somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় ঘটে যাওয়া ন্যাক্কারজনক এ ঘটনা শুধু যে দেশের রাজনীতিকে কলঙ্কিত করেছিলো তাই নয়, এ ঘটনা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতির মোড়। এই ঘটনায় যে সে সময়কার জোট সরকারের হাওয়া ভবনের সংশ্লিষ্টতা ছিল, তারেক রহমান এন্ড গং এর সংশ্লিষ্টতা যে ছিল, খোদ প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সবকিছু সম্পর্কে অবগত ছিলেন, আর তার সূত্র ধরে সেই কুখ্যাত জজ মিয়া নাটক, কোনও কিছুই আর ধামাচাপা দিয়ে রাখা যায়নি।
কথা হচ্ছে এই যে একটা এতো বড় ঘটনা ২০০৪ সালে ঘটে গেছিলো, এর ফলে দেশের রাজনীতি কতোটা বদলে গেছিলো সেটা ভুলে যাওয়ার মতো কোনও ব্যাপার নয়। বিএনপি আজ পর্যন্ত যতোগুলো ব্লান্ডার করেছে তার মধ্যে এইটা পয়লা কাতারে থাকবে। এই ঘটনার ফলে বিএনপি আর আওয়ামী লীগের সাথে শত্রুতা চরম পর্যায়ে উপনীত হয়ে দেশের রাজনীতি এক প্রকার ভারসাম্যহীনতার দিকে চলে গিয়েছে। আওয়ামী লীগ এর ফলে বিএনপি আর জামায়াতের ওপরে যে পরিমাণে হার্ড লাইনে চলে গিয়েছিলো এতোটা হার্ড লাইনে এরা আর কখনো যায় নি। মাঝখান থেকে সাফার করেছে দেশের সাধারণ মানুষ আর দেশের রাজনীতি-অর্থনীতি। এই ঘটনাটি না ঘটলে আওয়ামী লীগ কখনো বিএনপির ওপর এতোটা বেশী প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে উঠত না।
একই সাথে আরেকটি দিক ভুলে গেলে চলবে না। যদিও সেই ঘটনার সাথে এর ঠিক সেরকম কোনও যোগসূত্র নেই কিন্তু ঐ ঘটনাটি যেমন আরেক দিক দিয়ে বিএনপির আরেকটি ব্লান্ডার তেমনি ঐ ঘটনাটি আওয়ামী লীগ আর ভারতের সম্পর্ককে নতুনভাবে যেমন আরও বেশী ঘনিষ্ঠ পর্যায়ে নিয়ে এসেছিলো তেমনি সেটা অন্যদিক দিয়ে জন্ম দিয়েছিলো পরবর্তী আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী শাসনের।
সেই ঘটনাটি হল ১০ ট্রাক অস্ত্র ।
এই যে দুটি ঘটনা , এই দুটি ঘটনা আপাতদৃষ্টিতে পরস্পর বিচ্ছিন্ন মনে হলেও এই দুটি ঘটনার রাজনৈতিক তাৎপর্য কিন্তু গভীর। আজ এ ব্যাপারটি অনেকটাই পরিস্কার যে সেই দশ ট্রাক অস্ত্র এদেশে ঢুকেছিল ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাতে চলে যাওয়ার জন্যই। এদেশে ব্যবহারের জন্য নয়। এই অস্ত্র যদি ভারতে চলে যেতো তাহলে ভারতের সেভেন সিস্টার্সে চলমান পরিস্থিতি কিন্তু ভারতের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারতো। আজ এটা অনেকটাই পরিস্কার যে সে সময় বিডিআর এর হর্তাকর্তা-বিধাতারা উলফা নেতা পরেশ রাওয়াল আর অনুপ চেটিয়াকে রীতিমতো নিজেদের দায়িত্বে নিরাপত্তা দিয়ে দেশের ভেতরে আশ্রয় দিয়েছিলো। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে এদের গ্রেফতার করে ভারতের হাতে তুলে দিয়ে ভারতকে রীতিমতো “অপ্রত্যাশিত” উপহার দেয়।
এই যে ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা এবং দশ ট্রাক অস্ত্র এই দুইটি ঘটনার জেরে একদিকে যেমন আওয়ামী লীগ বিএনপি-জামায়াতের ওপর চূড়ান্ত প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠে তেমনি দশ ট্রাক অস্ত্র ধরা খাওয়ার পর ভারত এদেশের ওপর খুব কঠোর নিয়ন্ত্রণ নিতে একেবারে মরিয়া হয়ে ওঠে। এই দুটি পরস্পর বিচ্ছিন্ন ঘটনা ভারত আর আওয়ামী লীগকে এক হয়ে এদেশের রাজনীতির ক্ষেত্রে আরও বেশী বেপরোয়া হয়ে উঠতে সাহায্য করেছিলো। কারণ উভয়ই বিএনপি-জামায়াত গংদের তাদের কমন এনিমি হিসেবে ঠাউরাতে শুরু করে এবং ব্যাপারটা শেষ পর্যন্ত জন্ম দেয় আওয়ামী লীগের দীর্ঘমেয়াদী এক ফ্যাসিবাদী শাসনের এবং সেই সাথে এদেশের ওপর ভারতের নানা রকমের চূড়ান্ত অন্যায় আর অন্যায্য নিয়ন্ত্রণ আরোপের। কেমন ছিল সেই ফ্যাসিবাদী শাসন সেটা নতুন করে আর না হয় নাই বললাম, কারণ এক দলকানারা বাদে সবাই সেটা জানে।
