somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে ঈদে কেঁদেছিলাম

০৮ ই এপ্রিল, ২০১৩ রাত ২:৩৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[বাস্তবতা ও কল্পনার জগত্‍ দুটি সম্পূর্ণ আলাদা।কল্পনার ছকেঁ প্রতিটি মানুষকেই সুখী মনে হয়। কিন্তু বাস্তবতায়তা সম্পূর্ণ ভিন্ন]
-------ঈদের নামায পড়ে বাসায় ফিরছিলাম। সাথে আমার আরো দুই বন্ধু।আমাদের বাসার ফিরারপথেই ফারহানাদের বাসা। ফারজানা ছিল আমাদেরক্লাসমেইট।ঈদের দিন ওদের বাসায় যাবার জন্য ফারজানাবারবার করে বলেছিল। তাই ঠিক করেছিলামওর বাসায় ঢুকব।
যাক আমরা তিন বন্ধু ওদের গেটে নক করলাম। ফারজানাই গেট খুলে দিল।আমাদের দেখেসে অনেক খুশি হল। ভিতর গিয়ে বসলাম। বসেই এক ধরনের কান্নার শব্দ পেলাম। তবে শব্দ টা স্পস্ট নয়। আমি ফারজানাকেবললাম, কিরে কাঁদে কে? ফারজানা কোন উওর দিল না।সে আমাদের কে বসিয়ে অন্য রুমে চলে গেল।
বেশ কিছুক্ষণ পর রুমে এল নিতু আপু। নিতু ফারজানার বড় বোন। ওনি রুমে ঢোকার সাথে সাথে আমি লক্ষ্য করলাম ওনার দুটি চোখ ফোলা। বুঝতে পারলাম ওনার কান্নার শব্দই আমি শুনতে পেরেছিলাম। ওনি আমাদের সেমাই, পিঠা এসব খেতে দিল।আমরা খেতে শুরু করলাম। হঠ্যাত্‍ নীল বলে উঠল আপু ফারজানা কই গেছে? আসতেছে তোমরা খাও, নীতু আপু জবাব দিল।
কিছুক্ষণ পর ফারজানা ও আন্টি( ফারজানার আম্মা ) রুমে প্রবেশ করল। আমরা তিন বন্ধু প্রত্যেকে ওঠে গিয়ে আন্টিকে সালাম করলাম।
যা এখন আপনাদের বলা দরকার ফারজানাদের বাবা নেই। ওরাদুই বোন ও তাদের মা এ তিন জন কে নিয়েই তাদের সংসার। নীতু আপুর যখন ৫ এবং ফারজানার যখন ১ বছর তখন তাদের বাবা মারা যায়। আনক্কেল সরকারি চাকরী করতপরে আন্টিকে তার জায়গায় চাকরী দেয়া হয়। ঐ সময় থেকেদুটি বাচ্চা মেয়েকে নিয়ে তার সংগ্রামের সংসার শুরু।আজ ও তিনি সংগ্রাম করে যাচ্ছেন।
ওনাকে সালাম করে আবার বসলাম। আন্টি ও বসল ওনার পাশে বসল ফারজানা। আমরা কথা বলছিলাম কথা বলার এক পর্যায়ে আন্টি বলে উঠল, আমি খুব খুশি হয়ছি তোমরা বাসায় এসেছ এ বলে তিনি কেঁদে দিলেন। বাকি কথা গুলো শুধুই ওনার--
আমার দুটি মেয়ে কখন ও দেখেনায় তাদের বাসা থেকে কেউ নামায পড়তে বাইরে যায়। প্রতি ঈদে মানুষ যখন ঈদের নামায পড়তে ঈদগায়ে যায় নীতু জানালা দিয়ে শুধু তাকিয়ে দেখে। আর চোখের অশ্রু ফেলে। তোমরা আসার আগে ও নীতু কাঁদছিল। ছোট বেলায় ২ জন ই বাবাকে হারিয়েছে। ছোট বেলা থেকেইএই শূন্যতা নিয়ে বড় হয়েছে তারা। প্রতি ঈদেই তারা নানা কিছু তৈরি করে কিন্তু তাদের ভাই বাবা কেউ নেয় তাই কেউ বাসা থেকেনামাযে ও যায় না। তাই যখন দেখে পাশের বাসার ছেলে, তাদের বাবারা নামায পড়ে ঘরে ফিরে নীতু এসব দেখে কাঁদে। কথা গুলো তিনি অশ্রু ভেজা চোখে বলছিলেন।নীতু আপুর চোখে তখন ও অশ্রুর ফোটা লক্ষ্য করলাম। আজ তোমরা বাসায় এসেছো তাই আমি অনেক খুশি। আন্টি নীতু আপুকে বলল, যাওনীতু রান্না কর গিয়ে। এরা তো তোমার ছোট ভাই। প্রতি ঈদে ইতো রান্না করো কিন্তু তোমার রান্না খাবার কেউ থাকে না। এবার আল্লাহ তোমার জন্য দেখ ভাই পাঠিয়েছে। দেখ নামায পড়ে বাসায় ও এসেছে। এভাবে কথা চলতে থাকল। আমি লক্ষ্য করলাম যে সবার চোখেই অশ্রুর বিন্দু লুকোচুরি করছে। আসলে আমরাএমন ঈদের দিনে এ কথা গুলো শোনার মতো প্রস্তুত ছিলামনা। এত আনন্দের মাঝেও সেইঈদে কেঁদেছিলাম। তবেআনন্দ টা ও হয়েছে কয়েক গুণবেশি।পরে দুপুর বেলা ফারজানাদের বাসায় খেয়ে আমাদের নিজের বাসায় ফিরেছিলাম।
আজ ঈদ। আজ অনেক খুশির দিন।কিন্তু এই খুশির দিনেও অনেক ফারজানা নীতু আছে যারা নাকি একটা অতৃপ্তির মাঝেই ঈদ কাটায়। যা আমাদের চোখে প্রত্যেক্ষ হয় না।

