somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

।। আধাঁরে শুভ্রতার খোঁজে ।।

২৩ শে জুলাই, ২০১২ সকাল ১০:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

জানালার অবস্থান সপ্তম তলার দক্ষিণ প্রশ্চিম পাশে । সারাদিন হু হু শব্দে বাতাস এসে খেলা করে যায় জানালা সংলগ্ন রুমটাতে । রুমটার রং আকাশী । হালকা আকাশী । আকাশের সাথে মিল আছে আছে রুমটার পরিবেশের । বেশ খোলা মেলা । রুমটার মালিকের নাম তিহান । তিহানের এমনটাই পছন্দ । খোলা মেলা সব কিছুই তার পছন্দ । মানুষ বদ্ধ পরিবেশ পছন্দ করে না , প্রকৃতির মুক্ত পরিবেশের সাথেই তাই তার সখ্যতা বেশি । তিহানের ক্ষেত্রে তা বাড়াবাড়ি রকমের সত্য । কিছু কিছু মানুষের অদ্ভুত ক্ষমতা আছে । তবে সেই ক্ষমতা কখনো তার নিজের বানানো দুনিয়ার বাহিরে শক্তি পায় না । যেমন চতুমার্ত্রিক চোখ । খুব অল্প মানুষেরই চতুমার্ত্রিক চোখ আছে । যে চোখ দিয়ে তারা দৈর্ঘ্য , প্রস্থ , উচ্চতার বাহিরেও সোন্দর্যের মাত্রা অবলোকন করে । তিহান সে অল্প কিছু মানুষের মধ্যে একজন ।



তিহানের রুমে একটি মাত্র জানালার কোন শিক নেই । শুধু থাই গ্লাস জানালার দ্বার হিসেবে কাজ করে । তাই থাই গ্লাসের একটা অংশ খুললেই সামনে সুবিশাল পৃথিবী উন্মুক্ত হয় । তিহানের ইচ্ছাতেই এমনটা করা হয়েছে । তিহানের মা বাবা ছেলের ইচ্ছাকে শতভাগ গুরুত্ব দিয়ে থাকেন । তিহানের ইচ্ছাগুলো বেশ অদ্ভুত তবে তার ইচ্ছাগুলোর মধ্যে আভিজাত্যের কোন ছোঁয়া নেই , নেই কোন উচ্চাষা , অথবা গরিমার দাপট । নিতান্তই সাদামাটা ইচ্ছেগুলো তার বুকের গভীরে লালায়িত । পারতপক্ষে তিহান খুব কম কথা বলে । তার বাবা মাই তাকে এটা সেটা জিজ্ঞেস করে । তিহান তখন জানালার পাশে পেতে রাখা বেতের চেয়ারটাতে চুপ করে বসে ছিল ।



এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল বাহিরে । দূর দিগন্তে যেখানে সূর্যের লাল আভা গাছের আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে । তিহানের মা রাহেলা বানু রুমে ঢুকলেন । খুব আস্তে করে বন্ধ করলেন দরজাটা । কিন্তু ছেলেকে বিরক্ত করার সাহস হলো না তার । চুপচাপ চশমার ভিতর দিয়ে বিষন্ন দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন ছেলের দিকে । তার চোখের কোনে জমে থাকা অশ্রুবিন্দু চিক চিক করে উঠলো শেষ বিকেলের আলোয় । তিহান ঘাড় না ফিরিয়েই বুঝতে পারলো যে তার মা রুমে ঢুকেছেন । কাকতালিয় কিছু নয় । মা কাছাকাছি থাকলে পৃথিবীর সব ছেলেই অন্যরকম এক টান অনুভব করে । রাহেলা বানু অনেক্ষণ দাড়িয়ে আছেন । হটাত্‍ তিহান বলে উঠলো "মা কিছু বলবে ?" । রাহেলা বানু যেনো একটু চমকে উঠলেন । বুঝে উঠতে পারলেন না যে ছেলে কিভাবে টের পেলো তার অস্তিত্বের কথা । ধাতস্থ হয়ে বললেন "বাবা তুই কিছু খাবি ? দুপুরেও তো কিছু খাস নি ।" তিহান উত্তর দেয় না । চুপ করে আগের মতই বসে থাকে সে ।



