somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

জাহিদ অনিক
এগারো বছর ধরে এই ব্লগে লিখছি, যা মনে আসে তাই। nপেশায় Global E-commerce Marketer, Amazon, Walmart, eBay ... এসব প্লাটফর্মের অ্যাডভার্টাইজিং নিয়ে কাজ করি। নিজের এজেন্সি মেটিসবি: https://metisbee.com/

আমার চায়ের কাপে বিশ্বযুদ্ধ: একজন ঢাকাবাসীর একদিন

০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


সকালে ঘুম ভেঙে চুলায় চায়ের পানি বসানোর আগে আমি কখনো ভাবিনি, এই নীল আগুনটার পেছনে আরব সাগর, আমেরিকার বন্দর আর একটা যুদ্ধ দাঁড়িয়ে আছে।
আমরা ভাবি, পৃথিবী অনেক বড়; যুদ্ধ, নির্বাচন, বিপ্লব; এসব হয় অন্য কোথাও, অন্য কারো জীবনে। আমরা শুধু খবর দেখি, মাথা নাড়ি, তারপর অফিসে যাই।
কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে আমার মনে হচ্ছে, ব্যাপারটা ঠিক উল্টো। পৃথিবীর সব ঝড় শেষ পর্যন্ত এসে থামে আমার ছোট্ট রান্নাঘরে, আমার মানিব্যাগে, আমার ল্যাপটপের স্ক্রিনে।
আসুন, একটা দিন একসাথে কাটাই।

সকাল ৭টা: চুলার আগুনে হরমুজ প্রণালী
গত সপ্তাহে ১২ কেজির একটা গ্যাস সিলিন্ডার কিনলাম, ২৪০০ টাকায়। অথচ সরকারি দাম দুই হাজার টাকাও না। টেনেটুনে রান্না করলেও এক মাস যায় না।
দোকানদারকে জিজ্ঞেস করলাম, এত দাম কেন?
সে বললো, "ভাই, যুদ্ধ চলতেছে।"
প্রথমে হাসি পেলো। যুদ্ধ চলছে ইরানে, আর দাম বাড়ছে মিরপুরে?
কিন্তু হিসাবটা মেলাতে গিয়ে আর হাসি থাকলো না।
এ বছর ইরানকে ঘিরে যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, তার আগুন সবচেয়ে আগে গিয়ে পড়েছে হরমুজ প্রণালীতে। এটা পৃথিবীর জ্বালানির সবচেয়ে ব্যস্ত গলি; উপসাগরের তেল আর গ্যাস এই সরু পথ দিয়েই বেরিয়ে আসে। সেই পথ যখন আটকে যায়, তখন বাংলাদেশের মতো দেশ, যারা প্রায় সব এলপিজি আমদানি করে, বিপদে পড়ে।
আগে আমাদের গ্যাস আসতো মধ্যপ্রাচ্য থেকে, জাহাজে দুই সপ্তাহের পথ। এখন তার বড় অংশ আসছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে; সমুদ্রে ৪০-৪৫ দিনের যাত্রা, বেশি জাহাজভাড়া, বেশি খরচ। সেই খরচ শেষ পর্যন্ত কে দেয়? আপনি আর আমি, চুলার সামনে দাঁড়িয়ে।
এবার একটু বড় করে দেখি।
মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করেন লাখ লাখ বাংলাদেশি। তাঁদের পাঠানো রেমিট্যান্সেই আমাদের অর্থনীতির শ্বাস চলে। ওই অঞ্চলে যুদ্ধ মানে শুধু গ্যাসের দাম না; মানে কোনো এক গ্রামের মায়ের চোখে ঘুম না আসা, ছেলেটা দুবাই বা দোহায় ঠিক আছে তো?
একটা যুদ্ধ, তিনটা ক্ষত: চুলার আগুন, মানিব্যাগের টাকা, আর মায়ের ঘুম।
আমার চায়ের পানি ফুটছে। আমি তাকিয়ে আছি নীল আগুনটার দিকে; আর মনে হচ্ছে, এটা আসলে হাজার মাইল দূরের একটা যুদ্ধের আগুন।

