প্রিয়তমা, এসো, একমুঠো নির্লিপ্ততা গুঁজে দাও আমার
ফুলতোলা নকশাকাটা শার্টের বুকপকেটে।
.
ক্ষয়ে যাওয়া এই শহরের ভাঁজেভাঁজে কাটানো
ঘুমঘুম প্রতিরাত্তিরে আমি যখন বাইবেল খোলার
মত করে খুলে বসি প্রিয় কবিতার বইগুলো, এক এক করে,
আমি অনুভব করি,
আমি অনুভব করি বরফের মত শীতল একখণ্ড
নির্লিপ্ততা, আমার বুক চেপে ধরা
বড্ড প্রয়োজন, আমার হৃদয়ের
বগলের তলে থার্মোমিটার ঠুসে ধরে মেপে দেখেছি-
ওতে উত্তাপ অনেক, আমার খানিকটা
তাপ ঝেড়ে ফেলা দরকার।
..
আমি বাড়ি যেতে চাই-
আমার বাড়ির ধান আর মাশকলাইয়ের ক্ষেতের ওপর
নবনির্মিত ফ্লাইওভারের নীচ দিয়ে বয়ে চলা পদ্মানদীতে গরুর পাল
চরে ঘাস খেয়ে বেড়াতেই পারে- আমি ঠিক
বুঝতে পারছি না, তবে এতটুকু জানি
আমার একটুখানিক বাড়ি যাওয়া দরকার।
.
একটা সময় ছিল।
একটা সময় ছিল যখন কবিতা লিখে
ক্যাস্ট্রো হতে চাইতাম, বাম বাম
কি সব বদলে টদলে দেয়ার বোকা স্বপ্ন বুকে চেপে
রাস্তা পিস্থ করতাম আমার রবারের স্যান্ডেলের তলায়
এখন ওসব ভাবি না শুধু
জানি কোন এক শ্রান্ত দুপুরে আমার লেখা
কবিতা পড়ে মুচকি হেসে ফোন করেছিলে প্রথম আমায়
সেই দায় থেকে ঠিকরে বেরোয় পংতি হঠাৎ গোটা দু'চ্চার!
.
এ শহর আমায় পয়সার ঝনঝনানিতে
কিনে নিতে চায় কিন্তু
আমার ভালো লাগে না ওসব, আমি
দাওয়ায় বসে উনুনের পাশে তোমার
কপালে জমা বিন্দুবিন্দু মুক্তোর দানা নিয়ে
উশখুশানি দেখব আর মনের সুখে
বগল বাজাবো আর তাইরে নাইরে
করতে গেলে যে নির্লিপ্ততা নিয়ে তুমি
তোমার সর্পিল কোমরে শাড়ির আচল গুঁজে আমায় ঝাঁটাপেটা
করতে আসবে অকর্মণ্য বলে গালি দিয়ে
সেই নির্লিপ্ততাটুকু আজরাত্রে আমার
ফুলতোলা নকশাকাটা শার্টের বুকপকেটে গুঁজে দাও আমি
নির্ভার চিত্তে একটুখানিক বাড়ি যেতে চাই।

সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই মার্চ, ২০২১ দুপুর ১২:২৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