সূর্য তখন বিদায় নিয়েছে । আকাশ এখন রক্তলাল । রক্তিম আভায় তিহানের মুখটাও লাল দেখাচ্ছে । হটাত্‍ই যেনো ঝপ করে নেমে এলো নিকষ কালো আধাঁর । আকস্মিকভাবেই এভাবেই আধাঁর নামে প্রতিদিন । কাওকে সময় দিতে রাজি নয় সে । তিহান উঠে দাড়ালো । ধিরে ধিরে বন্ধ করে দিলো জানালাটা । তারপর রাহেলা বানুর দিকে ঘুড়ে ইঙ্গিত করলো । রাহেলা বানু বুঝলেন ছেলে কি বলতে চাইছে । তিনি কোন কথা না বলেই ঘুড়লেন । দরজা খুলে বের হয়ে গেলেন । তার পিছু পিছু রুম থেকে বের হলো তিহান । রুমের ভিতরটা তখন অন্ধকার ।





(২)



তিহানের চুল কাটা হয় না গত চার মাস ধরে । চুলগুলো অনেক বড় হয়ে গিয়েছে । হটাত্‍ দেখলে মনে হতে পারে যেনো কোন পাখি হয়তো বাসা বেধেছে । নিজের ব্যাপারে সবসময়ই খামখেয়ালি তিহান । আজকের আবহাওয়াটা বেশ খানিকটা মেঘলা । ভেজা ভেজা একটা বিশ্রি অনুভূতি হয় । এ ধরনের আবহাওয়াতে জলীয় বাষ্পের পরিমানটা অত্যাধিক বেড়ে যায় । ফলে ঘাম দেখা দেয় । ফলে পরিস্থিতি জঘন্য হয়ে দেখা দেয় । তিহান ঘামছে । তবে তার এই ঘাম আবহাওয়া ঘটিত নয় । তার শ্বাস প্রশ্বাস ক্রমশ ঘন থেকে ঘনতর হয়ে উঠছে । চিত্‍কার করতে চাইলো সে । পারলো না । খাটের দিকে হেটে যেতে চাইলো । কিন্তু তার পা গুলো বিশ্বাসঘাতকতা করলো তার সাথে । হটাত্‍ করেই যেন অসম্ভব দুর্বল লাগছে নিজেকে । তিহানের হাটু আপনা আপনি ভাজ হয়ে গেলো । সে বুঝতে পারছে যে সে জ্ঞান হারাচ্ছে । শেষ মুহূতেত্‍ কাছের চেয়ায়টা আকড়ে ধরতে চাইলো সে । চেয়ারটা বেকায়দাভাবে ধরতে পারলো বটে তবে চেয়ারটা তার ভার রাখতে পারলো না । হুড়মুড় করে চেয়ারসহ মেঝেতে পড়ে গেলো তিহান । চোখগুলো লেগে আসছে । তখন আবছামত দেখতে পেলো যে তার মা বাবা দরজা খুলে তার রুমে ঢুকছে । তারপর আর কিছু মনে নেই তিহানের ।



নিজেকে হাসপাতালে আবিস্কার করলো তিহান । পাশে ফিরতেই দেখতে পেলো তার মায়ের বিমর্ষ মুখ । হাসার চেষ্টা করলো সে কিন্তু হাসতে পারলো না । ঠোটজোড়া একে অপরের সাথে সেটে আছে শক্ত করে । জোড় করে ছাড়াতে চাইলো সে । ফলসরূপ এক ঠোটের চামড়া উঠে গেলো । রক্ত বের হয়ে এলো সেখান থেকে । তিহানের মা রাহেলা বানু ব্যাপারটা খেয়াল করলেন । পরম মমতায় ছেলের ঠোটজোড়া আঙ্গুল দিয়ে চেপে ধরলেন । একটু পর রক্ত পড়া কমে এলো । কিন্তু একেবারে বন্ধ হলো না । তিহান মায়ের দিকে তাকিয়ে ম্লান হাসি দিল একটা । তিহানকে সেদিনই বাসায় নিয়ে আসা হলো ।



তিহান আবারও ফিরে গেলো তার চিরচেনা রুমে । চুলগুলো তখনও কাঁটা হয়নি । বড় বড় চুলগুলো চোখের উপর এসে পড়ছে । চোখের উপর থেকে চুল সড়িয়ে জানালা দিয়ে বাহিরে তাকালো সে । বাইরে শুধুই শুভ্র জোছনার আলো । জোছনার শুভ্রতায় পৃথিবী ধুয়ে মুছে একাকার হয়ে যাচ্ছে । তিহান চুপ করে বসে আছে । তার দৃষ্টি তখন পূর্নিমার চাঁদের দিকে আবদ্ধ । রুমের প্রশ্চিম দেয়ালে একটা ঘড়ি টিক টিক শব্দে বেজে চলছে । এখন রাত ১২.৪৫ । তিহানের সমস্যাটা ইদানিং তীব্র আকার ধারন করেছে । প্রায়ই সে অসুস্থ হয়ে যায় ।



