somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র ইসলামে নিষিদ্ধ

০৫ ই নভেম্বর, ২০২০ সকাল ১১:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সঃ) কে নিয়ে ব্যঙ্গচিত্র ইসলামে নিষিদ্ধ

এই শিরণামে আমাদের একজন সিনিয়র ব্লগার পোস্ট করেছিলেন, তিনি এই বিষয়ে কয়েকটা হাদিসের রেফারেন্স দিয়েছিলেন, সে হাদিসের সাথে সংঘর্সিক বেশ কয়েকটা আয়াত কোরানে আছে, সেই বিষয়ে আমার একটা লিখার লিংক নীচে দিলাম এবং খুব তাড়াতাড়ি বিদ্রুপ বিষয়ক হাদিসের বাণী এবং কোরানের বাণী নিয়ে একটা তুলনা মূলক লিখা লিখবো ।

বিদ্রুপকারীদের হত্যার পক্ষে ও বিপক্ষে !!!!

ওনার শিরণাম দেখে মনে হচ্ছে ইসলামে শুধু মাত্র ব্যঙ্গচিত্র নিষিদ্ধ তবে অব্যঙ্গচিত্র নিষিদ্ধ নহে।


বস্তুত ইসলামে ব্যঙ্গ অব্যঙ্গ যে কোন চিত্র গ্রহণ যোগ্য নহে অথবা নিষিদ্ধ মুসলমানদের জন্য কিন্তু ঐ ভদ্রলোকের দাবি এটা অমুসলমানরা ও মানতে বাধ্য এবং অমুসলমানরা এই নিয়ম মানতে বাধ্য । এই বিষয়টা নিয়ে আজকের লিখা। (সংগ্রহকৃত)

যুক্তিবিদ্যায় স্পেশাল প্লিইডিং হচ্ছে একটি লজিক্যাল ফ্যালাসি। একে বাঙলায় বলা যেতে পারে, স্ববিশেষ মিনতি কুযুক্তি। এই কুযুক্তি কখন হয়, সেটি ব্যাখ্যা করছি।

যখন কেউ কোন প্রস্তাব বা নিয়ম দেয়, কিন্তু তার প্রদত্ত নিয়মটি সে নিজেই নিজের বেলাতে ভঙ্গ করে, এবং সেই নিয়ম ভঙ্গ করাকে তিনি শুধুমাত্র তার নির্বাচিত কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে নিয়ম ভঙ্গ করা যাবে বলে দাবী করে, অন্য কেউ এই প্রস্তাব বা নিয়ম ভঙ্গ করতে পারবে না বলে দাবী করে, তার নিজের ক্ষেত্রে এই সুবিধাটিকে আমরা স্ববিশেষ মিনতি কুযুক্তি বা স্পেশাল প্লিইডিং ফ্যালাসি বলতে পারি।


প্রস্তাবঃ
১. ইসলামী বিশ্বাস অনুসারে, মুহাম্মদ (সাঃ) একজন ঈশ্বর প্রেরিত সম্মানিত বার্তাবাহক।
২. ইসলামের বিশ্বাস অনুসারে, নবী মুহাম্মদের (সাঃ)কোন ছবি আঁকা যাবে না।
৩. নবী মুহাম্মদের (সাঃ) ছবি আঁকা সকলের জন্য অন্যায়। সকল ধর্মের মানুষের মুহাম্মদকে (সাঃ) সম্মান করতে হবে।

এই প্রস্তাব যিনি দিচ্ছেন, তাকে এবারে এই প্রস্তাবগুলো দেয়া যাকঃ
১. হিন্দু ধর্মের বিশ্বাস অনুসারে, গরু হচ্ছে তাদের দেবতা এবং মাতা।
২. হিন্দু বিশ্বাস অনুসারে, গো হত্যা মহাপাপ এবং ভয়ংকর অন্যায়।
৩. গরু হত্যা বা গরু খাওয়া সকলের জন্য নিষিদ্ধ। গরুকে সকল ধর্মের মানুষের সম্মান করতে হবে।

ব্যক্তিগতভাবে আমি গরু খাওয়া বিরোধী নই। যুক্তির খাতিরে ঐ মুসলিম প্রস্তাবকারীকে এই প্রস্তাবগুলো দেয়া হলে, উনি যা বলবেন তা বলে দিচ্ছিঃ
- "গরু খাওয়া তো ইসলামে নিষিদ্ধ নয়। অন্য ধর্মের নিয়ম বা আইন একজন মুসলিম কেন পালন করবে? হিন্দু ধর্মের বিধান অনুসরণ করার দায় একজন মুসলিমের নেই। একজন মুসলিম যদি নিজের টাকায় গরু কেনে এবং খায়, কোরবানীর ছবি প্রচার করে, মাংসের রেসিপি প্রচার করে, সেটি তার অধিকার। একজন হিন্দু যদি না খেতে চায়, খাবে না। কিন্তু মুসলিমকে গরু খেতে তো সে বাঁধা দিতে পারে না।"

প্রায়শই দেখা যায়, ইসলামে বিশ্বাসী মানুষ কোরবানীর সময় গরুর কাটা মাথা, জবাই করার ছবি, রক্তারক্তি এগুলো ফেইসবুকে পোস্ট করেন। এতে কিন্তু হিন্দুদের অনুভূতিতেও আঘাত লাগতে পারে। তাদের গোমাতানুভূতি আহত হতে পারে। তারপরেও, উনার এই যুক্তি মেনে নিলাম। এবারে, ঠিক একই যুক্তি নবী মুহাম্মদের (সা: ) ছবি আঁকার বিষয়ে কাজে লাগাই। যদি হিন্দুরা বা অন্য ধর্মের মানুষরা বলে ,