সকাল ৯টা: কলের পানি আর পদ্মার নীরবতা
গোসল করতে গিয়ে কলে পানি কম। ঢাকায় এটা নতুন কিছু না। কিন্তু আজকে পানির কথা ভাবতে গিয়ে মনে পড়লো আরেকটা তারিখ: ডিসেম্বর ২০২৬।
১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আর ভারত গঙ্গার পানি ভাগাভাগির একটা চুক্তি করেছিল, ৩০ বছরের জন্য। সেই ৩০ বছর শেষ হচ্ছে এই ডিসেম্বরে।
অথচ আমাদের আলোচনায় এই বিষয়টা প্রায় নেই। আমরা ব্যস্ত দল, নির্বাচন, মব আর ফেসবুক তর্ক নিয়ে; আর ফারাক্কার ওপারে একটা কলমের খোঁচায় ঠিক হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের কোটি মানুষের ভাগ্য।
পদ্মায় পানি কমলে কী হয়?
চর জাগে। নদী মরে। সমুদ্রের লবণ পানি উজানে ঢুকে পড়ে। খুলনা-সাতক্ষীরার জমিতে ধান হয় না, সুন্দরবনের গাছ শুকায়, কৃষক শহরে আসে রিকশা চালাতে।
আর সেই রিকশাওয়ালা হয়তো আমাকেই আজ অফিসে পৌঁছে দেবে।
খবরে পড়লাম, বাংলাদেশ এখন চুক্তি নবায়নের জন্য ভারতকে চাপ দিচ্ছে, প্রতিনিধিদল ফারাক্কা ঘুরে এসেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো: নতুন চুক্তি কি আগেরটার চেয়ে ভালো হবে? তিস্তা তো এখনো অমীমাংসিত। আর উজানে চীনও ব্রহ্মপুত্র নিয়ে নিজের হিসাব কষছে।
পানি হলো পরের যুগের তেল। যে দেশ নদীর ভাটিতে থাকে, তার কূটনীতিকে হতে হয় সবচেয়ে বুদ্ধিমান; কারণ তার হাতে বন্দুক নেই, আছে শুধু যুক্তি।

দুপুর ১২টা: ল্যাপটপের স্ক্রিনে এক নতুন উপনিবেশ
আমি কাজ করি ই-কমার্স মার্কেটিং নিয়ে; আমেরিকা, ইউরোপের ক্লায়েন্ট, অ্যামাজন, ওয়ালমার্ট। আমার মত লাখো তরুণ বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সার, রিমোট কর্মী, ডেটা এন্ট্রি, গ্রাফিক ডিজাইনার, কনটেন্ট রাইটার; আমরা ঘরে বসে ডলার আনি।
কিন্তু গত দুই বছরে একটা চুপচাপ ভূমিকম্প হয়ে গেছে, যেটা অনেকে এখনো টের পায়নি।
এআই।
যে লেখাটা লিখতে একজন ফ্রিল্যান্সার দুদিন নিতেন, সেটা এখন দুই মিনিটে হয়ে যায়। যে লোগো বানাতে ৫০ ডলার নেয়া হতো, সেটা এখন বিনামূল্যে। ক্লায়েন্টরা এখন আর "কাজ করে দাও" বলে না; বলে, "এআই দিয়ে করো, তোমাকে কম দেবো।"
আমি নিজে প্রতিদিন এআই ব্যবহার করি। সত্যি বলতে, এটা ছাড়া এখন কাজই চলে না। কিন্তু ঠিক এখানেই একটা অস্বস্তি আছে।
একসময় উপনিবেশ মানে ছিল জাহাজে করে আসা সাদা সাহেব, যারা আমাদের তুলা নিয়ে যেত আর কাপড় ফেরত বিক্রি করত। এখনকার উপনিবেশ জাহাজে আসে না; আসে অ্যালগরিদমে। আমাদের তথ্য, আমাদের ভাষা, আমাদের কাজের ধরন যায় সিলিকন ভ্যালির সার্ভারে; তারপর সেই জ্ঞান দিয়ে বানানো টুল আমাদের কাছেই সাবস্ক্রিপশনে বিক্রি হয়।
যে তরুণ আজ ২০ ডলারে লেখা লিখছে, কাল সে কী করবে?
উত্তরটা কারো কাছে নেই। শুধু এটুকু জানি, যে শিখবে এআইকে চালাতে, সে টিকবে; আর যে এআই-এর সাথে প্রতিযোগিতা করবে, সে হারবে।
আমাদের পোশাক কারখানাগুলোতেও একই প্রশ্ন আসছে; অটোমেশন, রোবটিক সেলাই মেশিন। যে দেশের অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে সস্তা শ্রমের ওপর, সেখানে শ্রম যখন আর সস্তার দরকার থাকে না, তখন কী হয়?

