somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মহাশুন্যে নভোচারীরা খাওয়া দাওয়া পয়নিষ্কাসন কি ভাবে করে ?

৩১ শে আগস্ট, ২০২২ সকাল ১০:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


মহাশুন্যে নভোচারীরা খাওয়া দাওয়া, প্রসাব পায়খানা কিভাবে করে? যেখানে কোন মধ্যাকর্ষণ শক্তি নাই, সেখানে প্রসাব পায়খানা নিচের দিকে বের হয় কি করে?
মহাকাশে রয়েছে আন্তর্জাতিক স্পেস ষ্টেশন... এটি শুন্যে অবস্থান করে পৃথিবীকে আবর্তন করছে।
এখানে চারটি ল্যাব রয়েছে, যেগুলোতে আমেরিকা, জাপান, ইইউ আর কানাডার বিজ্ঞানীরা মহাকাশ নিয়ে গবেষণায় লিপ্ত।
প্রায় জিরো মাধ্যাকর্ষণ শক্তি এখানে (মাইক্রোগ্রাভিটি)। ফলে এটার ভেতর বিজ্ঞানী বা নভোচারীরা ভেসে থাকে।
প্রসাব-পায়খানা সবচেয়ে আরামের বিষয় হলেও, এখানে টয়লেট ব্যবহার করা বেশ ঝামেলারই।
প্রথমে কমোডে বসে সিটবেল্ট বাঁধতে হয়, যাতে কাজ করার সময় ভেসে উড়ে না যায়।
নাম্বার ওয়ান (প্রসাব) কাজের জন্য একটি লম্বা ফানেলের মত জিনিস থাকে। সেটি মুত্রনালীর মুখের সামনে ধরতে হয়। ফানেলের সাথে চুষে নেওয়ার জন্য সাকার মেশিন লাগানো থাকে। এরপর প্রসাব করা শুরু করলে সেটা সাকারের সাহায্যে টেনে নেয়।
নাম্বার টু কাজের জন্য কমোডে একই রকমের সাকার মেশিন থাকে। এর সাথে একটি বিশেষ ব্যাগ থাকে, যেখানে পায়খানাগুলো সংগ্রহ হয়। এরপর সেটিকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় শুকিয়ে নষ্ট করে ফেলা হয়।
সবচেয়ে মজার বিষয় হল, মহাশুন্যে পানি একটি দামী জিনিস। তাই সকলের প্রসাব একটি ট্যাঙ্কে জড়ো হয়। সেখানে জীবাণুমুক্ত ও পরিস্কার করে প্রসাব থেকে শুধু পানি অংশটুকু বের করে নিয়ে সেটা খাবার পানির রিজার্ভ ট্যাঙ্কে গিয়ে যোগ হয়। সেগুলোই আবার খাওয়া হয় কিংবা অন্যান্য কাজে ব্যবহার হয়।
তবে এর চেয়ে বেশি অবাকের জিনিস হল, প্রসাব পায়খানা করতে বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজন হলেও মেয়ে নভোচারীদের পিরিওডের ব্লিডিং কিন্তু নরমালিই হয়। এটার বৈজ্ঞানিক ব্যাখা এখন পর্যন্ত বের করা যায় নি।
ঘুমানোর ক্ষেত্রে উপর নিচ, দাঁড়ানো বা শুয়া বলতে কিছু নাই। স্লিপিং কম্পার্টমেন্টের ভেতর গিয়ে পা উপরে মাথা নিচে করে উল্টো হয়ে ঘুমাতে পারেন কিংবা দাঁড়িয়েও ঘুমাতে পারেন। সব অনুভুতি একই রকম।
খাবার খেতে কোন টেবিল লাগে না। শুন্যে ভেসে থাকা প্লেট থেকেই খাবার খাওয়া যায়। তবে প্রত্যেকটি জিনিসের সাথে চুম্বক লাগানো, যাতে সেগুলোকে সহজেই স্পেস স্টেশনের লোহার দেয়ালের সাথে আটকে রাখা যায়।
তবে খাওয়ার সময় বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হয় যাতে খাবারের কোন অংশ কোথাও উড়ে না যায়। এতে কোন একটা যন্ত্রের মধ্যে ঢুকে গিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
খাবারগুলো সাধারণত পৃথিবী থেকে প্লাস্টিকব্যাগে প্যাকেটজাত করে পাঠানো হয়। টিন বা ক্যান জাতীয় খাবার পাঠানো হয় না ওজনে ভারী ও পরিবহণ খরচ বেশি হবে বলে।
স্পেস স্টেশনের ভেতর খাবারগুলো গরম করার জন্য ওভেন আছে। সেখানে যার যখন দরকার খাবার গরম করে নেয়।
স্পেস স্টেশনে গোসল করা আরেক বিপত্তি। পৃথিবীর মত শাওয়ার ছেড়ে আরামে গোসলের সুবিধা নেই। মাইক্রোগ্রাভিটির কারণে পানি শাওয়ারের মত বেরও হবে না। তাছাড়া পানি নিয়ে যাওয়াও অনেক ব্যয়বহুল। পানি সেভ করার জন্য দাঁতমাজার টুথপেস্টকেও এমনভাবে বানানো হয়, যাতে তা খেয়ে ফেলা যায়।
গোসলের জন্য বিশেষ প্লাস্টিক ব্যাগে পানি থাকে। তোয়ালায় ভিজিয়ে সেটি দিয়ে গোসল করতে হয়। সাবান শ্যাম্পুগুলো এমনভাবে তৈরি যে ফেনা তৈরি হয় না এবং ব্যবহারের পর না ধুয়ে শুধু মুছলেই চলে।
আসলে মধ্যাকর্ষণ জিনিসটার যে কত উপকার তা আমরা পৃথিবীতে বসে টের পাই না। এই মধ্যাকর্ষণের ফলেই আমরা স্বচ্ছন্দে পৃথিবীতে সুন্দরভাবে বসবাস করতে পারছি।”
------------- সংগ্রহিত
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে আগস্ট, ২০২২ সকাল ১০:১০
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

