আমার দাদার নাম তাজুল ইসলাম এবং নানা হামিদ মাষ্টার বাদে আমার অসংখ্য দাদা আছে! কারণ প্রত্যেক দাদারা নানারা কমপক্ষে পাঁচ ভাই করে ছিলেন!
.
ঝামেলাটা হয়ে যায় সন্দ্বীপ গেলে! তাই সহজ সমাধান হলো কারো যদি দাড়ি পেকে সাদা হয়ে যায় সাথে একটু কুঁজো হয়ে হাটে সে নিশ্চিত সম্পর্কে সন্তোষপুর এলাকায় বাস করলে দাদা হবে আর বাউরিয়ায় বাস করলে নানা হবে!
.
আর কারো চুল যদি আধ পাকা হয় দেখতে মধ্যবয়সী তাহলে সে হবে চাচা কিংবা চাচ্চু! আমার মতো দেখতে হলে তারা হবে কাজিন টাইপ এমন!
.
বাবার চাকরির সুবাদে মাত্র দুই তিন বছর বয়সে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় থাকতে আসা এবং বছর কিংবা দুই তিন বছরে একবার বাড়িতে যাওয়ার কারণে আগন্তুক হিসেবে এই সূত্র প্রয়োগ করতে হয়!
.
তবে সব জায়গায় এই সূত্র খাটে না কথিত আছে আমার ছোট মামা আমারও ছোট! এমন অনেক চাচা মামা খালা আছে যারা বয়সে আমারও ছোট! যেমনঃ রহমান মামা, পিন্টু কাক্কু, টিটু চাচ্চু, নাহিদা খালা প্রমুখ!
.
আসলে লেখাটি লিখতে বসেছিলাম কে যেনো কাল একটি লেখায় কমেন্ট করেছিলো, ভাই বিয়ের পর ফুটবল না ক্রিকেট টিম বানাতে আগ্রহী হবেন?
.
জবাবে বলেছিলাম, বক্সিং টিম বানাবো!
.
টিমে আমি আর তোমার ভাবী আর কেউ থাকবে না!
.
কারণ দাদা নানাদের আমলে এগারো জনের ফুটবল টিম ছিলো এরপর চাচাদের আমলে চার জনের লুডু টিম হয়েছে তারপর আমাদের আমলে হবে বক্সিং টিম! শুধু খেলা হপে! আর কিছুই না!
.
২০১১ সালের আদমশুমারিতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছিল, সারাদেশে জনসংখ্যা বাড়লেও বরিশাল বিভাগে বাড়ছে না!
.
স্বাভাবিকভাবে বরিশালের জনপ্রিয় ডায়লগটি আবার তাদের দিকে ছুড়ে দিলাম, 'মনু ডাইলে লবন দিছো না দিবা?'
.
একদিন হয়তো ডাইলে লবন দেওয়াও বন্ধ হয়ে যাবে!
.
৩৫ তম বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার সময় পড়েছিলাম, কোন দেশে জন্ম এবং মৃত্যু হার একই হলে তাকে শূন্য জনসংখ্যার দেশ বলে!
.
ভয়ানক ব্যাপার হলো,
.
পৃথিবীর অনেক দেশে এখন জন্মের হারের চেয়ে মৃত্যুহার অনেক বেশী যার করণে বিলুপ্ত হওয়ার পথে সেসব জাতি! কোন যুদ্ধ, সংঘাত কিংবা প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কারণে নয় তারা শুধু পৃথিবীতে নিজেদের প্রতিনিধি রেখে না যাওয়ার কারণে বিলুপ্ত হবে!
.
জাপানের মতো দেশে টানা সপ্তবারের মতো জনসংখ্যা হ্রাস পেয়েছে! উদ্ধিগ্ন সরকার!
.
জাপানের ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সি শতকরা ৭০ ভাগ অবিবাহিত পুরুষ এবং ৬০ ভাগ অবিবাহিত নারী প্রেমের সম্পর্কে নেই তাদেরকে পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য কিছু দিন আগে একটি ভিডিওতে দেখেছিলাম সেখানে সেক্সুয়াল স্কুলে তালিম দেওয়া হচ্ছে!
.
জাপান টাইমসের বরাত দিয়ে কিছুদিন আগে একটি সংবাদ চোখে পড়েছিলো, 'দশজনের মধ্যে চারজনই ‘ভার্জিন', উদ্বিগ্ন জাপান!'
.
রাশিয়া, জার্মানি ও ইতালিতে জনসংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে তাদের কপালে দুশ্চিন্তার রেখা!
.
ডেনমার্কের অবস্থা আরো গুরুতর! নানা প্রণোদনা পুরস্কার ঘোষণার পরও শিশু জন্মহার বাড়ছে না!
.
এমন অবস্থা সমগ্র ইউরোপের সতেরটি দেশের!
.
প্রায় ত্রিশ বছর পর অতীতের ভুল বুঝতে পেরে ২০১৫ সালে 'এক সন্তান নীতি' থেকে ফিরে আসে চীন চালু হয় 'দুই সন্তান নীতি' এবং তাদের ‘পুরস্কার ও ভর্তুকি’ দিতে অনুরোধ করেছেন বিশেষজ্ঞরা!
.
একটু আগে কালের কন্ঠে পড়লাম, পোল্যান্ডের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সেদেশের নাগরিকদেরকে খরগোশের মতো বহুগুনে সন্তান জন্মদানের আহবান জানিয়েছে!
.
পর্তুগাল, স্পেন, গ্রীসের সরকারও একই ভাবে জনগনকে বেশী সন্তান জন্ম দিতে অনুরোধ করে যাচ্ছে!
.
তাইওয়ানো নবজাতকের জন্য তিন হাজার তাইওয়ানি ডলার থেকে শুরু করেছিলো পড়ালেখা খরচ বৃত্তি সব ঘোষণা করেছে সরকার কবলি সন্তান জন্মদানে উৎসাহিত করার জন্যে!
.
প্রেসিডেন্ট জিয়ার ১৯৭৬ সালে জনসংখ্যাবৃদ্ধিকে 'এক নম্বর সমস্যা' ঘোষণা ছিলো মূলতো অন্যান্য সমস্যা থেকে জনগনের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেওয়া বৈকী কিছু নয়!
.
দেশের এক নম্বর সমস্যা 'দক্ষ মানব সম্পদ সৃষ্টিকল্পে সরকারের ব্যর্থতা!'

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