বিকেল ৫টা: রাস্তায় মিছিল, ঢাকা থেকে ফ্রাঙ্কফুর্ট
অফিস থেকে ফেরার পথে আশুলিয়া-গাজীপুরের খবর আসে ফোনে। পোশাকশ্রমিকরা রাস্তায়। দাবি: ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা। এখন যা আছে, সাড়ে বারো হাজার।
সাড়ে বারো হাজার টাকা।
আমার এক সিলিন্ডার গ্যাস ২৪০০। একটা পরিবারের বাসা ভাড়া, চাল, ডাল, বাচ্চার স্কুল; এই টাকায় কীভাবে চলে, আমি জানি না। সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করেছে; দেখা যাক।
কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, একই দিনে, পৃথিবীর অন্য প্রান্তে, জার্মানির রাস্তাতেও তরুণরা নেমেছে। ওরা নিজেদের বলছে "জেন-জি"। দাবি: জীবনযাত্রার খরচ, শিক্ষা, বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা নিয়ে ক্ষোভ। ফ্রাঙ্কফুর্টে দোকান লুট হয়েছে, পুলিশের সাথে সংঘর্ষ হয়েছে।
ইউরোপের সবচেয়ে ধনী দেশের তরুণ আর আশুলিয়ার পোশাকশ্রমিক; ভাষা আলাদা, পোশাক আলাদা, অথচ চিৎকারটা একই: "আমরা আর পারছি না।"
২০২৪ সালের জুলাইয়ে আমরা দেখেছি তরুণরা কী পারে। তারপর নেপাল, কেনিয়া, ইন্দোনেশিয়া; আর এখন জার্মানি। এটা আর কোনো একটা দেশের গল্প না; এটা একটা প্রজন্মের গল্প, যারা দেখছে তাদের বাবা-মায়ের চেয়ে তারা বেশি পড়াশোনা করেছে, বেশি কাজ জানে, অথচ কম পাচ্ছে।
কিন্তু এখানে একটা অস্বস্তিকর প্রশ্নও রেখে যাই।
অরওয়েলের "এনিমেল ফার্ম"-এ পশুরা বিদ্রোহ করে, জেতে; তারপর ধীরে ধীরে খামারের দেয়ালের নিয়মগুলো চুপচাপ বদলে যায়। বিপ্লব করা কঠিন; কিন্তু বিপ্লবকে বাঁচিয়ে রাখা তার চেয়েও কঠিন।
রাস্তায় নামা সহজ। রাস্তা থেকে ফিরে এসে একটা ভালো রাষ্ট্র বানানো; সেটাই আসল পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় আমরা কতটা পাস করেছি, সেটা প্রতিটা পাঠক নিজের মনে জানেন।

রাত ১১টা: টিভির পর্দায় এক অচল নির্বাচন
রাতে খাওয়ার পর টিভিতে খবর। ইসরায়েলে নির্বাচন হয়ে গেলো। নেতানিয়াহুর জোট আর গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট; দুই পক্ষই সরকার গড়ার জন্য দরকারি ৬১ আসনের নিচে আটকে আছে। কেউ জেতেনি, কেউ হারেনি।
আমরা বাংলাদেশিরা ফিলিস্তিন নিয়ে খুব আবেগপ্রবণ। ফেসবুকে প্রোফাইল পিকচার বদলাই, পণ্য বয়কট করি, মিছিল করি। কিন্তু খুব কম মানুষ খেয়াল করে, গাজার ভাগ্য শুধু বোমায় না, ব্যালট বাক্সেও লেখা হয়; তেল আবিবের ব্যালট বাক্সে।
নেতানিয়াহু যদি ক্ষমতা হারান, তাহলে কি গাজার মানুষ শান্তি পাবে? আমি নিশ্চিত না। ইসরায়েলের বিরোধী শিবিরেও অনেকেই সামরিক কৌশলে কম কঠোর নন। মুখ বদলালেই নীতি বদলায় না; এটা আমরা নিজের দেশের রাজনীতি থেকেই জানি।
আর আরব দেশগুলো? তারা চুপ। কারণ তাদের হিসাবেও তেল, ব্যবসা, আর নিজেদের সিংহাসন।
এই নীরবতা, এই যুদ্ধ, এই নির্বাচন; সব মিলিয়েই তো হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতা। আর সেই অস্থিরতাই সকাল ৭টায় আমার চুলার গ্যাসের দাম ঠিক করে দেয়।
দেখুন, ঘুরে ফিরে আমরা আবার রান্নাঘরেই চলে এলাম।

মাঝরাত: এই যুদ্ধটা আসলে কার?