থাক অহমিকায়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


তোমার রঙিন আকাশে নেই
যে অমাবস্যার- অন্ধকার
ঝলমল করছে শুধু চাঁদ-
ডুবছ ডুবছ সুখমারী রাত!
উড়ছ শঙ্খচিলের ডানায়;
তোমার আকাশে অমাবস্যা নাই।

আমি মাটি বন্দি হয়েছি
মরার আগেই- মরার আগেই-
স্বপ্ন দেখি শুধু হুতুম পেঁচা হব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫০



বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন[

শেখ মুজিব ইতিহাসের খলনায়ক।
জাতীয় বেইমান।
পাকিস্তান ভাঙার অপরাধী।
- এই কথাগুলো আপনি বিশ্বাস করেন?
তাহলে আজ আপনাকে একটা অনুরোধ করব- একবার শুধু থামুন।

রাগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৫

ফারাজা তাবাসসুম খান-
অনেকদিন তোমাকে নিয়ে লিখি না। খুব ব্যস্ত আছি। আমার সব সময় নিয়ে নিচ্ছে অফিস। আমি অফিস থেকে তোমাকে ফোন করলে তুমি কথা বলতে চাও না। আবার আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Mystic River – জোয়ারে ফিরে আসে সবকিছু

লিখেছেন রাজসোহান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩১



১৯৭৫ সালের বোস্টন। শ্রমজীবী মানুষের সাধারণ পাড়া। রাস্তায় হকি খেলছিল তিনটে বাচ্চা ছেলে। হঠাৎ বল গড়িয়ে পড়ল ড্রেনে। খেলা ওখানেই শেষ। ফুটপাতের একপাশে তখন সদ্য ঢালা ভেজা সিমেন্ট। ছেলেগুলো কাঠি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×