- "মুহাম্মদের ছবি আঁকা তো অন্য কোন ধর্মে নিষিদ্ধ নয়। ইসলাম ধর্মের নিয়ম বা আইন একজন অমুসলিম কেন পালন করবে? একজন অমুসলিম যদি নিজের টাকায় রঙ পেন্সিল, কাগজ, ছবি আঁকার সরঞ্জাম ইত্যাদি কেনে এবং মুহাম্মদের ছবি আঁকে, সেই ছবি প্রচার করে, সেটি তার অধিকার। ইসলামের বিধান শুধু মুসলিমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। অমুসলিমের জন্য মুহাম্মদের ছবি আঁকা তো অপরাধ নয়। তাহলে এই বিধান কেন একজন অমুসলিম মানতে যাবে? একজন মুসলিম যদি তা না দেখতে চায়, দেখবে না। কিন্তু একজন অমুসলিমকে মুহাম্মদের ছবি আঁকতে তো সে বাঁধা দিতে পারে না। মুহাম্মদ একজন ঐতিহাসিক চরিত্র। ইতিহাসের যেকোন পাঠক বা ছাত্র তার সম্পর্কে জানবে, তার সম্পর্কে কথা বলবে, আলোচনা সমালোচনা করবে। মুহাম্মদ তো কোন ধর্মের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। ঠিক যেমনটি সত্য বুদ্ধ, যীশু, হিটলার বা স্ট্যালিনের ক্ষেত্রে৷ স্ট্যালিন বা হিটলারের কিছু অনুসারী যদি দাবী করে, স্ট্যালিন বা হিটলার যেহেতু তাদের কাছে সম্মানিত, তাই তাদের সমালোচনা অন্য কেউ করতে পারবে না, তাহলে অন্যদের কী দায়বদ্ধতা আছে এই দাবী মনে নেয়ার? তাই অমুসলিম কেউ মুহাম্মদের ছবি আঁকবে কিনা, তাকে সম্মান দিবে কিনা, সেটি যার যার ব্যক্তিগত ইচ্ছা অনিচ্ছার বিষয়। মুসলিমরা না চাইলে আঁকবে না। কিন্তু অন্যরা আঁকবে কিনা, সেই সিদ্ধান্ত তারা কীভাবে দেয়?“

এই কথাগুলো বললেই, আপনি সেই মমিন মুসলিমের মুখে একটি স্পেশাল প্লিইডিং ফ্যালাসি শুনতে পাবেন। সেটি হচ্ছে, মুসলিমদের গরু খাওয়ার অধিকার আছে। হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতি তাতে আহত হলেও তারা মুসলিমের গরু খাওয়ার অধিকার হরণ করতে পারে না। তবে মুসলিম অমুসলিম সকলের নবী মুহাম্মদকে শ্রদ্ধা করতে হবে। কারণ ইসলামের নিয়ম হচ্ছে, কেউই মুহাম্মদের ছবি আঁকতে পারবে না। এই বিধান মানতে সকলেই বাধ্য! কারণ তাতে মুসলিমদের অনুভূতি আহত হয়! তবে অন্যের অনুভূতি আহত হলো কিনা, সেটা দেখার সময় বা ইচ্ছা কোনটাই মুসলিমের নেই!

স্পেশাল প্লিইডিং ফ্যালাসির এটি একটি পারফেক্ট উদাহরণ।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই নভেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:৩৪
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রাসূলের (সা.) অনুসারি হবেন শুধুমাত্র সাহাবা (রা.), অন্যরা এবং ওলামা ওলামার অনুসারি হবেন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৪০




সূরাঃ ৩৫ ফাতির, ২৮ নং আয়াতের অনুবাদ-
২৮। এভাবে রং বেরং- এর মানুষ, জন্তু ও আন’আম রয়েছে। নিশ্চয়ই আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে (ওলামা) আলেমরাই তাঁকে ভয় করে।নিশ্চয়্ই আল্লাহ পরাক্রমশালী ক্ষমাশীল।

সূরা:... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবিন খুদারা কেন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন না ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:২৩


Robin Khuda ঢাকার ছেলে। স্কুল পড়েছেন এই দেশেই। তারপর অস্ট্রেলিয়া গেছেন, AirTrunk বানিয়েছেন, Blackstone তাকে ১৬ বিলিয়ন ডলারে কিনে নিয়েছে, আর এখন তিনি ভারতে ৩০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

লিখেছেন নতুন নকিব, ১১ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৯:০৩

দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে নবীজির শেখানো এক অনন্য আমল

ছবি অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

মানুষের জীবন মূলত অসংখ্য ছোট-বড় সিদ্ধান্তের সমষ্টি। প্রতিটি বাঁকে, প্রতিটি মোড়ে আমাদের কোনো না কোনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্যা ফায়ার অফ মাই সউল

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১১ ই জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:১৪

আমি যে ধরণের গান পছন্দ করি, সেগুলোর মাঝে ক্বারি আমির উদ্দিনের 'কুহু সুরে মনের আগুন' গানটি আমার খুব প্রিয়। এই গানটিকে সম্প্রতি ইংরেজিতে অনুবাদ করে গান বানিয়েছি, এনিমেশন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×