বিছানায় শুয়ে ভাবছি: এই যুদ্ধ কি সত্যিই জরুরি ছিল?

ঘোষিত কারণ আমরা সবাই জানি। একপক্ষ বলে নিরাপত্তা, পারমাণবিক হুমকি, প্রতিরোধ। আরেকপক্ষ বলে সার্বভৌমত্ব, আগ্রাসন, প্রতিশোধ। প্রতিটা যুদ্ধের প্রেস রিলিজ খুব সুন্দর করে লেখা হয়।

কিন্তু প্রেস রিলিজের নিচে আরেকটা হিসাবের খাতা থাকে। চলুন সেই খাতাটা একটু উল্টাই।

যুক্তরাষ্ট্র কী পায়? বিশ্বকে আবার মনে করিয়ে দেয়া যে পৃথিবীর পাহারাদার এখনো সে-ই। মিত্রদের কাছে আস্থা, প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে ভয়। আর অস্ত্র কারখানাগুলোর জন্য নতুন অর্ডার।

ইসরায়েল কী পায়? "সব শত্রুকে সময় থাকতে থামাও"; এই নিরাপত্তা দর্শনের আরেকটা অধ্যায়। আর যুদ্ধের সময় নেতারা সমালোচনার ঊর্ধ্বে চলে যান; যুদ্ধ অনেক সময় রাজনীতিবিদের সবচেয়ে বড় ঢাল।

ইরান কী পায়? অবরুদ্ধ হয়েও টিকে থাকার গল্প। ঘরের ভেতরের সব ক্ষোভকে বাইরের শত্রুর দিকে ঘুরিয়ে দেয়ার সুযোগ। শাসকের কাছে "আমরা প্রতিরোধ করছি" কথাটা অনেক সময় ক্ষমতায় টিকে থাকার সবচেয়ে বড় পুঁজি।

চীন আর রাশিয়া? তারা দূরে বসে দেখে। আমেরিকা যত ব্যস্ত, তাদের হাত তত খোলা। আর অবরুদ্ধ দেশের তেল কেনা যায় সস্তায়।

আরব দেশগুলো? তারা চুপ। কারণ তাদের হিসাবে আছে তেল, ব্যবসা, আর নিজেদের সিংহাসন।

এবার আসল প্রশ্ন: এই লাভগুলো কি সত্যিই এত বড় যে হাজার হাজার মানুষের জীবন তার বিনিময়ে দেয়া যায়?

দুই হাজার চারশো বছর আগে গ্রিক ইতিহাসবিদ থুসিডিডিস একটা ভয়ংকর সত্য লিখে গিয়েছিলেন: শক্তিমানেরা যা পারে তা করে, আর দুর্বলেরা যা সইতে হয় তা সয়।

যুদ্ধ আসলে কখনো কারো জন্য পুরোপুরি "জরুরি" হয় না; জরুরি হয় কিছু মানুষের ক্ষমতার জন্য। যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নেয় কয়েকজন, পরিকল্পনা করে কয়েকশো জন, আর দাম দেয় কোটি কোটি মানুষ। গাজার মা, তেহরানের ছাত্র, তেল আবিবের বাংকারে বসা শিশু; আর পাঁচ হাজার কিলোমিটার দূরে, মিরপুরে, ২৪০০ টাকার সিলিন্ডার হাতে দাঁড়িয়ে থাকা আমি।

যুদ্ধ শেষ হলে নেতারা টেবিলে বসে হাত মেলাবেন। মানচিত্রে হয়তো একটা রেখা এদিক-ওদিক হবে। প্রেস রিলিজে লেখা হবে, "আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জন করেছি।"

