
সাদিফ সৈকত ভাইয়ের ফোর টুয়েন্টি পেইজে একটি ট্রল দেখেছিলাম একটা বয়স থাকে এমন যখন মেয়ে এবং মেয়ের মা দুইজন কে ই ভালো লাগে!
.
চিন্তায় পড়ে গেলাম!
.
সময় যখন ২০০০ সাল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলে ক্লাশ ফাইভে পড়তাম স্মৃতি হাতড়িয়ে দেখলাম তখন মেয়েদের কেবলি মানুষ মনে হতো এর বেশী কিছু না!
.
সময় ২০০৫ সাল মেয়েদের দেখলে মনে হতো এলিয়েন! অদ্ভূত গ্রহের কোন জীব! সামনে দাঁড়ালে হাটু কাঁপতো! হাটার গতি এলোমেলো স্লথ হয়ে যেতো!
.
সময় পেরিয়ে ২০১০ সাল! মেয়েদের মেয়ে ই মনে হতো! বান্ধবী হিসেবেও মন্দ না! কেউ কেউ প্রেমিকা হলে লাইফটা অতো মন্দ হবে না!
.
সময় ২০১৫ সাল বিয়ের বয়স গত হয়েছে! মেয়ে মানে পৃথিবীর সেরা সৃষ্টি! ক্রাশ! মায়াবী!
.
তারপর অতপর ২০১৭ সেই মাহেন্দ্রক্ষণ শুধু মেয়ে না মেয়ের মা ও তো দেখতে খারাপ না!
.
এখন কেবলি মন খারাপ হয়! সেই মেয়েটি যে আমার প্রতি প্রথম ক্রাশ খেয়ে অবহেলিত হয়েছিলো আমি আজ তাকে দেখে শতবার ক্রাশ খেয়ে উফুত হয়ে পড়ি!
.
বারবার লালনের গানের সেই লাইন মনে নাড়া দিতে থাকে, 'সময় গেলে সাধন হবে না'
.
আজ থেকে দশ বছর আগে কোন এক মেয়ে জিজ্ঞেস করেছিলো পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর সৃষ্টি কি? তাকে বলেছিলাম গোলাপ, ক্যামেলিয়া, কদম ফুল আরো আছে রংধনু টংধনু ইত্যাদি ইত্যাদি!
.
দশ বছর পর হঠাৎ করে সে ফেসবুকে একদিন জিজ্ঞেস করলো, পৃথিবীর সেরা সৃষ্টিগুলো কি কি? বললাম, ক্যাটরিনা, ঐশ্বরিয়া, মীম, টিম, ডিম আর....! তার নামটি বললাম না যদি পার্ট বেড়ে যায়!
.
ভগ্যিস জীবনানন্দ ১২ বছর বয়সে বনলতা সেনকে দেখেনি যদি দেখতো তাহলে নাটোরের বনলতা সেন নামক কালজয়ী কবিতা সৃষ্টি হতো না! নিশ্চিত ২১ বছর বয়সে দেখেছিলো!
.
আরো ভাগ্য ভালো যে সে বনলতা সেনকে ২৫ থেকে ২৭ বছর বয়সে দেখেনি তাহলে হয়তো লিখতো, 'এখনো তার মায়ের চুলও কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা তবুও মেয়ের চুল আরো কেশ কালো! আমার চোখে দুদন্ড শান্তি দিয়েছিলো মা এবং তার একমাত্র মেয়ে নাটোরের বনলতা সেন!'
.
যাকগে সে কথা,
.
এমন সুন্দর মেয়েদের মুখে যখন কেউ এসিড ছুড়ে মারে তখন মুখ লুকানো ছাড়া উপায় থাকে না!
.
ভারতের মেয়ে মনিষা পৈলান ২০১৫ সালের নভেম্বর মাসে এসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছিলেন! গল্পটি এখানে শেষ হতে পরতো!
.
এসিড সারভাইভারস ফাউন্ডেশন (এএসএফ) এর মতে ২০১৫ সালের ১০ই আগষ্টের আগের ষোল বছরে শুধু বাংলাদেশে এসিড সন্ত্রাসের শিকার হয়েছিলেন ৩ হাজার ৬শ’ ২৫ জন!
.
কিছু মুখ লুকানোর গল্পের শুরু,
.
সে সব মেয়েদের গল্পগুলো এভাবে শেষ হয়ে গেছে! তাই বলছি, মনিষার গল্পটি এখানে শেষ হতে পারতো!
.
কিন্তু না,
.
এসিড আক্রান্ত মেয়েটি সাহসিকতার সাথে একটি প্লে কার্ডে ' আমি মুখ ঢাকবো না' লিখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে!
.
ছবিতে দেখা যায় প্লেকার্ড হাতে নিয়ে এসিড আক্রান্ত একটি মুখ নিয়ে দন্ডয়মান মনিষা কৈরালা!
.
তারপর ইতিহাস! ছবিটি শত শত পত্রিকা পোট্রাল ব্লগ থেকে শুরু করে নির্যাতনের শিকার মেয়েদের প্রতিবাদের ভাষা হয়ে যায়!
.
এভাবে শুরু করতে হয়! মুখ লুকিয়ে থাকবে তো অপরাধীরা.... তাই না?
.
'আমি তো অপরাধ করিনি'
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই নভেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৩:০৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


