অফিসে যাওয়ার সময় বউকে বলে গেলাম মাগুর মাছের ঝোল রান্না করো৷ অফিসে গিয়ে মনে পড়লো বউতো রান্নাই পাড়ে না৷ তিনদিন হলো ওকে নিয়ে নতুন বাসায় ওঠেছি৷ গতকাল সকালে আমার জন্য
নাশতা তৈরি করেছিল৷ রুটির আকৃতি একটা ভারতে মানচিত্র, আরেকটা হয়েছিল পিরামিডের মতো৷
সাথে ডিমপোজ৷ নাক টিপে খেয়ে নিয়েছিলাম৷ দুপুরে আর রাতে খাবার বাইরে থেকে এনে খেয়েছি ৷ এভাবে আর কদিন৷ রাতে বললো বউ নিজেই রান্না করবে৷ দুজন মিলে টুকিটাকি বাজারও করলাম ৷ ফোন দিলাম বউকে৷ ফোন ধরে না৷ বাসায় একা কি করে চিন্তা লাগলো৷৷
অফিস থেকে হুটহাট চলেও যাওয়া না৷ তবুও বসকে বুঝিয়ে বের হয়ে গেলাম৷ সাথে দুজনের জন্য দুপুরের খাবার নিয়ে গেলাম৷ যেতে যেতে ফোন দিলাম ফোন
ধরতেছে না৷ খুব রাগ হচ্ছিল সাথে ভয়ও হচ্ছিল৷ বাসায় গিয়ে দেখি এলাহী কান্ড৷ বউয়ের হাতে ব্যান্ডেজ৷ মাছ কাটতে গিয়ে হাত কেটে ফেলেছ ৷ রান্না ঘরের অবস্থাও করুন৷
বউয়ের হাতে খাবারের প্যাকেট দুটা দিয়ে বললাম বাদ দাও, খাবার আনছি এটাই দুজন খেয়ে নিব৷ মুখটা গুমরা করে প্যাকেট দুটো নিয়ে পাশের রুমে চলে গেল৷ ফেশ হয়ে টেবিলে গিয়ে দেখি খাবার ঢাকনা দিয়ে ঢাকা৷
ঢাকনা তুলে দেখি মাগুর মাছের ঝোল আর গরম ভাত ৷ বউয়ের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে বললাম কিভাবে হলো? বউ হাসি দিয়া বললো, কাটা হাত নিয়েও
করলাম তোমাকে আজ প্রথম খাওয়াবো বলে৷ আর তুমি কিনা খাবার নিয়া আসছো৷
সেদিন বুঝলাম বাঙালি মেয়েরা পাড়ে৷ স্বামীর জন্য অনেক কিছুই করতে জানে৷ তারা হয়তো সে কষ্ট টাকে কষ্ট হিসেবে নেয় না, নেয় ভালোবাসা হিসেবে৷
তারপর তাকে নিজের হাতে খাওয়াই দিলাম, নিজেও খেলাম ৷ শুরু হয়েছিল সেদিন থেকে সুখের সংসার৷
-চলবে .............

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



