আমি আমার পূর্বের একটি লেখায় ১৯৯০ সালে বিটিভিতে প্রচারিত 'কোথাও কেউ নেই' একটি সিরিয়ালের কথা বলেছিলাম!
.
সেই সিরিয়ালের একটি চরিত্র ছিল বাকের ভাই, সেই বাকের ভাইয়ের প্রেমে পড়েছিল দেশবাসী, সিরিয়ালে বাকের ভাইয়ের ফাঁসির দন্ড হলে ঢাকাবাসী সহ দেশবাসী রাস্তায় নেমে মিছিল শুরু করেছিল, “বাকের ভাইয়ের কিছু হলে/জ্বলবে আগুন ঘরে ঘরে!"
.
গুন্ডা প্রকৃতির এই বাকের ভাই হুদাই হাতের তর্জনিতে চেইন প্যাঁচাতো! আবার তা উল্টো দিকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে প্যাঁচ খুলতো!
.
এই মুদ্রা দোষ ছাড়াও তার অনেক দোষ ছিলো তবুও পুরো দেশ তাকে ভালবেসেছিলো একটাই কারণ, সে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার জন্য গুন্ডামী করতো!
.
অনেকটা সার্ফএক্সেলের বিজ্ঞাপনের মতো, দাগ থেকে যদি দারুণ কিছু হয় তবে দাগ ই ভালো!
.
তো নাটকে এলাকার প্রভাবশালী এক নারী অবৈধ কার্যকলাপে লিপ্ত ছিলেন! সে মহিলা কুত্তা পালতো বলে বাকের ভাই তাকে ডাকতেন কুত্তাওয়ালী! সেই কুত্তাওয়ালীর বাড়ির দারোয়ান খুন হয় এবং বাকের ভাইকে ঐ মামলায় ফাঁসানো হয়! সাজানো স্বাক্ষী হিসেবে নব্য ছিনতাইকারী মতিকে আনা হলো কিন্তু বাকের ভাইয়ের উকিল আদালতে প্রমাণ করলো সে মিথ্যে বলেছে!
.
শেষমেষ কুত্তাওয়ালী বাকের ভাইয়ের এক সাগরেদ(শিষ্য) বদিকে হাত করে নেয়! তাকে লোভ দেখায়! বদি বাকের ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যে স্বাক্ষ্য দেয়!
.
বদি রাজাকারের ভূমিকা পালন করায় বাকের ভাইয়ের ফাঁসির আদেশ হয়েছিলো! বাকীটা তো প্রথম বলেছি!
.
রাজাকার প্রসঙ্গ আসলেই একাত্তরের একটি গল্প না বললে অপূর্ণতা রয়ে যাবে!
.
মেয়র আনিসুল হক তার বক্তব্যে আরেকটি বাকের ভাইয়ের গল্প বলছিলেন,
.
১৯৭১ সালের ১৫ ই আগস্ট মুক্তিযোদ্ধের কাজ করতে চাওয়ায় একটি ছেলেকে এরেস্ট করা হয়েছিলো! তার নামও ছিলো বাকের ৷ তার মা কে খবর দেওয়া হলো! মা দৌঁড়ে আসলো জেলখানায়! জেলের ভিতর থেকে ছেলে কাঁদতে কাঁদতে বললো, মা ওরা আমাকে তিন দিন ধরে কিছু খেতে দেয়নি!
.
মা দৌড়ে বাসায় গেলো! তিন ঘন্টা পর খাবার নিয়ে এলো! কিন্তু ছেলেকে আর সেখানে খুঁজে পেলো না!
.
তারপর ১৯৭১ সালের ১৫ ই আগস্ট থেকে ১৯৮৫ সালের ১৫ ই আগস্ট পর্যন্ত সেই মা বেঁচে ছিলেন! সেই পনের বছরে তিনি কোন দিন আর একটি লোকমাও ভাত খায়নি!
.
তারপর থেকে বাকের নামটি আমার অনেক প্রিয়! কাউকে বাকের ভাই বলে ডাকতে ইচ্ছে করে!
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে এপ্রিল, ২০১৭ সকাল ১১:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