তিহানের রোগটার নাম লিউকোমিয়া । পৃথিবীতে দু ধরনের লিউকোমিয়া আছে । ক্রোনিক আর একিউট । তিহানের একিউট লিউকোমিয়া । খুব খারাপ অবস্থায় ধরা পরেছে রোগটা । ওর রক্তের গ্রুপ AB নেগেটিভ । যা খুবই দুষ্প্রাপ্য । কোন আশাই নেই আর । তবুও ডাক্তাররা কেমোথেরাপি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন । মাত্র দুদিন পরই তিহানের কেমোথেরাপি । তিহানের বাবা মা তাকে সাহস দিতে চেষ্টা করেন , তাকে আশ্বস্থ করার চেষ্টা করেন । কিন্তু তিহানকে সাহস দিতে গিয়ে নিজেরাই ভেঙ্গে পড়েন । তিহান চুপচাপ সব দেখে যায় । তার কোন প্রতিক্রিয়া নেই । যেনো যা হচ্ছে সব অতি সহজেই মেনে নিয়েছে সে ।



(৩)



তিহানের কেমোথেরাপি আর মাত্র এক সপ্তাহ পর । কেমোথেরাপি খুব বেশি সুখকর ব্যাপার নয় । প্রচন্ড যন্ত্রনা হয় । তাছাড়া এর মাধ্যমে ক্যান্সার কোষ ধ্বংস করা যায় না শুধুমাত্র ক্যান্সার কোষের গ্রোথ কমানো যায় । তাছাড়া কেমোথেরাপির ফলে ফুসফুস , যকৃত , হৃদপিন্ড সহ শরীরের আরো অনেক অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্থ হয় । শ্বেত রক্ত কণিকা নষ্ট হয়ে যায় । যার ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারেই শূন্যের কোঠায় নেমে আসে । তবে যদি একদম প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়ে তখন একটু আশা থাকে । কিন্তু তিহানের ক্যান্সারটা অনেক খারাপ অবস্থায় ধরা পড়েছে । ডাক্তাররা আশাই ছেড়ে দিয়েছেন । তবুও সবার আশা আরো কয়েকটা দিন তাকে বাঁচিয়ে রাখার । তিহান কিছু খেতে পারে না ইদানিং । খেতে গেলেই তার রক্ত বমি হয় । তিহান খেয়াল করে তার মা ফুপিঁয়ে কাঁদে , তার বাবা আড়ালে চোখ মোছেন । এসব দেখতে তিহানের ভাল লাগে না । সে তাই নিজের রুমের বিশাল জানালার পাশে চুপ করে বসে থাকে ।


ইদানিং সে তার ডায়রিতে কি যেনো লিখে । রাহেলা বানু প্রায়ই ব্যাপারটা খেয়াল করেন । তবে গুরুত্ব দেননা তেমন । আসলে ছেলের অসুখের চিন্তায় তিনি এতোটাই চিন্তিত যে অন্য কিছু নিয়ে চিন্তা করার অবকাশ তার থাকে না । তিহান গত ৪ মাস ধরে ভার্সিটিতে যায় না । তিহানের বন্ধুরা তার সাথে দেখা করতে এসে ব্যার্থ হয়ে ফিরে যায় । তিহানের মা রাহেলা বানু অথবা বাবা আশরাফ হোসেন কেউই তার এই অস্বাভাবিক নিয়তিকে মেনে নিতে পারেন না । তারা আড়ালে কাঁদেন । তিহানকে দেখা যায় প্রতিদিন জানালার পাশে বসে থাকতে । রাত দিন বিরাম নেই সে বসে থাকার । তিহান বসে বসে ডাইরি লেখে । সদা হাস্যজ্বল , চন্চল তিহান কিভাবে এতো দ্রুত শান্ত হয়ে যায় তা কেউ জানতে পারে না । তিহান এখন একা থাকতেই বেশি পছন্দ করে ।


(৪)


