somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালো মানুষের জীবনি। (৬)

১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:০৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গ্রাম থেকে শহরে যাওয়ার স্মৃতি

গ্রাম আমার নিকট বেশি ভালো লাগলেও বছর ঘুরে আসার সাথে সাথে আম্মা যখন ঢাকা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতেন তখন আবার ঢাকা যাবার জন্য আকাঙ্খা প্রবল হয়ে যেতো। খুব ভোরে আমাদের গ্রাম থেকে নৌকাযোগে ভৈরব যেয়ে রেলগাড়িতে উঠতে হতো। যে সকালে রওয়ানা করতে হতো তার আগের রাত বরবার ঘুম থেকে উঠে দরজা খুলে দেখতাম সকাল হলো কিনা। দাদীর সাথে একই বিছানাই ঘুমাতাম। তাই উঠার সাথে সাথে টের পেয়ে ধরে এনে আবার শোয়াতেন আর বলতেন, সকাল হলে আমিই ডেকে দেবো, এখন ঘুমাও। যে শহরে সপ্তাহ দু সপ্তাহ থাকার পরেই গ্রামে আসার জন্য মন ছটফট করতোম, সে শহরেই যাবার জন্য এতো আগ্রহ কেনো সৃষ্টি হতো ঐ বয়সে সে বিষয়ে চিন্তা ভাবনা করতাম বলে মনে পড়ে না। এখন বুঝতে পারি যে, মানুষ জীবনে বৈচিত্র চায়। একখানে কিছুদিন থাকার পর বেড়াবার উদ্দেশ্যে অন্যত্র যাওয়ার জন্য আগ্রহ স্বভাবিক।

ঢাকা শহরে আসার পথে প্রথমে নৌকা, এর পরে রেলগাড়ি। নৌকায় চলতে যথেষ্ঠ অভ্যস্ত ছিলাম। বর্ষার কয়েক মাস নৌকা ছাড়া চলারই উপায় ছিলো না। তাই নৌকা ভ্রমণটুকু এমন কোনো আকর্ষণীয় মনে হতো না। কিন্তু রেলগাড়িতে চড়ার পর খুবই ভালো লাগতও। রেল গাড়ি চলার সময় যে আওয়াজ হতো তা যেনো ছন্দের তালে মতো অনুভব করতাম এবং শরীরে মৃদু ঝাঁকুনিতে তৃপ্তি পেতাম। রেলগাড়ির ছন্দময় সে আওয়াজটা ক্রস করে যেতে হয়। অনেক সময়ই রেলগেট বন্ধ থাকলে গাড়িতে বসেই রেলগাড়ির অপেক্ষা করতে হয়। আমার সামনে দিয়ে যখন রেলগাড়ি যায় তখন বাল্যকালের শোনা সে ছন্দময় আওয়াজটা আবার আমার মনে তাজা হয় উঠে। চলন্ত রেলগাড়িতে অনেকেই কথাবার্তা বলতে থাকে কিন্তু আমার মনে পড়ে যাদের সাথে আমি ঢাকা যেতাম চলন্ত গাড়িতে তাদের কথা বলে সময় নষ্ট করতে ইচ্ছা হতো না। আমি একটানা বাইরে চেয়ে থাকতাম। কখনও কখনও মনে হতো বাইরের গাছ ও গ্রামগুলো যেনো উল্টোদিকে দৌড়াচ্ছে। এই যে দৃশ্যগুলো বদলাচ্ছে তা দেখতেযে কত ভালো লাগতো, তা বলার ঐষী কোথায় পাব? তাই গাড়িতে আমার ঘুমও পেতো না ঢাকা শহরের তখন রেল ষ্টেশনের নাম ছিলো ফুলবাড়ীয়া। ফুলবাড়ীয়া এখন বাস ষ্টেশন । ষ্টেশন থেকে নেমে ঘোড়ার গাড়িতে চড়ে নানা বাড়িতে যেতাম। ঐ ঘোড়ার গাড়ির প্রচলন আজকাল আর নেই। ঘোড়ার গাড়িতে বসার জায়গাটা পাল্কির মতো ছিলো। দু জন করে মুখোমুখি করে চারজন বসার সিট ছিল। আর দুটো ঘোড়া টেনে নিয়ে যেতো। খুব দ্রুত চলতো না বলে সব দৃশ্য তৃপ্তি নিয়ে দেখা যেতো। ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সময় খুব সকালে ষ্টেশনে আসতে হতো। খালি পাকা রাস্তায় দু ঘোড়ার আটটি পায়ের একটি চমৎকার ছন্দময় আওয়াজ হতো। রেল গাড়ির ছন্দ থেকেও শুনতে ভালো লাগতো। পায়ের মধ্যেলোহা লাগানো থাকতো যাতে পা বেশী ক্ষয় না হয়ে যায়। এতে রাস্তার উপর চলার সময় পা ফেলার একটা চমৎকার শব্দ হতো । তখন ঢাকায় রিকশা ছিলোনা, স্কুটারও ছিলো না। কারের তো প্রশ্নই উঠে না। প্রচুর সংখ্যায় ঘোড়ার গাড়ি ছিলো এবং শহরের রাস্তাগুলো তাদেরই দখলে ছিলো।
সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সন্ধ্যা ৭:০৬
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কে আমারে ডাকে?

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২০

কিছু কিছু গান তৈরির পর সৃষ্টির আনন্দে আমি অত্যধিক উচ্ছ্বসিত হই। এ গানটার ফিমেইল ভার্সনটা তৈরি করেও আমি অনেক অনেক তৃপ্ত। আপনারা যারা ফোক-ক্ল্যাসিক্যাল ফিউশন ভালোবাসেন, এটা তাদের জন্য উপযুক্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরানের ভুল বনাম যুদ্ধকৌশল

লিখেছেন আলামিন১০৪, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:০৯






ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করেছিল এবং তার মাশুল দিচ্ছে হাড়ে-হাড়ে। যখন গাজার শিশু-মহিলা-আপামর জনসাধারণকে নির্বিচারে বোমা-ক্ষেপনাস্ত্রের আঘাতে নির্মমভাবে হত্যা করা হচ্ছিল তখন আম্রিকা বলেছিল ঈসরাইলের উপর হামলায় ইরানের ভূমিকা নেই- মানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

লোভে পাপ, পাপে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১:৫২


"মাংস সমিতি।" এরকম নাম শুনলে প্রথমে হাসি পায়। সঞ্চয় সমিতি শুনেছি, ঋণ সমিতি শুনেছি, এমনকি মহিলা সমিতিও শুনেছি। কিন্তু মাংস সমিতি? তারপর একটু ভাবলে হাসি থেমে যায়। কারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

চর্যাপদঃ বাংলা ও বাঙালির ঐতিহ্য

লিখেছেন কিরকুট, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:০৮

চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত হলেও, এর ভাষা ও উৎস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলে আসছে। ১৯০৭ সালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এই পদগুলি আবিষ্কার করেন এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৪


আজ বাদে কাল ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর প্রতি বছর আমাদের জীবনে নতুন নতুন অনুভূতি নিয়ে ফিরে আসে, তবে এই আনন্দের জোয়ার সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়ে শিশু-কিশোরদের মনে। সেই ছোটবেলার কথা মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×