
মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।
আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ কারাগারের চার দেয়ালের ভেতর, এই খবরটা পৌঁছালো তাঁর স্ত্রী দীপু মনির কাছে।
মরদেহ তখন হিমাগারে। দাফনের সিদ্ধান্ত হয়নি, কারণ পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটি- স্ত্রী দীপু মনি- তখনও কারাবন্দি।
তারপর শুরু হলো একটা মেয়ের নিরন্তর দৌড়।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টা। তানি দীপাবলি নেওয়াজ ছুটে গেলেন মুন্সিগঞ্জ কারাগারে। মায়ের সঙ্গে দেখা করতে হবে, কথা বলতে হবে, সিদ্ধান্ত নিতে হবে- প্যারোলের আবেদন কীভাবে হবে, কত সময়ের জন্য হবে। বাবার মরদেহ হিমাগারে অপেক্ষা করছে, আর মেয়ের মনে একটাই প্রশ্ন- মা কি শেষবারের মতো বাবার মুখটা দেখতে পারবেন?
মায়ের সঙ্গে বসে আলোচনা, পরামর্শ। তারপর সরাসরি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ছুটে যাওয়া, আইনজীবীর সঙ্গে মিলে আবেদনপত্র জমা দেওয়া। একটা মেয়ে, একই দিনে যাঁকে বইতে হচ্ছে বাবাকে হারানোর শোক আর মাকে ফিরে পাওয়ার আকুতি- দুটো ভার একসঙ্গে।
অবশেষে খবর এলো- মুন্সিগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূরমহল আশরাফী মানবিক বিবেচনায় মঞ্জুর করলেন ১২ ঘণ্টার প্যারোল। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
হিমাগারে পড়ে থাকা মরদেহ অবশেষে পাবে তার প্রাপ্য বিদায়। কারাবন্দি হয়েও, সেই ১২ ঘণ্টার জন্য, দীপু মনি পারবেন তাঁর জীবনসঙ্গীকে শেষ বিদায় জানাতে।
এই ১২ ঘণ্টা কোনো বিশেষ অনুগ্রহ নয়- আইনজীবী নিজেই বলেছেন, কারা আইন ও কারাবিধিতে দিনের আলোয় ১২ ঘণ্টার প্যারোলের সুস্পষ্ট বিধান আছে। এটা তাঁদের আইনি অধিকার।
কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকেই যায়- একজন মেয়েকে কেন এভাবে কারাগারের ফটক থেকে প্রশাসনের দুয়ারে দৌড়াতে হয়, শুধু মাকে বাবার শেষযাত্রায় পাশে পাওয়ার জন্য? রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে, এই মুহূর্তে যা অবশিষ্ট থাকে, তা তো শুধুই একটা পরিবারের ভাঙা হৃদয়।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




