somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এখনও পরিমল

২০ শে জুলাই, ২০১৪ দুপুর ১২:৩৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

হরিণ বাঘের শিকার থেকে বাঁচতে নিরাপদ আশ্রয়ে খুঁজে, সাপ গর্তে লুকায়, পাখি বাসা বুনে আর মাছ ছুটে জলের ভিতর। তবুও শিকারির শিকারে আটকা পড়ে অসহায়, অনন্যাপায় নিরীহ প্রাণী কিংবা দুর্বলতায় মূঢ় নিস্তেজ কেউ। সগোত্রের চেয়ে অন্যান্য গোত্রের বা জাতের কাছে অন্যান্য প্রাণী নিরাপদহীন কিন্তু মানুষ নামের হোমো সেপিয়েন্স গোত্রের পৃথিবী নামক গ্রহের শ্রেষ্ট জীবের দাবিদার সভ্যতার উন্নতির সাথে নিজের চরিত্র, আচার আচরণ যতই না বদলাচ্ছে তার চেয়ে বরং হিংস্র ও পাষন্ড হচ্ছে দিন দিন।

সন্তানের কাছে যেমন মা-বাবা নিরাপদ নয় তেমনি বাবা মা অনেক সময় পারছে না তাঁর ছেলে-মেয়ের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দিতে কিংবা সমাজ ব্যবস্থার দোষ দিয়ে নিজেকে নির্বিকার ভাবছে। জ্ঞান-বিজ্ঞানের উৎকর্ষ সাধনের যুগে সমাজে একজন নারী কতটুকু নিরাপদ তার স্বচ্ছ একটা অবয়ব তুলে ধরছি।
নারী অধিকারে বলছি নারীর দৈহিক মানসিক সামজিক নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে। প্রথমে আসি শিরোনামে, প্রতিনিয়ত কতো ঘটণাতো ঘটে কিন্তু সব খবর যেমন খবর হয় না আবার সব খবর শেষ খবর নয়। অর্থাৎ গণমাধমের অজান্তে লোকচক্ষুর অন্তরালে এবং বাস্তবতার কাছে পরাজিত হয়ে অনেক ঘটনা আলোর সংস্পর্শে আসে না। বড়ই পরিতাপের বিষয় মাঝে মাঝে যে সকল হৃদয়বিদারক নৃশংস ঘটনা প্রকাশিত হয় তাও রাজনীতি কিংবা সামাজিক প্রতিপত্তির সুযোগে হাওয়া হয়ে উড়ে যায় দৃষ্টির অগোচরে।

ভিকারুন্নেসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক ছিলেন পরিমল। পরীক্ষার খাতায় যারা প্রাইভেট পড়ত না তাদের আশানূরুপ নম্বর না দেওয়ার অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। অর্পিতা (ছদ্ধনাম) বারবার ভালো মার্কস না পেয়ে একপর্যায়ে বাংলাবিষয়ে বাধ্য হয়ে পরিমলের মতো গুণধর(!) শিক্ষকের বাসায় পড়তে যায়। প্রথম থেকে স্যরের লম্বা চোখ তার কাছে কেমন জানি বীভৎস ও শ্লেষ মনে হতে থাকে। সবাইকে ছুটি দিয়ে অর্পিতাকে এক্সটা টাইম দেওয়ার কথা বলে বসিয়ে রাখে। তারপর খবরের পাতা, টিভির রঙ্গীন পর্দা, অনলাইন এবং ইন্টারনেট হয়ে সারাবিশ্বের শিক্ষকদের গায়ে চুনকালি দিয়েছিল ধর্ষক পরিমল। এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, তসলিমা নাসরিনকে দিয়ে যেমন বাংলাসাহিত্যে মূল্যায়ন করা যাবে না তেমনি পরিমল কে দিয়ে শিক্ষক সমাজ বুঝানো কিছুতেই সমীচীন নয় আর তা কখনও করছি না।শুধু এটুকু বলছি আমাদের সমাজে শিক্ষকেরাও কি আদৌ পারছে নারীর শরীরের নিরাপত্তা দিতে। কিন্তু এও অস্বীকার করা যাবে না গৃহশিক্ষক, কোচিং শিক্ষক সর্বোপরি শিক্ষক সমাজের কাছে মেয়েরা কিছুতেই নিরাপদ নয় যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ ছাত্রীর উপর যৌন হয়রানির চেষ্টা বর্বব পশুসুলভ ঝাঁপিয়ে পড়ার মতো খবর এখনও পত্রিকার শিরোনাম হয়। মেয়েরা সাধারণত লাজুক প্রকৃতির হয় কিন্তু বাবাসম শিক্ষকের কাছে সে পড়তে সে লাজুকতা থাকে না।

এমতাবস্থায় তারা যদি শিক্ষকের কাছে নিরাপত্তা না পায় তবে যাবে কোথায়? কে দিবে তাদের নিরাপদ? দাসপ্রথা নাকি প্রাচীন অনার্য যুগ? হাজারো প্রশ্নের বানে থমকে যায় বিবেক? সত্যিই কি আমরা শিক্ষার আসল রস আস্বাদন করতে পারছি বা করছি? কীসের শিক্ষা? যে শিক্ষা নিজের পুরুষত্বকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে না তা শিক্ষক সমাজের কলঙ্ক, মানুষ হয়ে বন্য পশুর মতো।
নীল দুনিয়া(ফেসবুক) একচ্ছত্র পুরুষের দখলে। যেখানে পুরুষ নানা অঙ্গভঙ্গি করে যে-কোন ছবি আপলোড করতে পারে সেখানে নারীর আছে সীমাহীন ভয় ও উদ্রেক। স্বনামে বেনামে নারীর ফেইক আইডি ব্যবহার করে একধরণের উন্মাদনায় ভুগে কিছু উচ্ছৃখল ছেলে। বিশ্রি কমেন্টস, অহেতুক প্রেমের প্রস্তাব, ফেইক আইডির ভয় এবং যৌন হয়রানির চেষ্টা সবমিলিয়ে সাইবার ক্রাইমের গেঁড়াকলে নারী নিদস্তুণ ভুক্তভোগী।

নারী যেন আজ পণ্য! ব্যবসায়ে পণ্যর বাজারজাতকরণে তার শরীর প্রদর্শন আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন। ঠিক তেমনি অনলাইন জগতে নারীর ছবি মানে হিট অযাজিত হয়রানের শিকার হওয়া। এখানেও সোজা কথায় নারী কোনভাবেই নিরাপদ নয় শুধুমাত্র আমাদের বিকৃত মানসিকাতার নোংরামী চিন্তার জন্য।
কাজী নন্তুল একটা কথা বলেছেন,‘আমরা যদি না জাগি মা,কেমনে সকাল হবে?’ আর নয় বড় কোন সেমিনার শুধু এটুকু দাবী এসো সভ্যতার উৎকর্ষের সাথে সাথে আমরাও বদলায়। নিজের বোনের অধিকার দিই, একদিন সকল নারী তাঁর অধিকার পাবে। তবেই সগৌরবে দুইয়ে মিলে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে সোনার বাংলাদেশ।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×