রাত ৮.৩০ । দেয়াল ঘড়িটা টিক টিক আয়োয়াজ করে যাচ্ছে । আকাশ বেশ মেঘলা । গুমোট আবহাওয়া চারিদিকে । থেকে থেকে ঝড়ো বাতাস বয়ে যাচ্ছে । ইলেক্টিসিটি চলে গেছে । তিহাদের বাসার জেনারেটর সাথে সাথেই চালু হয়ে গেছে । তবুও তিহানের রুমটা অন্ধকার । তিহানের ডাইরিটা খোলা । সেটা পরে আছে টেবিলের উপর । তিহান অন্যমনস্ক হয়ে তাকিয়ে আছে আকাশের দিকে । আজ তার দৃষ্টি অদ্ভুত । কেমন যেনো বিষন্নতায় ছেয়ে আছে তার চোখ মুখ । দরজা খোলার শব্দ হলো । ঘড়ে ঢুকলেন রাহেলা বানু আর আশরাফ হোসেন । আজ রাত দুটোয় তিহানদের ফ্লাইট । আমেরিকায় যাচ্ছে তারা ।


তিহান ফিরে তাকালো । উঠে এসে বাবা মায়ের হাত চেপে ধরলো । রাহেলা বানু আর আশরাফ হোসেন শক্ত করে চেপে ধরলেন ছেলের হাত । আবছা ছায়ায় তিনটি মানব মূর্তি চুপ করে বসে আছে । পৃথিবী যেনো শান্ত স্থবির হয়ে আছে । নিঃশব্দ পৃথিবীর বুকে কোথায় যেনো এক ভয়াবহ হাহাকার খেলা করছে ।


রাহেলা বানুর চোখ থেকে টপ করে এক ফোটা তপ্ত জল পড়লো তিহানের হাতের উপর । তিহান আরো শক্ত করে চেপে ধরলো মায়ের হাত । আশরাফ হোসেন তিহান আর রাহেলা বানুকে জড়িয়ে ধরলেন এক হাতে । তারপর আরেকহাতে তিহানকে শক্ত করে ধরলেন । যেনো তিহান ছোট বাচ্চা কোথায় হারিয়ে যাবে । আশরাফ সাহেবও কাঁদছেন । চুপচাপ বসে আছে শুধু তিহান । অনেকদিন মা বাবার এমন স্পর্শ পায়নি সে । প্রাণ ভরে তাই উপভোগ করছে ভালবাসার প্রতিটি মূহুর্ত । এভাবে কতক্ষণ বসে ছিলো তারা জানা হয়নি ।


বাইরে থেকে কে যেনো ডাক দিলো । আশরাফ হোসেন আর রাহেলা বানু উঠে দাড়ালেন । তিহানকে তৈরি হতে বলে বেড়িয়ে গেলেন রুম থেকে । তিহান কিছুই বললো না । বাবা মায়ের চলে যাওয়া দেখলো চুপচাপ । তারপর আবার এগিয়ে গেলো জানালাটার দিকে । মাথা ঝিম ঝিম করছে তার । গা গুলিয়ে উঠছে । চোখের দৃষ্টি ঝাপসা । আকাশ তখনও মেঘলা । জানালার সামনে থেকে চেয়ারটা সরিয়ে আনলো সে । তারপর শরীরের অর্ধেক অংশ জানালা দিয়ে বের করে দু হাত প্রসারিত করলো । যেনো মুক্ত বিহঙ্গ সে । প্রচন্ড বাতাসে তার চুলগুলো উড়ছে তখন । চোখ বন্ধ করে আছে তিহান ।


(৫)


ঠিক রাত ১০টায় তিহানের রুমে ঢুকলেন রাহেলা বানু । ছেলেকে জানালার কাছে আবিস্কার করলেন তিনি । চিত্‍কার করে উঠলেন । সাথে সাথে আশরাফ সাহেব সহ বাসার সবাই ছুটে এলো । তিহানকে জানালার উপর আবিস্কার করলো সবাই । তার কোমড় থেকে হাত সহ জানালার বাহিরে আর পা ঘরের ভিতরে । চোখ বন্ধ তার । মুখে রক্তের দাগ শুকিয়ে গেছে । তখনও মৃদু বাতাসে তার চুল উড়ছিলো । হটাত্‍ দমকা বাতাস বয়ে গেলো । প্রচন্ড বাতাসে তার চুলগুলো পতপত করে উড়তে লাগলো । বাতাসের ঝাপটায় তার ডাইরির শেষ পাতাটা উল্টে গেলো । সেখানে লেখা


"পৃথিবীর রূপটা বড়ই অদ্ভুত । চেনা পৃথিবীটাকেই আজ খুব বেশি অচেনা লাগে । প্রিয় মানুষগুলোর মুখের উত্‍কন্ঠা দেখতে দেখতে আমি ক্লান্ত । আর ভাল লাগে না । রঙ্গিন পৃথিবী হটাত্‍ করেই যেনো সাদা কালো হয়ে গেছে । পৃথিবীর সব সোন্দর্যই আজকে আমার কাছে ম্লান । আচ্ছা আমি কি মরে যাব ? মরে গেলে কি হয় ? আমি কি আবার ফিরে আসবো ? নাকি সবাইকে ছেড়ে যাওয়ার এই যাওয়াই শেষ যাওয়া । আমি কি আর ফিরতে পারবো না ? জানা নেই আমার ।


