somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি তুমি আর সমুদ্র

২৯ শে জানুয়ারি, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৪৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"সময়টা খুব সম্ভব জুনের শেষ। হঠাৎ করেই তোমার কাছাকাছি যাওয়ার একটা সুযোগ হল। তোমার কাছাকাছি মানে সমুদ্রের কাছাকাছি। সোজা বাংলায় জাহাজের ভিতর। কি যে উদ্বেগ,কি যে উত্তেজনা। আমি কত কি শপিং করলাম। নাইফ থেকে শুরু করে রোপ পর্যন্ত। ছোটবেলায় যত সামুদ্রিক অভিযানের গল্প পড়েছিলাম মনে হচ্ছিল সব আমার সাথে ঘটবে। ভার্সিটির ফ্রেন্ডরা খুব হাসাহাসি করছিল আমার ছেলেমানুষি দেখে। অন্য সময় হলে খুব মেজাজ খারাপ করতাম ওদের উপহাসে। কিন্তু এবার আমার মেজাজ খারাপের সময় কোথায়? প্রিয় মানুষের সব নাকি প্রিয় লাগে। আমিও নিবিড়ভাবে দেখতে ব্যকুল ছিলাম কি পাও জাহাজের ওই ছোট্ট কেবিনটাতে যা আমার সংসারে নেই। তুলনার এক অদৃশ্য কাটা যা আমাকে রোজ যন্ত্রণা দিত। সব প্রস্তুতি শেষ,এবার যাত্রা। হঠাৎ জানলাম তোমার খাড়ুস ক্যাপ্টেন আমাকে নেবার অনুমতি দেয়নি। কিন্তু তুমি যে আমার তুমি। কিভাবে কিভাবে জানি ম্যানেজ করে ফেললে। অতিরিক্ত উত্তেজনার কারনে আমি একটা মাত্র ড্রেস নিয়ে যাত্রা শুরু করলাম। পতেঙ্গা বিচে যখন গেলাম তখনো সন্ধ্যা নামেনি। পড়ন্ত বিকেল। কিন্তু সমস্যা হল অন্য জায়গায়। উত্তাল সাগর আমাকে তার আসল রূপ দেখিয়ে বরণ করার জন্য তৈরী ছিল। সমুদ্রে তখন তিন নম্বর বিপদ সংকেত। কোন স্পীড বোট যেতে রাজি হচ্ছিল না। অবশেষে পরিচিত একজন পাওয়া গেল,যার একটাই শর্ত বিপদের কোন দায় তার না॥

আমি উঠলাম। যে আমি সাঁতার জানিনা দেখে কখনো পুকুরে নামিনি সেই আমি জীবনে প্রথমবারের মত স্পীড বোটে উঠে বসলাম। কিছুক্ষনের মধ্যেই বুঝতে পারলাম কেন কেউ আসতে চাচ্ছিল না ।ওহ কি বিশাল একেকটা ঢেউ ॥ পাঁচ ছয় ফিট একেকটি ঢেউয়ের তোড় আর চার পাশের বিশাল সমুদ্র আমার ২২ বছরের না দেখা ভুবনটাই অন্য রকম করে দিল। একজন মেরিনারের চোখে এ দৃশ্য অতি তুচ্ছ, কিন্তু আমার মত একটি সাধারণ মেয়ের জন্য এটা অলীক বিস্ময়। আমার ভয় পাওয়াটা খুব স্বাভাবিক ছিল। কে জানে কেন পেলাম না। হয়ত রক্তকণিকা এতক্ষণে বুঝে গেছে আমি একজন মেরিনারের ওয়াইফ। আমাকে ভীত করা সম্ভব নয়। চলতে চলতে দূরের বিন্দু সমান জাহাজ আস্তে আস্তে দৃশ্যমান হল। জাহাজের কাছাকাছি যেয়ে আমি চিন্তা করতে লাগলাম উপরে কিভাবে উঠবে? উপর থেকে হঠাৎ যা নেমে এল তা হল ক্রেন দিয়ে ঝুলিয়ে দেয়া একটি খাঁচা। এতক্ষণে ভয় পেলাম। মনে হল এখনই টুস করে পানিতে পড়ে যাব। তার উপর যখন দেখলাম তুমি আগে খাঁচার ভিতর ঢুকে গেলে আর আমি বোটেই থেকে গেলাম তখন মনে হল ধরনী দ্বিধা হও। ঢেউয়ের কারনে আমাকে নিয়েই বোট ওয়ালা আরো তিন চার চক্কর দিল ।আমার সমস্ত দোয়ার ভান্ডার শেষ হবার একটু আগে আমি নিজেকে আবিষ্কার করলাম জাহাজের ডেকে। আমার স্বভাব সুলভ স্বতঃস্ফূর্ততায় আমি একপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দৌড় লাগালাম এবং যথারীতি তোমার কাছে কঠিন একটি ঝাড়ি খেয়ে তোমার কেবিন নামক গর্তে প্রবেশ করলাম। শুরু হল আমার জীবনের সেরা সাতটি দিন ॥
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ সকাল ১১:৫৩
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ১৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৫



আজ বৃহঃস্পতিবার, ২রা আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ।
ইংরেজি ১৭ই সেপ্টেম্বর। গত কয়েকদিন বেশ কয়েকজন ব্লগার সামুর ভালো মন্দ নিয়ে লিখেছেন। তাদের মুল বক্তব্য হলো- সামু গেলো। সামু শেষ। তারা সামুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে ইতিহাস আমাদের জানতে দেওয়া হয়নি অথবা ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে!

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৩


আপনি জানেন কী?
ব্রিটিশরা প্রশাসনের সুবিধার জন্য ১৮৩৭ সালে ফারসি ভাষা বাদ দিয়ে আঞ্চলিক ভাষা ও উর্দুকে নিচ তলার দাপ্তরিক কাজে চালু করে।কারণ মুঘল আমল থেকেই প্রচলিত প্রশাসনিক কর্মীদের কাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরাব পিনে দে.....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১



মির্জা গালিব সম্পর্কে একটি গল্প চালু আছে। একদিন তিনি মসজিদে বসে মদ্যপান করছিলেন। তখন মুসল্লিরা তাকে বাধা দিয়ে বললেন "মসজিদ আল্লাহর ঘর, মদ্যপানের জায়গা নয়।" তখন মির্জা গালিব তাঁর বিখ্যাত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালছাল মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:৩৬

প্রথম পাতায় ব্যান ব্লগারের একটি পোস্টে ব্লগার রাজীব নূর মন্তব্য করে বলেছেন - “ওদের কে ‘বালছাল’ লিখতে দেন। বিনোদন নষ্ট করবেন না।”

বাহ! কী চমৎকার গণতান্ত্রিক দর্শন! এতদিন জানতাম দেশে তথ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ -৩ কফি শপ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৮ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:০৬

আলোর-ছায়ার দোলাচলে এক কাপ কফি পান করার সুযোগ কি পাওয়া যেতে পারে?



ছবি ব্লগ - ২ টরন্টোর আকাশ
ছবি ব্লগ - ১ মেঘলা আকাশ
...বাকিটুকু পড়ুন

×