আমি যে এলাকায় থাকি ওখানে প্রতিদিন পনের/বিশ জন ভিক্ষুক আসে, অধিকাংশ মহিলা, তারা নাজির হাটের ট্রেনে করে সকাল সকাল হাটহাজারীতে এসে কাজ করে, অথবা সাহায্য চাইতে থাকে এমন
.
ওরা সেহেরি খেয়ে একটু করে ঘুমিয়ে রাতের খাবারের খোঁজে বের হয়, তো বাসার সামনে এসে বলে, কাজ আছে? নাই! বললে চলে যায়, আবার যদি খয়রাত দেন তা ও নিবে, ধরতে গেলে ওদের চল্লিশ পার্সেন্ট ভিক্ষুক, ষাট পার্সেন্ট কাজের মহিলা বলতে পারেন
.
আমি ওদের মাঝে মাঝে জিঞ্চেস করি, সেহেরি কি দিয়ে খেয়েছেন? বিশ্বাস করুন! সবার উত্তরটা মোটামুটি একই,
- যাওয়ার সময় শাক খুজে নিয়ে গেছি ওটা দিয়ে করেছি
-ডাল আলুবর্তা দিয়ে করছি বাজান!
- মানুষ টুকিটাকি( হালকা বাসী) যা দেয় তা দিয়ে করি
-খালি মরিচ দিয়ে ভাত খেয়েছি কাইল পাড়া করতে পারি নি তাই
-ভাত ডিম ! (মুচকি হাসি দিয়ে)
.
বিলিভ ইট আর নট! ওদের সবার স্বপ্ন একটু মাছ গোস্ত দিয়ে সেহেরী খাবে, ওদের স্বপ্নটা সত্যি অধরা থেকে যায়!
.
অথচ আমরা মাছ/গোস্ত অমুক সমুক তমুক দিয়ে সেহেরী খেয়ে ও সন্তুষ্ট না! জীবন যেখানে যেমন আর কি! ওদের মত আমাদের রোজা রেখে সকাল সকাল বাইশ মাইল পাড়ি দিয়ে অন্যের ঘরে ঘরে কাজ করতে হয় না!
.
সকাল এগারটায় ঘুমাচ্ছি! জানালার কাছে বৃদ্ধ বয়সী মহিলা ভিক্ষুক এসে বললো, ভাই খয়রাত দেন?! আমি মশারির ভিতর থেকে বললাম, সবাই ঘুমে ৷ মাফ করেন ৷ ওনি বললো, 'এভাবে সবাই ঘুমায় থাকলে খয়রাত দিবো কেডা? আমরা কি না খেয়ে থাকমু?!' কথাটার মাঝে কি করুণ সুর যেন বারবার কানে প্রতিধ্বনি হচ্ছে!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