এই গোটাটাই একদিকে যেমন সম্ভব হয়েছিলো তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ভয়াবহ অপরিণামদর্শী রাজনীতির কারণে তেমনি এই দুটি ঘটনা ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন করে নতুন মাত্রায় তিক্ততার দিকেই ঠেলে দেয়ার সূচনা করেছিলো, যার রেশ আজও ভালোভাবেই চলমান।
এটাও বলা বাহুল্য যে এসবের ফলে সবচেয়ে বেশী সাফার করেছে কিন্তু সেই বিএনপিই । আওয়ামী লীগের আমলে লাগাতারভাবে বিএনপি নেতাদের নানা প্রকার মামলা, এমনকি হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা খাওয়া থেকে শুরু করে গুম-খুন আর নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে নিদারুণভাবে। বলা চলে ক্ষমতা পেয়ে বিএনপির ওপর আচ্ছাসে বেপরোয়াভাবে প্রতিহিংসা মিটিয়েছে আওয়ামী লীগ, বাদ যায়নি জামায়াতও। আর এসব করতে গিয়ে একদিকে আওয়ামী লীগ যেমন তার ফ্যাসিবাদী শাসনে দেশের গণতন্ত্রের বারোটা বাজিয়েছে তেমনি রাজনৈতিক পরিবেশকে ভীষণভাবে অস্থিতিশীল করেছে। ২১শে আগস্টের ঘটনাটি না ঘটলে হয়তো এদিক দিয়ে পরিস্থিতি এতোটা খারাপের দিকে যেতো না।
একই সাথে আরেকটি ব্যাপার না বললেও হবে না। এগুলো হচ্ছে এদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর গণবিরোধী রাজনীতির নমুনা। দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজেদের মধ্যকার রাজনৈতিক হানাহানি, প্রতিহিংসা আর বিদেশী রাষ্ট্রের আনুগত্য লাভ করে দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করে এদেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিনষ্ট করার দিকে ঠেলে দেয়াই হচ্ছে এদেশের মূল ধারার রাজনৈতিক দলগুলোর বৈশিষ্ট্য। সাধারণ মানুষ আর দেশের স্বার্থ ভীষণ রকমের অসহায় এই বিষাক্ত রাজনীতির কাছে।
সর্বশেষ এডিট : ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৫
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকাশ নূরা এবং হিরো আলমকে যারা প্রধানমন্ত্রী ভাবতেন ;)

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



একজন মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, শিক্ষা-দীক্ষা থাকার চাইতেও জরুরী বিষয় হচ্ছে তার অন্তর্দৃষ্টি থাকা। অন্তর্দৃষ্টি, অন্তরচক্ষু বা জ্ঞানচক্ষু সম্পন্ন একজন ব্যক্তিকে কখনোই ধোঁকা দেওয়া বা ধোঁকায় ফেলানো সম্ভব নয় কারণ এরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙ্গালী কেন মুসলমান হতে পারে না?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৫

অনারব টার্কিশ, কুর্দি আর ইরানিয়ানরা তাদের নিজ নিজ ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষন করে ও তা ধারন করেও তারা মুসলিম, পাকিস্তানের পাঞ্জাবীরাও যখন নিজেদের পাঞ্জাবী জাতি হিসেবে অহংকার করে, তখনও তারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×