somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্ষমতা, ন্যারেটিভ, বিভক্ত সমাজ

২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:২৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা মাত্র জিনিস ঠিকঠাক দাঁড়িয়ে গেলে সম্ভবত দেশের অনেক জট খুলে যেত। সেটা হলো আইনের শাসন। এই দায়িত্ব একান্তই রাষ্ট্রের, সরকারের। আইন যদি সবার জন্য সমানভাবে কাজ করে, তাহলে বাকিটা ধীরে ধীরে পথ খুঁজে নেয়।

তবে ব্যক্তি ও সমাজের স্তরে যে জিনিসটা প্রায় হারিয়েই গেছে, তা হলো পরমত সহিষ্ণুতা। একসময় বুশ সাহেব বলেছিলেন, “Either you are with us, or against us.” সেই মানসিকতা যেন আমাদের সমাজেও অদৃশ্যভাবে জায়গা করে নিয়েছে। এখন মনে হয়, কেউ আমার মতের না হলে সে আমার শত্রু। মাঝামাঝি কোনো জায়গা নেই, ধূসর কোনো অঞ্চল নেই, শুধুই সাদা আর কালো।

রাজনীতির ইতিহাসে ফিরে তাকালে দেখি, এই ‘একদলীয় মানসিকতা’র বীজ অনেক আগেই বোনা হয়েছিল। স্বাধীনতার পর থেকেই ক্ষমতায় থাকা দল ভেবেছিল, বিরোধী দল বলে কিছু থাকবে না। পরে অন্য দলগুলোও একই ইচ্ছা লালন করেছে, প্রতিপক্ষকে মুছে ফেলার ইচ্ছা। গত ১৭ বছরের অভিজ্ঞতা আমাদের সেই চেষ্টার সাক্ষী।

আজকের বাস্তবতায়, কেউই খুব নির্দোষ নয়। অথচ, আমরা যখন কথা বলি তখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই একপাক্ষিক মত দেই। আমার পছন্দ না করা দলেরও যে ভাল কিছু থাকতে পারে, এটা একদমই ভাবতে পারি না।

জামায়াত আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে সংগঠিত ও শক্তিশালী। তাদের লক্ষ্যও অনেকটা প্রতিপক্ষকে সরিয়ে দেওয়া।

বিএনপি এক অদ্ভুত অবস্থানে। বিশাল জনসমর্থন থাকার পরও নেতৃত্বে দিকনির্দেশনার অভাব, যেন নিজেরাই জানে না কীভাবে এগোতে হবে।

আর ২৪-এর আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া তরুণদের দল, তাদের মধ্যেও ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে কিছু মানুষ পথ হারিয়েছে বলে শোনা যায়।

রাজনীতি শেষ পর্যন্ত একটা ন্যারেটিভের খেলা। গল্প বানানোর, গল্প চালানোর, আর গল্পে মানুষকে বিশ্বাস করানোর খেলা। একসময় এই খেলায় সবচেয়ে দক্ষ ছিল আওয়ামী লীগ। এখন অনেকেই বলে, ন্যারেটিভ তৈরীর মুকুটহীন সম্রাট হয়ে উঠছে জামায়াত।

যে জামায়াত সমর্থক, সে শুধু জামায়াতপন্থী লেখা পড়ে ও শেয়ার করে।
যে বিএনপি-সমর্থক, সে শুধু বিএনপিকেন্দ্রিক খবর দেখে।
যে আওয়ামী লীগপন্থী, তার ফিডেও একই চক্র।

গুগল-ফেসবুকের যুগে আমরা সেটাই দেখি, যেটা অ্যালগরিদম মনে করে আমরা দেখতে চাই। ধীরে ধীরে আমরা এমন এক জগতে ঢুকে পড়ি, যেখানে নিজের মতটাই একমাত্র সত্য মনে হয়। কয়েনের অন্য পিঠটা চোখের সামনেই থাকলেও আমরা বিশ্বাস করতে পারি না। বন্ধুত্ব নষ্ট হয়, পরিবারে দূরত্ব বাড়ে, সমাজে দেয়াল ওঠে। দেশের কথা বলে তৈরি করা এই ন্যারেটিভে শেষ পর্যন্ত দেশের কী লাভ, তা অনেক সময় অজানাই থেকে যায়। গত দেড় বছরে বরং দেখেছি সমাজের বিভক্তি আরও গভীর হয়েছে।

