somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অজানা হাজার কতো কাজের ভীড়ে...!

২৮ শে অক্টোবর, ২০১৮ রাত ১১:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আজ যারা পাবলিকিয়ান হতে এসেছো তোমাদের প্রতি শুভেচ্ছা,
.
আসো জীবনের গল্প শুনি! বড্ড বাস্তব গল্প!
.
আবদুর রব হলে ফিজিক্সের সেই ছেলেটির গল্পগুলো আসলে আমাদের বাস্তবতা,
.
ছেলেটি রাতে বিশ টাকার ভাত নিয়ে নিজের রুমে যায়! হলের ক্যান্টিন থেকে ভাত নেওয়ার সময় সে প্রতিদিন বলে বিশ টাকার এতো কম ভাত কেনো আরো বাড়িয়ে দেন!
.
তারপর সে রুমে এসে একটা ডিম ভাজি করে ভাতগুলো তিন ভাগ করে এক ভাগ দিয়ে রাতে খেয়ে নেয়!
.
আরেক ভাগ সে সকালের জন্য রেখে দেয় এবং তা সকালে পানি দিয়ে পানিভাত করে মরিচ এবং পেঁয়াজ দিয়ে খেয়ে নেয়!
.
বলে রাখা ভালো সে মরিচ পেঁয়াজও সে ডাইনিং থেকে ও ম্মাম্মা বলে এক প্রকার আবদার করে নিয়ে আসে!
.
বাকী এক ভাগ ভাত সে দুপুরে হালকা গরম করে আরেকটা ডিম ভাজি করে খায়!
.
এভাবে সে প্রথম বর্ষ থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত অনায়েসে কাটিয়ে দিয়েছে অবলীলায়!
.
তবুও গরীব বাবা থেকে এক টাকা নিয়ে আসা দূরের কথা বরং টিউশনি করে যে টাকা ইনকাম করে তার প্রায় অর্ধেকাংশ বাড়িতে পাঠিয়ে বাবাকে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্য করে চলেছে!
.
সে ছেলেও সিগারেট খায়! চুলে স্পাইক করে স্মার্ট লুকিংয়ে সানগ্লাস পড়ে স্টেশন চত্বরে রোজ তাকে হাসিমুখে তার সাথে দেখা হয়!
.
তার একটা কমন ডায়লগ 'দোস্ত একটা সিগারেট নে দুজন মিলে খায়' শেষ কবে সে নিজের টাকায় সিগারেট কিনেছে জানা নেয়! বলে রাখা ভালো 'ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর!'
.
আমি বলতে চাচ্ছি এরা যখন যেমন তখন তেমন! কত সুন্দর করে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে জীবন উপভোগ করছে!
.
কখনো ট্রেনের পিঠ চাপ্রে সুর তুলছে 'আমার মাথাটা চুলকায় চুলগুলো যায় যায় পড়ছি আমি মাইনকার চিপায়!'
.
ওরাও প্রেম করে! ধার করা সানগ্লাসে ভাব ধরে! হঠাৎ চুলকানি উঠলে তাদের মনে পড়ে আজ মনে হয় বন্ধুর শর্ট প্যান্ট পড়ে চলে এসেছে!
.
ওদের ছুটে চলতে দেখেছি লাঠি হাতে কিংবা হেল্প বাক্স হাতে নিয়ে রাস্তার মোড়ে মোড়ে কোন এক ক্যান্সার আক্রান্ত বন্ধুকে বাঁচিয়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে,
.
কেউ গাঁজাতে টান দিয়ে খুক্ খুক্ কাশে তো কেউ জ্বলন্ত সিগারেট মাটিতে পুতে দিয়ে ছুটছে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্ন বুকে লালন করে!
.
গল্পগুলো এমনি! বড্ড সাদামাটা! দিনশেষে তুমিও এসব গল্পের প্রেমে পড়বে! আসলে এখান থেকে শিখবে আর পরীক্ষার জন্য হয়তো কয়েকটা প্রশ্নের উত্তর...!
.
শেষে মনে হবে শালার ভার্সিটি জীবনটাই শেষ করে দিলো!
.
সেশন জট্ সাধের প্রেমিকাও কেড়ে নিলো সাথে চুলও!
.
যেদিন সমাবর্তনের মধ্য দিয়ে চলে যাবে সেদিন থেকে আস্তে আস্তে বুঝবে কিছু শিখোনি মনে হলেও তুমি এখান থেকে জীবন শিখে এসেছো!
.
একদিন অনেক দূর পথ হেঁটে আসলে তোমার মনে হবে জীবন সত্যি কোথায় যেনো ফেলে এসেছো! সোনা ঝরা বিকেল! ক্লাশ ফাঁকি দিয়ে মিছিল কিংবা ভবঘুরে পথচলা! বন্ধুর টাই! বেল্ট! ফর্মাল ড্রেস!
.
ওদের মতো একজন হওয়ার জন্য ভর্তি পরীক্ষা হয় কিংবা চলছে,
.
কতো সুন্দরী এসে যায়! খারাপ লাগে সুন্দরী কোটা নেই বলে তবুও ভালো লাগে এতো এতো সুন্দরীদের স্বপ্নে থাকে একদিন পাবলিকিয়ান হবে!
.
শুধু এই কারণে আমি আরো একবার পাবলিকিয়ান হতে চাই! আরো একবার চবিয়ান হতে চাই কারণ পাহাড়ের কোলে যখন রমণীরা হেটে যায় বড্ড স্নিগ্ধ লাগে মনে পড়ে 'ঐ দূর পাহাড়ে, লোকালয় ছেড়ে দূরে, মন কেড়েছিলো এক দুরন্ত মেয়ে সে কবে....!'
.
যেখান থেকে ভালবাস শিখে এসেছি! বলতে কিংবা উপলব্ধি করতে শিখেছি 'ভালবাসা নিয়ে নিজে তুমি ভালোবাস সব সৃষ্টিকে!'
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে অক্টোবর, ২০১৮ রাত ১১:১২
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

