
আমাদের মতো দেশে শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করার কোনো সুনির্দিষ্ট বা স্থায়ী উপায় নেই। আজ ওদের বেতন বাড়লে কাল থেকেই বাসা ভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাবে—ফলাফল 'যে লাউ, সেই কদু'।
এমন কোনো মজুরি কাঠামো বানানো সম্ভব নয়, যা একই সঙ্গে শ্রমিক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক উভয় পক্ষকেই সন্তুষ্ট করতে পারে। যেকোনো মজুরিতেই শ্রমিকদের মনে হয় তারা শোষিত হচ্ছে, আর মালিকেরা ভাবেন এই আর্থিক চাপ সামলে তারা কীভাবে টিকে থাকবেন!
মূল সমস্যাটি অন্য জায়গায়। এই মুহূর্তে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি ছিল সবচেয়ে বড় ভুল। দ্বিতীয়ত, ব্যাপক হারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি। এই দুটি কারণে বাজারে যে বিরূপ প্রভাব পড়েছে, তার ফলে উচ্চমধ্যবিত্তরাও এখন বাজার করতে গিয়ে হাঁসফাঁস করছেন (এর পেছনে কিছু বৈশ্বিক বিষয়ও দায়ী, তবে সেটা ভিন্ন আলোচনা)।
বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার প্রক্রিয়া ৩ বছর পিছিয়ে যাওয়ার পেছনেও এর একটি বড় প্রভাব রয়েছে। ভারত পোশাক ও টেক্সটাইল খাত থেকে বছরে প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করে। সেখানে কখনো গার্মেন্টস শ্রমিকদের আন্দোলনের কথা শুনেছেন? ওদের বিশাল দেশ ও বিশাল অর্থনীতি; সুযোগও প্রচুর। কিন্তু আমরা যে একটিমাত্র খাতের ওপর ভর করে চলছি, সেটা বোধহয় তাদের পছন্দ নয়। আমাদের এই ব্যবসায় ধস নামিয়ে বাজারটা কবজা করাই তাদের বড় উদ্দেশ্য। আমাদের রুটি-রুজির জায়গাতেই তারা বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
গ্রামগঞ্জ থেকে একদল নিরক্ষর ও অনভিজ্ঞ মানুষ ঢাকায় এসেই যদি ৩০০০ টাকা বেতনের চাকরি পেয়ে যায়, তবে শিক্ষাদীক্ষা আর কারিগরি দক্ষতার প্রয়োজন কোথায়?
একজন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মালিক দৈনিক ২ টাকা মজুরিতে লোক রাখবেন কি না—সেটা তাঁর ইচ্ছে। আপনার পোষালে কাজ করবেন, না পোষালে করবেন না; সেই স্বাধীনতা আপনার আছে। এখানে জোর করে দাবি আদায়ের কী আছে, আর সরকারই বা এতে এত মাথাব্যথা দেখাচ্ছে কেন?
ভারতে কেন শ্রমিক আন্দোলন হয় না? এর একটি বড় কারণ হলো, বেসরকারি উদ্যোক্তাদের দেওয়া বেতন-ভাতা নিয়ে সে দেশের সরকারের তেমন কোনো মাথাব্যথা বা হস্তক্ষেপ নেই।
সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



