
৩৬ জুলাই আন্দোলনের পর অনেক আশায় ছিলাম। আশার গুড়ে বালি। তত্বাবধায়ক সরকারের সময় বাংলাদেশ ব্যাঙ্ক গভর্ণর ড. আহসান এইচ মনসুর বুদ্ধিদীপ্ত প্ররিশ্রম করে ২০২৬ জানুয়ারীতে রিজার্ভে রেখে গেছেন ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তখন থেকে নতুন খাল/খাম্বা বাবা সরকার এই সপ্তাহ পর্যন্ত মোট ৮ মাসে সেটা দাঁড় করিয়েছে ৩৬.৭ বিলিয়ন ডলারে।
খাম্বা বাবাকে ঘুরতে হচ্ছে ভিন্ন দেশের দ্বারে দ্বারে। আগে বিএনপিতে এ কাজটা করতেন অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমান, বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী নিজেই। দেশের মান সম্মান রাখার ব্যাপারে খালেদা জিয়া অনেক অনেক এগিয়ে ছিলেন। সেটা ইতিহাস সাক্ষী। সেটা খালবাবা কে দিয়ে সম্ভব নয়, শুরুতেই বোঝা যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ২টা দেশে সফর করেছেন। ফলাফল মোটামুটি শূন্য। আর এখন চিরশত্রু ভারতে যাবার জন্যে গরীবের ভাবী ব্যকুল হয়ে আছেন। তার মাথার মধ্যেই নাই যে দেড় মাস আগেই তার প্রতিনিধিকে ভারত সরকার এয়ারপোর্টে অপমান করেছে।
ফলাফল মোটামুটি শূন্য কেন বললাম?
১. চীন সফর থেকে অর্জন:
>তিস্তা মহাপরিকল্পনা: দীর্ঘদিনের আলোচিত তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীনের পক্ষ থেকে সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এটা ইউনুস সরকারকেও দেয়া হয়েছিল। চীন তখনই কাজ করবে যখন তার দরকার হবে। আর চীন কে কাজ দেয়া মানে, সে যে টাকা দেবে, সেটা তো সুদে আসলে তুলে নেবেই, সাথে তার নিজ দেশের জনবল নিয়োগ দিতে হয়, তার দেশ থেকে নির্মান সামগ্রী কিনতে হয়। মানে রথ দেখা আর কলা বেচা দুটো তো হয়ই... সাথে পকেট মারিং চলে।
মোংলা বন্দর আধুনিকীকরণ: মোংলা বন্দরের সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ এবং আধুনিকীকরণের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সেই চুক্তি সাক্ষর পর্যন্তই... যদি না চীনের কোন গোপন ফায়দা থাকে, চীন একটা ইয়ান ঢালবেও না। আমাদের দেখতে হবে চুক্তিটা কে করেছে !!! >>> গরীবের বউ। কাজেই বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা কতটুকু হবে বোঝাই যাচ্ছে।
১.৩.৩ বাণিজ্য ও অবকাঠামো চুক্তি: "উন্নয়ন সহযোগিতা, মানবসম্পদ বৃদ্ধি, শিক্ষা ও সংস্কৃতির প্রসারে এবং বিনিয়োগ বাড়াতে
দুই দেশের মধ্যে মোট ১৫টি সমঝোতা স্মারক এবং ২টি চুক্তি সই হয়েছে। " এগুলো জনগন কখনই জানবে না যে কি সমঝোতা হল, দেশের কোন স্বার্থে সমঝোতা করতে হল। আগে হাসিনা বুবু ভারতের সাথে এরকম তিনশ'র বেশি সমঝোতা সাক্ষর করেছিল। এখন খাম্বাবাবা ১৫-১৭ টি করেছেন। সামনে আরও হবে। যতদূর জানি এ ধরনের চুক্তিতে রাষ্ট্রীয় উপকার হয় না।
প্রতিরক্ষা সংলাপ: "বাংলাদেশ ও চীনের পররাষ্ট্র এবং প্রতিরক্ষা খাতের মধ্যে সম্পর্ক বাড়াতে "টু প্লাস টু" (২+২) কৌশলগত সংলাপ চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।" এটাও একটা বিফল সিদ্ধান্ত। চীন কারও সাথে সংলাপে বসে না, বসায়। চীন যুদ্ধের ভেতরেও ব্যবসা করে। সে ব্যবসা করা শিখেছে যখন চা বেঁচে সে কোকেন কিনত, তখন থেকে। কাজেই চীন সফরে খালবাবা বস্তুত কিছুই পায়নি।
২. মালয়েশিয়া সফর থেকে অর্জন
শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণ: "বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য বন্ধ হয়ে থাকা মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।" এই তথাকথিত অগ্রগতি পর্যন্তই। গত কয়েক বছরে যত না বাঙ্গালী ঢুকেছে, তার চেয়ে বহুগুন রোহীঙ্গা মালয়েশিয়াতে ঢুকেছে। তারা কমদামে শ্রম বিক্রি করে। তারউপর বাঙ্গালীরা এখন নিজেদের ভেতর খুনাখুনি শুরু করেছে। কোন দেশ আছে যে খাল কেটে কুমির আনবে? এটা খাল বাবার দেশ হলে আলাদা কথা।
ভিসা সহজীকরণ: "বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা সুবিধা আরও সহজ করতে দুই দেশ একমত হয়েছে।অন্যান্য খাতে সহযোগিতা: প্রতিরক্ষা, উচ্চশিক্ষা, হালাল শিল্প গবেষণা এবং এলএনজি (LNG) খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য একাধিক সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।" যেগুলো কোন কাজের কাজ না। যেমন ধরুন, বর্তমানে LNG গ্যাসের তীব্র সঙ্কট। অথচ মালয়েশিয়া কি সহযোগিতা করছে? বরং নিজ দেশের সংকটের কথা বলেছে।
তাহলে কি ভাবে বলব যে, গরীবের বউ পাশের গ্রাম থেকে গামলা ভর্তি পান্তা নিয়ে ফিরেছে? অত স্বস্তা নয়... এখন আশায় আছে ভারতে নুন পান্তার কোন সূরাহা হয় কি না...
এভাবে আসলে দেশের সন্মান রক্ষা হয় না। এগুলো উচিত না... একজন প্রধানমন্ত্রীর তার নিজের নয়, প্রধানমন্ত্রীর আসনটির সম্মানের কথা ভাবা উচিত, দেশের সম্মানের কথা ভাবা উচিত।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



