভুক্ত সচিব হয়ে মুক্তিযোগ্ধার গায়ে হাত দিয়ে আমাদের বর্তমান অবস্থার বহি:প্রকাশ করেছেন। তাই এই সন্মানিত সচিব যে কী করেছেন তা তাকে বোঝানো উচি্ত। তা না হলে এমন কাজ আবার ঘটবে।
আর আজ একজন মুক্তিযোগ্ধা নয়, দেশের মুক্তিযোগ্ধাদের অপমান করা হয়েছে। তাই বিচার একান্তই আবশ্যক, তা না হলে যদি এই দাবীতে মুক্তিযোগ্ধারা রাস্তায় আসে আর তাদের সরাতে কোন পুলিশ রাস্তায় নামে তবে আমিও রাস্তায় আসব। শুধু আমি নয়, ১৬কোটি মানুষের ১৬লক্ষ নামলেই খবর আছে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