কিন্তু কোনো প্রেস রিলিজে লেখা থাকবে না, বাংলাদেশের কোনো এক মায়ের রান্নাঘরে কতদিন চুলা জ্বলেনি।

শেষ রাত: একটা বৃত্ত

ঘুমানোর আগে মনে হলো, আজকের দিনটা আসলে একটা বৃত্ত।

ক্ষমতার হিসাব থেকে যুদ্ধ, যুদ্ধ থেকে হরমুজ, হরমুজ থেকে আমার চুলা।
চুলা থেকে বাজার, বাজার থেকে মূল্যস্ফীতি, মূল্যস্ফীতি থেকে আশুলিয়ার রাস্তা।
প্রবাসীর ঘাম থেকে রিজার্ভ, রিজার্ভ থেকে জ্যামে পোড়া তেল।
ফারাক্কার কলম থেকে পদ্মার চর, চর থেকে শহরের রিকশাওয়ালা।
সিলিকন ভ্যালির সার্ভার থেকে আমার ল্যাপটপ, ল্যাপটপ থেকে লাখো তরুণের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।

আমরা ভাবি আমরা পৃথিবীর এক কোণে, নিরাপদে বসে আছি। আসলে আমরা বসে আছি একটা বিশাল জালের ঠিক মাঝখানে; যেখানে হাজার মাইল দূরের কোনো সুতোয় টান পড়লে আমাদের ঘরের পর্দা কেঁপে ওঠে।

স্যামুয়েল বেকেটের চরিত্রেরা গডোর জন্য অপেক্ষা করে, যে কখনো আসে না। আমরাও অপেক্ষা করি; যুদ্ধ থামার, দাম কমার, চুক্তি হওয়ার, ভালো দিনের।

কিন্তু অপেক্ষার ফাঁকে একটা কাজ অন্তত করা যায়: পৃথিবীকে বোঝা।
কারণ যে পৃথিবীকে বোঝে না, পৃথিবী তাকে বিল পাঠিয়ে বোঝায়।

কাল সকালে আবার চুলা জ্বালাবো।
এবার আগুনটার দিকে তাকিয়ে ঠিক জানবো, এর বিল কে পাঠিয়েছে।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৬
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০১ লা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:২৩



তাহসিফের মৃত্যু: খাতা আর টাওয়ার খুললেই যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলে-

বিমান বাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যু এখন রহস্যের আরেক নাম। ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুনিয়র বন্ধু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইয়াংসান থেকে জুলাইয়ের নতুন বন্দোবস্ত

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৯



Youngsan সিউলের ভিতরে আমেরিকান একটি মিলিটারি বেইস। মিলিটারি বেইসের ভিতরে বার্গার কিং, KFC, Macdonald সব আছে। কোরিয়ান ভিতরে সামরিক ঘাঁটি হলে ও মিলিটারি বেইসের ভিতরে প্রধান কারেন্সি ইউএস ডলার।... ...বাকিটুকু পড়ুন

দারিদ্র্য কি মানুষকে মহান করে তোলে?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬


হুমায়ূন আহমেদ। বাংলাদেশের শেষ জনপ্রিয় লেখক। তিনি ছিলেন একাধারে একজন গুণী লেখক ও নাট্যনির্মাতা। হুমায়ূন আহমেদ সমুদ্রবিলাস নামে একটি নাটক নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে একজন শিক্ষক ছিলেন, নাম চ্যালেঞ্জার। তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

গাধা উন্নয়ন প্রকল্প এবং একটি ভালো কলেজের গল্প

লিখেছেন মুনতাসির, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

নটর ডেম কলেজে আমাদের সময় একটা প্রকল্প ছিল। নাম ‘অ্যাস ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’, সংক্ষেপে এডিপি। বাংলায় বললে ‘গাধা উন্নয়ন প্রকল্প’। নাম শুনে মনে হতে পারে, কোনো প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কর্মসূচি। বাস্তবে এটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

DNA — ঈশ্বর এবং প্রশ্ন ?

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০২ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:১২



১. ক্ষুধা
পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছিল, বাড়ছিল মানুষের খাদ্যচাহিদা; কিন্তু সীমিত জমিতে প্রচলিত পদ্ধতিতে সেই চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে উঠছিল।
মানুষ নির্বাচিত প্রজনন ও বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এমন ব্রয়লার মুরগির জাত তৈরি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×