বাংলাদেশের সমাজে এবং রাজনীতিতে ধর্মের উত্থান স্পষ্ট। তবে ধর্ম যে ধৈর্য ধারণের কথা বলে, কারো উপর জোর জবরদস্তি করতে না বলে, শ্রদ্ধা-সম্মানের কথা বলে, নমনীয়তার কথা বলে – সেসবের চর্চা সেভাবে পরিলক্ষিত হয়না। আমরা বলি এক। করি আরেক।

২০২৪-এর যে আশার ট্রেন যেভাবে ঝমঝমিয়ে এসেছিল, মনে হয়েছিল নতুন এক যাত্রা শুরু হবে। কিন্তু ঠিকমতো উঠে বসার আগেই যেন ট্রেনটা আবার চলে গেল। তবুও তর্ক থামবে না। চায়ের কাপে ঝড় উঠবে, সোশ্যাল মিডিয়ায় যুদ্ধ চলবে। বিভিন্ন সেটেলড ইস্যুতেও সন্দেহের বীজ ঢুকবে, ইচ্ছা করেই ঢোকানো হবে। সেসব, কেউ বিশ্বাস করবে, কেউ করবে না। । পাশাপাশি বসা মানুষ দুজন ধীরে ধীরে দুই ভিন্ন গ্রহের প্রাণী হয়ে যাবে। এভাবেই ট্রেন চলবে, জীবন চলবে।

শুধু যারা চলে গেছে, তারা আর ফিরবে না। যারা দৃষ্টি হারিয়েছে, তারা দেখবে না।
সর্বশেষ এডিট : ২২ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০:৪৫
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজাদি না মুক্তি? ইনকিলাব না বিপ্লব? ~ ভিনদেশী শব্দের মচ্ছবে বিপন্ন বাংলা ভাষা?

লিখেছেন সাজিদ উল হক আবির, ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৫৪

১।
বিগত ৮ বছরের মতো এবারের ২১ ফেব্রুয়ারিও সাতসকালে কর্মস্থলে এসে হাজির হয়েছি, কেননা আমি যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াই, সেখানে বিজয় দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতাদিবসের মতো জাতীয় দিবসগুলিকে উৎযাপন করা হয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোট গল্পঃ প্রমোশন

লিখেছেন সামিয়া, ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৫৫


একই ডিপার্টমেন্টে কাজ করতো দু’জন সায়ন চৌধুরী আর ঈশিতা রহমান। ঈশিতা এসেছিল সায়নের আগে। তাই শুরু থেকেই কাজের বেশিরভাগ দায়িত্ব ছিল তার হাতে। প্রেজেন্টেশন, ক্লায়েন্ট ব্রিফ, স্টোর রুমের... ...বাকিটুকু পড়ুন

জামায়াতে ইসলামী ভাষা আন্দোলনের বিপক্ষে ছিল না

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:০২


জামায়াতে ইসলামীকে আমি এখন নতুন চোখে দেখি। মানুষ ভুল করতেই পারে, ইতিহাসে ছোটখাটো কিছু ভুল তো সবারই থাকে। যেমন ধরুন, একটা দেশের জন্মের বিরোধিতা করা, সেটাকে ভেঙে দিতে চাওয়া, বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ২:৫৫


রমজান মাসে শাহেদ জামালের সমস্যা হয়ে যায়।
দিনের বেলা সিগারেট খাওয়া যায় না। রাস্তার পাশে আরাম করে দাঁড়িয়ে চা খাওয়া যায় না। রেস্টুরেন্ট পর্যন্ত বন্ধ থাকে। এই দেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

যুক্তরাজ্যের ভিসা পাওয়া এতো কঠিন কেন?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১০:২৪

আমার বড় মেয়ে মারিয়ার সাথে আজ কথা হলো। সে যুক্তরাজ্যে পড়ালেখা করে। এখন ৭ম শ্রেণীতে। মারিয়ার নানাবাড়ি ইংল্যান্ডে হওয়ায় সেখানে থেকে পড়ালেখা করাটা একটু সহজ হয়ে গিয়েছে। আমার সাথে ফোনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×