"আমাদের গেছে যে দিন, একেবারেই কি গেছে?" (স্মৃতিচারণামূলক)

লিখেছেন স্বাধীন আকন্দ, ১৭ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৮

জাহাঙ্গীর স্যার সমাজ পড়াচ্ছেন। ক্লাস সেভেনের সমাজ বই। পুরো ক্লাসরুম নীরব। আমি ঠিক পিছনের বেঞ্চের আগের বেঞ্চে বসেছি। স্যার একটি করে লাইন পড়েন আর একটু থামেন। তারপর আবার পড়েন। "সম্রাট... ...বাকিটুকু পড়ুন

উত্তর সাগরের তীর থেকে / প্রকৃতির ক্যানভাসে নির্জনতার মেলোডি এবং এক টুকরো জীবনবোধ

লিখেছেন তাহমিদ রহমান, ১৭ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:৪৬




বিকেলে যখন বাসা থেকে বের হয়েছিলাম, আকাশজুড়ে তখন রৌদ্রের একক রাজ্যত্ব । কিন্তু ঘণ্টাখানেকের পথ পেরিয়ে যখন নরফোকের ছোট্ট উপকূলীয় শহর শেরিংহাম-এ এসে পৌঁছলাম, আকাশ ততক্ষণে মেঘের চাদরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসুন বর্তমান বিশ্বের কিছু তথ্য দেখি!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ১৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:০১

- চীনে বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি মানুষ অবিবাহিত, যার মধ্যে বিপুল সংখ্যক নারীও রয়েছে। বিশেষ করে ২৫–২৯ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে অবিবাহিত হার ৫১% এর বেশি, আর ৩০–৩৪ বছর বয়সী... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১ নিয়ে বানিজ্য করা খুব খ্রাপ....কিন্তু তার পরিবর্তে ইসলাম/ধর্ম নিয়ে বানিজ্যে নেমে পড়া কি সমিচিন?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ১৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:১৮

দাড়ি টুপির সাথে আরবদের আলখেল্লা পরিধান করে, সুন্নতি লেবাস ধারণ করে যারা honey nuts বেচে, তাদের চেয়ে খুব উন্নততর, সৎ লোকের সংগঠন জামায়াতে মওদুদী না। বরং ইসলাম ধর্মকে দলীয় সংকীর্ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ আলেমকে ভুলে গেলাম, আর যুদ্ধাপরাধীকে দিলাম স্বাধীনতা পদক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৯


উনিশশো ছেষট্টি সালের কোনো এক সকালে ঢাকার বিমানবন্দরে এসে নামলেন এক ব্যক্তি। নাম আবুল আলা মওদুদী। বিমানবন্দর থেকে বের হতেই সাংবাদিকরা তাঁকে ঘিরে ধরলেন। কারণ শেখ মুজিবুর রহমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

×