somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটি মেয়ের দৌড়াদৌড়ি ও একটি মায়ের অপেক্ষা

মঙ্গলবার রাত ১০টা ২৭ মিনিট। গুলশানের একটি হাসপাতালে থেমে গেল ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজের হৃদয়- দীর্ঘদিনের অসুস্থতার পর।

আর ঠিক তখন, শহরের অন্য প্রান্তে, মুন্সিগঞ্জ কারাগারের চার দেয়ালের ভেতর, এই খবরটা পৌঁছালো তাঁর স্ত্রী দীপু মনির কাছে।

মরদেহ তখন হিমাগারে। দাফনের সিদ্ধান্ত হয়নি, কারণ পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটি- স্ত্রী দীপু মনি- তখনও কারাবন্দি।

তারপর শুরু হলো একটা মেয়ের নিরন্তর দৌড়।

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টা। তানি দীপাবলি নেওয়াজ ছুটে গেলেন মুন্সিগঞ্জ কারাগারে। মায়ের সঙ্গে দেখা করতে হবে, কথা বলতে হবে, সিদ্ধান্ত নিতে হবে- প্যারোলের আবেদন কীভাবে হবে, কত সময়ের জন্য হবে। বাবার মরদেহ হিমাগারে অপেক্ষা করছে, আর মেয়ের মনে একটাই প্রশ্ন- মা কি শেষবারের মতো বাবার মুখটা দেখতে পারবেন?

মায়ের সঙ্গে বসে আলোচনা, পরামর্শ। তারপর সরাসরি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ছুটে যাওয়া, আইনজীবীর সঙ্গে মিলে আবেদনপত্র জমা দেওয়া। একটা মেয়ে, একই দিনে যাঁকে বইতে হচ্ছে বাবাকে হারানোর শোক আর মাকে ফিরে পাওয়ার আকুতি- দুটো ভার একসঙ্গে।

অবশেষে খবর এলো- মুন্সিগঞ্জের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসক সৈয়দা নূরমহল আশরাফী মানবিক বিবেচনায় মঞ্জুর করলেন ১২ ঘণ্টার প্যারোল। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

হিমাগারে পড়ে থাকা মরদেহ অবশেষে পাবে তার প্রাপ্য বিদায়। কারাবন্দি হয়েও, সেই ১২ ঘণ্টার জন্য, দীপু মনি পারবেন তাঁর জীবনসঙ্গীকে শেষ বিদায় জানাতে।

এই ১২ ঘণ্টা কোনো বিশেষ অনুগ্রহ নয়- আইনজীবী নিজেই বলেছেন, কারা আইন ও কারাবিধিতে দিনের আলোয় ১২ ঘণ্টার প্যারোলের সুস্পষ্ট বিধান আছে। এটা তাঁদের আইনি অধিকার।

কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকেই যায়- একজন মেয়েকে কেন এভাবে কারাগারের ফটক থেকে প্রশাসনের দুয়ারে দৌড়াতে হয়, শুধু মাকে বাবার শেষযাত্রায় পাশে পাওয়ার জন্য? রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে, এই মুহূর্তে যা অবশিষ্ট থাকে, তা তো শুধুই একটা পরিবারের ভাঙা হৃদয়।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"বহু দিন পর বন্ধু"

লিখেছেন সনজিত, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১৮


বহু বছর পর হঠাৎ তোর সঙ্গে দেখা।
প্রথমে চিনতেই পারিনি।
তারপর একচিলতে হাসি-
মনে হলো,
সময় আমাদের চেহারা বদলেছে,
কিন্তু শৈশবের মুখটা এখনো একই রয়ে গেছে।

চোখের কোণে ক্লান্তির রেখা,
চুল অর্ধেকটা সাদা রং,
কাঁধে সংসার,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাংসের ভুলচুক

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১২:০৬


বারে কুত্তার চোখ রঙিন
স্বপ্ন দেখে তাই ঘিন ঘিন
তাই দেখে হাড্ডি হাসে
পিন পিন, নাকের পুহান ঘুম
রক্ত হবে সুরেশ এই চুম;
ঐ গুরুজনে কইছে কথা
কুত্তার পেটে ঘি করে ব্যথা
স্বপ্ন তো দেখবেই ভুক... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:২৩



দ্বিচারিতার এক অদ্ভুত মহাকাব্য

যতদিন যাচ্ছে, ততই মনে হচ্ছ -এই দেশের তরুণ প্রজন্মের একটা বড় অংশকে নিয়ে আশাবাদী হওয়াটা রীতিমতো বিলাসিতা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সেদিন দেখলাম, এক ছাত্রশিবির নেতা মঞ্চে দাঁড়িয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=আয় সখিরা ফিরে যাই মেয়ে বেলা=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৪৯


যাবি নাকি তোরা সখি
আমার সাথে মেয়েবেলা;
যেখানটাতে বসতো যে রোজ
কানামাছি বউছি খেলা।

ভাইবোনেরা রোজ বিকেলে
মাঠে হতাম সমবেত,
ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে
বিকেল-খেলায় কেটে যেত।

খেলার আসর উঠোনজুড়ে
তোরাও কী খেলতি এমন?
করলে স্মরণ অতীতের দিন
বুকে লাগে কেমন কেমন।

আয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি মাস্টার্স পাস করে ড্রাইভিং পেশা বেছে নিয়েছি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৪৩


পিংক বাস সার্ভিসের একজন নারী চালক, নাম রাবেয়া খাতুন। তিনি মাস্টার্স পাশ করে বাস চালাচ্ছেন। খবরটা পড়ে অনেকেই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলছেন বাংলাদেশ এমন প্রতিভাকে ধরে রাখার যোগ্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

×