
ছবিতে যাদের প্রতিবাদ করতে দেখছেন, তারা সবাই IUBAT এর ছাত্র। সম্প্রতি পান্জাবি ও লং বোরখা পড়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশে বাধা দেয়া হচ্ছে, এসব পোশাকে ক্যাম্পাসে ঢুকতে না করা হয়েছে। তারই প্রতিবাদে তারা মানব বন্ধন করছে। এই মানব বন্ধন কতোটুকু যৌক্তিক তাতে যাবার আগে ইসলামে পোশাক নিয়ে কিছু কথা বলে নেই।
ইসলামে পুরুষের পোশাক
একজন পুরুষের সতর তথা নাভি থেকে হাটু পর্যন্ত ঢেকে রাখা ফরয আর ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করা সুন্নাত*।
*আমি বিষয়টি কোথাও খুজিনি বা পড়তে গিয়ে পাইনি। তবে সকল মাওলানাই এতে একমত, তাই বিষয়টি সত্য বলেই ধরে নেওয়া যায়।
ইসলামে নারীর পোশাক
পুরুষের ব্যাপারে তেমন কিছু না থাকলেও ইসলামে নারীর মুখমন্ডল ও হাতের কব্জি ছাড়া সকল অঙ্গ ঢেকে রাখা ফরজ। শুধু ঢেকে রাখাই নয় সাথে এমন পোশাক পরিধানে আদেশ দেয়া আছে যেন দেহের ভাজ বোঝা না যায়।
এখন আসি অন্য প্রসঙ্গে। নারীর পোশাকের নিয়ম দেখে অনেকেই হয়তো আমার মাঝেও আল্লামা শফির ছায়া লক্ষ করতে পারেন। নারীরা কি পড়ছে, তাতে সমাজের কতোটা অবক্ষয় হচ্ছে তার চেয়ে বেশী দরকার নিজের কতোটা অবক্ষয় সাধন করেছি সেটা জানা। আমরা সবাই জানি নিজের পাপ-পুন্যের হিসাব নিজেকে দিতে হবে, এতে কারও দ্বিমত থাকার কথা নয়।
যারা পান্জাবি পড়ে ঢুকতে না দেওয়ায় মানব বন্ধন করছেন, দাবী এনেছেন "ধর্মীয় পোশাক পরিধানে বাধা দেবার" তাদের জন্য বলব, পান্জাবি না পড়লে কোন ক্ষতি সাধন হবে না। পান্জাবি না পড়ে ঢোলা শার্ট বা টি-শার্ট পড়তে পারেন, এতে ইসলামী কোন বাধা নেই, যদি না তাতে কোন জীবের ছবি থাকে। আর পায়জামার বিষয়ে বলব, দেশে জিন্স আসার খুব বেশী দিন হয়নি। বর্তমানে সবাই জাকির নায়েক কে ইসলামী মানুষ হিসাবে জানে, প্রয়োজনে তার পোশাক বিষয়ক লেকচার গুলো পড়ে দেখতে পারেন। মানুষ এখনও অফিসে বাননো পেন্ট পড়ে, আপনারও পড়ুন। টাকনু না ঢেকে ঢোলা পেন্ট বানানো কোন বিষয়ই না। তবে প্যান্ট-শার্ট পড়ে ক্যাম্পাসে আসতে সমস্যা কোথায়!
এবার আসছি, লং বোরখার জায়গায় শর্ট বোরখা নিয়ে। ইসলামী আইন বা রাষ্টীয় আইন কখনোই ফেরেশতাদের জন্য বানানো হয়নি। খুব বেশী দরকার হবে না, নিজের মনকে প্রশ্ন করলেই জানা যাবে কতোজন সঠিক পর্দা করছি, এমনকি নিজের বাসায় কে কে পর্দা করছে।
তাই দাবী হতে পারে, নারীদের লং বোরখা কোন ভাবেই বাদ দেয়া যাবে না। আমি যতোদুর মনে করতে পারি, গত বছরে ব্রাক/আহসানউল্লাহ বিশ্ববিদয়লয়ে এই নিয়ে একটি ঘটনা ঘটেছিল, যা নিয়ে ফেসবুকে অনেক তোলপাড়ও হয়েছিল। কিন্তু মূল ঘটনায় ছিল, মেয়েটি মুখও ফহেকে রেখেছিল, তাতে তার পরিচয় বোঝাই সম্ভব ছিল না। তাই কতৃপক্ষ বলেছিল অন্তত টুকু না ঢাকার জন্য, যাতে পরিচয় বোঝা যায়।
আমি ব্যাক্তিগতভাবে মনে করি ধর্মীয় বিষয়কে সর্বদা টেনে না আনাই ভালো। আমি নিজে এই আন্দোলনকারীদের চেয়ে ইসলাম কে কম জানি, তবে কাল যদি হিন্দু ধর্মাম্বলীরা তাদের ধর্মীয় পোশাকে আসতে চায় তবে তাদের কতৃপক্ষ কিভাবে বাধা দিবে।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৯:৪৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