ইদানিং একটা অদ্ভুত শখ চেপেছে মাথায় । মুক্ত পাখি হয়ে উড়ার শখ । তবে সময়টা হতে হবে জোছনা রাত । যেখানে আধাঁরে ঘেড়া পৃথিবীতে অদ্ভুত শুভ্রতার বার্তা পৌছে দেয় জোছনার আলো । আজকে আমি চলে যাচ্ছি । অথচ আকাশটা মেঘে ঢাকা । আধাঁরে ঘেড়া পৃথিবী আরো বেশি কালো লাগছে । আধাঁরে শুভ্রতার খোঁজ কি পাবো না ?"



তিহানের লাসটা যখন এম্বুল্যান্সে উঠানো হচ্ছে তখন তার মুখটা আকাশের দিকে তাক করা ছিল । তবে সাদা কাপড়ে ঢাকা ছিল । হটাত্‍ দমকা বাতাসের ঝাপটায় মুখের উপর থেকে কাপড়টা সরে গেলো । আকাশে মেঘের ফাঁক গলে বের হয়ে এলো চাঁদ । জোছনার আলো চারিদিকে ছড়িয়ে গিয়ে মায়াবি আবেশ সৃষ্টি করছে । চারিদিক উদ্ভাসিত সে আলোয় । তিহান আধাঁরে শুভ্রতার খোঁজ পেয়েছিল কিনা জানা যায়নি । এ পৃথিবীর অনেক অব্যাক্ত কথার মাঝে আরেকটি ছোট্ট কথাও মিলিয়ে গেলো । কেউ তার খোঁজ জানে না ।



উত্‍সর্গ ও অব্যাক্ত কিছু কথাঃ



লেখালেখি এক ধরনের থেরাপি। ব্যাক্তিগত হতাশা , দুঃখবোধ থেকে বের হয়ে আসার পথ । আমি এই থেরাপি গ্রহণ করে নিজের মনকে সুস্থ রাখার চেষ্টা করি
-হুমায়ূন আহমেদ । (বলপয়েন্ট)


স্যার পৃথিবীতে শতকরা নিরানব্বই শতাংশ মানুষই সাদা কালো পৃথিবীর গ্যাড়াকলে পিস্ট হতে পছন্দ করে । অথবা নিয়তির দান মনে করে কোত্‍ করে গিলে ফেলে । তারা ব্যাক্তিগত হতাশা দূর করার মাধ্যম খুঁজে পায় না । কি অদ্ভুত তাই না স্যার? আপনার এই কথাটার কত বড় প্রভাব যে আছে আমার জীবনে । আমার সাদা কালো পৃথিবীতে রঙ্গিন তুলির আচড় দিয়েছিল আপনার এই কথাটা । স্যার কোথায় চলে গেলেন আপনি ? আবার যখন হতাশাগ্রস্থ হয়ে যাব তখন কার কথায় আবার রঙ্গিন হবে আমার পৃথিবী ?


স্যার সবাই হিমু হতে চায় ।পারে না হয়তো । আমার ক্ষেত্রে ব্যাতিক্রম । আমি কাঁদতে চাই । আমি না চাইতেও হিমু হয়ে গেছি । হিমুরা কাঁদে না । স্যার আমি কাঁদতে চাই স্যার. . . প্লিজ স্যার । স্যার আমাকে দয়া করে একটা উপায় বলে যান. . . . .প্লিজ স্যার পৃথিবীর হারিয়ে যাওয়া প্রশ্নের ভান্ডারে আমার প্রশ্নটা হারিয়ে যেতে দিবেন না প্লিজ ।
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কলকাতায় নিয়মিত যারা যাতায়ত করেন তারা এই প্রশ্নের মূখোমুখি হবেন প্রায়ই।

লিখেছেন ইমরান আশফাক, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৩

আচ্ছা, আপনাদের মধ্যে যারা কলকাতায় যাতায়ত করে থাকেন তারা স্হানীয়দের কাছেকি এই প্রশ্নটির মূখোমুখী হয়েছেন নিয়মিতভাবে: দেশভাগের সময় বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ আর ভারতকে দেয়া হয়েছিলো খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×