
১৫ হাজার টাকার মেডিকেল যন্ত্রপাতি কেনা হলো ৯ লাখ ৩২ হাজার টাকায়।
এমআরএই ৯ কোটি ৯৫ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। অথচ যার বাজার মূল্য ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা। ১০ হাজার টাকার অটোস্কোপ মেশিন ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা। চারটি হিটাচি কালার ডপলার কেনা হয়েছে প্রতিটি ৬৫ লাখ টাকা করে। যার বাজার মূল্য ২৪ লাখ টাকা করে। এটি হলো চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের দুর্নীতির চিত্র।
অন্যদিকে মনিতরের দাম দেড় লাখ টাকা হলেও রাখা হয়েছে ১৩ লাখ ২০ হাজার টাকায়। সিরিঞ্জ পাম্পের মূল্য ছিলো প্রতিটি ১ লাখ টাকা অথচ রাখা হয়েছে ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা।
যার মুল হোতা সাবেক সিভিল সার্জন সরফরাজ খান। (৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬ দৈনিক প্রথম আলো)
এই হলো আপনার আমার করের টাকার ব্যাবহারের ক্ষুদ্র নমুনা। ঘাম ঝরানো টাকার ব্যাবহার। কোন জবাব্দিহিতা নেই। যার ভাগ পাচ্ছে মন্ত্রী থেকে আমলা পর্যন্ত। পদ্মা সেতুর ব্যায় বেড়েছে দ্বিগুণ। ব্রাজিল থেকে পচা গম আমদানিতে ক্ষতি হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। হলমার্ক কেলেঙ্কারি সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা। রেলওয়ের ক্ষতি বছরে ৮০০ কোটি টাকা। বাংলাদেশ বিমানে সরকার প্রতি বছর ক্ষতি দিচ্ছে ৬০০ কোটি টাকা। অথচ দেদারসে লাভ করছে বাকি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের বিমানগুলো। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ সংস্থা (বিআরটিসি ) প্রতি বছর লকশান গুনছে ৭০ কোটি টাকা।
পরিচালকদের অনিয়ম আর দুর্নীতির আগ্রাসী থাবায় আক্রান্ত দেশের ব্যাংকিং খাত। শুধু নিজ ব্যাংক থেকেই পরিচালকদের নামে ঋণ নেয়া হয়েছে ৩ হাজার ৭২২ কোটি টাকা। বেনামে নেয়া ঋণের পরিমাণ এর চেয়ে বেশি। শুধু পরিচালকরা নয়, জনগণের আমানতের টাকায় গড়ে ওঠা এসব ব্যাংক থেকে তাদের আত্মীয়স্বজন ও বন্ধুবান্ধবরাও ক্ষমতার জোরে নিয়মবহির্ভূত ঋণ নিয়েছেন।

টিআইবির প্রতিবেদন অনুযায়ী সেবা পেতে বছরে ঘুষ লাগে ৮ হাজার ৮২২ কোটি টাকা। গত তিন বছরের কেন্দ্রিক ঘুষের পরিমান বেড়েছে ৬ গুন । সর্বশেষ ২০১২ সালের সেবা খাতের দুর্নীতি জরিপের তুলনায় এবার ১ হাজার ৪৯৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা বেশি ঘুষ দিতে হয়েছে।
২০১৪ সালের নভেম্বর থেকে গত অক্টোবর পর্যন্ত সেবার ওপর ভিত্তি করে গত ১ নভেম্বর থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত এবারের জরিপের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এর আওতায় ১৫ হাজার ২০৬টি খানা ছিল, যা দেশের মোট খানার ২১০০ ভাগের এক ভাগ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১১ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে মোট খানা ৩ কোটি ১৮ লাখ।
দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় গুরুত্ব ও প্রভাব বিবেচনায় ১৫টি প্রধান খাতকে জরিপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ছিল স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, ভূমি প্রশাসন, কৃষি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, বিচারিক সেবা, বিদ্যুৎ, ব্যাংকিং, কর ও শুল্ক, এনজিও, পাসপোর্ট, গ্যাস, বিআরটিএ ও বিমা।
এছাড়া ‘অন্যান্য’ নামে ওয়াসা, বিটিসিএল, ও ডাকের সেবা খাতকে বিবেচনায় নেওয়া হয় জরিপে।
শহরাঞ্চলের তুলনায় গ্রামঞ্চলে সেবা খাতে দুর্নীতির প্রকোপ বেশি (৬২.৬% বনাম ৬৯.৫%); ঘুষ প্রদানে বাধ্য হওয়ার হারও বেশি (৫৩.৪% বনাম ৫৯.৬%)।
জরিপে দেখা গেছে, গ্যাসের সংযোগ নিতে গিয়ে খানাকে সবচেয়ে বেশি ঘুষ দিতে হয়েছে; যার গড় পরিমাণ ২৭,১৬৬ টাকা। আর বিমা খাতে দিতে হয়েছে ১৩,৪৬৫, বিচারিক সেবায় ৯,৬৮৬ এবং ভূমি প্রশাসনে ৯,২৫৭ টাকা।

এতো অনিয়মের মাঝেও নেই কোন পরিকল্পনা। নেই জবাবদিহিতা। রাজস্ব আয় তথা কর তোলার সময় জবাবদিহিতা করা একান্ত ঝরুরি। আমার জানা প্রয়োজন আমার অর্জিত অর্থ কোথায় যাচ্ছে! নেই সুষ্ঠু তদারকি। সরকার কেন জবাবদিহিতার আওতায় থাকবেনা?
তবে মানুষ কর দিবে কেন? মন্ত্রী আমলাদের পেটে যাওয়ার জন্য?
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ রাত ৮:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