D+
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অভিজ্ঞতা নাকি বাস্তব জ্ঞান!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৮

বাস্তব অভিজ্ঞতা মানুষের জ্ঞানের পরিধি। আমার কাছে একজন গ্রামের লোক আসেন মাঝে মাঝে, শিক্ষিত নন, তিনি বহু বছর প্রবাসী ছিলেন এমন কি সেখানে জেলেও ছিলেন, তিনি এলে আমরা অনেক কথাই... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাদ্রাসা ও জঙ্গী আতঙ্কের অর্থনীতিতে এক নির্বোধজীবি আত্মভোলা জাতির আয়না

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩

এক

বুদ্ধিজীবিরা নাকি জাতির বিবেক! তা সে তো ভালো কথা। কিন্তু সাধারণত যা ভালো তা যখন খারাপ তখন সাধারণত তা খুবই খারাপ। একটা জাতির সবচেয়ে মজার কিন্তু করুণতম দৃশ্য হলো তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাষ্ট্র ব্যর্থদের দায়িত্ব নেয় নাকি ব্যর্থতার সংজ্ঞাই রাষ্ট্র কর্তৃক নির্ধারিত হয়???

লিখেছেন সুব্রত দত্ত, ৩১ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৪

আমাকে যারা চেনেন অথবা আমার অন্যান্য লেখা যাদের পড়া আছে তারা জানেন আমি একজন নিহিলিস্ট। একজন নিহিলিস্ট ‘রাষ্ট্রধারণা’য় বিশ্বাসী নয়। রাষ্ট্র সম্পর্কে সে উদাসীন। আমি নিজেও রাষ্ট্র সম্পর্কে উদাসীন। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে বাংলাদেশের নতুন অধ্যায়

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৫৮


দিন দিন সরকারপ্রধানের ফ্যান হয়ে যাচ্ছি। তাঁর চলাফেরা, সাধারণ মানুষের সঙ্গে মেলামেশা দেখে মানুষ বলতে শুরু করেছে, এ যেন আরেক জিয়া। আর “I have a plan” কথাটার অর্থ এত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিশ্ব রাজনীতি, ক্ষমতা ও অর্থনীতির কেন্দ্রে এখন ভারত

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৩:১২


ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Dr S. Jaishankar কথা বলছেন, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওসহ অন্য বিশাল ক্ষমতাধর রাষ্ট্রের মন্ত্রীরা একাগ্রচিত্তে শুনছেন।

হ্যাঁ, অস্বীকার করার উপায় নেই। বর্তমানে বিশ্বে ভারতের অবস্থান এমনই। সামরিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×